মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাদারীপু-১ শিবচর আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উঠান বৈঠকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এসব নেতারা বলছেন, তারা সাবেক চিপ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে সমর্থন জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রচারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর প্রকাশ্য উপস্থিতি ও সমর্থন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে শিবচর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন খানের বাসভবনে শিবচর পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ সভার সূচনা হয়।
বিএনপির উঠান বৈঠকে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তারা বলেন, সাবেক হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশনায় তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন।
একই মঞ্চে বিএনপি প্রার্থীর উপস্থিতি ও বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আতাহার বেপারী, শিবচর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা, চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন রায়হান সরকার, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে মোহসিন উদ্দিন সোহেল, বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নে মো. জাকির হোসেন হায়দার, মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলু মুন্সি,বাশকান্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খোকন বায়াতি, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হাজী আতিকুর মাদবর, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উঠান বৈঠকের সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবচর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানে কাজ করব। তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান । বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকির আওতায় আনা হবে।
সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, সদস্য সচিব সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন থেকে সাতজন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ (শিবগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলমীর প্রার্থী ড. কেরামত আলী নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। অন্যান্য যোগদানকারীরা হলেন— নাইমুল ডাক্তার (৩ নং ওয়ার্ড), মর্তুজা (বিএনপি কর্মী, ৩ নং ওয়ার্ড), হুমায়ুন মেম্বার, খায়রুল ইসলাম (বিএনপি কর্মী, ১ নং ওয়ার্ড) এবং মসিদুল (৩ নং ওয়ার্ড)। ড. কেরামত আলী বলেন, দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্ত হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত অবরোধ কর্মসূচি থেকে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম খোকন। শ্রমিক নেতাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ করা। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর দেওয়া বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার। হুমকি ও দমনের অভিযোগ: শ্রমিক দলনেতা ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করে বলেন, নৌ-উপদেষ্টা শ্রমিকদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের এমন দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই তারা এই কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রভাবিত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি: ইতিমধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বন্দরের সিসিটি ও এনসিটিসহ সব টার্মিনালে পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জাহাজ জেটিতে বসে থাকায় এবং রপ্তানি পণ্য আটকে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর ফলে পোশাক খাতের শিপমেন্ট শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। পুলিশি বাধা এবং কর্তৃপক্ষের অনমনীয় অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে ৪ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন এখনো অনুমোদন পাননি। ফলে চলতি সপ্তাহে তাদের বেতন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জীবনযাত্রা ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ পরিচালনায় এই বিলম্ব এক প্রকার চাপ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী সপ্তাহের শেষের মধ্যে বেতন-ভাতা বিতরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতন অনুমোদন মেলেনি। সরকারি ছুটির কারণে বেতন অনুমোদন হলেও তা জিও জারি এবং এজি অফিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া হবে আগামী বৃহস্পতিবার। এ কারণে চলতি সপ্তাহে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি ছুটি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সপ্তাহে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রতি মাসে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব তাদের প্রতিষ্ঠান প্রধান পাঠান। অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া মাত্র বেতন ব্যাংকে পাঠানো হয়। সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালু করেছে, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছে। মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এ প্রক্রিয়ার ফলে বেতন অনুমোদন ও বিতরণ আগের তুলনায় দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য হচ্ছে। তবে শিক্ষকদের মধ্যে এ বিলম্ব নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি সরকারি ছুটি বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে অনুমোদন আরও বিলম্বিত হয়, তবে মার্চ মাসের বেতনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জীবনযাত্রা ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ পরিচালনায় এই বিলম্ব এক প্রকার চাপ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী সপ্তাহের শেষের মধ্যে বেতন-ভাতা বিতরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।