বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে অন্তত ৪০টি দেশের নেতাদের নিয়ে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান নিজেদের বাইরে অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর নেতারা ইরানের যুদ্ধবিরতি সমর্থনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় বসতে গিয়ে ইরানিরা যদি কোনো ধরনের ‘চালাকি’ বা কৌশল করার চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন তাতে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেবে না। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে রওয়ানা হওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জেডি ভ্যান্স বলেন, "ইরানিরা যদি আন্তরিকভাবে এবং খোলা মনে আলোচনা করতে চায়, তবে আমরা অবশ্যই প্রস্তুত। কিন্তু তারা যদি কোনো রাজনৈতিক চাল বা কৌশল অবলম্বন করার চেষ্টা করে, তবে আমরা সেই পথে হাঁটব না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই আলোচনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ‘স্পষ্ট নির্দেশনা’ দিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে। ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ শর্ত দিয়েছেন যে—লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। একদিকে ইরানের কঠোর শর্ত এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের বৈঠকটি ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা ও বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন পাকিস্তানের দিকে।
লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই কড়া শর্তের কথা জানিয়েছেন। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে ইরানি প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছেছেন এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি দল রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্পিকার ঘালিবাফের এই নতুন বার্তায় নির্ধারিত এই বৈঠক এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঘালিবাফ স্পষ্ট করে বলেছেন, "আলোচনা শুরুর আগেই এই দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে।" এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ ও ট্যাংকার থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। শুক্রবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন জানিয়েছে, এখন থেকে এই পথে যাতায়াতের টোল কেবল ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ পরিশোধ করতে হবে। এর আগে এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তেহরান এখন নিজস্ব মুদ্রাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ভারতের মুম্বাইস্থ ইরানি কনস্যুলেট জেনারেলও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র: আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বক্তব্যকে ঘিরে। সম্প্রতি ট্রাম্প এক মন্তব্যে সতর্ক করে বলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,” যা মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়ায় না, বরং হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে। স্যান্ডার্সের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানের সাধারণ জনগণ মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়তে পারে যেখানে পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং এতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা হতে পারে। স্যান্ডার্স দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরেও অনেকেই ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই সময় এই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানে “পূর্ণাঙ্গ শাসন পরিবর্তন” আনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এতে দেশটির দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা তুঙ্গে, তখন এক নতুন এবং কঠিন শর্ত জুড়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধবিরতির কথা ভাববে না। ফ্লোরিডায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য এবং এতে কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করেন ইরান যদি আন্তর্জাতিক নৌপথ অবরোধ করে রাখে, তবে আলোচনার কোনো পরিবেশ তৈরি হতে পারে না। এই প্রণালীটি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে উত্তেজনার কারণে স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আবারও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই শর্তের ফলে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়বে। এদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই শর্তের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইরানি সামরিক কমান্ডাররা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালীতে কোনো বিদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন কারণ জ্বালানি সংকটে তারা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্রাসেলস ও লন্ডন থেকে ওয়াশিংটনের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যেন তারা শর্ত শিথিল করে দ্রুত আলোচনায় বসে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তান ও চীন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন শর্ত সেই শান্তি প্রক্রিয়ার পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগনের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। তারা যেকোনো মূল্যে এই বাণিজ্যিক রুটটি দখলমুক্ত রাখতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকরা তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ট্রাম্পের এই শর্ত যদি যুদ্ধের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেয়, তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমেরিকা শান্তি চায় তবে তা অবশ্যই তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার শর্ত মেনে হতে হবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখে ইরান যে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তার কাছে ওয়াশিংটন নতি স্বীকার করবে না বলেও জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে কারণ এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অনিশ্চয়তা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির যে ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তা আবারও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান আন্তর্জাতিক চাপ মেনে নিয়ে নৌপথ উন্মুক্ত করে দেয় নাকি এই সংঘাত আরও ভয়াবহ ও চরম রূপ ধারণ করে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ের মধ্যেই জানা যাবে সমঝোতার কোনো পথ খোলা আছে কি না। পুরো বিশ্ব এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে ইতিহাস।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান এবং চীন যৌথভাবে একটি পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এই শান্তি প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াই থামিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এটি একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাকিস্তান ও চীন দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম রাখার কঠোর আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ। তারা মনে করে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি অনুসরণ করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আমেরিকান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে মনে করছে পাকিস্তান ও চীন। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই পাঁচ দফা প্রস্তাব বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংঘাতরত পক্ষগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বেইজিংয়ের এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে গ্রহণ করে তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। শান্তি প্রস্তাবের এই খসড়াটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই প্রস্তাবটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে যা এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের ইতি টানবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আরব দেশগুলো। যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এই পাঁচ দফা প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ ইরান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোয় এই আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ওয়াশিংটনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ জনমত এবং তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে তিনি এখন একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তির চেয়ে এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন জরুরি। তারা মনে করছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হবে, যা এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছে বলে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রস্তুত রয়েছে। তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা এখনও যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না করে সরে আসলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব ম্লান হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সাধারণ আমেরিকানরা এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হতে পারে। বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যুদ্ধের এই দামামা শান্ত হয়ে পৃথিবীতে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন দেশটির নারীদের ‘শারীরিকভাবে দুর্বল’ হলেও ‘দৃঢ়চেতা’ বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি নারীদের ‘বিপ্লবের মজবুত স্তম্ভ’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন কিম জং উন। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও ভূমিকার প্রশংসা করেন। সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র ইংরেজি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম বলেন, “আমাদের সমসাময়িক নারীরা বিপ্লবের মজবুত স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন।” তিনি আরও বলেন, “শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তারা নিঃসন্দেহে দৃঢ়চেতা। তাদের সাদামাটা মুখে সাহসের ছাপ স্পষ্ট এবং মুখের বলিরেখায় ফুটে ওঠে অক্লান্ত পরিশ্রমের গল্প।” সপ্তাহের শেষ দিনের ওই অনুষ্ঠানে কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জু এবং কন্যা জু এ উপস্থিত ছিলেন। কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জু এ তার বাবার পাশে বসে তার হাত ধরে আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই জু এ-কে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও অংশ নেন। কিমের বক্তব্যের পর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেসিএনএ জানায়, উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে কিম জং উনের বক্তব্যকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে কিম পরিবার উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে এবং দেশটিতে এই পরিবারের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে উঠেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও নৈতিকতার সংকট চলছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সময়টি অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যার মতো ঘটনাগুলো বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) মিলনায়তনে অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা, একটি রাষ্ট্রের প্রধান বা মতাদর্শিক নেতাকে হত্যা করা এবং প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বিশ্ব আজ কতটা নৈতিকতাহীন হয়ে পড়েছে। আমরা যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিকতায় বিশ্বাসী, তারা এখন চরম কষ্টে আছি। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তি সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, সুশাসন ও আইনের শাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মৃত অধ্যাপক শাহিদা রফিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় টেনে তোলা এবং রাষ্ট্রকে সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শাহিদা রফিকের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews