মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে থাকা সকল মার্কিন নাগরিককে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালী ঘিরে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান শর্ত না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার এই বক্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশ এবং পারমাণবিক স্থাপনায় কর্মী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা—দুটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের প্রস্তাবিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শনিবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ এই বৈঠকে বসবে বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। রয়টার্সের দেখা খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে স্থায়ী সদস্য চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। চীন ছাড়াও রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তির মুখে প্রস্তাবের ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে অন্তত নয়টি ভোটের প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কারো ভেটো থাকা চলবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও বেইজিং মনে করে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুরো বিশ্ব এখন শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
বাহরাইনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ রিটার্ন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ মার্চ) মানামার বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গালফ এয়ারের মাধ্যমে বাহরাইন থেকে বাংলাদেশে যাওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন ফেরার জন্য বিশেষ দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম ফ্লাইটটি ২৭ মার্চ বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে ঢাকা পৌঁছাবে এবং একই দিনে ঢাকা থেকে দাম্মাম ফেরার ব্যবস্থা থাকবে। দ্বিতীয় ফ্লাইট ৩ এপ্রিল একই রুটে পরিচালিত হবে। ফ্লাইটের সুবিধা নিতে আগ্রহীরা গুগল ফর্মে নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা পূর্ণ হলে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছিলেন, তাতে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপ্টর মিসাইল জড়িত থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক পর্যালোচিত এবং একদল গবেষকের করা সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ৯ মার্চের ওই ভোরে হওয়া বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৩২ জন আহত হন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। শুরুতে বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য ইরানের ড্রোন হামলাকে দায়ী করলেও, এখন ঘটনার মোড় পরিবর্তন হচ্ছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার অদূরে অবস্থিত তেল শোধনাগার সংলগ্ন ওই এলাকায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সক্রিয় ছিল। তবে বাহরাইন সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, প্যাট্রিয়ট মিসাইলটি সফলভাবে একটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকানো গেছে। তার মতে, সরাসরি মিসাইল বা ড্রোন মাটিতে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই ওই ঘটনায় ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণটি সম্ভবত মার্কিন পরিচালিত কোনো এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি থেকে ভুলবশত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট।
ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাহরাইনের অভ্যন্তরে ইরানের হামলার প্রতি সমর্থন জানানো, উস্কানিমূলক ভিডিও প্রচার এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৫ মার্চ, ২০২৬) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যান্টি-সাইবার ক্রাইম ডিরেক্টরেট’ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইরানের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা এবং ভিডিও প্রচার করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার উস্কানি দেওয়ার পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছিলেন। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইন সরকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যে কোনো তথ্যের জন্য যেন কেবল সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করা হয়। যাচাই না করে কোনো ভিডিও বা সংবাদ শেয়ার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে, অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। উল্লেখ্য, ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বাহরাইনসহ প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র কঠোরভাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে তেল আবিবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানছে। এর মধ্যে বাহরাইনে কয়েক হাজার মিসাইল ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এবার দেশটির রাজধানী মানামায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের। প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মাধ্যমে ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চলাকালীন ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পথভ্রষ্ট হয়ে পার্শ্ববর্তী আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে হতাহত বা ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনা উপসাগরীয় সংকটে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নির্দেশ করছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষার জন্য ছোড়া ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক এলাকায় পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
বাহরাইনের রাজধানীর নিকটবর্তী একটি এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি। হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের সবাই দেশটির নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে, যার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী একজন শিশুর বয়স মাত্র দুই মাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির জুফায়র এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের কেশম এলাকায় একটি পানি সরবরাহ প্ল্যান্টে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওই হামলার ফলে কেশম অঞ্চলের অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এদিকে হামলার সময় বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক বার্তায় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে কাতার লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই হামলা প্রতিহত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও রণংদেহী মূর্তিতে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে যে, তারা বাহরাইনের জুবায়ের এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে শক্তিশালী সলিড এবং লিকুইড ফুয়েলড (কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত) মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাটি মূলত ইরানের কেশম (Qeshm) দ্বীপে অবস্থিত একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে (desalination plant) সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার সরাসরি প্রতিশোধ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার ওই হামলায় ইরানের অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যা একটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এদিকে, হামলার পরপরই বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বিমান হামলার সাইরেন বাজার কথা নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি এই হামলা পরিস্থিতিকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বাহরাইনে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাতে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–কে টেলিফোন করে রাজার পক্ষ থেকে শোকবার্তা পৌঁছে দেন। টেলিফোন আলাপে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন এবং এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। রাজার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বাহরাইন সরকার সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমাল রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংকটময় সময়ে বাহরাইন সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এর আগে একই দিন বিকেলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আরেক দফা টেলিফোন আলাপ হয়। সেখানে বাহরাইনের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জনবহুল এলাকায় পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাহরাইনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও দেশটির উচ্চপর্যায় থেকে নিরাপত্তা আশ্বাস পাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এদিকে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে সহযোগিতা করবে বলে বাহরাইন সরকার জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করছে।
বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। আইআরজিসির দাবি, হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ও সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন লেগেছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাহরাইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও মিত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়ে আসছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ‘নির্বিচার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। দেশগুলো এই হামলাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের এই ‘অযৌক্তিক হামলা’ একাধিক দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে যেমন বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সরাসরি পরিপন্থী। সাতটি দেশ জোর দিয়ে জানায়, তেহরানের এই পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ সৃষ্টি করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি বলেও তারা উল্লেখ করে। বিবৃতির শেষাংশে দেশগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে তাদের ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে।
বাহরাইন রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির অভ্যন্তরে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। মানামা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (US Navy’s 5th Fleet) সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বাহরাইন সরকার দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজধানী মানামার কাছাকাছি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কথা জানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই বাহরাইন, কাতার এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোতে বিস্ফোরণ ও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে বাহরাইনে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং স্থানীয় সংবাদ ও নির্দেশনাবলী অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। সূত্র: আল আরাবিয়া ইংলিশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews