- প্রচ্ছদ
- Topic
বেবিসিটার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বেবিসিটারের বাড়িতে খেলতে গিয়ে খেলনা কিচেন সেটে আটকে এক তিন বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিশুটির পরিবারে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিশুটির নাম ব্রিয়েলা। গত ২৩ জুলাই ফ্লোরিডার বয়নটন বিচ শহরের মেডোজ অব বয়নটন বিচ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ২৭ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বয়নটন বিচ পুলিশ জানায়, ২৩ জুলাই সকাল ১১টার কিছু পর জরুরি নম্বরে একটি ফোন আসে। জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেয়। পরে ফায়ার রেসকিউ কর্মীরা তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চার দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকার পর তার মৃত্যু হয়। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার সময় ব্রিয়েলা ও তার এক ভাইবোন বেবিসিটারের বাড়িতে ছিল। পুলিশ বলছে, ওই সময় বেবিসিটার বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব তার স্বামীর ওপর ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুরা নিচতলায় খেলছিল। এ সময় বেবিসিটারের স্বামী ওপরতলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে নিচে এসে শিশুদের খোঁজ নিচ্ছিলেন এবং তাদের জন্য খাবারও নিয়ে আসছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে নিচে এসে তিনি দেখতে পান, ব্রিয়েলার মাথা একটি খেলনা কিচেন সেটের ভেতরে আটকে গেছে। তিনি দ্রুত শিশুটিকে বের করে এনে জীবনরক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা এসে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। শিশুটির সঙ্গে থাকা ভাইবোন তদন্তকারীদের জানিয়েছে, কিছু খেলনা ওই কিচেন সেটের ভেতরে পড়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো বের করার চেষ্টা করতে গিয়েই ব্রিয়েলা কিচেন সেটের ভেতরে আটকে পড়ে। এ ঘটনায় এখনো কারও বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ব্রিয়েলার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে শিশুটিকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, সে ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত, স্নেহশীল ও হাসিখুশি একটি শিশু। তার হাসি চারপাশের মানুষকে আনন্দ দিত এবং অল্প সময়েই সে অনেক মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। পরিবার জানিয়েছে, সংগ্রহ করা অর্থ ব্রিয়েলার দাফন ও স্মরণানুষ্ঠানের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। এদিকে পাম বিচ কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরের কাছে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক বেবিসিটারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়া অ্যান ক্র্যানমার নামের ওই নারী নিজেই তার এই জঘন্য অপরাধের দৃশ্য স্ন্যাপচ্যাটে ভিডিও করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার এক বান্ধবীর হাতে সেই ভিডিও পৌঁছালে অমানবিক এই শিশু নির্যাতনের ভয়ংকর চিত্র প্রকাশ্যে আসে। নিউ জার্সির লিটল এগ হারবার এলাকার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ক্র্যানমার গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তার এক ছোটবেলার বান্ধবীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই বান্ধবী তাকে জন্মদিন উপলক্ষে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনে দিয়েছিলেন। তবে মে মাসের শুরুর দিকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে বান্ধবী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং ফোনটি ফেরত চান। ক্র্যানমার কোনো পাসকোড ছাড়াই ফোনটি মেইলবক্সে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে ‘মিস পি’ ছদ্মনামের ওই বান্ধবী ফোনটি চালু করতেই স্ন্যাপচ্যাটে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভয়ংকর ভিডিও দেখতে পান, যেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করা ছিল। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ক্র্যানমার বাথরুমে বসে হাসতে হাসতে শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি ‘মিস এইচ’ নামে অপর এক নারীর সন্তান, যিনিও ক্র্যানমারকে বেবিসিটার হিসেবে কাজে রেখেছিলেন। শিশুটির মা আগেই খেয়াল করেছিলেন যে তার ছেলে হঠাৎ করেই গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং পরে শিশুটি জানায় যে ক্র্যানমার তার সঙ্গে বাথটবে গোসল করতেন। ভিডিওটি দেখে আতঙ্কিত বান্ধবী দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করেন এবং ক্র্যানমারের পায়ের নির্দিষ্ট ট্যাটু ও কণ্ঠস্বর শুনে তাকে শনাক্ত করেন। গত ৮ জুলাই গ্রেপ্তারের পর ক্র্যানমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার যৌন নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের ভিডিও তৈরি ও সংরক্ষণ এবং শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ওশান কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করার পর বর্তমানে তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বিশ্বস্ত বেবিসিটারের কাছে রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রচণ্ড গরমে বদ্ধ গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি একজন বেবিসিটারের (শিশু পরিচর্যাকারী) দায়িত্বে ছিল। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ওই এলাকা থেকে কয়েক মাইল দূরে অনুরূপ আরেকটি 'হট কার' (গরম গাড়ি) ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছিল আরও এক শিশু। ফ্লোরিডার হাল্যান্ডেল বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গত রোববার দুপুরে অচেতন ও শ্বাসহীন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান ওই বেবিসিটার। সে সময় শিশুটিকে তার বাড়ির বাইরে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর পাওয়া যায়। ঠিক কতক্ষণ শিশুটি গাড়িতে আটকে ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, মিয়ামি হেরাল্ডের তথ্যমতে, ওই দিন তাপমাত্রা ছিল ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা অনুভূত হচ্ছিল প্রায় ১০০ ডিগ্রির কাছাকাছি। বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বেবিসিটারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা ফ্লোরিডা স্টেট অ্যাটর্নি অফিস নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। থেরেসা ওগডেন নামের এক প্রতিবেশী বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ কীভাবে একটি শিশুকে গাড়িতে রেখে ভুলে যেতে পারে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য ও ভয়ংকর!" এদিকে, হাল্যান্ডেল পুলিশ চিফ মিশেল সকল অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের গাড়ি লক করার আগে পেছনের আসন চেক করার অভ্যাস গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দেন, মোবাইল বা মানিব্যাগের মতো জরুরি জিনিস গাড়ির পেছনে রাখলে তা শেষ মুহূর্তে শিশুটির কথা মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে এবং একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে পারে। উল্লেখ্য, রোববারের এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২০ মাইলেরও কম দূরত্বে প্লান্টেশন এলাকার একটি ডে কেয়ার সেন্টারের সামনে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই শিশুর বাবা তাকে 'আ ওয়ার্ল্ড অফ ডিসকভারি একাডেমি'তে নামিয়ে দেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে সরাসরি কর্মস্থলে চলে গিয়েছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তপ্ত গাড়িতে আটকে থাকার পর বিকেলে ছেলেকে নিতে এসে তিনি পেছনের আসনে তার মৃতদেহ দেখতে পান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।