- প্রচ্ছদ
- Topic
ব্রিটেন
যুক্তরাজ্যে বিপদে পড়া এক নারীকে সাহায্য করতে নিজের ভাড়া ছেড়ে দিয়ে ‘ট্যাক্সি হিরো’ পুরস্কার অর্জন করেছেন পিটারববরোর ক্যাবচালক শফিক আহমেদ। রাস্তায় এক নারীর গাড়ির পাংচার হওয়া টায়ার বদলে দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে যাত্রী ও স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। অ্যাকর্ন ইন্স্যুরেন্স আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পূর্ব ইংল্যান্ড অঞ্চলের সেরা ট্যাক্সিচালক নির্বাচিত হয়েছেন শফিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম পিটারববোরো টেলিগ্রাফের বরাতে জানা যায়, একদিন যাত্রী তুলতে যাওয়ার পথে রাস্তায় এক নারীকে বিপদে পড়তে দেখেন শফিক। ওই নারীর গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে যাওয়ায় তিনি আটকা পড়েছিলেন। বিষয়টি দেখে নিজের নির্ধারিত বুকিং অন্য চালকের কাছে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন শফিক, যাতে যাত্রীকে অপেক্ষা করতে না হয়। এরপর নিজেই ওই নারীর গাড়ির টায়ার বদলে দেন। শফিক আহমেদ বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে ট্যাক্সি চালাতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। অনেক সময় সামান্য সহযোগিতাই বিপদে পড়া মানুষের জন্য বড় সহায়তা হয়ে ওঠে। ওই নারীকে সাহায্য করার বিনিময়ে কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁর ছিল না। শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, শফিকের মনোনয়নপত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক কাজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা যাত্রীদের যাতায়াতে সহায়তা করা কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও তিনি পরিচিত। মনোনয়ন মূল্যায়নকারী বিচারকেরা তাঁকে অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন একজন চালক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অ্যাকর্ন গ্রুপের ট্যাক্সি ইন্স্যুরেন্স বিভাগের প্রধান অ্যাশ কোকলে বলেন, নিজের আয় ছেড়ে দিয়ে অপরিচিত একজন মানুষকে সাহায্য করার পাশাপাশি নির্ধারিত যাত্রীর সময়মতো যাতায়াত নিশ্চিত করেছেন শফিক। তাঁর এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ অন্য চালকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ। যুক্তরাজ্যের ট্যাক্সিচালকদের মানবিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘অ্যাকর্ন ট্যাক্সি হিরো অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছে অ্যাকর্ন ইন্স্যুরেন্স। এবারের প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে এক হাজার ৭০০টির বেশি মনোনয়ন জমা পড়ে। সেখান থেকে ১১টি অঞ্চলের বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছে। শফিক আহমেদ তাঁদের একজন। আঞ্চলিক বিজয়ী হিসেবে শফিক ১০০ পাউন্ড মূল্যের অ্যামাজন গিফট কার্ড পাবেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় পর্যায়ের সেরা ট্যাক্সিচালক নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। আগামী ১১ নভেম্বর জাতীয় বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিজয়ী পাবেন এক হাজার পাউন্ড মূল্যের অ্যামাজন গিফট কার্ড ও ‘ব্রিটেনস ট্যাক্সি হিরো’ ট্রফি। সম্মাননা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শফিক আহমেদ। তাঁর মতে, ট্যাক্সিচালকদের দৈনন্দিন কাজের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনেক গল্প রয়েছে। সেই মানবিক কাজগুলো স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি আনন্দিত। সূত্র: পিটারববোরো টেলিগ্রাফ, অ্যাকর্ন ইন্স্যুরেন্সের ট্যাক্সি হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
ব্রিটেনে বৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে বর্তমানে পাঁচ বছরের অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। আর কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে ব্রিটেনে কর্মরত কেয়ার ওয়ার্কারদের নতুন কঠোর নিয়মের বাইরে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টে জানানোর কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগে থেকে ব্রিটেনে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর নতুন নিয়ম কার্যকর করা কতটা ন্যায়সংগত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম এই সংস্কার পরিকল্পনা সামনে আনা হয়। তখন অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়। সরকারের যুক্তি, ব্রেক্সিটের পর ব্যাপক অভিবাসনের কারণে আগামী কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠবেন। তবে প্রস্তাব প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে চলা পরামর্শ প্রক্রিয়ায় দুই লাখের বেশি মতামত জমা পড়েছে। লেবার পার্টির একাধিক এমপি মনে করেন, যারা বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করে ব্রিটেনে এসেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে অপেক্ষার সময় বাড়ানো অন্যায্য হতে পারে। এই আপত্তির পর সরকার ইতিমধ্যে কর্মরত সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সম্ভাব্য ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। দলটির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপের বক্তব্য, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসা উচিত হবে না। কনজারভেটিভদের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের বিদেশি কর্মীদের জন্য ১০ বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রাখা যেতে পারে। তবে কম বেতনের কর্মীদের নতুন করে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার পক্ষে দলটি। সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, বর্তমান ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার স্বল্পদক্ষ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হতে পারেন। সরকারি পরামর্শক সংস্থার হিসাব উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের প্রায় এক হাজার কোটি পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। ব্রিটেনে আইএলআর হচ্ছে এমন একটি অভিবাসন মর্যাদা, যার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা অনির্দিষ্টকাল দেশটিতে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি সুবিধাও পাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষার সময় বাড়ানো হলে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত সব পরিবর্তন তখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ইতিমধ্যে ব্রিটেনে থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে এবং কোন পেশার কর্মীরা ছাড় পাবেন, তা সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। নতুন ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২ নভেম্বর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় আসা এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয়সহ নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কর্মীরা পাঁচ বছর পরই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য সাধারণ অপেক্ষার সময় হবে ১০ বছর। উচ্চ আয়ের কিছু কর্মী তিন বছরেও এই সুযোগ পাবেন। সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়মগুলো ২০২৭ সালজুড়ে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিস্তারিত বিধিমালা ও নির্দেশনা প্রকাশের মাধ্যমে আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ইতিমধ্যে আইএলআর পাওয়া ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা নতুন সংস্কারের কারণে বাতিল করা হবে না।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় একটি নাপিতের দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছেন ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা। ব্রিটেনে ভিজিট ভিসায় প্রবেশ করে কাজের অনুমতি ছাড়াই তিনি ওই দোকানে কর্মরত ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের সময় দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। ঘটনাটি ব্রিটেনজুড়ে অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওই নাপিতের দোকানে অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য পেয়েছিলেন। এরপর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন কর্মী দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁকে আটক করে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ভিজিট ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। সাধারণ ভিজিট ভিসায় দেশটিতে চাকরি করা কিংবা নিয়মিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার অনুমতি থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত কার্যক্রমের ব্যতিক্রম থাকলেও সাধারণভাবে নাপিতের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করা ভিজিট ভিসার আওতায় পড়ে না। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাজের বৈধ অনুমতি যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাজ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে পারে। তবে রমফোর্ডের ওই দোকানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগের আগে তাঁর যুক্তরাজ্যে কাজ করার অধিকার রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হয়। এই প্রক্রিয়া ‘রাইট টু ওয়ার্ক চেক’ নামে পরিচিত। প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়া অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে। তবে জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী রেকর্ড, নিয়ম লঙ্ঘনের ধরন এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগ তদন্তে দেশজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান ও পরিদর্শন চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১২২ শতাংশ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযানের সংখ্যা ১১১ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত হালনাগাদ মোট হিসাব নয়। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগে ৭ হাজার ২৭০টি অভিযান পরিচালনা করে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। এসব অভিযানে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে অবৈধ কর্মী নিয়োগের ঘটনায় এক হাজার ২০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব জরিমানার সম্ভাব্য মোট পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অভিযান ও গ্রেপ্তার উভয়ই বেড়েছে। ব্রিটিশ সরকার বিশেষভাবে নাপিতের দোকান, গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান, নখের সৌন্দর্যচর্চার দোকান, ছোট রেস্টুরেন্ট এবং নগদ অর্থের লেনদেন বেশি হয় এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে অবৈধ কর্মসংস্থান, শ্রমিক শোষণ এবং অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব খাতের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, এমন নয়। তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে সরকার। অবৈধ অভিবাসন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় ব্রিটিশ পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ যৌথভাবেও অভিযান চালাচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন লকস্ট্রিম’ অভিযানে দেশজুড়ে ৪৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশকে অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। অভিযানে বিভিন্ন সড়ক ও পরিবহনপথে ছয় হাজারের বেশি গাড়ি পরীক্ষা করা হয় এবং অপরাধসংক্রান্ত সন্দেহে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। যুক্তরাজ্যে ভিজিট ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পর্যটন বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে ব্রিটেনে যান। তবে ভিজিট ভিসা থাকার অর্থ দেশটিতে সাধারণ চাকরি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আবেদন এবং বর্তমান অভিবাসন অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট, নাপিতের দোকান ও অন্যান্য ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও কর্মীদের রাইট টু ওয়ার্ক যাচাইয়ের নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। কর্মী নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র যাচাই না করলে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো কর্মীকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপরাধী সাব্যস্ত হয় না। অভিযোগের ধরন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রমফোর্ডের এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁকে ইতিমধ্যে ডিপোর্ট করা হয়েছে কিংবা আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট নাপিতের দোকানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জরিমানার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি ব্রিটেনে অবৈধ কর্মসংস্থান মোকাবিলায় চলমান কঠোর অভিযানের একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের হোম অফিস, ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিল
ব্রিটেনে এক কিশোরকে মদ ও সিগারেটের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার যৌন নি র্যাতনের দায়ে ট্রেসি ব্যানক্রফট নামের ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে ৯ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে আজীবনের জন্য যৌন অপরাধীর নিবন্ধনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইয়র্ক ক্রাউন কোর্টে সাজা ঘোষণার সময় মামলার বিবরণ তুলে ধরা হয়। আদালতে জানানো হয়, ব্যানক্রফট প্রথমবার ওই কিশোরকে নি র্যাতনের আগে দুই গ্লাস কড়া রাম পান করিয়েছিলেন। এরপর তিনি কিশোরটিকে চুমু দেন। আকস্মিক এ ঘটনায় ভয় ও বিস্ময়ে কিশোরটি নিশ্চুপ হয়ে পড়ে। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ভুক্তভোগী জানায়, প্রথম ঘটনার পরও সে ওই নারীর হাতে অন্তত আরও ২০ বার যৌন নি র্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে ব্যানক্রফট অন্তত নয়বার এ ধরনের অপরাধ করার কথা স্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে কিশোরটি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মার্চে ব্যানক্রফটকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে আটটি যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও গত সেপ্টেম্বরে শিশুর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তিনটি অভিযোগ স্বীকার করেন ব্যানক্রফট। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে ভুক্তভোগী কিশোরের মায়ের দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, এ ঘটনার পর তাঁর ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্তানের ওপর এ ঘটনার প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, মদে আসক্তি ব্যানক্রফটের আচরণকে প্রভাবিত করেছিল। নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি গভীরভাবে লজ্জিত বলেও আইনজীবী উল্লেখ করেন। সাজার বিষয়ে বিচারক সাইমন হিকি বলেন, ব্যানক্রফটের কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কিশোরকে প্রলুব্ধ করে যৌন নি র্যাতনের সুস্পষ্ট উপাদান এ মামলায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদালতের রায় অনুযায়ী, কারাদণ্ডের পাশাপাশি ব্যানক্রফটকে আজীবন যৌন অপরাধীর নিবন্ধনে থাকতে হবে।
শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসা ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচারে অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম চিকিৎসক আসিফ হাসান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শিশুদের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা ও হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে কাজ করেছেন তিনি। শত শত হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের ফ্রিম্যান হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসক আসিফ হাসান। বিশেষ করে শিশুদের জটিল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার ও হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে শত শত হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন করেছেন আসিফ হাসান। পাশাপাশি শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসায় নতুন জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার পদ্ধতি উন্নয়নের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এসব উদ্যোগ শিশুদের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে বলে সম্মাননাসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু অস্ত্রোপচার নয়, নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই চিকিৎসক। দীর্ঘ কর্মজীবনে ভবিষ্যৎ হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাজ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছেন। ২০২৬ সালের প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডসে আসিফ হাসানের দীর্ঘ পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় তাঁর কাজ, চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে অবদান এই সম্মাননার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই মুসলিম চিকিৎসক যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছেন। নিউক্যাসলের ফ্রিম্যান হাসপাতালে তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে। শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এবারের আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন।
বাড়ি থেকে কাজের সুবিধা নিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি ফুলটাইম চাকরির তথ্য গোপনের অভিযোগে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে বিচার চলছে কাশিম চৌধুরীর। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের ৫৫ বছর বয়সী এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিচার শুরুর সময় রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কাশিম মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ পাউন্ড পেয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়। দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক চাকরি একই সময়ে চলমান থাকার সময় তাঁর পাওয়া বেতনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৩ পাউন্ড। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির চুক্তিতে তাঁর সাপ্তাহিক কাজের সময় দাঁড়ায় ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ সাত দিনে মোট সময় থাকে ১৬৮ ঘণ্টা। চাকরির আবেদন করার সময় অন্য কর্মসংস্থানের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুসি অর্গান। আদালতে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে ডেফরায় যোগ দেন কাশিম। এক বছরের বেশি সময় দুটি চাকরি একসঙ্গে করার পাশাপাশি ২০২২ সালে চার মাস ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টেও কাজ করেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলের চাকরি ছাড়ার পর ডেফরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। এগুলো হলো ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি, ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি ও হোম অফিস। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে বলে নিয়োগদাতাদের জানিয়েছিলেন কাশিম। পরে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি পাঁচটি ফুলটাইম চাকরি থেকে বেতন পাচ্ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। ওই মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ম্যানেজার আলিশা অ্যাডামস তাঁর ছুটি নিয়ে ভিডিও মিটিং করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, নিজেকে অসুস্থ দেখাতে কাশিম মুখে সাদা মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন। মুখ ও ঘাড়ের রঙে অমিল এবং কপালের মেকআপ সরে যাওয়ার বিষয়টি ম্যানেজারের নজরে আসে বলে আদালতে জানানো হয়। একই মিটিংয়ে ডেফরার ইমেইল দিয়ে লগইন করেছিলেন কাশিম। সেটি পুরোনো ঠিকানা হতে পারে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভ ডেফরাকে সতর্ক করার পর অভিযোগগুলো সামনে আসে। রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাশিমের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ পাউন্ডের বেশি জমা এবং প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড ডেবিট লেনদেন হয়েছে। মামলার বিচার অব্যাহত রয়েছে।
ব্রিটেনের ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ক্যানসার রিসার্চ ইউকের নতুন প্রধান ক্লিনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি। ৬ অক্টোবর তিনি দায়িত্ব শুরু করেন। ২০১৭ সাল থেকে পদটিতে থাকা অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। সংস্থাটির চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন অধ্যাপক মারিয়াম। রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গবেষণার ফল চিকিৎসায় কাজে লাগানোর উদ্যোগে ভূমিকা থাকবে তাঁর। চিকিৎসা গবেষণায় নতুন কর্মী তৈরির পাশাপাশি ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনেও সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। অধ্যাপক মারিয়াম ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্যানসার ইনস্টিটিউটে ক্যানসার জিনোমিকস ও মেটাস্ট্যাসিসের অধ্যাপক। তিনি বক্ষসংক্রান্ত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। ক্যানসার সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলায়, শরীরের অন্য অংশে ছড়ায় এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয়। ফুসফুসের ক্যানসারের পরিবর্তন নিয়ে বৃহৎ গবেষণা প্রকল্প ট্রেসারএক্সে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকল্পটিতে টিউমারের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা এবং রোগ শনাক্তের পর থেকে রোগীদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্যানসারের বিকাশ বোঝার চেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ শনাক্ত করা এবং রোগীভেদে আরও উপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করা। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেছেন, রোগীর অসুস্থতার বিভিন্ন পর্যায়ে টিউমার পর্যবেক্ষণ করে অধ্যাপক মারিয়াম ও তাঁর সহকর্মীরা ক্যানসারের পরিবর্তনশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছেন। গবেষণায় অবদানের জন্য অধ্যাপক মারিয়াম একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ক্যানসারের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোর ইউরোপীয় অনুদান পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক দলেও তিনি যুক্ত ছিলেন। নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক মারিয়াম বলেছেন, ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস গবেষণার ফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসায় রূপ দেওয়ার কাজ আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।
২০০২ সালে ব্রিটেনের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের জীবনে ঘটেছিল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। পার্ট-টাইম পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা ময়লা সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করা মাইকেল ক্যারল সে বছর ন্যাশনাল লটারিতে জিতেছিলেন ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ১৩১ পাউন্ড, যা এক রাতেই তার ভাগ্য বদলে দেয়। দরিদ্র জীবন থেকে হঠাৎ এত বিপুল অর্থের মালিক হয়ে তিনি শুরু করেন লাগামহীন বিলাসী জীবন। তবে সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করায় এই অর্থই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ পাওয়া অর্থের গরমে মাইকেল বিলাসবহুল বাড়ি, দামি গাড়ি, পার্টি ও মাদকের পেছনে দুহাতে টাকা উড়াতে থাকেন। নিজের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের পেছনেও অকাতরে অর্থ ব্যয় করেন তিনি। তার এই লাগামহীন খরচ ও বেপরোয়া জীবনযাপন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোরও নজর কেড়েছিল। শুকনা পাতার মতো টাকা উড়িয়ে একসময় তিনি নিজেকে দেউলিয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দেন। টাকার এই পাহাড় টিকতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মাত্র আট বছরের মাথায়, ২০১০ সাল নাগাদ মাইকেল তার সমস্ত অর্থ হারিয়ে পুরোপুরি অর্থকষ্টে পড়ে যান। অবস্থা এতটাই করুণ হয় যে, বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে তাকে আবারও নিজের পুরোনো ময়লা সংগ্রহের চাকরিতে ফেরার জন্য আবেদন করতে হয়। মাইকেল ক্যারলের এই পরিণতি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—হঠাৎ পাওয়া সম্পদ মানুষকে সাময়িকভাবে ধনী করলেও, সেই সম্পদ ধরে রাখতে বিচক্ষণতা ও সঠিক পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই পাঁচ তরুণ ব্রিটেনের নাগরিক এবং তারা লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। এর আগে রবিবার ভোরে বিস্ফোরকভর্তি তিনটি ভ্যানসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত গ্লুচেস্টারের হোয়েলফোর্ড গ্রামের এক স্থানীয় কৃষকের বুদ্ধিমত্তায় এই সম্ভাব্য হামলার ছক ভেস্তে যায়। রবিবার ভোরে একটি পার্টি থেকে ফেরার পথে পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারী কৃষক দেখতে পান, মাস্ক ও বালাক্লাভা পরা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি তিনটি সাদা ভ্যান ফেলে মাঠের ভেতর দিয়ে ঘাঁটির দিকে ছুটে যাচ্ছে। ভ্যানের গায়ে লেখা ‘ফুয়েল টু ইউ’ কোম্পানির নাম এবং একটি অসম্পূর্ণ ফোন নম্বর দেখে তার সন্দেহ আরও তীব্র হয়। তিনি দ্রুত গ্রামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সতর্কবার্তা পাঠান এবং পুলিশকে খবর দেন। দশ মিনিটের মধ্যেই সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনাকে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশ। তবে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পর যুক্তরাজ্যে নতুন করে 'ইরানভীতি' ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমন বানোয়াট খবর প্রচার করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম বিভাগের প্রধান লরেন্স টেলর এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত জটিল ও বড় পরিসরের একটি তদন্ত। ঘটনার নেপথ্যের উদ্দেশ্য ও সন্দেহভাজনদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ও জাতীয় পুলিশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তবে সন্দেহভাজনরা আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার যে মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং কৃষকের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, ঘাঁটিতে ফোন করে সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে কৃষকের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে ওই কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বড় একটি ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলেন, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত ছিল আরও সতর্ক থাকা। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে। গত জুলাই মাসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘাঁটিকে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করেছিল, যার জেরে সম্প্রতি সেখানে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে তীব্র নার্স সংকটের কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন রোগীরা। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)-এর ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে নিবন্ধিত নার্সের বিপুল ঘাটতি রোগীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ না পাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই রোগীদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডে প্রায় ২৩ হাজার নার্সের পদ শূন্য রয়েছে। তবে অর্থের অভাবে বন্ধ থাকা বা নিয়োগের অনুমোদন না থাকা পদগুলো হিসাব করলে প্রকৃত ঘাটতির আকার আরও অনেক বড় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। নার্স স্বল্পতার ভয়াবহতা বোঝাতে আরসিএন বিভিন্ন হাসপাতালের বোর্ড নথিতে থাকা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, কর্মী সংকটের কারণে রোগীদের ব্যথার ওষুধ দিতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যত্ন বাদ পড়ার মতো ঘটনা বিভিন্ন হাসপাতাল ট্রাস্টে মাসে শত শতবার ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্ব ইংল্যান্ডের একটি হাসপাতালে রাতের পালায় পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় এক বয়স্ক রোগী বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শিকার হন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিলেন না এবং সাত দিন পর তার নিতম্বের হাড় ভাঙার বিষয়টিও ধরা পড়ে। ওই হাসপাতালের নার্সরা জানিয়েছেন, চরম কর্মী সংকটের কারণে প্রতিটি শিফটেই রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকদের তুলনায় নার্স নিয়োগের ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আরসিএনের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর ইংল্যান্ডে চিকিৎসকের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বাড়লেও, নার্সের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতো একই হারে নার্স নিয়োগ দেওয়া হলে বর্তমানে অন্তত আরও ৭৭ হাজার নার্স বেশি থাকতেন। এছাড়া কাজের পরিমাণের ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রায় ৫৫ হাজার অতিরিক্ত নার্সের প্রয়োজন ছিল। আরসিএনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার জানান, নার্স সংকটের কারণে রোগীর নিরাপত্তার ঘাটতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রিটেনের দুই বোন মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবর্নের জীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর এক ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দিয়েছে পরিবার সম্পর্কে তাদের ধারণা। একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠা এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। অর্থাৎ তারা যমজ হলেও জেনেটিকভাবে তারা সৎবোন। ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মিশেল ও ল্যাভিনিয়া ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। তাদের মা জানিয়েছিলেন, তাদের বাবার নাম জেমস। তবে কৈশোরে জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলেও মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল, তিনি আসলেই তার জৈবিক বাবা কি না। এই সন্দেহ থেকেই ২০২১ সালের শেষ দিকে মিশেল বাড়িতে করার জন্য একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট কিনেছিলেন। পরীক্ষার ফল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতে আসে। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তার জৈবিক বাবা নন। এরপর নিজের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্স নামে একজন ব্যক্তি, যিনি তাদের মায়ের পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। এরপর ল্যাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার ফল মিশেলের ফলের সঙ্গে মিলবে। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার পর সামনে আসে আরও বড় সত্য। দেখা যায়, মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার বাবা একই ব্যক্তি নন। ল্যাভিনিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে আরেক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আর্থার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। সাধারণভাবে একজন নারীর একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু বের হলে এবং সেগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দুই ভ্রূণ একই গর্ভে বেড়ে উঠে একই সময়ে জন্ম নিলে তাদের যমজ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তাদের জৈবিক বাবা আলাদা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ না থাকলে যমজ সন্তানদের আলাদাভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। যুক্তরাজ্যে মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফল শুধু তাদের পারিবারিক পরিচয়ই বদলে দেয়নি, দুই বোনের সম্পর্কেও গভীর আবেগ তৈরি করে। ল্যাভিনিয়া জানান, সত্যটি জানার পর তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার ফল তার দীর্ঘদিনের সন্দেহের সঙ্গে মিলে যায়। পরে ল্যাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন। দুই বোনের এই ঘটনা বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘দ্য গিফট’ অনুষ্ঠানের নতুন মৌসুমেও উঠে এসেছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের জৈবিক পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলেও তারা একে অপরের জীবনে যমজ বোন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকের বেশি সময় পর পাওয়া এই তথ্য তাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও, একই গর্ভে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর সম্পর্কটি তাদের কাছে আলাদা বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে।
ব্রিটেনে আশ্রয় নিতে আসা বহু নারী স্থানীয় ব্রিটিশ পুরুষদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার ভয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঠিক এমন এক সময়ে এই খবর প্রকাশ্যে এলো, যখন ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে যে 'যুদ্ধ করার বয়সী' পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীরাই নাকি স্থানীয় নারীদের ধর্ষণের জন্য দায়ী। গত সপ্তাহে ডোভার ও পোর্টসমাউথে হওয়া ডানপন্থীদের বিক্ষোভেও এমন ভিত্তিহীন দাবি তুলে ধরা হয়, যা আদতে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর হওয়া এই পদ্ধতিগত নিপীড়নকে আড়াল করার চেষ্টা বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। প্রতিবেদনে তিন জন নারী আশ্রয়প্রার্থীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে আসা এক নারী জানান, দুই বছর একটি অ্যাসাইলাম হোটেলে থাকার সময় সেখানকার এক কর্মী তাকে বারবার শারীরিক ও মৌখিকভাবে হয়রানি করেছে এবং এমনকি ডাটাবেজ থেকে নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত ফোনে অনৈতিক প্রস্তাবও দিয়েছে। অন্য একটি ঘটনায়, ইরান থেকে আসা এক নারী হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে নিরাপত্তারক্ষী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে গেলে যদি তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে যায় বা সেখানকার পুলিশ যদি ইরানের মতো হয়, সেই ভয়ে তিনি কোনো অভিযোগই করেননি। তৃতীয় ঘটনাটি উগান্ডা থেকে আসা এক সমকামী নারীর, যিনি আইনজীবী নিয়োগের টাকা দিতে না পারায় সেই আইনজীবীর লালসার শিকার হতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে এই তিন নারীকেই শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসের মতে, একটি হোটেলে এক নারী গোসল করার সময় কর্মীর জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে। 'উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন' এবং 'রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস'-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নারীদের ওপর সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বর্ণবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা আসল অপরাধীদের আড়াল করছে। হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে।
ব্রিটেনের সাসেক্সের শোরহ্যাম-বাই-সি উপকূলে সপরিবারে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাদের ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লন্ডনের ফিলিস্তিনি দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন বাবা হোসাম আল-খাওয়াস, মা জেইনা আলায়ন এবং তাদের মেয়ে সারা আল-খাওয়াস। তারা লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবির থেকে আসা ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তাদের ছয় বছর বয়সী আরেক কন্যাকে উদ্ধারকর্মীরা জীবিত উদ্ধার করলেও বর্তমানে সে হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পানিতে নামার পর পরিবারের এক শিশু মাছ ধরার জালে আটকে পড়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি সম্ভবত ওই এলাকায় ক্যাম্পিং করছিল এবং একপর্যায়ে হার্বারে সবাই মিলে সাঁতার কাটতে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শোরহ্যাম হার্বারের সমুদ্রের তলদেশ হঠাৎ করেই অনেক গভীর হয়ে গেছে, যার ফলে সাঁতারুদের ভারসাম্য বজায় রাখা সেখানে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্রিটেনে ফিলিস্তিনি ফোরাম ও ফিলিস্তিনি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট মেয়েটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ নিহতদের স্বজনদের খবর দিয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এটি একটি চরম পারিবারিক ট্র্যাজেডি। সরকারের পক্ষ থেকে পানি নিরাপত্তা বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি গ্রীষ্মের দাবদাহে উন্মুক্ত জলাশয়ে সাঁতার কাটার বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন। আবহাওয়া গরম থাকলেও উন্মুক্ত জলাশয়ের শীতল পানি যে হঠাৎ বিপদ ডেকে আনতে পারে, সে বিষয়ে তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রশংসাও করেন তিনি। ইস্ট ওয়ার্দিং এবং শোরহ্যামের সংসদ সদস্য টম রুটল্যান্ডও এই ঘটনায় স্থানীয়দের শোকাহত হওয়ার কথা জানিয়ে সমুদ্র উপকূলে সাঁতারের বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন। নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে। সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তীব্র গরমের মধ্যেও ভবনটি শীতল রাখার পরিবেশবান্ধব নকশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদটির ভূমিকা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার, ২০ জুলাই, কেমব্রিজের মিল রোডে অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান ধর্মীয় নেতা, মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বাগান ও ভবনের স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর জুতা খুলে নামাজের মূল কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন রাজা চার্লস। মসজিদটির নকশা ও নির্মাণে দেওয়া যত্নের প্রশংসা করে রাজা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত করার উদ্যোগ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় রাজা চার্লস সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কেমব্রিজকে শহরের মর্যাদা দেওয়ার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কেমব্রিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের মর্যাদা দিয়েছিলেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদকে ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভবনের ছাদে বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নিচতলায় থাকা উচ্চদক্ষ হিট পাম্প গরম ও ঠান্ডার সময় ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের কারণে তাপপ্রবাহের মধ্যেও মসজিদের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে। বড় আকারের ছাদের জানালা দিয়ে দিনের আলো প্রবেশ করায় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন কম হয়। প্রয়োজনের সময় কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এলইডি বাতি জ্বালানো হয়। হাতমুখ ধোয়ার ব্যবহৃত পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে শৌচাগার ও মসজিদ প্রাঙ্গণের বাগানে ব্যবহার করা হয়। সাইকেল রাখার ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংও ভবনটির পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার অংশ। প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদটিতে ২০১৯ সালে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। নামাজের স্থানের পাশাপাশি এতে নারীদের জন্য পৃথক সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও সভাকক্ষ, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার এবং ইসলামি নকশার বাগান রয়েছে। পরিদর্শন শেষে রাজা চার্লস মসজিদটির আন্তধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরিতে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সামাজিক নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস (সিএসজে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি Year 6 শ্রেণিতে গড়ে চারজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ বছর আগে একই হিসাব ছিল প্রতি শ্রেণিতে তিনজন। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে চারজনে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ২১ বছর বয়সী এক লাখের বেশি তরুণ বিভিন্ন ধরনের বেকারত্ব-সংক্রান্ত সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হাজারো শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই শিক্ষাজীবন শেষ করছে। ফলে চাকরির বাজারে প্রবেশের সময় তারা পিছিয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি করছে। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের যুব কর্মসংস্থান পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ তরুণ এমন অবস্থায় রয়েছে, যারা চাকরি, শিক্ষা কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের বাস্তব কর্মদক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের দ্রুত শ্রমবাজারে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব ও সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ঐতিহাসিক বের হয়ে যাওয়ার বা 'ব্রেক্সিট' গণভোটের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এক দশক পর এসে এখন ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকই মনে করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে দেওয়াটা তাদের একটি মস্ত বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। স্বাধীন জনমত জরিপ সংস্থা 'ইউগভ'-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ব্রেক্সিটের পর থেকে অর্থনৈতিক মন্দা এবং স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার হারানোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে ব্রিটেন তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই এক দশকে দেশটিতে সাতজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছেন, যারা ব্রেক্সিটের পরবর্তী ধাক্কা এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের বাজেট বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইইউ ছাড়ার কারণে ব্রিটেনের উৎপাদনশীলতা, আমদানি ও রপ্তানি ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৬ শতাংশ বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও সম্প্রতি বলেছেন, ব্রেক্সিটের পরিণতি তাদের আশঙ্কার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০১৬ সালের সেই ঐতিহাসিক গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তবে গত ১০ বছরে ব্রিটেনের জনমিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়া বয়স্ক নাগরিকদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে মারা গেছেন এবং নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা যুক্ত হয়েছেন, যারা মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে। বর্তমানে সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ ভোটার পুনরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য নতুন করে গণভোট চান। তবে ব্রিটেনের বেশ কিছু ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এখনো ব্রেক্সিটের পক্ষেই সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। যদিও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ইইউ-তে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন, তবুও ব্রিটেনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা এখনই নতুন কোনো গণভোটের আয়োজন করতে রাজী নন। তারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে। তবে ব্রেক্সিট যে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি, বরং তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে—তা এখন দেশটির অধিকাংশ মানুষই অকপটে স্বীকার করছেন।
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার খুব দ্রুতই তার রাষ্ট্রীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিবাসন নীতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি পরিচালনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই দাবি করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নিজের অফিশিয়াল ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, স্যার কিয়ার স্টারমার খুব শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন বা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিয়ার স্টারমার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রধান বিষয়ে সম্পূর্ণ ও মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—যার একটি হলো দেশের সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যটি হলো জ্বালানি নীতি, বিশেষ করে উত্তর সাগরের উন্মুক্ত তেল উত্তোলন সংক্রান্ত নীতি। এই ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার লেখার শেষে স্টারমারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের ঠিক কিছু সময় আগে রোববার সকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারের মধ্যেই তার পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মনোভাব এবং দলীয় সমর্থন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওই বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারক ও বিশ্বস্ত সূত্র এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আগামী সোমবারের মধ্যেই তার চূড়ান্ত পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করতে পারেন। সরকারের ভেতরের এই চরম অস্থিরতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট এবং উত্তর সাগরের তেল ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিয়ার স্টারমার সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ভবিষ্যদ্বাণী এবং বিবিসির এই আগাম প্রতিবেদন সত্যি হলে, তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল বড় ধরণের বড় পরিবর্তন ও চরম সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আসবে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চাপের মুখে পড়ে ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং এটি উন্মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। তিনি জানান, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় রাখবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর কমানো হবে। অন্যদিকে চীনও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলায় একাধিক শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাধ্য করা যায়। জাপানও এই সংকট নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। বরং তারা সংঘাত প্রশমন ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংকটের ৪৫তম দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ক্রমেই মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর শেষ করে কাতার ত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আজ দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি। এরপরই তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে বিমান যোগে রওয়ানা হন। এই ত্রিদেশীয় সফরে স্টারমার অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করেন। গত বুধবার জেদ্দায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং সর্বশেষ কাতার সফর করেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১১ হাজার বছর আগের এক বিষাদময় উপাখ্যান! শেষ তুষারযুগের বরফ যখন গলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তর ব্রিটেনের এক অন্ধকার গুহায় সমাহিত করা হয়েছিল তিন বছরের এক ছোট্ট শিশুকে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেছেন মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কামব্রিয়ার ‘হিনিং উড বোন কেভ’ থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহাবশেষটি বর্তমানে উত্তর ব্রিটেনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শন। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, শিশুটি খ্রিস্টপূর্ব ৯২৯০ থেকে ৮৯২৫ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে মারা গিয়েছিল। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘অসিক ল্যাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এক আবেগঘন সত্য। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার সেই আদিম মানুষগুলোও যে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল ছিল, তার প্রমাণ মেলে এই সমাধিতে। শিশুটিকে গুহার ভেতর অত্যন্ত সম্মানের সাথে সমাহিত করা হয়েছিল। তার দেহের সাথে পাওয়া গেছে পাঁচটি ছিদ্রযুক্ত ঝিনুকের পুঁতি, যা তৎকালীন সময়ের গয়না বা বিশেষ উপহার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও মৃতদেহ সৎকারে শোক এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গুহায় খননকাজ চালিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক মার্টিন স্টেবেলস। তার মতে, গুহাটি সম্ভবত তৎকালীন মানুষের কাছে কোনো পবিত্র বা আধ্যাত্মিক স্থান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ডক্টর রিক পিটারসন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এত প্রাচীন দেহাবশেষ থেকে লিঙ্গ ও বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা ব্রিটেনের আদিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।