ভার্জিনিয়া

হাসপাতালের সামনে অভিযানের সময় পেরেজ মার্টিনকে আটক করার সময় তোলা ছবি I সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালের সামনে অভিবাসীকে মারধর করে আটক, ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর ভিডিও ভাইরাল

ভার্জিনিয়ার সাফোক শহরের একটি হাসপাতালের সামনে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের সময় এক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে মাটিতে ফেলে একাধিকবার ঘুষি ও হাঁটু দিয়ে আঘাত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।   আটক ব্যক্তির নাম পেরেজ মার্টিন। আইসিই জানিয়েছে, একটি “টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশন”-এর অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, কর্মকর্তারা তাকে আইনসম্মত নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন এবং সেন্টারা বেল হারবার হাসপাতালের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন আইসিই এজেন্ট পেরেজ মার্টিনকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় তাকে একাধিকবার ঘুষি মারা এবং পিঠ ও পেটের দিকে হাঁটু দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। পরে আরও একজন এজেন্ট এসে তাকে আটক করতে সহায়তা করেন।   আইসিইর মুখপাত্র বলেন, অভিযানের সময় কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, কিন্তু পেরেজ মার্টিন তা মানেননি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।   আইসিইর কর্মকর্তা এরিক রেয়েস জানান, পেরেজ মার্টিনের বিরুদ্ধে অভিবাসন আদালতে হাজিরার নোটিশ জারির অনুরোধ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবেন এবং তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা সম্পর্কে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।   রেয়েস আরও জানান, ১৩ জুলাই পর্যন্ত পেরেজ মার্টিনকে ভার্জিনিয়ার ফার্মভিলে অবস্থিত একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার পরবর্তী শুনানির তারিখ আদালত নির্ধারণ করবে।   এদিকে, ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশের পর রোববার সাফোক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক অ্যানি ওভারটন বলেন, ভিডিওটি দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিইর অভিবাসন অভিযান এবং এসব অভিযানে বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও আইসিই বলছে, তাদের কর্মকর্তারা আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে অভিবাসন আদালতের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ায় ডেটা সেন্টারের বাড়তি চাহিদার কারণে সরকারি ভবন ও স্কুলের বিদ্যুৎ বিল ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি | ছবি: সংগৃহীত
ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদায় বিপাকে ভার্জিনিয়া, স্কুলে বাতি-কম্পিউটার বন্ধ রাখার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের হেনরিকো কাউন্টিতে দ্রুত সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে স্থানীয় সরকার ও সরকারি স্কুলের বাজেটে। ১ জুলাই থেকে কাউন্টির সরকারি ভবন ও স্কুলগুলোর বিদ্যুতের খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে কাউন্টি প্রশাসন। বাড়তি এই ব্যয় সামাল দিতে শিক্ষক, স্কুলকর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   কাউন্টি ম্যানেজার জন ভিতৌলকাস কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও বিদ্যুতের দাম আরও বাড়তে পারে, তাই এখন থেকেই সাশ্রয়ী ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে, কর্মদিবস শেষে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, ব্যবহার না হলে চার্জার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখতে হবে এবং জানালার ব্লাইন্ড ব্যবহার করে ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্পেস হিটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ একটি স্পেস হিটার পরিচালনায় বছরে ১৫০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয় হতে পারে।   হেনরিকো কাউন্টিতে বর্তমানে ৩৭টি বড় ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে এবং আরও অন্তত ১৭টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের কারণে এসব ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত চাহিদা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য বড় গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   ভার্জিনিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত। অঙ্গরাজ্যটিতে ৪০০-এর বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে, যার বড় অংশই উত্তর ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিচমন্ড এলাকার আশপাশেও নতুন ডেটা সেন্টার দ্রুত গড়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে এবং তা বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ন এনার্জি মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানির ব্যয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, দ্রুত সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টার শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদাই এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ, যার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপরই পড়ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে একটি সমাবেশ করে । রয়টার্স-ফাইল
ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বরখাস্তের অভিযোগে ভার্জিনিয়ার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করল সিএআইআর

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন সিএআইআর ভার্জিনিয়ার একটি বড় পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে চার মুসলিম শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।   মামলাটি করা হয়েছে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাবলিক স্কুলসের বিরুদ্ধে, যা ওয়াশিংটন ডিসির উপশহরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত একটি বৃহৎ স্কুল জেলা। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার অন্তর্ভুক্ত থমাস জেফারসন হাই স্কুল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করে একটি ভিডিও তৈরি করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের জিজ্ঞাসা করছে তারা এমএসএ সভায় অংশ নেবে কি না। কেউ “না” বললে অন্য শিক্ষার্থীরা মজার ছলে তাদের ধরে নিয়ে যায়, যা মামলার ভাষ্যে একটি হাস্যরসাত্মক স্কিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএআইআরের দাবি, এতে কোনো হুমকি, অস্ত্র বা বাস্তব সহিংসতার ইঙ্গিত ছিল না এবং একই ধরনের ভিডিও অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   অন্যদিকে মামলায় বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাসপেন্ড করে এবং তাদের আচরণকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে শাস্তিমূলক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এক শিক্ষার্থীকে ফিলিস্তিনের মানচিত্র সংবলিত সোয়েটশার্ট পরতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।   সিএআইআরের আইনজীবীদের মতে, একই ধরনের আচরণের জন্য অন্যান্য শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে শাস্তি না দিয়ে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, সমান সুরক্ষা ধারা এবং ফেডারেল নাগরিক অধিকার আইনের লঙ্ঘন।   স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, ভিডিওটি শিক্ষার্থী অপহরণের মতো দৃশ্য উপস্থাপন করেছিল, যা স্কুল পরিবেশে অনুপযুক্ত ও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি কিছু শিক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে আঘাতজনক হতে পারে। ইহুদি সম্প্রদায়ের কিছু সংগঠনও ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছে, অপহরণের দৃশ্যের সঙ্গে মিল থাকায় এটি সংবেদনশীল সময়ের জন্য অনুপযুক্ত ছিল।   মামলাটি এখন মূলত নির্ভর করছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন আচরণের শিকার হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের ওপর। আদালতে যদি প্রমাণ হয় যে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য হয়েছে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সিএআইআর ক্ষতিপূরণ, শাস্তিমূলক রেকর্ড বাতিল এবং ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছে।

Unknown জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’
ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’, সহস্রাধিক দর্শনার্থীর সমাগম

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় দুই দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে ঘিরে আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সাহিত্যপ্রেমীরা। অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST)।   গত ২৯ ও ৩০ মে আলেকজান্দ্রিয়ার WUST অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দুই দিনে সহস্রাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   উৎসবের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বাংলা সাহিত্যচর্চা, ভাষার বিকাশ এবং প্রবাসে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।   অনুষ্ঠানে WUST-এর চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপ এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা হানিপকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অব্যাহত সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।   এবারের উৎসবে সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ” এবং “কলমের দুই ধারা: সাহিত্য ও সাংবাদিকতা” শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা প্রযুক্তির অগ্রগতি, গণমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং সাহিত্য জগতের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথিরা বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ভাষা ও উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আসছে।   অনুষ্ঠানে WUST চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপের আরেকটি সৃজনশীল পরিচয়ও উঠে আসে। তার লেখা কবিতা “Different Shades, Same Soul” পাঠ করা হলে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়।   বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬ আয়োজনের পেছনে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কবিতা দিলাওয়ার। আয়োজকরা তার নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে বাংলা ইভেন্টসের সহযোগিতা এবং WUST-এর সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ মেনন খানের সমন্বয়মূলক ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।   অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

নীলুফা নিশাত জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত এই তারিখবিহীন ছবিটিতে ভার্জিনিয়ার সাবেক লেফট্যানেন্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে দেখা যাচ্ছে।
স্ত্রীকে হত্যার পর সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের রহস্যজনক আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বা স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে জাস্টিন এবং সেরিনা উভয়কেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাদের দুই কিশোর সন্তানও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। তবে তারা শারীরিক কোনো আঘাত পায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও, একে একটি অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ৪১তম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান নির্বাচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার এই আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে গোটা ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক মহলে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

দাঁতের চিকিৎসার সময় মারা যাওয়া সাত বছরের এলা কোকাচোগুর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করতে গিয়ে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০