সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

২০৩৩ সাল থেকে অবসরে যাওয়া দম্পতিদের বছরে কমতে পারে ১৭ হাজার ডলারের বেশি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৮:০
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলের আর্থিক সংকট নিরসনে কংগ্রেস সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ২০৩৩ সাল থেকে অবসরে যাওয়া নতুন অনেক দম্পতি বছরে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা হারাতে পারেন। এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে অলাভজনক বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (সিআরএফবি) বিশ্লেষণে, যা প্রকাশ করেছে নিউজউইক।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান আইনে কোনো পরিবর্তন না এলে সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসরভাতা তহবিলের সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কেবল চলমান বেতন কর থেকে যে অর্থ আসবে, তা দিয়েই সুবিধা পরিশোধ করতে হবে। ফলে নির্ধারিত পূর্ণ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে না এবং নতুন অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ কমে যেতে পারে। 

 

সিআরএফবির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৩ সালে অবসরে যাওয়া গড় আয়ের দুই কর্মজীবী দম্পতি বছরে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ডলার কম সুবিধা পেতে পারেন। একক উপার্জনকারী দম্পতির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ১০০ ডলার। 

 

এটি এমন নয় যে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থপ্রদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে তহবিলের রিজার্ভ শেষ হয়ে গেলে বিদ্যমান আইনের আওতায় প্রাপ্য সুবিধা কমিয়ে উপলভ্য অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিশোধ করতে হবে।

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং মৃত কর্মীর পরিবারের সদস্যসহ কোটি কোটি মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। কর্মজীবনে দেওয়া বেতন করের অর্থ থেকেই এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যার বার্ধক্য, তুলনামূলক কম জন্মহার এবং অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে তহবিলের ওপর চাপ বাড়ছে। 

 

সাম্প্রতিক সরকারি ট্রাস্টি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসরভাতা তহবিলের আর্থিক চাপ আগের ধারণার তুলনায় আরও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩২ সালের শেষ দিকে অবসরভাতা তহবিলের রিজার্ভ শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর বিদ্যমান আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত সুবিধার প্রায় ৭৮ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। আর অবসর ও প্রতিবন্ধী—দুই তহবিল একত্রে বিবেচনা করলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হতে পারে, এরপর নির্ধারিত সুবিধার প্রায় ৮৩ শতাংশ পরিশোধ করা যাবে। 

 

এখন পর্যন্ত কংগ্রেস এ সংকট মোকাবিলায় চূড়ান্ত কোনো আইন পাস করেনি। ফলে ভবিষ্যতে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থায়ন ও সুবিধার কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আইনপ্রণেতাদের ওপরই থাকছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার বাংলাদেশি।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঝরে গেল চার বাংলাদেশির প্রাণ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার বাংলাদেশি। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ইউসুফ রাজু, টেনেসিতে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন শাহেদ রানা মোহসিন। আর মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা বাংলাদেশি মা-মেয়ে মুসাম্মাত শামীমা বেগম ও তাঁর ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবা জাহিন। পরপর এসব ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।   নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। তিনি ওই রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক।   টেনেসির ক্রকেট কাউন্টির বেলস এলাকায় ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী শাহেদ রানা মোহসিন। তদন্তের পর এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।   সবশেষ ২৯ আগস্ট মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ হাইওয়েতে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভুল পথে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামীমা বেগম এবং তাঁর মেয়ে আরিবা জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অন্য গাড়িটির চালক ভুল পথে দক্ষিণমুখী লেনে প্রবেশ করেছিলেন। দুর্ঘটনায় একই গাড়িতে থাকা আরও দুজন আহত হন।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সময় অন্য গাড়িটির চালকের অ্যালকোহলের প্রভাবে থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। মা-মেয়ের জানাজায় স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন।   মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে নিউইয়র্ক, টেনেসি ও মেরিল্যান্ডে চার বাংলাদেশির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে প্রবাসী সমাজে। ভিন্ন তিন ঘটনায় প্রাণ হারালেও চারটি পরিবারই হারিয়েছে আপনজন। কর্মস্থলে গুলির ঘটনা থেকে শুরু করে হাইওয়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, পরপর এসব মৃত্যু আবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৯:৩৮
ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

ভ্যান্সের কড়া আক্রমণ, আবদুল এল-সায়েদকে বললেন ‘আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনবেন না’

দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস

মেয়ের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বই, নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ফায়ার ফাইটারের ‘দ্য সাইলেন্স বিটুইন টু হার্টবিটস’ প্রকাশিত

রাইড বুক করে পিছন থেকে ১১ বার ছুরিকাঘাত করে গাড়ি ছিনতাই করার অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে

রাইড বুক করে পিছন থেকে ১১ বার ছুরিকাঘাত করে গাড়ি ছিনতাই করার অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান, ক্যালিফোর্নিয়াসহ টার্গেটে ৯ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় ধরনের ফেডারেল অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস - এইচএসআই। ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ৯টি অঙ্গরাজ্যকে এই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।   তদন্তের আওতায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো হলো - ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, ওয়াশিংটন, নেভাদা, উইসকনসিন ও মিসৌরি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে এসব অঙ্গরাজ্যে ভোটসংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্তমূলক কার্যক্রম জোরদার করবে এইচএসআই। ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী অনিয়ম এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছেন। তার প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় এরই মধ্যে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ফেডারেল তদন্ত জোরদার হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের তদন্তে তৎপরতা বাড়িয়েছেন।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হন্ডুরাসের নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন - এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।   নতুন এই বহুরাজ্যভিত্তিক উদ্যোগে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলা করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে - এমন দাবির পক্ষে বড় ধরনের প্রমাণ নেই বলে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিস্তৃত তদন্ত উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে।   সূত্র - WTTW, ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও মার্কিন বিচার বিভাগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৭:৪৩
কর্ণাটকের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি।ছবি: সংগৃহীত

‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’—কর্ণাটকের মন্ত্রীর মন্তব্যে পদত্যাগ দাবি বিজেপির

৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু

ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ংকর তথ্য: ৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু

সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক

মার্কিন বিচারকের রায়ে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ধসের ১৭১ কোটি ডলারের দাবি খারিজ

জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে অভিবাসন জালিয়াতি, জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে একটি বাড়িতে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানের পর জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুই অভিবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর গণ-ডিপোর্টেশন এবং অভিবাসন জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুয়াতেমালার ৩৮ বছর বয়সী সান্তোস রামিরেজ-রামিরেজ এবং মেক্সিকোর ৩২ বছর বয়সী ইয়োলান্ডা মেন্ডোজা-এমিলিয়ানো ইমিগ্রেশন নথির অপব্যবহারের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। গত ২৮ মে সাউথ সিক্সটিন্থ স্ট্রিটের ওই বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা জাল স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড (গ্রিন কার্ড) এবং ভুয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত গ্রিন কার্ডগুলোতে আসামিদের নাম ও ছবি থাকলেও, সেগুলোতে ব্যবহৃত ‘এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন নম্বর’গুলো সম্পূর্ণ অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত ছিল।   তদন্তকারী সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)-এর কানসাস সিটি স্পেশাল এজেন্ট রিক সাবাতিনি এক বিবৃতিতে জানান, এই ধরনের জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার সততাকে ক্ষুণ্ন করে এবং পরিচয় গোপন রেখে অবৈধভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে। মার্কিন অ্যাটর্নি রায়ান এ. ক্রিগশাউসার পরিচয় চুরির ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জালিয়াতির কারণে নিরীহ মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে, যার ফলে অপরাধীরা অন্যের নামে চাকরি নেওয়া থেকে শুরু করে ঋণ নেওয়ার মতো কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেন্ডোজা-এমিলিয়ানোকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চারবার আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারকৃত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অবৈধ অনুপ্রবেশের পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   দেশজুড়ে অভিবাসন জালিয়াতি রোধে আরও বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। চলতি মাসের শুরুতেই একটি দশক-ব্যাপী ভুয়া বিয়ের চক্রের সঙ্গে জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বিচার বিভাগ। এই চক্রটি অর্থের বিনিময়ে শত শত চীনা নাগরিককে মার্কিন নাগরিকদের সাথে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করত। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, এটি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত অন্যতম বৃহৎ বিবাহ-জালিয়াতি মামলা। এই চক্রের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের জন্য বিদেশি নাগরিকেরা প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত প্রদান করতেন এবং সম্পর্কগুলোকে সত্যি প্রমাণ করতে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠান ও ফটোশুটেরও আয়োজন করা হতো।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:১১
বেসবল খেলার মাঠে ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ। ছবি: সংগৃহীত

বেসবল খেলতে খেলতেই বুকে-পিঠে তীব্র ব্যথা, ১১ বছরের শিশুর বিরল রোগ শনাক্ত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের আসল জন্মসনদ পাওয়ার সুযোগ দিতে নতুন আইন পাসের দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

জন্মসনদ পাওয়ার দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়ার দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের লড়াই, আইন পাসের আবেদন

লেবার ডে ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ১৭ সেন্টে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চড়া খরচের আশঙ্কা!

0 Comments