মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাকে ঘিরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে আলমগীর হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার সময় তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশ জানায়, আলমগীর হাওলাদার হত্যার পর প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে সুযোগ নিয়ে আরেকটি পক্ষ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাস্তাঘাট অবরোধ করে প্রতিপক্ষের সমর্থিত কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে আলমগীর হাওলাদারের হত্যার প্রতিবাদে বিকেলে তাঁর লাশ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ ব্যাপারী (৫৪) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক গৃহবধুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার (৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মহিষেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই এলাকার গোলাম বেপারীর ছেলে কাইয়ুম বেপারীর সঙ্গে একই গ্রামের ওহিদুল খাঁর মেয়ে সাথী আক্তারের প্রায় সাত মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন দিনের মাথায় জীবিকার তাগিদে কাইয়ুম বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে সাথী আক্তার শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর অনুপস্থিতিতে শ্বশুরের পক্ষ থেকে সাথী আক্তারের ওপর মানসিক চাপ ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হতো। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রোববার সকালে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাথী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ইতিমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনার জেরে রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাথীর শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একপর্যায়ে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই বাড়ির দোতলা ভবনসহ বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ আহাদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন লাগানো হয়েছে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, গৃহবধুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত লোকজন শ্বশুরবাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক (নুর) বলেছেন, গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে দেশবাসী পরিবর্তন চায় এবং মানুষ আর খবরদারির রাজনীতি দেখতে চায় না। শুক্রবার দুপুরে মস্তফাপুর এলাকায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল হক বলেন, গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। তাই নেতা–কর্মীদের স্বভাব-চরিত্র পরিবর্তন করা জরুরি। অন্যথায় স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, দেশের সব নাগরিক মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম প্রশাসনের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলায় খাল খননের জন্য তালিকা চাওয়া হয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এর আগে পথসভায় উপস্থিত দলীয় নেতা–কর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে বালিয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে সংঘর্ষ চালায়। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়া গ্রামের নাসির হাওলাদার ও আইয়ুব আলী মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে দুই পরিবারের নারীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে আইয়ুব আলীর মেয়ে সুমাইয়াকে মারধর করেন নাসিরের স্ত্রী ও মেয়ে। ঘটনার সূত্র ধরে রাতে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষ হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সংঘর্ষের প্রবণতা মাদারীপুরে সাম্প্রতিক দিনে বেড়েছে। গত শনিবার ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় চার ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সোমবার রাতেও শহরের বলরাম মন্দির এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাদারীপু-১ শিবচর আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উঠান বৈঠকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের এসব নেতারা বলছেন, তারা সাবেক চিপ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে সমর্থন জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রচারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর প্রকাশ্য উপস্থিতি ও সমর্থন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে শিবচর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন খানের বাসভবনে শিবচর পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ সভার সূচনা হয়। বিএনপির উঠান বৈঠকে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তারা বলেন, সাবেক হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশনায় তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। একই মঞ্চে বিএনপি প্রার্থীর উপস্থিতি ও বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আতাহার বেপারী, শিবচর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা, চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন রায়হান সরকার, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে মোহসিন উদ্দিন সোহেল, বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নে মো. জাকির হোসেন হায়দার, মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলু মুন্সি,বাশকান্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খোকন বায়াতি, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হাজী আতিকুর মাদবর, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উঠান বৈঠকের সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবচর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানে কাজ করব। তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান । বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকির আওতায় আনা হবে। সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, সদস্য সচিব সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।