আমেরিকা

ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’, সহস্রাধিক দর্শনার্থীর সমাগম

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ০:১২
ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’
ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় দুই দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে ঘিরে আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সাহিত্যপ্রেমীরা। অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST)।

 

গত ২৯ ও ৩০ মে আলেকজান্দ্রিয়ার WUST অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দুই দিনে সহস্রাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

 

উৎসবের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বাংলা সাহিত্যচর্চা, ভাষার বিকাশ এবং প্রবাসে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

 

অনুষ্ঠানে WUST-এর চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপ এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা হানিপকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অব্যাহত সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

এবারের উৎসবে সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ” এবং “কলমের দুই ধারা: সাহিত্য ও সাংবাদিকতা” শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা প্রযুক্তির অগ্রগতি, গণমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং সাহিত্য জগতের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথিরা বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ভাষা ও উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আসছে।

 

অনুষ্ঠানে WUST চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপের আরেকটি সৃজনশীল পরিচয়ও উঠে আসে। তার লেখা কবিতা “Different Shades, Same Soul” পাঠ করা হলে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়।

 

বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬ আয়োজনের পেছনে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কবিতা দিলাওয়ার। আয়োজকরা তার নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে বাংলা ইভেন্টসের সহযোগিতা এবং WUST-এর সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ মেনন খানের সমন্বয়মূলক ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

 

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ওফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস এ আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছেন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে মামলা দায়ের, আবেদন উপস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মক্কেলের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে তিনি এটিকে তাঁর পেশাজীবনের একটি গর্বের মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মঈন চৌধুরী লিখেছেন, “আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of the United States-এ Admitted Attorney at Law হিসেবে আমি গর্বিত।”     যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত স্বীকৃতি। এ অনুমোদন পেতে একজন আইনজীবীকে সাধারণত অন্তত তিন বছর কোনো অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় থাকতে হয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই অনুমোদিত দুইজন আইনজীবীর সুপারিশ, নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং শপথ গ্রহণের মতো আনুষ্ঠানিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।   অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী নিউইয়র্ক, মিশিগানে সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত আইনজীবীদের একজন। অভিবাসন আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মক্কেল রয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।   তাঁর এই অর্জনের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী আইনজীবী, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি আইনজীবীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   বাংলদেশি কমিউনিটির নেতাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি একজন অ্যাটর্নির পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সুনামের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। যদিও দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক মামলার শুনানি হয়, তবুও সেখানে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আইন পেশায় একটি সম্মানজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১০:২৭
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নেতারাই গ্রেপ্তার হওয়ার যোগ্য, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের প্রশ্নই ওঠে না: ট্রাম্প

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সফল আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যুক্ত হলো রেকর্ড ২০ বিলিয়ন ডলার। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকাপ ফুটবলের ছোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আয় বাড়ল দুই হাজার কোটি ডলার

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি ফেডারেল আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী বলে জানাল বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

ইউসি সান ডিয়েগো মেডিকেল স্কুলে শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ

"ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি (DMV) ড্রাইভিং লাইসেন্স জালিয়াতি তদন্তের জেরে হাজার হাজার চালককে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ"। ছবি : সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার ড্রাইভিং পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল, ৩০ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার নির্দেশ ১১ হাজার চালককে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী প্রায় ১১ হাজার চালককে আবারও লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগ (ডিএমভি)। পরীক্ষায় অনিয়ম ও সম্ভাব্য জালিয়াতির সন্দেহে তাঁদের আগের পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।    ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি জানিয়েছে, নিয়মিত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সময় কিছু লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে অস্বাভাবিক ধরণ বা ‘ইরেগুলারিটি’ ধরা পড়ে। পরে তদন্তে সংস্থাটির সন্দেহ হয়, কিছু পরীক্ষার্থী বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোনো ব্যক্তি চূড়ান্তভাবে জালিয়াতি করেছেন—এমন সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।    ডিএমভি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ডিএমভি কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত পরীক্ষা আবার দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ না নিলে বা পাস করতে ব্যর্থ হলে তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।    সংস্থাটি এখনো প্রকাশ করেনি ঠিক কী ধরনের জালিয়াতির সন্দেহ করা হচ্ছে বা কীভাবে অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। ডিএমভির একজন মুখপাত্র জানান, কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নিদের কাছে সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।    এদিকে নোটিশ পাওয়া অনেক চালক দাবি করেছেন, তাঁরা কোনো ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েই তাঁদের আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অঙ্গরাজ্যের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও ডিএমভির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং তদন্তের পদ্ধতি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।    ডিএমভির ভাষ্য, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরীক্ষা পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় কোনো অনিয়মের ইঙ্গিত পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৯:১১
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্পের আর্থিক তথ্য প্রকাশের নির্দেশ, বিবিসির ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় নতুন মোড়

কমলা হ্যারিস। ছব:সংগৃহীত

২০২৮ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রথম পছন্দ কি আবার কমলা হ্যারিস?

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনক। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চাইলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন। ছবি:সংগৃহীত
আমেরিকার আবাসন সংকটে আশার আলো, বিক্রির অপেক্ষায় ৩ লাখের বেশি খালি জমি

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জিলো। প্রতিষ্ঠানটির নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশজুড়ে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ৩ লাখেরও বেশি খালি জমিতে যদি অন্তত একটি করে বাড়ি নির্মাণ করা যায়, তাহলে দেশের আবাসন ঘাটতি প্রায় ৬ শতাংশ কমে আসতে পারে।    জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে পাঁচ একর বা তার কম আয়তনের ৩ লাখ ২৪২টি খালি প্লট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। এগুলো দেশের মোট বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তির প্রায় ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিটি প্লটে একটি করে বাড়ি নির্মাণ করা হলে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ বাড়ির যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমে প্রায় ৪৪ লাখ ৪০ হাজারে নেমে আসবে।    গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বিক্রির জন্য থাকা একটি প্লটের গড় আয়তন প্রায় শূন্য দশমিক ৫৭ একর। অনেক ক্ষেত্রে এসব জমিতে একটি নয়, একাধিক বাড়ি নির্মাণও সম্ভব। ফলে বাস্তবে আবাসন ঘাটতি কমার হার গবেষণায় উল্লেখিত হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।    সবচেয়ে বেশি খালি প্লট রয়েছে ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে। অন্যদিকে নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও আলাস্কায় বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি খালি জমি।    জিলোর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কারা এনজি বলেছেন, এই খালি প্লটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই দশকের আবাসন সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে সহজ সুযোগগুলোর একটি। তবে জমি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে বড় বাধা হয়ে আছে জোনিং বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা। এসব বাধা কমানো গেলে অনেক খালি জমিই দ্রুত আবাসনে রূপ নিতে পারে।    গবেষণাটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আবাসনের উচ্চ মূল্য ও সীমিত সরবরাহ ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিলোর সাম্প্রতিক আরেক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন নির্মাণ বাড়লেও দেশটিতে আবাসনের ঘাটতি এখনও প্রায় ৪৭ লাখ ইউনিটে স্থির রয়েছে, যা আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৭:৫৬
অপারেশনাল ক্যামোফ্লেজ প্যাটার্ন (ওসিপি) মার্কিন সেনা সদস্য। ছবি:সংগৃহীত

জর্ডানে ঘাঁটিতে হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনাও নিহত বলে ধারণা, পরিচয় প্রকাশ পেন্টাগনের

পুলিশের প্রটোকল। ছবি: সংগ্রহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু, এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান

ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। ছবি:সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ৮৪ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের

0 Comments