ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমাসের পর মাস অনলাইনে কথা বলার পর অবশেষে প্রেমিকের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় যান এক তরুণী। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই সাক্ষাতের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারান তার প্রেমিক। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ওই তরুণীর অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, "lobita_xx94" নামে পরিচিত ওই তরুণী গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে ফুল ও উপহার নিয়ে তাকে স্বাগত জানান তার প্রেমিক ভিক। দীর্ঘদিনের ভার্চুয়াল সম্পর্ক সেদিনই প্রথম বাস্তবে রূপ নেয়। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তরুণীর দাবি, সাক্ষাতের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে শক্তিশালী দ্বৈত ভূমিকম্প। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনায় ভিক নিহত হন, আর তিনি নিজে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তরুণী লিখেছেন, "জীবন আমাদের একসঙ্গে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল।" এই একটি বাক্যই যেন তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসার পুরো গল্প তুলে ধরে। বহুদিনের অপেক্ষার পর যে সম্পর্ক বাস্তবে শুরু হয়েছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এই অভিজ্ঞতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা, ভাগ্য এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত বর্ণনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করলেও, তরুণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং অনুভূতির গভীরতায় মাপা হয়।
বিমানে ওভারহেড বিনে ব্যাগ রাখতেও লাগবে আলাদা টাকা! এয়ারলাইনে নতুন নিয়ম
‘খ্রিস্টান হওয়ায় হত্যা করেছি’, নিজেকে জিহাদি দাবি করল ব্রিটিশ নারী হত্যাকারী
ফ্লাইটে চার বছরের মেয়ের চোখের সামনেই মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন, ঘুম ভাঙার পর আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন নারী
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন চিকিৎসক ও প্রগতিশীল নেতা ডা. আবদুল এল-সায়েদ। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হবেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ের মাধ্যমে এল-সায়েদ শুধু দলীয় মনোনয়নই নিশ্চিত করেননি, জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় উঠে এসেছেন তার নির্বাচনী এজেন্ডার কারণে। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার অবস্থান প্রচারণার অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল। ভোট গণনার অধিকাংশ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এল-সায়েদ প্রায় ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন। স্টিভেন্স পান প্রায় ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। এ ফলের মাধ্যমে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এবং নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট অর্জন করেন। এল-সায়েদের প্রচারণার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ এমন সামরিক সহায়তায় ব্যয় হওয়া উচিত নয়, যা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং মানবাধিকারভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে অবস্থান নেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও তিনি উচ্চাভিলাষী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বাস্তবায়ন, যাতে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা যায়। এছাড়া তিনি আয় বৈষম্য কমানো, করব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসের পক্ষে প্রচারণা চালান। অভিবাসন নীতিতেও তিনি বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচক। এল-সায়েদ দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত করে আরও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তার মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অভিবাসীদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য আচরণ করা হয় এবং এতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। মিশিগানে বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, গাজা যুদ্ধ এবং অভিবাসন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট, আরব-আমেরিকান এবং মুসলিম ভোটারদের মধ্যে এল-সায়েদ উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছেন। বিশেষ করে মিশিগানের বৃহৎ আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রচারণা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করতে পারলে ডা. আবদুল এল-সায়েদ শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হিসেবেও নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবেন।
তরুণীকে ধর্ষণ, পাকিস্তানে এক থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
পিএইচডিতে চুরির অভিযোগের পর এবার ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির দাবিও ভুয়া? বিতর্কে কেমব্রিজের অধ্যাপক
আর্থিক সুবিধার জন্য তিন বছরের বেশি সময় ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হলো মায়ের লাশ, ছেলের কারাদণ্ড
অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ (H5) বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির অন্যতম পরিচিত ‘লিটল পেঙ্গুইন’ উপনিবেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের আশঙ্কা, ভাইরাসটি মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা সৈকতের পেঙ্গুইন উপনিবেশে পৌঁছালে সেখানে থাকা পেঙ্গুইনের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বন্যপ্রাণীর মধ্যে বার্ড ফ্লুর কারণে ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই সতর্কতা সামনে এসেছে। মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বাসা বেঁধে থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শত শত দর্শনার্থী সৈকতে ভিড় করেন সমুদ্র থেকে এই ছোট আকারের পেঙ্গুইনগুলোর তীরে ফিরে আসার দৃশ্য দেখতে। ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বিশ্বের সবচেয়ে ছোট প্রজাতির পেঙ্গুইন। এদের উচ্চতা সাধারণত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন জনসংখ্যা রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপ আইল্যান্ডের উপনিবেশটি সবচেয়ে বড়। সেন্ট কিল্ডার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্থকেয়ার সেন্ট কিল্ডার সভাপতি লানা অস্টিন বলেন, তাদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী উপনিবেশটির ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পেঙ্গুইন মারা যেতে পারে। তবে এইচ৫ ভাইরাসটি পেঙ্গুইনের ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটিতে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বন্য সামুদ্রিক পাখির মধ্যে এইচ৫ ভাইরাসের ৭৮টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনা ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে। সোমবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের কাছে বাউডিন রকস দ্বীপে বার্ড ফ্লুর কারণে বন্যপ্রাণীর প্রথম গণমৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। আকাশপথে নজরদারির সময় সেখানে প্রায় ৫০টি মৃত এবং ৩০টি অসুস্থ পাখি দেখা যায়। পরে পরীক্ষায় পাঁচটি গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন ও একটি সিলভার গালের নমুনায় এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ নেলসনের কাছে গ্লেনেলগ নদীর মোহনা এবং লরেন্স রকস এলাকায় আরও অসুস্থ ও মৃত সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। সেখানকার নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভিক্টোরিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা গ্রেম কুক বলেন, গত সপ্তাহে যেখানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সংক্রমণের ঘটনা দেখা গিয়েছিল, এখন সেখানে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং এর প্রভাবও বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াটও সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, বন্য পাখি ও প্রাণীর চলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় প্রাণীপ্রজাতির টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে। ২০২১ সাল থেকে ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে এই এইচ৫ ভাইরাস। এর আগে যুক্তরাজ্যেও ২০২১ ও ২০২২ সালে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু হয়েছিল। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার খামারের মুরগি বা হাঁস-মুরগির মধ্যে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকায় খামারের পাখিগুলোকে ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে প্রায় ১৪ কোটি খামারের পাখি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো বিরল। সাধারণত আক্রান্ত পাখি বা তাদের বিষ্ঠার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লারা হেরেরো জানান, পোলট্রি খামারের কর্মী এবং বন্যপ্রাণী পরিচর্যাকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এদিকে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জনগণকে অসুস্থ বা মৃত পাখি স্পর্শ না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এমন কোনো পাখি দেখা গেলে দ্রুত জরুরি প্রাণীরোগ হটলাইনে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে ভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।
কূটনৈতিক বিরোধে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র
শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে সরকারের ভূমিকা নেই: ভারত