- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য দ্রুত সাক্ষাৎকারের নতুন সুযোগ চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে তুলনামূলক দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে পারবেন। তবে এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। এটি শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। এটি শুধুমাত্র বি-১/বি-২ ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। আসন খালি থাকলে আবেদনকারীরা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এই সুবিধা নিতে হলে আবেদনকারীকে প্রথমে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করতে হবে, ১৮৫ ডলারের এমআরভি ফি পরিশোধ করতে হবে এবং নিয়মিত পদ্ধতিতে একটি সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে এই সুবিধা চালু থাকলে এবং আবেদনকারী যোগ্য হলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের আবেদন করা যাবে। দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নির্বাচন করার পর ১০ মিনিটের মধ্যে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ পরিশোধের পর সাক্ষাৎকারের তারিখ বা সময় পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে উপস্থিত না হলে অতিরিক্ত এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেয় না। সব আবেদনকারীকে আগের মতোই পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্তে কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে না। বর্তমানে এই কর্মসূচি নির্বাচিত কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। কোন দেশে বা কোন দূতাবাসে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট বা ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমে যাচাই করতে হবে। সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউ জানতে চাইছেন, তাদের আবেদন বাতিল হবে কি না, আবার কেউ ভাবছেন পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসার ওপরও এর প্রভাব পড়বে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি। ১. এই সিদ্ধান্ত কার জন্য প্রযোজ্য? সাময়িক স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট (Immigrant) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, সেগুলোর নতুন ভিসা ইস্যু আপাতত স্থগিত রয়েছে। ২. ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য ভিসায় কি কোনো প্রভাব পড়বে? না। পর্যটক (বি-১/বি-২), শিক্ষার্থী (এফ-১), এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (জে-১), অস্থায়ী কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সিদ্ধান্তের আওতায় নয়। এসব ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকার স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। ৩. চলমান আবেদন কি বাতিল হয়ে যাবে? না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিতাদেশ মানেই আবেদন বাতিল নয়। এটি মূলত নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদন বা চলমান কেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। ৪. যাদের সাক্ষাৎকার বা কেস প্রক্রিয়াধীন, তাদের কী হবে? যেসব আবেদন ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (NVC) বা দূতাবাসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে পারে। তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু করা হবে না। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীদের জানানো হবে। ৫. কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অযৌক্তিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। ৬. এই সিদ্ধান্ত কি শুধু বাংলাদেশের জন্য? না। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ নয়। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে একই নীতিমালার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ৭. কবে আবার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু হবে? এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাই আবেদনকারীদের গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের কেসের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সকল মার্কিন নাগরিককে সেদেশে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাস দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করা ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই নিয়মটি শিশুসহ এমন প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশেরও নাগরিকত্ব বহন করছেন। মার্কিন আইন পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে যে, কোনো নাগরিক নিজের দেশে প্রবেশের জন্য বিদেশি পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো দেশের ভ্রমণ অনুমতিপত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। দূতাবাস তাদের নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার যোগ্য নন। এমনকি দ্বৈত জাতীয়তা সম্পন্ন মার্কিন নাগরিকরা অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ‘ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন’ বা ইএসটিএ (ESTA) সুবিধার জন্যও আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দ্বৈত নাগরিকদের করা এই ধরনের ইএসটিএ আবেদনগুলো নিয়মিতভাবে প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করে দেয়। তাই যেকোনো জটিলতা এড়াতে নিজস্ব পাসপোর্ট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যারা বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের অবশ্যই একটি বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট সাথে রাখতে হবে। ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগেই পাসপোর্টের মেয়াদ পরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে অথবা খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে, তবে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগেই তা নবায়ন করে নেওয়া আবশ্যক। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রবেশের শর্ত হিসেবে পাসপোর্টের ন্যূনতম আরও ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে। এই কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে পাসপোর্ট নবায়ন না করলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে ভ্রমণকারীদের যাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা আইনি ও প্রশাসনিক ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। নাগরিকদের সুবিধার্থে দূতাবাস কিছু করণীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে। যাদের প্রথম মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা প্রয়োজন কিংবা যাদের বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ বা শেষের কাছাকাছি, তাদের দ্রুত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানে যোগাযোগ করে পাসপোর্ট অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নির্ধারণ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভ্রমণের আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। দ্বৈত জাতীয়তা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং আইনি নিয়মকানুন জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে এবং একটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে দূতাবাস এই আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রতিটি নাগরিককে এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মার্কিন দূতাবাস
ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। একই সঙ্গে ভিসার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার (২০ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা ভিসাধারীর নিজস্ব দায়িত্ব। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, বি১/বি২ (B1/B2) ভিজিটর ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন, অবকাশ যাপন, কেনাকাটা, বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন সভা বা সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বি১/বি২ ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ ও নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের আওতায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন। ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ভিসার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রত্যেক ভিসাধারীর দায়িত্ব। ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও ভিসার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা প্রয়োজন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসার নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে কোনো কার্যক্রমে জড়ালে ভবিষ্যতে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে ভিসার শর্ত ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের প্রকাশিত গ্রাফিকসে বি১/বি২ ভিজিটর ভিসার আওতায় অনুমোদিত কার্যক্রমের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পর্যটন, ছুটি কাটানো, কেনাকাটা, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন কনভেনশন বা সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাম্প্রতিক ভিসা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি আপডেটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও কনস্যুলার নীতিমালার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদন, সাক্ষাৎকার এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে চালু আছে। নীতিমালায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিবর্তন এসেছে মূলত ভিসা আবেদন-পরবর্তী প্রক্রিয়ায়, যেখানে অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন একটি ধাপ যুক্ত করা হয়েছে। ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের এখন দুইবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে উপস্থিত হতে হবে। প্রথম দিন থাকবে নথি যাচাই-বাছাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি সংগ্রহের প্রক্রিয়া। এ সময় আবেদনকারীদের সব মূল কাগজপত্র ও কপি সঙ্গে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বে নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী CEAC অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট আপলোড করা থাকতে হবে। দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হবে কনস্যুলার অফিসারের সঙ্গে ভিসা ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার। দূতাবাস সূত্রে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব নথি সঠিকভাবে জমা থাকলে সাধারণত একই সপ্তাহের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। বাংলাদেশও ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীরা এখনো ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন, সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন এবং দূতাবাস অ্যাপয়েন্টমেন্টও নির্ধারণ করবে। তবে এই সময়কালে ভিসা ইস্যু কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। দূতাবাসের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন “two-day processing” ব্যবস্থা পূর্বের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করেনি। অর্থাৎ আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো চলমান থাকলেও ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ অবস্থায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য প্রক্রিয়াগত ধাপগুলো অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত পূর্বের স্থগিত নীতির অধীনেই পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন শর্ত জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা। দূতাবাসের এক বার্তায় বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই বার্তায় জানানো হয়, একজন বি-২ ভিসা আবেদনকারীকে চিকিৎসা ব্যয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসার খরচ বহনের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হবে। দূতাবাস আরও জানায়, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, আবেদনকারীর পরিকল্পিত ভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর কোনো আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের মাধ্যমে চিকিৎসাজনিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পরিকল্পনাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' বা ন্যায়বিচারের জন্য পুরস্কার কর্মসূচির আওতায় বুধবার এই বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং এরবিল কনস্যুলেটে বারবার হামলার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা এই সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে সঠিক তথ্য দেবেন, তাদের কেবল অর্থই দেওয়া হবে না, বরং প্রয়োজনে অন্য দেশে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে অবস্থিত আমেরিকান কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দফায় দফায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বাগদাদের কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত দূতাবাসে হামলা বন্ধে বিশ্বস্ত তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং পরিচয় গোপন রাখা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরেই ইরাকে এই হামলাগুলো তীব্রতর হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্তত ২৩টি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে। এসব অভিযানে আমেরিকান ঘাঁটিগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, স্থানীয় তথ্যদাতাদের সহায়তা ছাড়া এই গোপন হামলাকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। তাই সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করে, কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই হামলাকারীদের বিচারে সোপর্দ করতে তারা সব ধরনের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা শক্তি ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর বলে সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে। যুদ্ধের এই ডামাডোলে ইরাকের সাধারণ নাগরিকরাও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুরস্কারের এই ঘোষণা হামলাকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করবে এবং গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পেন্টাগন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক উত্তপ্ত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে পুরস্কারের ঘোষণা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ—উভয় পথেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই পুরস্কারের ঘোষণাটি ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত অংশ। এতে করে সাধারণ মানুষ ও গোয়েন্দাদের মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরাকের মাটিতে মার্কিন বিরোধী মনোভাব বাড়লেও ওয়াশিংটন তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাটি তারই একটি অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন। আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আগেই নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হবে এবং দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না বলে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৮ মার্চ) দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকে প্রবেশস্থলের (পোর্ট অব এন্ট্রি) ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার হাতে। দূতাবাস জানায়, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই ভ্রমণকারী নিশ্চিতভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন এমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন। মূলত ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন ভ্রমণকারী কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলিও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাই নির্ধারণ করেন। ভিসাধারীদের সতর্ক করে পোস্টে আরও বলা হয়, পারমিটের মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কোনো কাজে জড়িত হওয়া গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে চাকরি করার মতো নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির ওপর ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, সঠিকভাবে ভিসা ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর নিজস্ব দায়িত্ব। নিয়ম মেনে দেশটিতে অবস্থান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে আসার ওপরই পরবর্তী ভিসা প্রাপ্তি বা ভ্রমণের সুযোগ নির্ভর করে। সম্প্রতি ভিসা জালিয়াতি রোধে কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবেই নিয়মিত এমন সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্ন বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভ্রমণকারীদের নিজ খরচ বহন করার সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে, ভিসা সাক্ষাৎকারে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং এমন প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন, যা থেকে বোঝা যায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এ ছাড়া, ভুয়া নথি জমা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি প্রতারণার শামিল। এ ধরনের কাজের কারণে আবেদনকারী ভিসার জন্য অযোগ্য হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।