বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, ইসলাম গ্রহণ করে জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ কিরে ইতিহাস গড়েন উমর মিতা
জাপানে ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘদিন আরবি ভাষা ও কুরআন অধ্যয়ন করে ৮০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন উমর মিতা। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর অনুবাদটি ছিল একজন জাপানি মুসলিমের করা প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম নেওয়া রিওইচি মিতা পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জাপানে ইসলামের ইতিহাসে তাঁর এই কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তাঁর পরিবার ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং সামুরাই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। শৈশব থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ১৯১৬ সালে ইয়ামাগুচি কমার্শিয়াল কলেজ থেকে শিক্ষা শেষ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে চীনে যান মিতা। সেখানে রেলওয়ে খাতে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। চীনে অবস্থানকালেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ধর্মীয় অনুশীলন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এই আগ্রহ তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে উৎসাহিত করে।
চীনে মুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। তিনি ইসলামের ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মুসলিম সমাজ সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯২০ সালে জাপানের একটি সাময়িকীতে চীনের ইসলাম নিয়ে একটি প্রবন্ধও লেখেন। ইসলাম সম্পর্কে তাঁর প্রাথমিক অনুসন্ধানের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে এই লেখার উল্লেখ পাওয়া যায়।
তাঁর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে জাপানি মুসলিম ওমর ইয়ামাওকার জীবন ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর। ইয়ামাওকা ১৯০৯ সালে হজ পালনকারী প্রথম দিকের জাপানি মুসলিমদের একজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর অভিজ্ঞতা ও লেখালেখি জাপানে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ সময় ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের পর ১৯৪১ সালে চীনের বেইজিংয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৮ বছর। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জীবনের এই পরিবর্তনের পর ইসলামের শিক্ষা ও ধর্মীয় সাহিত্য নিয়ে তাঁর কাজ আরও বিস্তৃত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে ফিরে তিনি মুসলিম সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এ সময় তাঁর সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন। কুরআনের মূল বক্তব্য যথাযথভাবে বোঝার জন্য তিনি বয়সের বাধা উপেক্ষা করে আরবি শেখার উদ্যোগ নেন। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সফর করেন এবং ১৯৫৮ সালে পবিত্র হজ পালন করেন। পাকিস্তান ও সৌদি আরবে অবস্থানকালে আরবি ভাষা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার সুযোগ পান।
জাপানে এর আগেও পবিত্র কুরআনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২০, ১৯৩৭ ও ১৯৫০ সালে বিভিন্ন অনুবাদ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৫৭ সালে জাপানি পণ্ডিত তোশিহিকো ইজুৎসু আরবি থেকে সরাসরি কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন। তবে এসব অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মুসলিম ছিলেন না। ফলে একজন জাপানি মুসলিম হিসেবে উমর মিতার অনুবাদ উদ্যোগ বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়।
১৯৬০ সালের দিকে তিনি কুরআন অনুবাদের কাজে নিবিড়ভাবে মনোযোগ দেন। অনুবাদের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাধারণ জাপানি পাঠকের কাছে কুরআনের বক্তব্য সহজবোধ্য করে তোলা। এজন্য শব্দ নির্বাচন, বাক্যগঠন এবং ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন।
জাপানি ভাষায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবযুক্ত অনেক শব্দ প্রচলিত থাকলেও কুরআনের ধর্মীয় ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ ও পরিচিত জাপানি শব্দ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অনুবাদের মাধ্যমে ইসলামের মূল বক্তব্য পাঠকের কাছে যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।
দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পর ১৯৬৮ সালে অনুবাদের পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেন তিনি। তবে সেখানেই থেমে যাননি। অনুবাদের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধন ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেন। ১৯৭০ সালে সংশোধিত পাণ্ডুলিপি মক্কাভিত্তিক মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেখানে ইসলামি পণ্ডিতদের মাধ্যমে অনুবাদটি পর্যালোচনা করা হয় বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
অবশেষে ১৯৭২ সালে তাঁর অনূদিত পবিত্র কুরআনের জাপানি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৮০ বছর। অনুবাদ শুরু থেকে প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ১২ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেন, যা জাপানি মুসলিমদের ধর্মীয় সাহিত্যচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়।
এই অনুবাদের মাধ্যমে জাপানি ভাষাভাষী মুসলিম পাঠকদের জন্য একজন স্বদেশি মুসলিম অনুবাদকের কাজ থেকে কুরআনের অর্থ বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জাপানে ইসলামি সাহিত্য অনুবাদের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়।
উমর মিতা শুধু কুরআন অনুবাদের মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি। ইসলামি শিক্ষা, সাহাবিদের জীবন ও ইসলামের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। মুসলিম পাঠকদের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জাপানি ভাষাভাষীদের জন্যও তাঁর সাহিত্যকর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাঁর অনুবাদ পরবর্তী সময়ে সংশোধিত আকারেও প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। কুরআন অনুবাদের পাশাপাশি জাপানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা এবং মুসলিম সংগঠনের কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে দেশটির মুসলিম ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
১৯৮৩ সালের ২৯ মে উমর মিতা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, চীনে ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান, মধ্যবয়সে ইসলাম গ্রহণ এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে কুরআন অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষ্য বহন করে।
জাপানে কুরআনের অনুবাদের ইতিহাসে উমর মিতার বিশেষ পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তিনি প্রথম ব্যক্তি নন যিনি জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেছিলেন, তবে প্রথম জাপানি মুসলিম অনুবাদক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজাপানে ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘদিন আরবি ভাষা ও কুরআন অধ্যয়ন করে ৮০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন উমর মিতা। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর অনুবাদটি ছিল একজন জাপানি মুসলিমের করা প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম নেওয়া রিওইচি মিতা পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জাপানে ইসলামের ইতিহাসে তাঁর এই কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। ১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তাঁর পরিবার ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং সামুরাই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। শৈশব থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ১৯১৬ সালে ইয়ামাগুচি কমার্শিয়াল কলেজ থেকে শিক্ষা শেষ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে চীনে যান মিতা। সেখানে রেলওয়ে খাতে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। চীনে অবস্থানকালেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ধর্মীয় অনুশীলন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এই আগ্রহ তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে উৎসাহিত করে। চীনে মুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। তিনি ইসলামের ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মুসলিম সমাজ সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯২০ সালে জাপানের একটি সাময়িকীতে চীনের ইসলাম নিয়ে একটি প্রবন্ধও লেখেন। ইসলাম সম্পর্কে তাঁর প্রাথমিক অনুসন্ধানের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে এই লেখার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে জাপানি মুসলিম ওমর ইয়ামাওকার জীবন ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর। ইয়ামাওকা ১৯০৯ সালে হজ পালনকারী প্রথম দিকের জাপানি মুসলিমদের একজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর অভিজ্ঞতা ও লেখালেখি জাপানে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের পর ১৯৪১ সালে চীনের বেইজিংয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৮ বছর। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জীবনের এই পরিবর্তনের পর ইসলামের শিক্ষা ও ধর্মীয় সাহিত্য নিয়ে তাঁর কাজ আরও বিস্তৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে ফিরে তিনি মুসলিম সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় তাঁর সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন। কুরআনের মূল বক্তব্য যথাযথভাবে বোঝার জন্য তিনি বয়সের বাধা উপেক্ষা করে আরবি শেখার উদ্যোগ নেন। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সফর করেন এবং ১৯৫৮ সালে পবিত্র হজ পালন করেন। পাকিস্তান ও সৌদি আরবে অবস্থানকালে আরবি ভাষা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার সুযোগ পান। জাপানে এর আগেও পবিত্র কুরআনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২০, ১৯৩৭ ও ১৯৫০ সালে বিভিন্ন অনুবাদ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৫৭ সালে জাপানি পণ্ডিত তোশিহিকো ইজুৎসু আরবি থেকে সরাসরি কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন। তবে এসব অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মুসলিম ছিলেন না। ফলে একজন জাপানি মুসলিম হিসেবে উমর মিতার অনুবাদ উদ্যোগ বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়। ১৯৬০ সালের দিকে তিনি কুরআন অনুবাদের কাজে নিবিড়ভাবে মনোযোগ দেন। অনুবাদের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাধারণ জাপানি পাঠকের কাছে কুরআনের বক্তব্য সহজবোধ্য করে তোলা। এজন্য শব্দ নির্বাচন, বাক্যগঠন এবং ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। জাপানি ভাষায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবযুক্ত অনেক শব্দ প্রচলিত থাকলেও কুরআনের ধর্মীয় ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ ও পরিচিত জাপানি শব্দ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অনুবাদের মাধ্যমে ইসলামের মূল বক্তব্য পাঠকের কাছে যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পর ১৯৬৮ সালে অনুবাদের পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেন তিনি। তবে সেখানেই থেমে যাননি। অনুবাদের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধন ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেন। ১৯৭০ সালে সংশোধিত পাণ্ডুলিপি মক্কাভিত্তিক মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেখানে ইসলামি পণ্ডিতদের মাধ্যমে অনুবাদটি পর্যালোচনা করা হয় বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। অবশেষে ১৯৭২ সালে তাঁর অনূদিত পবিত্র কুরআনের জাপানি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৮০ বছর। অনুবাদ শুরু থেকে প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ১২ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেন, যা জাপানি মুসলিমদের ধর্মীয় সাহিত্যচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। এই অনুবাদের মাধ্যমে জাপানি ভাষাভাষী মুসলিম পাঠকদের জন্য একজন স্বদেশি মুসলিম অনুবাদকের কাজ থেকে কুরআনের অর্থ বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জাপানে ইসলামি সাহিত্য অনুবাদের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়। উমর মিতা শুধু কুরআন অনুবাদের মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি। ইসলামি শিক্ষা, সাহাবিদের জীবন ও ইসলামের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। মুসলিম পাঠকদের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জাপানি ভাষাভাষীদের জন্যও তাঁর সাহিত্যকর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর অনুবাদ পরবর্তী সময়ে সংশোধিত আকারেও প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। কুরআন অনুবাদের পাশাপাশি জাপানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা এবং মুসলিম সংগঠনের কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে দেশটির মুসলিম ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ১৯৮৩ সালের ২৯ মে উমর মিতা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, চীনে ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান, মধ্যবয়সে ইসলাম গ্রহণ এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে কুরআন অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষ্য বহন করে। জাপানে কুরআনের অনুবাদের ইতিহাসে উমর মিতার বিশেষ পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তিনি প্রথম ব্যক্তি নন যিনি জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেছিলেন, তবে প্রথম জাপানি মুসলিম অনুবাদক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।
ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে ভুল অনুবাদ করে অর্থ আত্মসাৎে বাংলাদেশি দোভাষী আটক
দৈনিক ১ ডলার ২০ সেন্টের শ্রমিক থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারী, ঝৌ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান
শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ কেবল স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নেই; এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর। পরিবেশ ও সামুদ্রিক গবেষকদের তথ্যমতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিনের করুণ মৃত্যু ঘটেছে। সামরিক সরঞ্জাম, ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের 'সোনার' প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেই এই বিপুলসংখ্যক ডলফিন মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ ইউক্রেনের তুজলি লেগুনস ন্যাশনাল পার্কের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুদ্ধজাহাজের সামরিক প্রযুক্তির কারণে ডলফিনের টিকে থাকার প্রধান মাধ্যম 'ইকোলোকেশন' বা শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে দিকনির্ণয় ও শিকারের পদ্ধতি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ছে। এর ফলে দিক হারিয়ে ডলফিনগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে ব্যর্থ হচ্ছে এবং শিকার ধরতে পারছে না। শিকার না পেয়ে ডলফিনগুলো যখন শরীরের চর্বি ভেঙে শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে, তখন কৃষ্ণসাগরের যুদ্ধদূষিত পানিতে থাকা প্লাস্টিক, অ্যান্টিবায়োটিক ও বিষাক্ত রাসায়নিক তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর জ্বালানি ও রাসায়নিক পুরো কৃষ্ণসাগরের বাস্তুতন্ত্রকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। সমুদ্রের পানির নিচে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে শ্রবণশক্তি হারিয়ে মারা যাচ্ছে লাখ লাখ মাছ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিযায়ী পাখিদের ওপরও। উত্তর ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াতকারী এসব পাখি পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে পথিমধ্যেই মারা পড়ছে, যা আগামীতে তাদের বংশবৃদ্ধিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে যুদ্ধের এমন মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়, অন্যদিকে উপকূলে ভেসে আসা ডলফিনের অসংখ্য মৃতদেহ দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষও গভীরভাবে ব্যথিত হচ্ছেন।
হাইজ্যাক হওয়া বিমানে যাত্রীদের রক্ষায় সাহসিকতা, পাইলটদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিল আমিরাত
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ফেল, নিজ চেষ্টায় হলেন ১৩০ কোটি রুপির কোম্পানির মালিক
দিল্লির রামলীলা ময়দানে মোদিবিরোধী জনস্রোত, ভোট চুরির প্রতিবাদে লাখো মানুষের সমাবেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ডেটিং অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাদাগাস্কার-ভিত্তিক একটি প্রতারক চক্রের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গত ২৭ অক্টোবর এই অভিযোগ গঠন করা হয়। এফবিআই-এর তদন্তে জানা গেছে, মালয়েশিয়ান নাগরিক চুই কোক ওয়া-র নেতৃত্বে এই চক্রটি মাদাগাস্কারে বসে একটি সুসংগঠিত প্রতারণা জাল পরিচালনা করছিল। চক্রের সদস্যরা ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে আমেরিকানদের সাথে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলত। এরপর বিশ্বাস অর্জন করে তাদেরকে ভুয়া এনএফটি (NFT) প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখাত। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ক্রিপ্টো ওয়ালেট সেই প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে যুক্ত করার পরপরই তাদের অনুমতি ছাড়াই সব ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করে নেওয়া হতো। এফবিআই-এর দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৭৪টি ওয়ালেট থেকে ১২৭টি অননুমোদিত লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে ৫ লাখ ১৬ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের ইউএসডিটি (USDT) চুরি করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের ধারণা, এই বিশাল প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ৮০০ মানুষ। গত আগস্টে মাদাগাস্কারে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১৩টি সন্দেহভাজন আস্তানা থেকে তিন হাজারেরও বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে এফবিআই। এসব ডিভাইসে কর্মীদের চুক্তিপত্র এবং ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে প্ররোচিত বা 'ইমোশনাল স্ক্যাম' করার জন্য বিস্তারিত নির্দেশনাবলী পাওয়া গেছে। কম্বোডিয়া থেকে পালিয়ে মাদাগাস্কারে আস্তানা গাড়া এই চক্রের মূল হোতাসহ অভিযুক্ত ছয় আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের জন্য মাদাগাস্কার সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
৫৫ হাজার অভিবাসীর সুযোগের ডিভি লটারি স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি দেওয়া উদারপন্থি আমেরিকানদের অনেকেরই এখন দেশে ফেরার ইচ্ছা