আমেরিকা

ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বরখাস্তের অভিযোগে ভার্জিনিয়ার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করল সিএআইআর

Unknown প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে একটি সমাবেশ করে । রয়টার্স-ফাইল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে একটি সমাবেশ করে । রয়টার্স-ফাইল

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন সিএআইআর ভার্জিনিয়ার একটি বড় পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে চার মুসলিম শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

 

মামলাটি করা হয়েছে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাবলিক স্কুলসের বিরুদ্ধে, যা ওয়াশিংটন ডিসির উপশহরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত একটি বৃহৎ স্কুল জেলা। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার অন্তর্ভুক্ত থমাস জেফারসন হাই স্কুল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করে একটি ভিডিও তৈরি করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের জিজ্ঞাসা করছে তারা এমএসএ সভায় অংশ নেবে কি না। কেউ “না” বললে অন্য শিক্ষার্থীরা মজার ছলে তাদের ধরে নিয়ে যায়, যা মামলার ভাষ্যে একটি হাস্যরসাত্মক স্কিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএআইআরের দাবি, এতে কোনো হুমকি, অস্ত্র বা বাস্তব সহিংসতার ইঙ্গিত ছিল না এবং একই ধরনের ভিডিও অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

অন্যদিকে মামলায় বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাসপেন্ড করে এবং তাদের আচরণকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে শাস্তিমূলক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এক শিক্ষার্থীকে ফিলিস্তিনের মানচিত্র সংবলিত সোয়েটশার্ট পরতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

সিএআইআরের আইনজীবীদের মতে, একই ধরনের আচরণের জন্য অন্যান্য শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে শাস্তি না দিয়ে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, সমান সুরক্ষা ধারা এবং ফেডারেল নাগরিক অধিকার আইনের লঙ্ঘন।

 

স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, ভিডিওটি শিক্ষার্থী অপহরণের মতো দৃশ্য উপস্থাপন করেছিল, যা স্কুল পরিবেশে অনুপযুক্ত ও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি কিছু শিক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে আঘাতজনক হতে পারে। ইহুদি সম্প্রদায়ের কিছু সংগঠনও ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছে, অপহরণের দৃশ্যের সঙ্গে মিল থাকায় এটি সংবেদনশীল সময়ের জন্য অনুপযুক্ত ছিল।

 

মামলাটি এখন মূলত নির্ভর করছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন আচরণের শিকার হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের ওপর। আদালতে যদি প্রমাণ হয় যে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য হয়েছে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সিএআইআর ক্ষতিপূরণ, শাস্তিমূলক রেকর্ড বাতিল এবং ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন শর্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঠিক করার সময় হয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, সৌদি আরবকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে।   শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই শর্ত নতুন নয়; বরং শুরু থেকেই এটি দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার অংশ ছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও সহায়তায় বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে তার দাবি, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জানত যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই চুক্তির অন্যতম শর্ত।   এদিকে ট্রাম্পের নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এই অবস্থান সৌদি আরব একাধিকবার প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   হোয়াইট হাউসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকব্যাপী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিটি কেবল শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২২:৫৭
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চাওয়ার সমন প্রত্যাহার করেছে ইইওসি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চেয়ে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, শেষ পর্যন্ত দাবি প্রত্যাহার

পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে এক হেয়ারস্টাইলিস্টকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চুলের স্টাইল পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভে গ্রাহকের পরিবারকে পেপার স্প্রে! গ্রেপ্তার হেয়ারস্টাইলিস্ট

লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়রকে ৫১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কলোরাডোর আদালত। ছবি: সংগৃহীত

ছেলের হত্যার প্রতিশোধ নিতে, প্রকাশ্যে খুনিকে গুলি করে হত্যা করায় বাবার ৫১ বছরের কারাদণ্ড

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিল নিয়ে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে ভোট না দেয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর জ্বালানি অনুদান বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় জ্বালানি খাতের অনুদান বাতিলের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) স্বীকার করেছে, ২০২৫ সালে বাতিল করা অধিকাংশ অনুদান এমন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রকল্পে দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিল।    আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ৬২৪টি জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিলের জন্য পর্যালোচনায় রাখা হয়েছিল। পরে এর মধ্যে ২৮৪টি অনুদান বাতিল করা হয়। জ্বালানি বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে জানান, একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাতিল হওয়া প্রায় সব অনুদানের প্রকল্পই এমন অঙ্গরাজ্যে ছিল, যেগুলো হ্যারিসকে ভোট দিয়েছিল এবং যাদের প্রতিনিধি ছিলেন ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত সিনেটর। একই তালিকায় থাকা রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোর শত শত অনুদান অবশ্য বাতিল করা হয়নি।    এতে করে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অবস্থানের সঙ্গে নতুন আইনি বক্তব্যের স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। আগে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, ব্যয় সাশ্রয় এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনুদান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, কোন অনুদান বাতিল হবে তা নির্ধারণে প্রকল্পের কর্মদক্ষতা, আইনি ভিত্তি বা ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।    বাতিল হওয়া এসব অনুদানের মোট মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এগুলোর মধ্যে ছিল বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন, হাইড্রোজেন জ্বালানি, কার্বন সংরক্ষণ, ব্যাটারি উৎপাদন এবং অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গরাজ্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।    ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ ঘটনাকে ফেডারেল অর্থায়নকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এতে কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি বিভাগ বলছে, তাদের অবস্থানের মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই এবং আদালতে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।    এদিকে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর জেনারেল) তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল কি না এবং ফেডারেল অর্থ বরাদ্দে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রভাব ফেলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২১:২৯
চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন লেসলি সোনেনক্লার। ছবি: সংগৃহীত

৩২ বছরের অভিজ্ঞতাই যখন বড় বাধা: ৩০০ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি পাচ্ছেন না ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন পেশাজীবী

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে সিসিজে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে খুনের ঘটনা, ১০০ বছরের মধ্যে হার সর্বনিম্নে

নিহত অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি এবং তার সন্তান সেফোর্ড উলফসন, যাকে পরবর্তীতে পুলিশ গ্রেফতার করে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় মাকে হত্যার অভিযোগে ট্রান্সজেন্ডার সন্তান গ্রেপ্তার, নেপথ্যে রহস্যজনক সোশাল পোস্ট

ছবি: বামে এওসি, মাঝে পিট বুটিজেজ এবং ডানে কমলা হ্যারিস (সংগৃহীত)
২০২৮ নির্বাচনের আগাম ডেমোক্র্যাটিক জরিপে বড় চমক, শীর্ষে এওসি, কমলা হ্যারিসের সমর্থন ৫ শতাংশ

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। তবে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের নিয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে পরিচালিত নতুন এক জরিপে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, যিনি  এওসি নামে পরিচিত, ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থন নেমে এসেছে ৫ শতাংশে।   ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার সার্ভে সেন্টার এর গ্রানাইট স্টেট পোল এর সর্বশেষ ফলাফল ২২ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এতে সম্ভাব্য ২০২৮ নিউ হ্যাম্পশায়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রাইমারিতে এওসির ঠিক পেছনে রয়েছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। তিনি পেয়েছেন ২১ শতাংশ সমর্থন। ফলে শীর্ষ দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র এক শতাংশ পয়েন্ট।   এরপর বেশ বড় ব্যবধান রয়েছে। অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ৮ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। ভারমন্টের সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স পেয়েছেন ৬ শতাংশ সমর্থন। কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই জরিপে হ্যারিসের চেয়ে স্যান্ডার্সও এগিয়ে রয়েছেন।   জরিপে এওসির অবস্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ কয়েক মাসের ব্যবধানে তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ফেব্রুয়ারির জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে পিট বুটিজেজ এগিয়ে ছিলেন। তখন এওসির সমর্থন ছিল ১৫ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে।   একই সময়ে কমলা হ্যারিসের সমর্থন কমেছে। ফেব্রুয়ারির জরিপে তিনি ১১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জুলাইয়ে তা কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। এই পরিবর্তন নিউ হ্যাম্পশায়ারের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ভোটারদের পছন্দে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ইউএনএইচ সার্ভে সেন্টার এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এওসি বিশেষভাবে নিজেদের সোশ্যালিস্ট ও প্রগ্রেসিভ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন পাচ্ছেন। অন্যদিকে বুটিজেজের সমর্থন প্রগ্রেসিভ, লিবারেল ও মডারেট ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। তবে জরিপটির ফলাফলকে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত কোনো জাতীয় জরিপ নয়। জরিপটি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রাইমারি ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি।   তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনীতিতে নিউ হ্যাম্পশায়ারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে এই রাজ্যের ভোট দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মনোযোগ পেয়ে আসছে। ফলে নির্বাচন থেকে অনেক দূরে পরিচালিত হলেও এখানকার জরিপগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক রাজনৈতিক শক্তি ও ভোটারদের আগ্রহ বোঝার একটি সূচক হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।   এওসি এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। একইভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি। তাই বর্তমান জরিপকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক অবস্থানের একটি চিত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনও অনেক দূরে। এর মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের পছন্দে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের সর্বশেষ জরিপে আপাতত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চিত্র হলো এওসির উত্থান এবং কমলা হ্যারিসের সমর্থন ৫ শতাংশে নেমে আসা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মর্টগেজ সুদে নতুন বাড়ি কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মর্টগেজ সুদে নতুন বাড়ি কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া

ছবি: ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশ (সংগৃহীত)

ক্যাটফিশ থেকে ক্যাটফিশে ছড়াচ্ছে জীবন্ত ক্যানসার কোষ, প্রথমবার শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

0 Comments