- প্রচ্ছদ
- Topic
ভালোবাসা
ভিয়েতনামে স্ত্রীর মৃ ত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এক ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারানোর পর তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের পাশে রাত কাটাতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে কবর থেকে স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে এসে প্লাস্টার ও মাটির মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন তাঁর জীবনাকৃতির একটি অবয়ব। এরপর বছরের পর বছর সেটিকেই স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে আগলে রেখেছেন। ওই ব্যক্তির নাম লে ভ্যান। ১৯৭০-এর দশকে ফাম থি সাংকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় সাত সন্তান। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। কিন্তু ২০০৩ সালের শুরুর দিকে স্ত্রীর মৃ ত্যু হলে ভ্যানের জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রীকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি এতটাই কষ্ট দিত যে রাতে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের কাছেই রাত কাটানো শুরু করেন। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাবাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তাঁরা নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রীর বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ২০০৪ সালে ভ্যান স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্লাস্টার, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে স্ত্রীর আদলে তৈরি করেন একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। সেটিকে নিজের কাছেই রাখতেন তিনি। তাঁর কাছে এটি ছিল একসঙ্গে কাটানো জীবনের স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। পরবর্তী বছরগুলোতে অবয়বটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন ভ্যান। স্ত্রীর মতো করে পোশাক পরাতেন, মুখে মেকআপ লাগাতেন। এমনকি সেটির সঙ্গে কথাও বলতেন। এভাবেই স্ত্রীর স্মৃতিকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হলেও অবয়বটির যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে এই অস্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখেন। ভ্যানের ঘটনাটি বিভিন্ন সময়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অসহনীয় কষ্টের প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, প্রিয়জনকে হারানোর শোক তাঁর জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল তা নিয়ে। প্রিয়জনের মৃ ত্যুর পর শোক কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়, আবার কারও জন্য সেই শূন্যতা দীর্ঘদিন থেকে যায়। ভ্যানের ঘটনা সেই গভীর শোকেরই এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত উদাহরণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে সব তথ্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায় না। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে এক স্বামী-স্ত্রীর পুনর্মিলনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে বেড়ানোর পর ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে তাঁর সন্ধান পান স্বামী আলী হোসেন। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের অবসান ঘটে তাঁদের পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার। সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৭ বছর বয়সী আলী হোসেনের স্ত্রী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামী আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন স্থানে তাঁকে খুঁজেছেন। কিন্তু কোথাও স্ত্রীর সন্ধান পাননি। দিন গড়িয়েছে, কিন্তু স্ত্রীর খোঁজ মেলেনি। কোথায় আছেন, কীভাবে দিন কাটছে—এসব অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন আলী হোসেন। অন্যদিকে, নিখোঁজ ওই নারী সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নিজের নাম ও ঠিকানাও ভুলে গিয়েছিলেন। খাবারের খোঁজে তাঁকে মানুষের দরজায় দরজায় যেতে হতো। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার নজরে আসেন ওই নারী। তাঁর অসহায় পরিস্থিতি দেখে পরিবারকে খুঁজে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। নারীর অবস্থার কথা জানিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একসময় তা পৌঁছে যায় আলী হোসেনের কাছে। ভিডিওতে স্ত্রীকে চিনতে পেরে আর দেরি করেননি আলী হোসেন। তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁদের দেখা হয় এবং দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের পর আবার একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তাঁদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। আলী হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর স্ত্রীকে ফিরে পেতে তাঁকে দুই মাস ২৩ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি পেশায় একজন দর্জি। তাঁদের তিন সন্তান—দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রীর অসুস্থতার ইতিহাসও রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য এই দীর্ঘ বিচ্ছেদ যে কতটা উদ্বেগের ছিল, তা তাঁদের পুনর্মিলনের ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিও এই পরিবারকে আবার এক করেছে, তিনি জানান, রাস্তায় অসহায় অবস্থায় ওই নারীকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, যেভাবেই হোক তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। ভিডিওটি প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করা। শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়। ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হলে এটি হারিয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার খুঁজে পেতেও সহায়তা করতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ বা অসুস্থ ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতিও সম্মান রাখা জরুরি।
স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন স্বামী। অফিসের বাইরে তাঁকে দেখতে পেয়ে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না স্ত্রী। দ্রুত বাইরে এসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন, দিলেন চুমু। স্বামীকে ঘিরে স্ত্রীর এমন ভালোবাসার মুহূর্ত আশপাশের মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী যে অফিসে চাকরি করেন, তার বাইরেই পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন তাঁর স্বামী। স্বামী সেখানে কাজ করছেন, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাইরে স্বামীকে দেখতে পেয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে আলিঙ্গন করে চুমু দিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা আশপাশের মানুষের কাছে মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। স্বামীর পেশা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেও স্ত্রীর ভালোবাসা প্রকাশে কোনো সংকোচ দেখা যায়নি। বরং প্রিয় মানুষটিকে সামনে পেয়ে তাঁর কাছে ছুটে যাওয়া এবং সবার সামনে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভালোবাসা, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পেশাকে সামাজিকভাবে কম মর্যাদার চোখে দেখা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর প্রকাশ্য ভালোবাসার এই মুহূর্তটি অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় দম্পতির নাম, ঘটনাস্থল ও ঘটনার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচারিত বর্ণনায় স্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার প্রকাশই মানুষের আবেগ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সত্যিকারের ভালোবাসা যে মৃত্যু দিয়েও মুছে ফেলা যায় না, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৯৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্ল্যারেন্স পারভিস। ১৯৪৮ সালে ক্যারোলিনের সঙ্গে পরিচয়ের পর ১৯৪৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। দীর্ঘ ৬৩ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রেইডসভিলের 'স্মিথস' রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া তাদের প্রিয় একটি রুটিনে পরিণত হয়েছিল। দুজনে মিলে গল্প করতে করতে খাবার উপভোগ করতেন, যা তাদের সম্পর্কের অন্যতম সুন্দর দিক ছিল। ২০১৩ সালে স্ত্রী ক্যারোলিন মারা গেলে ক্ল্যারেন্স ভীষণভাবে একা হয়ে পড়েন। তবে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সেই স্মৃতি তিনি কিছুতেই ছাড়তে পারেননি। তাই আজও প্রিয় সেই রেস্তোরাঁয় খেতে বসে টেবিলের ওপাশে প্রিয়তমা স্ত্রীর একটি বাঁধানো ছবি রেখে দেন তিনি। ক্ল্যারেন্সের বিশ্বাস, শারীরিকভাবে না থাকলেও আত্মিকভাবে স্ত্রী ক্যারোলিন আজও তার পাশেই আছেন। কেবল রেস্তোরাঁতেই নয়, স্ত্রীর প্রতি গভীর অনুরাগে প্রতিদিন সকালে ক্যারোলিনের সমাধিতেও ছুটে যান এই বৃদ্ধ। এমনকি স্ত্রীর কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পেতে দিনের মধ্যে একাধিকবার সেখানে যান তিনি। ২০১৭ সালে তাদের এই হৃদয়স্পর্শী গল্পটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হলে তা লাখো মানুষের মন জয় করে নেয়। ক্ল্যারেন্স পারভিস প্রমাণ করেছেন, প্রিয় মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও ছোট ছোট স্মৃতি আর অভ্যাসের মাঝেই সত্যিকারের ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। গত ১৫ অক্টোবর সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছে আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষিকা। ঘটনার পর স্বজনদের কান্না, সহপাঠীদের আতঙ্ক এবং নিহতদের স্মরণে মানুষের জমায়েত পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ, আট ও এগারো বছর বয়সী তিন শিশু রয়েছে। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং যেসব শিশু বাড়তি সহায়তা চাইত, তাদের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন। সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম এই ঘটনায় আহত হয়েছে। শিশুটি আগে থেকেই বিরল জিনগত সমস্যার কারণে শারীরিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সে সাধারণত হুইলচেয়ার ব্যবহার করে এবং কথা বলার পরিবর্তে চোখ ও যোগাযোগের বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে। চিকিৎসার জন্য তাকে পোর্টল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। সেলর শিশুদের সহায়তায় কাজ করা স্প্যারো ক্লাবসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন শিশুটির প্রাণবন্ত স্বভাব ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন। এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুদানের পরিমাণ প্রায় চার লাখ ডলারে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ বছর বয়সী এক সাবেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়। এক শিক্ষক তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিশুর বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো হস্তক্ষেপ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পদক্ষেপ হামলা থামাতে এবং আরও প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়তা করে। তবে এই সাহসী পদক্ষেপের মধ্যেও চারটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের স্মরণে বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, বেলুন ও অন্যান্য স্মারক রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। এই ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বজন হারানোর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। বেন্ড শহরের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই শোক কাটিয়ে ওঠা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
কানাডার টরন্টোতে ২০২১ সালে এক অভিন্ন বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছিল অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর। দুজনেরই আগে পূর্ব আফ্রিকায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তখন তাদের দেখা হয়নি। টরন্টোর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়, আর কয়েক বছর পর সেই বন্ধুত্বই পরিণতি পায় ভালোবাসা ও বিয়েতে। ভ্রমণ, মানবিক কাজ এবং জীবনের নানা মূল্যবোধে মিল থাকায় সময়ের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে টিম অনীতার প্রতি নিজের অনুভূতির কথা জানান। তবে শুরুতে অনীতা সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি নিজের চেয়ে লম্বা কাউকে কল্পনা করতেন। ফলে টিমকে শুরুতে তিনি বন্ধুই হিসেবে দেখতেন। তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের একে অপরকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। সময়ের সঙ্গে অনীতা টিমের দয়া, বিশ্বস্ততা, যত্ন, চরিত্র এবং মানুষের প্রতি তার সম্মানবোধকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বাহ্যিক চেহারার চেয়ে একজন মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনীতা পরে উপলব্ধি করেন, টিমের মধ্যেই তিনি এমন অনেক গুণ খুঁজে পেয়েছেন, যা তিনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে সত্যিকার অর্থে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টিম ও অনীতার বাগদান হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ জুন কানাডার অন্টারিওর স্ট্রিটসভিলের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর তাদের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দুজনের উচ্চতার পার্থক্যও মানুষের বিশেষ নজর কাড়ে। অনীতা প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং টিম প্রায় ৪ ফুট লম্বা। এই পার্থক্যের কারণে অনলাইনে অনেকের কৌতূহল তৈরি হলেও, দম্পতি তাদের গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উচ্চতাকে নয়, বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক মূল্যবোধকে সামনে এনেছেন। অনীতা ও টিমের গল্পটি শেষ পর্যন্ত এমন এক সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রথম দেখায় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার পর অনীতা টিমের মধ্যে যে গুণগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেয়।
কোনো পুরুষ বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান ও সংসার রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তার প্রতি কোনো তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এমন সম্পর্ককে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, সামাজিক অবস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, সব তরুণী বয়স্ক বা বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন না। আবার বয়সে বড়-ছোট হওয়ার বিষয়টিও কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণাতেও এমন কোনো একক কারণ পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্ককে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনের কোনো অনিশ্চিত বা কঠিন সময়ে স্থির, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী কাউকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সামাজিক পরিচিতি কিংবা জীবনের প্রতি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিও কারও কাছে আকর্ষণের কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও কখনো যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ সালে ‘সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণী ও বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা ও স্থিতিশীলতার ধারণার ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে গবেষণাটির নমুনা সীমিত এবং অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় এর ফলাফলকে সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। অনেক সময় বয়সের চেয়ে মানুষের আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন পুরুষ যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, প্রশংসা করেন কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার প্রতি ধীরে ধীরে আবেগ তৈরি হতে পারে। শুরুতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের ফলে সেটি অন্য ধরনের অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে। বিবাহিত পুরুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থাকার কারণে নতুন সম্পর্কটি অনেক সময় গোপনীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন সাক্ষাৎ কিংবা একে অপরের কাছে এমন কিছু বিষয় ভাগ করে নেওয়া, যা অন্যদের সঙ্গে করা হয় না, সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। তবে এটিকে কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বয়সের ব্যবধানযুক্ত সম্পর্ক অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালে ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৩৬ হাজার দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সঙ্গীর বয়স কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার ২০২৫ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় প্রথম দেখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম বয়সী সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণের প্রবণতা পাওয়া যায়। মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দেখা যায়, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সের পছন্দ একেবারে একরকম নয়। অনেক নারী নিজেদের চেয়ে সামান্য বেশি বয়সী পুরুষকে পছন্দ করতে পারেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে নারীদের স্বাভাবিক বা সহজাত পছন্দ কেবল বয়স্ক পুরুষ। এ ধরনের সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা, নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশংসার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকেও কখনো আবেগ তৈরি হয়। শুরুতে পরামর্শ নেওয়া বা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বদলে যেতে পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিবাহিত পুরুষ নিজের বৈবাহিক অবস্থান গোপন করলে কিংবা অন্য ব্যক্তির আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শুধু তরুণীকে দায়ী করা একপাক্ষিক বিশ্লেষণ হবে। সম্পর্ক তৈরিতে সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও আচরণই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান নিজে কোনো সম্পর্ককে সফল বা ব্যর্থ করে না। তবে বয়সের পাশাপাশি অর্থ, সামাজিক অবস্থান ও জীবন-অভিজ্ঞতার বড় পার্থক্য থাকলে সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক তথ্যভিত্তিক একটি গবেষণায় বয়সে বড় দম্পতিদের বৈবাহিক সন্তুষ্টি সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত কমে যাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বয়স ও ক্ষমতার পার্থক্য তরুণ সঙ্গীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ, সম্মতি, প্রত্যাশা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সম্পর্কের একজন যদি আগে থেকেই বিবাহিত হন, তাহলে তার পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্য সঙ্গীর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, স্ত্রী-সন্তান ও সংসার থাকা কোনো বয়স্ক পুরুষের প্রতি একজন তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, জীবন-অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সমন্বয়ে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সম্পর্ককে শুধু বয়স বা ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে বিচার না করে এর পেছনের পরিস্থিতি ও সম্পর্কের পারস্পরিক আচরণকে বিবেচনা করাই বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: ইত্তেফাক, সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি, দ্য গার্ডিয়ান
মিশিগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের জবাবে নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প তাঁর স্ত্রী মেলানিয়ার সঙ্গে নিজের একটি ছবির পাশে এল-সাইয়েদ ও তাঁর স্ত্রী সারাহ জুকাকুর ছবি দিয়ে দুই দম্পতির সম্পর্ককে দুই ভিন্ন ধরনের আমেরিকার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। রোববার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প ঠিকই বলেছেন যে তারা দুই ভিন্ন ধরনের আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর তিনি নিজের স্ত্রী সারাহর সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ট্রাম্পের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কটাক্ষ করেন। এল-সাইয়েদ বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী একে অপরকে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের সংসারে পারস্পরিক ভালোবাসা ও পরিবারকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। বিপরীতে ট্রাম্পের দাম্পত্য সম্পর্ককে তিনি এমন একটি সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে দুজনের মধ্যে ভালোবাসার ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের পোস্টে এল-সাইয়েদ ও তাঁর স্ত্রী সারাহ জুকাকুর একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সারাহ একজন চিকিৎসক এবং হিজাব পরিহিত অবস্থায় ছবিতে ছিলেন। এল-সাইয়েদ ও সারাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচিত হন। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে এবং তাঁরা মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক বিরোধও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক দলের সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প তাঁকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করে আসছেন। এল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়বেন। নিজের দাম্পত্য প্রসঙ্গের পাশাপাশি এল-সাইয়েদ ট্রাম্পের নীতিরও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জ্বালানি ও বাজারের খরচ সামলাতে পারছেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচন তাই শুধু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এল-সাইয়েদ জয়ী হলে একজন মুসলিম হিসেবে সিনেটে নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন। অন্যদিকে তাঁর প্রচারণাকে ঘিরে ট্রাম্পের সরাসরি আক্রমণ নির্বাচনী লড়াইটিকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনাতেও নিয়ে এসেছে।
ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কোটি কোটি মানুষের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা ও পরিচয়ের অংশ। তাই প্রিয় দল হারলে মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। অনেক সমর্থক ম্যাচের পর হতাশ হয়ে পড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন বা দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ের কষ্ট বয়ে বেড়ান। ১. কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক, সেটি মেনে নিন প্রিয় দল হারার পর মন খারাপ হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে কিছুটা সময় দিন। আবেগকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে হতাশা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়। ২. মনে রাখুন, ফুটবল একটি খেলা জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। বিশ্বের সেরা দলগুলোও নিয়মিত হার-জিতের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায়। একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এ কথা মনে রাখুন। ৩. কিছু সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, ব্যঙ্গ বা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের মন্তব্য চোখে পড়তে পারে। এসব বিষয় মন আরও খারাপ করতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া ভালো। ৪. বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষদের সঙ্গ অনেক স্বস্তি দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এতে হতাশা কমে এবং মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকে। ৫. ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ভাবুন হার মানেই সবকিছু খারাপ ছিল না। ম্যাচে দলের ভালো কিছু মুহূর্ত, খেলোয়াড়দের চেষ্টা বা লড়াইয়ের মানসিকতা মনে করার চেষ্টা করুন। এতে হতাশার পরিবর্তে আশাবাদ তৈরি হয়। ৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন সিনেমা দেখা, বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে যাওয়া বা অন্য কোনো শখের কাজে সময় কাটান। নতুন কাজে মনোযোগ দিলে পরাজয়ের কষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসে। ৭. সামনে নতুন ম্যাচের অপেক্ষা করুন একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই মৌসুম শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। ফুটবলের আসল আনন্দ কোথায়? ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, গোলের আনন্দে উল্লাস করা কিংবা কঠিন সময়ে দলকে সমর্থন করাও এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই নিঃস্বার্থ সমর্থনই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায় পরিণত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।