বিশ্ব

রুপির পতন: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধাপ নামল ভারত

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২:৩৭
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় রদবদল। পঞ্চম স্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। মূলত ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) ক্রমাগত দরপতন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি সংশোধনের প্রভাবেই এই অবনমন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই তালিকায় ভারতের সামনে রয়েছে আমেরিকা, চীন, জার্মানি, ব্রিটেন এবং জাপান। তালিকার শীর্ষে থাকা আমেরিকার অর্থনীতির আকার ৩০.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের ১৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার।


২০২৪ সালে ব্রিটেনকে টপকে ভারত পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছিল। তখন ভারতের অর্থনীতির আকার ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তবে সাম্প্রতিক এই পতন সেই লক্ষ্যমাত্রায় সাময়িক ধাক্কা দিল বলে মনে করা হচ্ছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত এই ষষ্ঠ অবস্থানেই থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, ২০২৭ সালে পুনরায় ব্রিটেনকে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আইএমএফের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, র‍্যাঙ্কিংয়ে সামান্য পিছিয়ে গেলেও ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এমনকি মাঝারি মেয়াদেও ভারত ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার ৬.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটিকে জার্মানির খুব কাছাকাছি নিয়ে আসবে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ তিনে পৌঁছানোর দৌড়ে ভারত এখনও টিকে থাকলেও, ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকা নিজের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.
গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫, যুদ্ধবিরতির পর বেড়েছে হামলার মাত্রা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন।   এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।   অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা।   সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন।   ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১০:২৪
দূষিত বড় শহর টরন্টো

দাবানলের ধোঁয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর কানাডার টরন্টো, পেছনে পড়ল নয়াদিল্লিও

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে কালো ভালুকের দুঃসাহসিক অনুপ্রবেশে আতঙ্ক, ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক বেড়া ও ফাঁদ স্থাপন।

সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রুশ হামলার ভয়াবহ মুহূর্ত

রুশ হামলার ভয়াবহ মুহূর্তে শিশুকে বাঁচাতে নিজের শরীর দিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন নারী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে আলোচনায় বাব আল-মান্দেব সামুদ্রিক পথ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে হরমুজের পর এবার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং ইয়েমেনের হুথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর একাধিক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত বা ব্যাহত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এ পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।   ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি একটি পূর্বাভাস বা দাবি, কোনো নিশ্চিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হুথি-সংশ্লিষ্ট আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপে উৎসাহিত করছে। তার দাবি, সংঘাত আরও তীব্র হলে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব, উভয় সামুদ্রিক পথেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে।   এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব উভয়ই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি পথের যেকোনো একটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বা সেখানে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে, এমন কোনো তথ্য আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি।   মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এ ধরনের সামরিক দাবি ও পাল্টা দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   সূত্র: প্রেস টিভি, সময়ের কণ্ঠস্বর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ২৩:৫৮
ছবি: এআই

মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের বড় ধরনের হামলা, গুঁড়িয়ে দিলো মিলিয়ন ডলারের রাডার

রায়ানএয়ার ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বাইরে ঝুলে পড়েছিলেন স্বামী, পা ধরে টেনে বাঁচালেন স্ত্রী

ওসামা বিন লাদেন,ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর আগের রাতে ওসামার মুখে ছিল মাত্র চারটি শব্দ, প্রকাশ করলেন স্ত্রী

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা ফিরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র, শেষ হচ্ছে ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতি

দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে।   হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার আর প্রয়োজন রয়েছে বলে তার প্রশাসন মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, সামরিক উপস্থিতি কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই ইরাকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরাকে টানা ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।   এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইরাক সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায় এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক স্বীকার করেছিল। এসব ঘটনার কারণে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।   বিশ্লেষকদের ধারণা, সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমানোর কৌশল অব্যাহত রাখলেও, ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ০:২৭
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বহাল থাকবে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত

শত্রুদের শায়েস্তা না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: ইরান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর শুল্ক কমালো যুক্তরাষ্ট্র, স্বস্তিতে চীন

মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা

0 Comments