মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া

ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ায়’ প্রথম মৃত্যু
সমুদ্রের পানিতে লুকিয়ে থাকা ঘন্টায় ভয়ংকর রুপ নেয়া জীবাণু! ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ায়’ প্রথম মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো বিরল ও প্রাণঘাতী ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ সংক্রমণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস নামের এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।   ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে রাজ্যটিতে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের একাধিক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় বা সংক্রমণের বিস্তারিত পরিস্থিতি প্রকাশ করা হয়নি।   ভিব্রিও ভালনিফিকাস সাধারণত উষ্ণ সমুদ্রের পানিতে পাওয়া যায়। শরীরে কাটা বা ক্ষতস্থান দিয়ে এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে মারাত্মক সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, দীর্ঘমেয়াদি লিভারের সমস্যা রয়েছে বা অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।   এই ব্যাকটেরিয়াকে সাধারণভাবে ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ বলা হলেও এটি আসলে শরীরের মাংস খেয়ে ফেলে না। বরং সংক্রমণের কারণে ত্বক, নরম টিস্যু ও আশপাশের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটার সময় শরীরে কোনো খোলা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা সামুদ্রিক খাবার, বিশেষ করে ঝিনুক জাতীয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সমুদ্রের পানিতে যাওয়ার আগে শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে তা ঢেকে রাখা উচিত। পাশাপাশি কাঁচা সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতস্থানে লালচে ভাব, ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে উষ্ণ পানির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিব্রিও ভালনিফিকাস সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত সতর্কতা দিয়ে আসছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় বিরল ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় প্রাণঘাতী 'মাংসখেকো' ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চলতি বছরের প্রথম মৃত্যু, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) নামের বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় চলতি বছরের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রমণে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী ও সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।   ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১১টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছর ফ্লোরিডায় এই ব্যাকটেরিয়ায় ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস উষ্ণ লবণাক্ত ও অল্প লবণাক্ত (ব্র্যাকিশ) পানিতে স্বাভাবিকভাবেই বাস করে। সাধারণত কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া শরীরে কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক সময় তুলনামূলক হালকা হতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, রক্তদূষণ (সেপসিস) এবং ত্বকে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দিতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, এই সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় পাঁচজনের একজনের মৃত্যু হতে পারে, অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার এক বা দুই দিনের মধ্যেই। গুরুতর রোগীদের অনেকের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অঙ্গ কেটে ফেলতেও হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।   ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, হারিকেন, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলীয় এলাকায় জমে থাকা পানি ও বন্যার পানি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অতীতেও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পর রাজ্যের কয়েকটি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা ঝিনুক বা অন্যান্য শেলফিশ না খাওয়া, সামুদ্রিক খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া এবং শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা অল্প লবণাক্ত পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। সমুদ্রের পানি বা কাঁচা শেলফিশের সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, তীব্র ব্যথা, ক্ষত ফুলে যাওয়া বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মিসিসিপি উপকূলে মাছ ধরার পর ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হন স্টিভ উইলসন। ছবি: সংগৃহীত
মাছ ধরতে গিয়ে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, হাঁটার ক্ষমতা হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৫০ বছর বয়সী স্টিভ উইলসন। সংক্রমণ এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি হাঁটার ক্ষমতা হারান এবং পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, ব্যাকটেরিয়াটি তার পায়ের একটি ছোট ক্ষত বা পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।   স্টিভ উইলসন ও তার স্ত্রী আমান্ডা উইলসন গত সপ্তাহান্তে মিসিসিপি উপসাগরীয় উপকূলের ক্যাট আইল্যান্ডের কাছে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা থাকায় উপকূলীয় পানিতে থাকা ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। এ কারণে পানিতে নামার আগে শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করেছিলেন।   তবে স্টিভের স্ত্রী, যিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স, মনে করছেন ঘোড়ামাছি (হর্সফ্লাই) বা অন্য কোনো পোকামাকড়ের ছোট একটি কামড় থেকেই অদৃশ্য ক্ষত তৈরি হয়েছিল। মাছ ধরার সময় স্টিভ পায়ে পোকার কামড়ের কথা বলেছিলেন এবং পরে কীটনাশক স্প্রে ব্যবহারও করেছিলেন। আমান্ডার ধারণা, সেই ক্ষুদ্র ক্ষত দিয়েই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে।   পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্টিভ ডান পায়ের গোড়ালির কাছে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার পা ফুলে যায়, ত্বক লালচে হয়ে ওঠে এবং তিনি আর হাঁটতে পারেননি। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায় এবং তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়া তার পায়ের টিস্যু দ্রুত নষ্ট করে দিচ্ছে।   চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত অংশের চাপ কমানোর চেষ্টা করেন এবং শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করেন। তবে তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এরপর পায়ের কতটা স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হবে।   অমান্ডা উইলসন জানান, এত সতর্ক থাকার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তারা কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকায় বেড়াতে যাওয়া মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস সাধারণত উষ্ণ উপকূলীয় লবণাক্ত বা আধা-লবণাক্ত পানিতে জন্মায়। শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সেই ক্ষতের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, লিভারের রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে পানির তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই খোলা ক্ষত নিয়ে সমুদ্র বা উপকূলীয় পানিতে না নামা, কাঁচা সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০