যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি (SNAP) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে কেনা উপকরণ দিয়ে বেকড খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত টালিয়া সি. টেনেইউকে (৩২) মিশিগানের সাগিনো এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মিশিগানের ব্রিজ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে ময়দা, ডিম, চিনি ও অন্যান্য খাদ্য উপকরণ কিনতেন। পরে সেগুলো দিয়ে কেক, কুকি ও অন্যান্য বেকড খাবার তৈরি করে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করতেন।
প্রসিকিউটরদের দাবি, এসএনএপি কর্মসূচির সুবিধা কেবল উপকারভোগী পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহার করা যায়। এসব সুবিধা দিয়ে কেনা খাদ্যপণ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা পুনরায় বিক্রি করা ফেডারেল আইনের পরিপন্থী। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই নারী এভাবে কয়েক হাজার ডলার আয় করেছেন।
তার বিরুদ্ধে এক হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রাথমিক শুনানিতে প্রসিকিউশন একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তিনি একটি লঘু অপরাধে দোষ স্বীকার করলে গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করা হতে পারত। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া হাউস অফ ডেলিগেটসের সহকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা ও ফায়েট কাউন্টির স্কুলশিক্ষক ডেভিড এলিয়ট প্রিট (৩৬) সম্প্রতি নাবালিকাকে প্রলোভনের ফেডারেল অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে তার ক্লাসরুমে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রিট ওই ছাত্রীর সাথে রোব্লক্সের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে তা স্ন্যাপচ্যাটে স্থানান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে যৌন আকার ধারণ করে । ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে প্রিট নিজের অশ্লীল ছবি পাঠান এবং তার কাছেও অনুরূপ ছবি দাবি করেন, যা তিনি পাঠিয়েছিলেন । ২০২৫ সালের শেষ দিকে ওক হিল হাইস্কুলের ক্লাসরুমে প্রিট তাকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ক্লাসরুমে পাঁচ থেকে দশবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে । ওই ছাত্রী জানিয়েছে, প্রিট তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে এবং সতর্ক করে যে, প্রকাশ পেলে পুলিশ তাদের ফোন জব্দ করবে ও ‘জীবনে নরক নেমে আসবে’। তিনি বলেন, ‘এটা সংবাদমাধ্যমে আসবে। আমাদের দুজনের জন্যই ভয়াবহ হবে। আমি আমার পুরো জীবন হারাবো’ । ৭ জুলাই ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় । প্রিট ২০২২ সালে প্রথমে ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন । হাউস স্পিকার রজার হ্যানশ এক বিবৃতিতে এটিকে ‘ ঘৃণ্য ও হতাশাজনক’ আখ্যা দিয়ে প্রিটকে তার সব দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন । ফায়েট কাউন্টি স্কুলস কর্তৃপক্ষ তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে । এই ঘটনা রোব্লক্সের শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০টি মামলা হয়েছে। অ্যারকানসাসের অ্যাটর্নি জেনারেল রোব্লক্স ও ডিসকর্ডের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদেরকে ‘দুই-স্তরের শিকারী পাইপলাইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ।
বিনোদন ও পর্যটনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্টা মনিকা পিয়ার সংলগ্ন এলাকায় এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পার্কিং লটে গভীর রাতে দুটি দলের মধ্যবর্তী বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির জের ধরে চলা এই গোলাগুলিতে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তথ্যসূত্র: কেএবিসি (KABC News) ও সান্টা মনিকা পুলিশ বিভাগ। পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত সোমবার রাতে প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের ১৫৫০ ব্লকে অবস্থিত 'পার্কিং লট ১ নর্থ' এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে অতি দ্রুত সান্টা মনিকা পুলিশের একটি উদ্ধারকারী ও টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পার্কিং লটের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে এক তরুণকে মারাত্মক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থলেই ওই তরুণকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় জানা গেছে, তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে মারাত্মক বুলেটের আঘাত লেগেছিল, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রাথমিক প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, পার্কিং লট এলাকায় রাত গভীর হওয়ার পর দুটি আলাদা কিশোর বা তরুণের দলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা শারীরিক ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। হাতাহাতি চলাকালেই এক কিশোর তার সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে প্রতিপক্ষের তরুণকে লক্ষ্য করে একাধিক বার গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পর সান্টা মনিকা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এসএমপিডি) একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে দ্রুত সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার অভিযান শুরু করে। পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও তদন্তের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন ১৬ বছরের ওই কিশোর নিজে থেকেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি মার্কিন আইন অনুযায়ী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক, তাই স্থানীয় আইনি বিধি ও সুরক্ষা নীতি মেনে পুলিশ কিংবা আদালত তার নাম, পরিচয় বা ছবি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ওই কিশোর মূলত নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরের বাসিন্দা। সে কেন এবং কীভাবে ওই রাতে সান্টা মনিকায় এসে পৌঁছাল এবং তার নিকট আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এলো—এসব বিষয়ে আরও বিষদ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, সান্টা মনিকা পিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী এই সমুদ্রসৈকত ও বিনোদন পার্কটি দেখতে আসেন। ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী এমন একটি পাবলিক প্লেসে রাতের আঁধারে এমন সহিংস গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং এই গোলাগুলির পেছনে আরও কারও ইন্ধন বা উপস্থিতি ছিল কি না তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত নিউইয়র্কের কুইন্সের সেনা সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারাহ র্যাম্পারসাদের (২৮) প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কুইন্সের বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস ওজোন পার্কে নিহত ওই সেনার পারিবারিক বাসভবনের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "অ্যাঞ্জেল একজন সত্যিকারের বীর। তিনি নিজের আগে সমাজ ও দেশকে স্থান দিয়েছেন এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।" রিচার্ডস জানান, এই বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ অন্তত তাঁর বাড়ির সামনের সড়কটির নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে রাখা এবং স্কুল নির্মাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্কুলের নামও তাঁর সম্মানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত হন অ্যাঞ্জেল। মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়া মা ক্যারল অ্যাসেভেদো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মেয়ে একজন চমৎকার সেনা ছিল। সে এই দেশের হয়ে লড়েছে এবং দেশের জন্যই প্রাণ দিয়েছে। একজন মা হিসেবে আমি তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। " অ্যাঞ্জেলের খালা জুডি রাকাল এই ঘটনাকে এক 'অসহনীয় ট্র্যাজেডি' আখ্যা দিয়ে জানান, মাত্র দুই বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে ত্রিনিদাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেল এবং ছোটবেলা থেকেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এবং ড্রামস বাজানোতে পারদর্শী অ্যাঞ্জেলকে পরিবারের যেকোনো সংকটে শান্ত থাকার মূল শক্তি হিসেবে স্মরণ করেন তার খালা। গত মঙ্গলবার পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাঞ্জেলের পরিচয় প্রকাশ করে। জর্ডানের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অ্যাঞ্জেলের সঙ্গে হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান (২৫) এবং টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেসও (১৯) নিহত হন। এ ছাড়া গত রোববার ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনার সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুদ্ধ ও সংঘাতের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই দেশের সেবা করার পাশাপাশি পুরো বিশ্ব ঘুরে দেখার স্বপ্ন দেখা অ্যাঞ্জেলকে একজন দৃঢ়চেতা ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবেই মনে রাখছেন তাঁর শোকাহত বন্ধু ও স্বজনেরা।