সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

প্রতিদিন ৪৩০ মেশিনে পরিষ্কার হয় মসজিদে নববীর ২৫ হাজার কার্পেট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২১:৫৪
মসজিদে নববীর নামাজের স্থানে বিছানো কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
মসজিদে নববীর নামাজের স্থানে বিছানো কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেটের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। কার্পেট পরিষ্কার, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য সার্বক্ষণিক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববী, এর ছাদ ও প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেট ব্যবহৃত হয়। এসব কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

 

কার্পেটগুলোর পরিচর্যার কাজ নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। প্রতিটি কার্পেটে থাকা বৈদ্যুতিন চিপের মাধ্যমে সেটির অবস্থান, কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, কখন ধোয়া হয়েছে এবং কখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ বা আরএফআইডি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্পেটের ব্যবহার ও পরিচর্যার ইতিহাসও জানা সম্ভব।

 

মসজিদে নববীর কার্পেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ঘন বুননের, পুরু ও টেকসই এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ঘন ঘন ধোয়া হলেও কার্পেটের রং ও গুণমান যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

কার্পেট পরিষ্কারের পাশাপাশি মসজিদের অন্যান্য অংশেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এসপিএ জানিয়েছিল, মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৮১ হাজার লিটারের বেশি পরিবেশবান্ধব পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক উপকরণ ব্যবহার করা হতো। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন নামাজের স্থানও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

 

এর আগে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিচর্যা নিয়ে প্রকাশিত আরেক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছিল, দিনে তিনবার কার্পেট ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি কার্পেট ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিল।

 

এ ছাড়া ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যানে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিষ্কারে ৩০০টি ঝাড়ু দেওয়ার যন্ত্র এবং ৯২টি মেঝে ধোয়ার যন্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব জীবাণুনাশক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

 

মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামাজের স্থানগুলোর কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে মুসল্লিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু কার্পেট পরিষ্কার রাখা নয়, বরং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা।

 

সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মসজিদে নববীর নামাজের স্থানে বিছানো কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন ৪৩০ মেশিনে পরিষ্কার হয় মসজিদে নববীর ২৫ হাজার কার্পেট

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেটের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। কার্পেট পরিষ্কার, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য সার্বক্ষণিক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।   সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববী, এর ছাদ ও প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেট ব্যবহৃত হয়। এসব কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।   কার্পেটগুলোর পরিচর্যার কাজ নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। প্রতিটি কার্পেটে থাকা বৈদ্যুতিন চিপের মাধ্যমে সেটির অবস্থান, কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, কখন ধোয়া হয়েছে এবং কখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ বা আরএফআইডি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্পেটের ব্যবহার ও পরিচর্যার ইতিহাসও জানা সম্ভব।   মসজিদে নববীর কার্পেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ঘন বুননের, পুরু ও টেকসই এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ঘন ঘন ধোয়া হলেও কার্পেটের রং ও গুণমান যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   কার্পেট পরিষ্কারের পাশাপাশি মসজিদের অন্যান্য অংশেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এসপিএ জানিয়েছিল, মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৮১ হাজার লিটারের বেশি পরিবেশবান্ধব পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক উপকরণ ব্যবহার করা হতো। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন নামাজের স্থানও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।   এর আগে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিচর্যা নিয়ে প্রকাশিত আরেক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছিল, দিনে তিনবার কার্পেট ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি কার্পেট ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিল।   এ ছাড়া ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যানে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিষ্কারে ৩০০টি ঝাড়ু দেওয়ার যন্ত্র এবং ৯২টি মেঝে ধোয়ার যন্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব জীবাণুনাশক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।   মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামাজের স্থানগুলোর কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে মুসল্লিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   সৌদি কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু কার্পেট পরিষ্কার রাখা নয়, বরং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা।   সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২১:৫৪
শারজাহে মারা যাওয়া দন্ত চিকিৎসক ডা. আফিনা রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

শারজাহে হঠাৎ পড়ে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় দন্ত চিকিৎসকের মৃত্যু

রান যুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারছেন না আব্বাস।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে।   ওয়াশিংটনের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলিদের ওপর হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মার্কিন আইনেরও লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হয়েছে।   তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের নিয়মিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি মিশনের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে তাদের নিয়মিত কূটনীতিক ও কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।   গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৪৫-৫ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে ভিসা না পাওয়ায় আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে ভিডিও বা আগে থেকে ধারণ করা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।    জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৪৭ সালের সদর দপ্তর চুক্তি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ২০২৫ সালে বলেছিলেন, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসা কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাদের মতে, সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।    এদিকে এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।   ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে না পারায় এবারও তার বক্তব্য কীভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থায় আব্বাসের রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:৫৭
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত

কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ

ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স দিলেন স্বামী

গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাবেক এডিসি মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল ১২ বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর ৩০ বছর বয়সে সময়পূর্ব অবসর নিয়েছেন। ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই সেনা কর্মকর্তার অবসরের কারণও এখন সামনে এসেছে। ঋষভ জানিয়েছেন, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবার ও বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন ঋষভ। পরে একটি ভিডিওতেও তিনি অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। এত দ্রুত ইউনিফর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এমনটা তিনি কখনো ভাবেননি। তবে জীবনের একটি পর্যায়ে এসে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।    ঋষভ জানান, ২০১৪ সাল থেকে সামরিক জীবনের কারণে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের পাশে থাকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি এই অবসরকে সহজ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না; বরং নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।    ঋষভের সামরিক ক্যারিয়ারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জাট রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের পর তিনি ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে কাজ করেন। ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে জাট রেজিমেন্টের কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন তিনি। ওই কন্টিনজেন্ট সেরা মার্চিং কন্টিনজেন্ট ট্রফিও জেতে।    ২০২৩ সালের মার্চে ঋষভকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এডিসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও বিদেশ সফরে তাঁর উপস্থিতি নিয়মিত চোখে পড়ে। দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সামরিক শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রপতির পাশে তাঁকে দেখা যাওয়ার পর তাঁর পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে।    অবসরের পর ঋষভের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। বিশেষ করে বিয়ে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি সেনাবাহিনী ছেড়েছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ঋষভ এসব ধারণা নাকচ করে জানিয়েছেন, তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ পরিবার ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব। নিজের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে তরুণদের অনুপ্রাণিত করার মতো কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:৫৭
মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

0 Comments