যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের সুযোগ বাড়াতে ২০২৬ অর্থবছরে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি ফেডারেল তহবিল ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। মায়ামি সিটির হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট বিভাগ সম্প্রতি তাদের প্রস্তাবিত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (ফিসকাল ইয়ার ২০২৬ অ্যানুয়াল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রকাশ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (এইচইউডি) থেকে পাওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, পুরোনো ঘরবাড়ি সংস্কার, প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের ডাউন পেমেন্ট সহায়তা, গৃহহীনদের জরুরি সহায়তা এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবাসন সহায়তা কর্মসূচির জন্য। ‘হাউজিং অপরচুনিটিজ ফর পারসনস উইথ এইডস’ (হোপওয়া) কর্মসূচির আওতায় নতুন অর্থবছরে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আগের বছরের অব্যবহৃত আরও প্রায় ২৫ লাখ ডলার যুক্ত হবে। এই অর্থ মূলত ভাড়াভিত্তিক আবাসন সহায়তায় ব্যয় করা হবে। কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সরাসরি ভাড়া পরিশোধ, আবাসন পরিদর্শন, স্বল্পমেয়াদি বন্ধক ও ইউটিলিটি বিল সহায়তা এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহায়তা দেওয়া হবে। আবাসন নির্মাণ ও সংস্কারেও বড় বিনিয়োগ মায়ামির আবাসন পরিকল্পনার দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হচ্ছে ‘হোম’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির জন্য নতুন অর্থবছরে প্রায় ২৭ লাখ ৯১ হাজার ডলার বরাদ্দ এসেছে। পাশাপাশি আগের বছরের অব্যবহৃত তহবিল ও বিভিন্ন কর্মসূচির আয় মিলিয়ে আরও প্রায় ৬৫ লাখ ডলার যুক্ত হবে। ফলে মোট প্রায় ৯০ লাখ ডলারের তহবিল সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, বিদ্যমান বাড়িঘর সংস্কার এবং বাড়ি কিনতে আগ্রহী নাগরিকদের ডাউন পেমেন্ট সহায়তায় ব্যয় করা হবে। মায়ামির বর্তমান আবাসন বাজারে বাড়ির মূল্য এবং বন্ধক ঋণের ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা অনেক পরিবারের জন্য ডাউন পেমেন্ট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের মতে, এই সহায়তা কর্মসূচি সেই চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে কোন এলাকায় নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বা কোন ঠিকানায় সংস্কার কাজ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম প্রকাশ করা হয়নি। নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য বহুমুখী সহায়তা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক গ্র্যান্ট (সিডিবিজি) কর্মসূচির আওতায় নতুন অর্থবছরে প্রায় ৪৯ লাখ ডলার এবং আগের বছরের আরও ৩৭ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই কমিউনিটি গড়ে তোলার কাজে ব্যয় হবে। নতুন বরাদ্দের প্রায় ২৬ লাখ ডলার এবং আগের বছরের প্রায় ৩৬ লাখ ডলার একই খাতে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনসেবামূলক কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৪২ হাজার ডলার, আবাসন কর্মসূচির জন্য প্রায় ৬ লাখ ৪৩ হাজার ডলার এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৮৯ হাজার ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য জরুরি সহায়তা গৃহহীন ও আবাসন সংকটে থাকা মানুষের জন্য ‘ইমার্জেন্সি সল্যুশনস গ্র্যান্ট’ (ইএসজি) কর্মসূচির আওতায় মোট ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৭ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার পথে বসবাসকারী মানুষের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রমে ব্যয় হবে। দ্রুত পুনর্বাসন এবং গৃহহীনতা প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ডলার। প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হবে ৩৩ হাজার ডলার। এ কর্মসূচিতে আগের বছরের কোনো অব্যবহৃত অর্থ নতুন অর্থবছরে বহন করা হচ্ছে না। সেকশন-৮ ভাড়া সহায়তা কর্মসূচিতেও অর্থ পরিকল্পনা অনুযায়ী, মায়ামি সিটি প্রায় ৬৭ লাখ ডলারের সেকশন-৮ হাউজিং চয়েস ভাউচার তহবিলও গ্রহণ করবে। এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ডলার সরাসরি ভাড়া সহায়তায় এবং প্রায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। সেকশন-৮ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসন সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা বেসরকারি মালিকানাধীন বাসায় ভর্তুকিযুক্ত ভাড়ায় বসবাসের সুযোগ পান। স্থানীয় আবাসন সহায়তা পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন ফেডারেল ব্যয় পরিকল্পনার পাশাপাশি ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদের স্থানীয় আবাসন সহায়তা পরিকল্পনাতেও সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়েছে মায়ামি সিটি। বিশেষ করে একক পরিবারের জরুরি সহায়তা কর্মসূচি এবং একক পরিবারের আবাসন সংস্কার কর্মসূচিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের বাড়ির মালিকদের ঘরবাড়ি মেরামত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বসবাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জনমত গ্রহণ শুরু নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৮ জুন থেকে পরিকল্পনাটি জনসাধারণের পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই মায়ামি সিটি কমিশনের এক উন্মুক্ত শুনানিতে পরিকল্পনাটির ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোকোনাট গ্রোভ এলাকার প্যান আমেরিকান ড্রাইভে অবস্থিত সিটি কমিশন ভবনে সকাল ৯টায় শুনানি শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি মায়ামি টিভি এবং কমকাস্ট চ্যানেল ৭৭-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ ছাড়া আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নাগরিকরা লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ামিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য এবং ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট তীব্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেডারেল তহবিলের এই বরাদ্দ নিম্ন আয়ের পরিবার, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং আবাসন অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পরিকল্পনার প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং তা প্রয়োজনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কত দ্রুত পৌঁছায় তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।