যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের হেনরিকো কাউন্টিতে দ্রুত সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে স্থানীয় সরকার ও সরকারি স্কুলের বাজেটে। ১ জুলাই থেকে কাউন্টির সরকারি ভবন ও স্কুলগুলোর বিদ্যুতের খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে কাউন্টি প্রশাসন। বাড়তি এই ব্যয় সামাল দিতে শিক্ষক, স্কুলকর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কাউন্টি ম্যানেজার জন ভিতৌলকাস কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও বিদ্যুতের দাম আরও বাড়তে পারে, তাই এখন থেকেই সাশ্রয়ী ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে, কর্মদিবস শেষে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, ব্যবহার না হলে চার্জার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখতে হবে এবং জানালার ব্লাইন্ড ব্যবহার করে ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্পেস হিটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ একটি স্পেস হিটার পরিচালনায় বছরে ১৫০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয় হতে পারে।
হেনরিকো কাউন্টিতে বর্তমানে ৩৭টি বড় ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে এবং আরও অন্তত ১৭টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের কারণে এসব ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত চাহিদা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য বড় গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভার্জিনিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত। অঙ্গরাজ্যটিতে ৪০০-এর বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে, যার বড় অংশই উত্তর ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিচমন্ড এলাকার আশপাশেও নতুন ডেটা সেন্টার দ্রুত গড়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে এবং তা বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ন এনার্জি মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানির ব্যয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, দ্রুত সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টার শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদাই এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ, যার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপরই পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে ডিমের দাম বাড়ানোর অভিযোগে দেশের তিনটি শীর্ষস্থানীয় ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ১৭টি অঙ্গরাজ্যের যৌথ চুক্তির আওতায় এই কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা এবং ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস ডিম অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিমের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে তাদের অবৈধ গোপন চুক্তি দায়ী বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—ক্যাল-মেইন ফুডস, ভার্সোভা এবং হিকম্যানস এগ র্যাঞ্চ। ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ঠকিয়ে কৃত্রিমভাবে ডিমের দৈনিক বাজার মূল্য বাড়িয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে, তারা গোপনে একত্রিত হয়ে ‘আর্নার ব্যারি পাবলিকেশন্স’ নামক ডিমের মূল্য নির্ধারণকারী সূচকে ইচ্ছেমতো দর জমা দিত, যার ওপর ভিত্তি করে আমেরিকার সব গ্রোসারি শপ ও রেস্তোরাঁ ডিমের দাম নির্ধারণ করে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস এই তদন্তের নেতৃত্ব দেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, শক্তিশালী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন পর্দার আড়ালে দাম বাড়ানোর জন্য জোট বাঁধে, তখন তার খেসারত দিতে হয় সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোকে। এই ডিম উৎপাদনকারীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা লুটেছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর কোনোটিই সরাসরি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেনি, তবে মামলার দায় থেকে বাঁচতে তারা এই সমঝোতা মেনে নিয়েছে। জরিমানার ৩৩ লাখ ডলার রাজ্যগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং জরিমানাস্বরূপ দেওয়া ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস ডিম বিভিন্ন ফুড ব্যাংক ও দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ কারসাজি রোধে কোম্পানিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের মূল্য সংক্রান্ত যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বার্ড ফ্লু মহামারির অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে এক ডজন ডিমের দাম রেকর্ড ৬.২৩ ডলারে পৌঁছেছিল। সে সময় কোম্পানিগুলো লাখ লাখ মুরগি মেরে ফেলার অজুহাত দিলেও, বিচার বিভাগের তদন্ত শুরুর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই ডিমের দাম নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করে। বর্তমানে ২০২৬ সালের মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকার বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২.২০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ক্যাল-মেইন ফুডস এককভাবে ১৫ লাখ ডলার জরিমানা এবং ৩ কোটি ডিম দেবে। বাকি অর্থের মধ্যে হিকম্যানস ১০ লাখ ডলার ও ৩২.৫ লাখ ডিম এবং ভার্সোভা ৮ লাখ ডলার ও ২ কোটি ডিম প্রদান করবে। এই সমঝোতা চুক্তিতে নিউইয়র্ক ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওসহ মোট ১৭টি অঙ্গরাজ্য অংশ নিয়েছে।
বাল্টিমোর গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক (বিজিই) গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল গড়ে ৮ ডলার করে বাড়ানোর জন্য রাজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে, যখন তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে, তখনই বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি ম্যারিল্যান্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)-এর কাছে এই প্রস্তাব পাঠায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সেবা বজায় রাখতেই এই মূল্যবৃদ্ধি প্রয়োজন। ম্যারিল্যান্ড পিএসসি এই আবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখবে এবং নতুন এই বিদ্যুৎ বিলের হার ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে সাধারণ জনগণের মতামত ও ইনপুট নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানা গেছে। গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ কমাতে বিজিই একটি বিশেষ বিনিয়োগ কৌশলও এই ফাইলে যুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দেওয়ার জন্য সর্বনিম্ন যেটুকু বিনিয়োগের প্রয়োজন, তা মাথায় রেখেই এই আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লেক্সপে (FlexPay) প্রস্তাবনা, যা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ খরচের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। বিজিই জানিয়েছে, তারা গ্রাহকদের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এর আগে এই আবেদন জমা দেওয়া বিলম্বিত করেছিল। এছাড়া বড় প্রকল্পগুলো স্থগিত রেখে শুধু জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যয় সীমিত রাখা হয়েছিল। বিজিই’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও তামলা অলিভিয়ার বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যই সবচেয়ে বড় বিষয়। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে গ্রাহকেরা যে চাপের মধ্যে আছেন, তা আমরা বুঝতে পারছি। সেই কারণেই আমরা বড় পরিকল্পনাগুলো স্থগিত রেখেছি এবং শুধু অতিপ্রয়োজনীয় কাজগুলো চালু রেখেছি।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে ঘন ঘন লোডশেডিং, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জরুরি মেরামতের কারণে গ্রাহকদের আরও বেশি মাশুল গুনতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয় গড়ে তুলতে চালু হচ্ছে নতুন সরকারি বিনিয়োগভিত্তিক কর্মসূচি ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’। আগামী ৪ জুলাই থেকে এসব অ্যাকাউন্টে প্রথমবারের মতো অর্থ জমা দেওয়া শুরু হবে। যেসব অভিভাবক এখনো তাদের সন্তানকে নিবন্ধন করেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৬০ লাখের বেশি শিশুর জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৪ জুলাই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে এবং সেদিন থেকেই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক একটি সঞ্চয় কর্মসূচি। এটি অবসরের জন্য ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হিসাবের (আইআরএ) মতো পরিচালিত হবে। শিশু ১৮ বছর পূর্ণ করার আগ পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে। পরে উচ্চশিক্ষা, বাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য অনুমোদিত কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা যোগ্য বাসিন্দা, বয়স ১৮ বছরের কম এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর) রয়েছে, তারা এই কর্মসূচির আওতায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবে। কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অনেক অভিভাবক ফর্ম ৪৫৪৭ পূরণ করে সন্তানের জন্য এই অ্যাকাউন্টের আবেদন করেছিলেন। তবে যারা তখন আবেদন করতে পারেননি, কিংবা কর রিটার্ন জমার সময়সীমার পরে যাদের সন্তানের জন্ম হয়েছে, তাদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইনে ফর্ম ৪৫৪৭ পূরণ করে আবেদন করা যাবে, এমনকি ৪ জুলাইয়ের পরও নিবন্ধন করা সম্ভব। আবেদন করতে অভিভাবক ও সন্তানের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, যোগ্য হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এককালীন ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে চান কি না। এই সরকারি অনুদান শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল ও সুসান ডেলের দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ বছরের কম বয়সী, কিন্তু সরকারি ১ হাজার ডলারের অনুদানের জন্য অযোগ্য কিছু শিশু এককালীন ২৫০ ডলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও পেতে পারে। অ্যাকাউন্টে শুধু অভিভাবকই নয়, পরিবারের সদস্য, বন্ধু, নিয়োগকর্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ জমা দিতে পারবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বার্ষিক জমার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যক্তিগত অবদানের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) জানিয়েছে, শিশুর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সময়কাল হিসেবে গণ্য হবে। এরপর আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। কর্মসূচি চালুর আগে প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত সরকারি ই-মেইল কেবল no-reply@TrumpAccounts.Treasury.gov ঠিকানা থেকে পাঠানো হবে। ফোন কল বা খুদে বার্তার মাধ্যমে কোনো তথ্য চাওয়া হবে না। সন্দেহজনক যোগাযোগ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট TrumpAccounts.gov অথবা সরকারি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের জন্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।