সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ

২৮ বছর বয়সী কেটি সুয়ারেজ
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় তরুণীকে গলায় ছুরিকাঘাত,হামলাকারীকে ধরতে ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে জগিং করার সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। কেটি সুয়ারেজ নামের ওই তরুণী বর্তমানে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালের ব্রুকলিন শাখায় লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার তিন দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।   গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় শোর পার্কওয়ে গ্রিনওয়ের একটি পথ ধরে দৌড়ানোর সময় হামলার শিকার হন কেটি। পুলিশ জানায়, বেল্ট পার্কওয়ের কাছে বে ১৭তম স্ট্রিট এলাকায় তাঁর গলায় একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।   তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিজার্স বে শপিং সেন্টারে নিজের কর্মস্থল থেকে বের হন কেটি। এরপর পোশাক পরিবর্তন করে দৌড়াতে যান। রাত ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানান, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার নির্ধারিত স্থান থেকে তিনি প্রায় আধা মাইল দূরে রয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানো এবং পরবর্তী ফোনকলের উত্তর না দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর বাবা।   পরে মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে বেল্ট পার্কওয়ের পাশের পথের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন বাবা। খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের ধারণা, কেটি নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের প্রস্তুতি হিসেবে দৌড়াচ্ছিলেন। তবে এবারের ম্যারাথনে তাঁর নিবন্ধন ছিল না বলে জানিয়েছে এবিসি৭ নিউইয়র্ক।   নিউইয়র্ক পুলিশের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফ কেনি জানিয়েছেন, হামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ব্যাপক তল্লাশি চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর, ডুবুরি দল ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হামলাটি আকস্মিক হতে পারে। তবে এর উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার পর কেটির মোবাইল ফোন ও গয়না তাঁর কাছেই পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন না তাঁরা। হামলাকারীর পরিচয় কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনাও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত দৌড়বিদদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে কেটির ছবি প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১২ মিনিটের মধ্যে বে ৮তম স্ট্রিট থেকে বে ১৭তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী পথে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য জানাতে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   সংবাদসূত্র: এনওয়াইপিডি, ABC7 New York

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
স্ত্রী মারিয়া গামিন্দের নিখোঁজের ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এপিফানিও গামিন্দে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
স্ত্রীকে হত্যার পর বিদেশে জীবিত থাকার নাটক সাজানোর অভিযোগ, ফ্লোরিডায় স্বামী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি বিদেশে জীবিত আছেন, এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এপিফানিও আইএক্স রামোস গামিন্দে নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী মারিয়া গামিন্দে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৬ অক্টোবর সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তকারীরা এখনো মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেননি।   ভোলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, মারিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে নিখোঁজের খবর দেন। এ সময় তাঁর স্বামী তদন্তকারীদের বলেছিলেন, মারিয়া স্বেচ্ছায় ডিবারির বাড়ি ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু পরে তাঁর নামে পাঠানো বিভিন্ন খুদে বার্তা ও অন্যান্য যোগাযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, মারিয়া জীবিত আছেন এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন না, এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।   ঘটনাটির তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি জাপান ও ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া হয়। ভোলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং ফ্লোরিডার সপ্তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তদন্তকারীরা প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে ফিলিপাইনেও যান। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে মারিয়ার নামে পাঠানো বার্তা ও অন্যান্য যোগাযোগের সূত্র যাচাই করা হয়। এসব অনুসন্ধানের পর তদন্তকারীরা মনে করেন, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বিদেশে অবস্থানরত ও জীবিত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।   ভোলুসিয়া কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি এপিফানিওর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ অনুমোদন করার পর তাঁকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ভোলুসিয়া কাউন্টি শাখা কারাগারে জামিন ছাড়া আটক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার পক্ষ থেকেও অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।   মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ফ্লোরিডার সপ্তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নি আর. জে. লারিজা বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। তদন্তকারীরা এ ঘটনায় আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।   তথ্যসূত্র: ভোলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং ফ্লোরিডার সপ্তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইন ডেটিংয়ের সূত্র ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল দুই নারী হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
রাস্তার পাশে স্যুটকেসে মিলল দুই নারীর মরদেহ, ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়েন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে পরিত্যক্ত দুটি স্যুটকেস থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালের জুনে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে। নিখোঁজ এক নারীর সন্ধান, অনলাইন পরিচয়ের সূত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা স্টিভেন জেলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই নারীকে হত্যার দায়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। ঘটনাটি নিয়ে এবিসি নিউজের ‘২০/২০’ অনুষ্ঠানে নতুন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। উইসকনসিনের ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে স্যুটকেস দুটি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। একটি স্যুটকেস খুলে তাঁরা দড়ি দিয়ে বাঁধা এক নারীর পচনধরা মরদেহ দেখতে পান। দ্বিতীয় স্যুটকেসে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর আরেক নারীর মরদেহ ছিল। তীব্র পচনের কারণে ঘটনাস্থলেই পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের সামনে তখন তিনটি বড় প্রশ্ন ছিল, নিহত নারীরা কারা, কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং এর জন্য কে দায়ী। পরে তদন্তের সূত্র ধরে মিনেসোটায় নিখোঁজ এক নারীর ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। মিনেসোটার ফার্মিংটন পুলিশ তখন ৩৭ বছর বয়সী লরা সিমনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি নিজের মায়ের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি রেখে নিখোঁজ হন। গাড়ির ভেতরে তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ, ওষুধ এবং গাড়ি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে মায়ের জন্য লেখা একটি নোট পাওয়া যায়। ওই বছরের শুরুতে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন। তবে শৈশবের বন্ধু ক্রিস্টিন স্কাউটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের ছয় সন্তানকে ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না লরা। এ কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে এবং পুলিশ রাজ্যজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করে। তদন্তে একটি হোটেলের কর্মীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই কর্মী পুলিশকে জানান, লরা কয়েক সপ্তাহ আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে এসেছিলেন। লোকটিকে দেখে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল বলে জানান তিনি। হোটেলের নিবন্ধনপত্রে লরার স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও তাঁদের প্রবেশের সময়কার নজরদারি ভিডিও সংরক্ষিত ছিল না। তবে হোটেল ছাড়ার সময়ের ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে একা চলে যেতে দেখা যায়। পরে লরার এক বন্ধু পুলিশকে জানান, তিনি অনলাইনে একটি বিশেষ ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কভিত্তিক ডেটিং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘মিস্টারহ্যান্ডকাফস’ নামের একটি পরিচয় ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনুসন্ধান চালিয়ে বন্ধুটি ওই পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তির নাম জানতে পারেন, তিনি স্টিভেন জেলিচ। জেলিচের পরিচয় সামনে আসার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি মিলওয়াকি এলাকার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। ২০০১ সালে ওয়েস্ট অ্যালিস পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। এর আগে নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানি করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে লরার বিষয়ে খোঁজ নেয়, কিন্তু তখন নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে এফবিআই ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য পুলিশ তদন্তে যোগ দেয়। ২০১৪ সালের মার্চে জেলিচের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় ডিএনএ নমুনা দেন। তবে লরার সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তখন তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের জুনে উইসকনসিনে স্যুটকেস দুটি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে। একটি মরদেহের গোড়ালিতে হৃদয় আকৃতির নকশা এবং তাঁর প্রয়াত মেয়ে অ্যালিসার নাম লেখা একটি বিশেষ উল্কি দেখে তদন্তকারীরা লরা সিমনসনের পরিচয় শনাক্ত করেন। অন্য মরদেহের সঙ্গে বাঁধা দড়ি থেকে পাওয়া ডিএনএর নমুনা জেলিচের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। দ্বিতীয় নারী ছিলেন ওরেগনের কটেজ গ্রোভের ১৯ বছর বয়সী জেনি গেমেজ। তদন্তকারীদের কাছে জেলিচ দাবি করেন, অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গেমেজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাস সীমিত করার এক যৌন আচরণের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। একইভাবে লরার মৃত্যুকেও দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি। জেলিচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেমেজের মরদেহ তিনি এক বছরেরও বেশি সময় নিজের ফ্রিজে রেখেছিলেন। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে লরার মৃত্যুর পর দুই নারীর মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে সরিয়ে নেন। আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে গাড়ির কাছ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসার কথা এক সহকর্মী উল্লেখ করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মরদেহ দুটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের জানান। দুই নারীকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গোপন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৬ সালে গেমেজের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যার দায় এবং মরদেহ গোপনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন জেলিচ। এ ঘটনায় তাঁকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর ১০ বছরের তত্ত্বাবধানের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে লরার মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে মরদেহ গোপনের আরও দুটি অভিযোগে অতিরিক্ত ১০ বছরের সাজাও পান তিনি। আদালতের রায়ে মামলার আইনি নিষ্পত্তি হলেও দুই নারীর পরিবার এখনো তাঁদের হারানোর শোক বহন করছে। জেনি গেমেজের পালক বোন আমান্ডা দুরন বলেন, কাছের কাউকে হারালে জীবন আর আগের মতো থাকে না, সব সময় মনে হয় কোনো একটি অংশ অনুপস্থিত। অন্যদিকে লরার বোন নিকি কার্লসন জানিয়েছেন, প্রতিদিনই তিনি বোনের কথা ভাবেন এবং তাঁকে মিস করেন। তদন্তে অনলাইন পরিচয়, হোটেলের নথি, উল্কির মতো শারীরিক চিহ্ন এবং ডিএনএ প্রমাণ একত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে, একটি নিখোঁজের তদন্ত ও আরেকটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিহত অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন এবং তাঁর দুই শিশুসন্তানের স্মৃতিতে শোক পালন করছেন স্থানীয়রা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সন্তান জন্মের চার দিন আগে পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারী অ্যাঞ্জেলিনা স্টোনসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর দুই শিশুসন্তানও রয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও মারা গেছেন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলিনার সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল ঘটনার মাত্র চার দিন পর। অনাগত সন্তানটির নামও রাখা হয়েছিল কাইরি।   সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরির পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পরিবারের আটজন সদস্য এবং তাঁদের একজন পারিবারিক বন্ধু ছিলেন। অ্যাঞ্জেলিনার দুই শিশুসন্তানের নাম ইসাইয়া ও আমারি’আনা। তাদের বয়স যথাক্রমে পাঁচ বছর ও এক বছর। এ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দুই ভাই, মা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন। এ ঘটনায় একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্মের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তি পরিবারের সাতজন নিহতের আত্মীয় ছিলেন।   পরিবারটির ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিসা সিমার্স সিবিএস নিউজকে জানান, অ্যাঞ্জেলিনা তাঁর অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর দুই শিশুসন্তানও পরিবারের সবার কাছে খুব প্রিয় ছিল। সিমার্স বলেন, শিশুরা নিষ্পাপ ছিল এবং তাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে থেকেও ভেতরে কী ঘটছিল, তা বুঝতে না পারা এবং কিছু করতে না পারার অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরি নিউজ নাউকেও দেওয়া বক্তব্যে তিনি পরিবারটির প্রতি নিজের গভীর মমত্ববোধের কথা জানান।   ইরি পুলিশের প্রধান রিচার্ড লোরাহ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির দোতলায় একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি নিজেই নিজের গুলিতে মারা গেছেন।   পুলিশের প্রধান লোরাহ সংবাদ সম্মেলনে জানান, আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দুই নারীকে বাড়িটির দিকে আসতে দেখা গেছে। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা বাড়ির ভেতরে কোনো সমস্যার বিষয়ে জানতে পেরে সাহায্য চাইছিলেন। ভিডিওতে তাঁদের প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা এবং বাড়ির দরজায় আঘাত করার দৃশ্যও রয়েছে। তদন্তকারীদের পর্যালোচনা করা ভিডিও ও শব্দ ধারণ করা তথ্য অনুযায়ী, দুই নারী বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাইরে এসে তাঁদের গুলি করেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।   ইরি শহর কর্তৃপক্ষের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ পৌঁছানোর পর সেখানে আর কোনো গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পুলিশের সাড়া দিতে দেরি হয়েছিল, এমন তথ্যও নাকচ করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজন ও ঘটনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।   এদিকে অ্যাঞ্জেলিনা ও তাঁর সন্তানদের শেষকৃত্যের ব্যয় মেটাতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গোফান্ডমিতে খোলা তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, পরিবারের হাতে এই আকস্মিক ক্ষতির ব্যয় বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। শেষকৃত্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে স্থানীয় মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ওই তহবিল সংগ্রহের বিবরণে অ্যাঞ্জেলিনার ছেলে ইসাইয়া, মেয়ে আমারি’আনা এবং অনাগত সন্তান কাইরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের এই বিপর্যয়ে স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের পরিচিতজনেরা।   পেনসিলভানিয়ার এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রধান লোরাহ বলেন, কিছু ঘটনাস্থলের স্মৃতি দায়িত্ব পালন শেষে চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়। তাঁর মতে, এটি তেমনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে নিহতদের সম্পর্ক, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
শিশু লুনার মৃত্যুর পর তদন্ত শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৪ মাস বয়সী শিশুর মরদেহ, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিন থেকে চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ১৯ বছর বয়সী মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাকিয়াহ রোশেল বাবার্সের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং শিশুর মৃত্যুর কারণ হওয়া নির্যাতনের একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০ লাখ ডলার জামিনে আটক রয়েছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের আলবা স্ট্রিটের ৫২০০ ব্লকে একটি শিশুকে ডাস্টবিনের ভেতর পাওয়া যাওয়ার খবর পেয়ে নিউটন ডিভিশনের কর্মকর্তারা সেখানে যান। ঘটনাস্থলে তারা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকল বিভাগের কর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের সময় তার মরদেহ একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতরে ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি প্রথমে মৃত্যুর তদন্ত হিসেবে নেওয়া হলেও পরে পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির মা তাকিয়াহ বাবার্সকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কোনো ধরনের ঘটনার সৃষ্টি ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা শিশুটির নাম লুনা বাবার্স বলে জানিয়েছেন। তার দেখাশোনা করতেন লরা লেসি ও হারম্যান জনসন, যারা বাবার্সের পালক অভিভাবক। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রেখে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসেন এবং জানতে পারেন, কাছাকাছি একটি ডাস্টবিন থেকে একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া যায় সেটি পুয়েব্লো দেল রিও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি। স্থানীয় এক বাসিন্দা রাতে ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ভেতরে একটি কালো কাপড়ের ব্যাগ দেখতে পান। প্রথমে তিনি সেটিকে পুতুল মনে করেছিলেন। পরে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তিনি আরেক প্রতিবেশীর সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।   শিশুটির পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লরা লেসি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লুনা তার কাছে ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি শিশুটিকে বাবার্সের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার্সের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হলেও, এসব বক্তব্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরাও শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি।   ঘটনার পর দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে মোমবাতি, ফুল ও বেলুন দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা লুনার স্মরণে একটি মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের শিশু নির্যাতন তদন্তকারী ইউনিট ঘটনাটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলেছে, এ বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   ১ অক্টোবর আদালতে বাবার্সের প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি কোনো আবেদন বা জবানবন্দি দেননি। তার পরবর্তী আদালত-শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন, তাই আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, এবিসি৭

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় চার শিশুকে ট্রাকের ভেতর আটকে রেখে নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কিশা মনিক এপস ও ট্যামরা মার্শন স্টুয়ার্ট। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ছয় বছর চার শিশুকে আটকে রাখার অভিযোগ, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

ফ্লোরিডায় একটি ট্রাকের কেবিনে চার শিশুকে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও অবহেলা করার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেইশা মনিক ইপস, ৫১, এবং তামরা মার্শন স্টুয়ার্ট, ৩৭, এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ছিল ৫, ৫, ৬ ও ৯ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে একটি ট্রাকের কেবিনে রাখা হয়। ওই সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বাইরে চলাফেরার সুযোগও ছিল না।   ১ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার কিসিমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উথমেয়ার বলেন, শিশুরা এমন একটি চলন্ত কারাগারে আটকে ছিল, যেখানে তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তার দপ্তর মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করবে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইপস পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তিনি মিয়ামি ও আটলান্টার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্টুয়ার্টকে তার বাগদত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, দুজনই শিশুদের সঙ্গে ট্রাকের কেবিনে বসবাস করতেন।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের দিনের অধিকাংশ সময় ট্রাকের ভেতরেই কাটাতে হতো। কেবিনের জায়গা ছিল অত্যন্ত ছোট। চার শিশুকে একটি মাত্র শয্যায় পাশাপাশি শুতে হতো এবং জায়গার সংকটের কারণে তাদের কুঁকড়ে থাকতে হতো বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুরা প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে যেতে পারেনি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং নিয়মিত চিকিৎসা বা দাঁতের চিকিৎসাও করানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া পোড়ার ক্ষত ছিল। এর মধ্যে এক মেয়ে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, রান্না করা নুডলসের কারণে একবার সে গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। ওই সময় প্রচুর রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়নি। পরে ওই ঘটনার কারণে তার শরীরে স্থায়ী দাগ তৈরি হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এক শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া যৌনবাহিত সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে শিশুদের গুরুতর শারীরিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।   শুধু শারীরিক ও চিকিৎসাগত অবহেলাই নয়, শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তর জানিয়েছে, দুই মেয়েশিশুকে স্টুয়ার্ট বছরের পর বছর যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ছেলে ওই নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পেয়ে স্টুয়ার্টকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল। এরপর তাদের মাথায় ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।   শিশুরা ইপসকে কথিত যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিল এবং তিনি ঘটনাগুলোর কিছু প্রত্যক্ষও করেছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তিনি শিশুদের স্টুয়ার্টের সঙ্গে একা রেখে যেতেন। একজন শিশুকে তিনি অপমানজনক নামেও ডেকেছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   উথমেয়ারের দপ্তরের দাবি, স্টুয়ার্ট তদন্তকারীদের কাছে একটি মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে তিনটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।   তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, শিশুদের ট্রাকের কেবিনে এমনভাবে রাখা হতো যে তাদের নিয়মিত গোসল করা, শৌচাগার ব্যবহার করা কিংবা বাইরে গিয়ে শারীরিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজন মেটাতে কখনো কখনো তাদের কাপ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হতো।   ইপস যখন ট্রাক চালাতেন, ঘুমাতেন বা গোসল করতেন, তখন শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব স্টুয়ার্টের ওপর থাকত বলে শিশুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে বছরের পর বছর তাদের জীবন কার্যত ট্রাকের ছোট কেবিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   উথমেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দলের কাজ করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে তারা গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও তিনি জানান।   ইপস ও স্টুয়ার্টকে ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুজনই ডুভাল কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। স্টুয়ার্টের আইনগত প্রতিনিধিত্ব করছে ডুভাল কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের কার্যালয়। ইপসের পক্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার অফিস অব ক্রিমিনাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিভিল রিজিওনাল কাউন্সেল।   ফ্লোরিডার আইনে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চাইলেই তা কার্যকর হবে এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রমাণ এবং সাজা নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের দীর্ঘ সময় শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে।   সূত্র: ফক্স নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
টাম্পায় ৯৩ বছর বয়সী এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে অনুপ্রবেশের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রস। ছবি: সংগৃহীত
টাম্পায় ৯৩ বছরের নারীর বিছানার পাশে অচেনা যুবক, ৯১১ কলে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমিয়ে থাকা ৯৩ বছর বয়সী এক নারী ঘুম থেকে উঠে বিছানার পায়ের কাছে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। ঘটনাটি ঘটে ৩০ আগস্ট সকালে। পরে অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রসকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের গোয়েন্দারা।   শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ঘুম থেকে উঠে নরক্রসকে তার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি তাকে নিজের নাতি মনে করে কাছে ডাকেন। পরে বুঝতে পারেন, লোকটি তার পরিচিত কেউ নন।   ওই নারী জানান, তাকে উঠতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। তখন নরক্রস তার হাত ঘষতে শুরু করেন এবং তাকে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলেন। নারীটি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বললে তিনি পেছনের কাচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান।   তবে কিছুক্ষণ পর নরক্রস আবার ফিরে এসে সামনের দরজা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজাটি তখন লক করা ছিল। পরে তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নরক্রসকে শনাক্ত করেন।   ১ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বসবাসরত ব্যক্তিসহ বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনা ঘটলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নরক্রসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। ছবি: সংগৃহীত
তিন বছরের কম সময়ে গেল ৮ প্রাণ! কতটা নিরাপদ নিউইয়র্কের এই আলো ঝলমলে টাইমস স্কয়ার?

নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। চারপাশে থাকে পুলিশের টহল, নজরদারি ক্যামেরা ও নানা ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তারপরও গত তিন বছরের কম সময়ে টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক প্রাণঘাতী ঘটনার খবর সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে যাচাই করা ঘটনাগুলোর হিসাবে এ সময়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।   ২০২৪ সালে প্রাণঘাতী তিনটি ঘটনা ঘটে। পশ্চিম ৪৩তম সড়কের কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনে ছুরিকাঘাতে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই বছর টাইমস স্কয়ারের কাছাকাছি এক সহকর্মীর ঘুষিতে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ট্যাক্সি বিভাগের কর্মী এফরেইন পাতিনো গুয়েরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে টাইমস স্কয়ারের একটি হোটেলের সামনে হামলার শিকার ২৩ বছর বয়সী লেসলি টোরেসও মারা যান।   ২০২৫ সালে ৪৫ টাইমস স্কয়ার হোটেল থেকে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী এমানুয়েল ভেলেজের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। একই বছরের নভেম্বরে পশ্চিম ৪৯তম সড়ক ও সপ্তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২৩ বছর বয়সী ডেভন সিলভাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হলে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই বছর টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন, তবে তারা প্রাণে বেঁচে যান।   ২০২৬ সালের মে মাসে টাইমস স্কয়ারের ৪৩তম সড়কে ছুরিকাঘাতে মারা যান ৩৯ বছর বয়সী লিওনিদাস বায়েজ। আর সর্বশেষ ৩১ আগস্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক অব আমেরিকার সহসভাপতি এরিন পিয়াচেন্তি। একই ঘটনায় একজন ৬৮ বছর বয়সী ব্যক্তি আহত হন। পরে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন পামেলা সিসনেরোসও নিহত হন।   ফলে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা এসব প্রাণঘাতী ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাবে হামলার শিকার ব্যক্তি, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন সবাই অন্তর্ভুক্ত।   তবে এটি টাইমস স্কয়ারের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো সরকারি মোট হিসাব নয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সাধারণত বৃহত্তর এলাকার ভিত্তিতে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাই এই সংখ্যা প্রকাশ্যে যাচাই করা টাইমস স্কয়ার ও সংলগ্ন এলাকার প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর সমন্বিত হিসাব।   বিশ্বের আলো ঝলমলে এই পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়, পুলিশি উপস্থিতি ও ব্যাপক নজরদারির মধ্যেও বারবার প্রাণঘাতী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, টাইমস স্কয়ার আসলে কতটা নিরাপদ?

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের পর ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত

নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। হামলার পর ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী আরেক নারীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেলে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ৪১ থেকে ৪৩ স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।    নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী কুইন্সের বাসিন্দা পামেলা সিসনেরোস। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে তিনি সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।    দুই আহত ব্যক্তিকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৩২ বছর বয়সী নারী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী পুরুষের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ছুরিকাঘাতের পর সিসনেরোস উত্তর দিকে গিয়ে টাইমস স্কয়ারের কাছে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একটি সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাকে ছুরি ফেলে দিতে বারবার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টেজারও ব্যবহার করে। তবে এতে তিনি থামেননি এবং ছুরি হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    গুলিতে গুরুতর আহত সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা বলে মনে হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।    ঘটনার পর তদন্তের জন্য টাইমস স্কয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউর কয়েকটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।    টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা এবং ওয়ান টাইমস স্কয়ারের পাশেই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সমাগম হয়। ফলে ব্যস্ত এই এলাকায় এমন সহিংস ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাডেলিন ডেলি ও তার ১১ মাস বয়সী শিশু বাসিল স্টোনার। ছবি: সংগৃহীত
বাবার হেফাজতে সন্তানকে দিতে অস্বীকৃতি, ১১ মাসের ছেলেকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে গুলি করে হত্যা করেছেন ৩৬ বছর বয়সী এক নারী। শিশুটির বাবার কাছে যেন কোনোভাবেই তার সন্তানের কাস্টডি বা হেফাজত না যায়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই ভয়ংকর পথ বেছে নেন। সম্প্রতি আদালতে দোষ স্বীকার করার পর ওই নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুলিশি জেরার মুখে ওই পাষণ্ড মা জানিয়েছেন, তার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সার্থক মনে হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাউবয় স্টেট ডেইলি ও পুলিশের একটি এফিডেভিট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই মায়ের নাম ম্যাডেলিন ভেরোনিক ডেলি। তার ১১ মাস বয়সী সন্তানের নাম ছিল বাসিল স্টোনার। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর। তবে সম্প্রতি ম্যাডেলিন আদালতে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের দায় স্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে ওয়াইওমিং থেকে অপহরণ করে নিউ মেক্সিকোতে নিয়ে এসেছিলেন ম্যাডেলিন। আদালত এর আগে শিশুটির বাবা জেক স্টোনারকে জরুরি ভিত্তিতে সন্তানকে নিজের কাছে রাখার অধিকার দিয়েছিলেন। জেক পুলিশকে জানান, তিনি সবশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার ছেলেকে দেখেছিলেন।   অপহরণের পর থেকেই ম্যাডেলিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। অবশেষে নিউ মেক্সিকোর সিলভার সিটির কাছে একটি চাকরির জন্য আবেদন করলে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে তার নামে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সামনে আসে। এর সূত্র ধরেই গ্রান্ট কাউন্টি শেরিফ অফিস ২৩ ডিসেম্বর একটি আরভি বা রিক্রিয়েশনাল ভেহিকেল পার্কের সন্ধান পায়, যেখানে ম্যাডেলিন আত্মগোপন করে ছিলেন।   পুলিশ সেখানে পৌঁছালে ম্যাডেলিনকে দৌড়ে একটি আরভির ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশের জন্য পরোয়ানার অপেক্ষায় থাকার সময় পুলিশ পুরো আরভিটি ঘিরে ফেলে। ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। কর্মকর্তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ম্যাডেলিন একটি নাইন এমএম হ্যান্ডগান দিয়ে শিশু বাসিলকে গুলি করে হত্যা করেছেন। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, সন্তানকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়।   পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ম্যাডেলিন জানান, তিনি তার ছেলেকে নিরাপদ রাখতেই এমনটি করেছেন। শিশুটির বাবা ও তার পরিবার যেন কখনোই শিশুটিকে দেখতে না পায়, সে জন্য এই হত্যা তার কাছে সার্থক মনে হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই চাইছিলেন না তার শিশু সন্তান মাসে দুবার নেব্রাস্কা ও ওয়াইওমিংয়ের মধ্যে টানাটানির শিকার হোক।   পুলিশ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে দেখে তার মনে কী চলছিল, তখন তিনি সোজাসাপ্টা উত্তর দেন, জেক যেন বাসিলকে না পায়। ম্যাডেলিন আরও কিছু ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তিনি শিশুটিকে নিয়ে ট্রেইলার থেকে বের হলে শিশুটি বিপদে পড়ত। তার দাবি, শিশুটির বাবা আর্থিকভাবে, শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কখনোই ছেলের কোনো দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার এসব দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   বর্তমানে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউটররা আশা করছেন, নিজ সন্তানকে হত্যার দায়ে ম্যাডেলিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
স্টিভেন প্ল্যাডল ও কেটি প্ল্যাডল। বাবা-মেয়ের পুনর্মিলনের পর তাদের সম্পর্ক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে গড়ায়। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মেয়েকেই বিয়ে করেছিলেন বাবা, পরে মেয়েসহ তাদের শিশুসন্তানকে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে দত্তক পরিবারের কাছে বড় হয়ে ওঠা এক তরুণীর সঙ্গে তার জন্মদাতা বাবার পুনর্মিলনের পর ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। জন্মদাতা বাবার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করেন তরুণী। পরে তাদের একটি সন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই বাবা নিজের মেয়েকে, তাদের শিশুসন্তানকে এবং মেয়েটির দত্তক বাবাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন।   ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনা, কানেকটিকাট ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে। নিহত তরুণীর নাম কেটি প্ল্যাডল। তার জন্মদাতা বাবা স্টিভেন প্ল্যাডল। তাদের সাত মাস বয়সী ছেলে বেনেট প্ল্যাডলও ওই ঘটনায় নিহত হয়। কেটির দত্তক বাবা অ্যান্থনি ফুসকোও গুলিতে নিহত হন। পরে স্টিভেন নিউইয়র্কের ডোভার এলাকায় আত্মহত্যা করেন। সে সময় কেটির বয়স ছিল ২০ বছর। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তিন অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চালায়।   ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। ১৯৯৫ সালে ২০ বছর বয়সী স্টিভেন অনলাইনে ১৫ বছর বয়সী অ্যালিসার সঙ্গে পরিচিত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যালিসা গর্ভবতী হন এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় ডেনিস। মাত্র আট মাস বয়সে তাকে দত্তক দেওয়া হয়। পরে টনি ও কেলি ফুসকো শিশুটিকে দত্তক নিয়ে তার নাম রাখেন কেটি। নিউইয়র্কের কাছাকাছি ডোভার এলাকায় কেটি দত্তক পরিবারের সঙ্গে বড় হতে থাকেন।   প্রায় ১৮ বছর পর কেটি তার জন্মদাতা বাবা-মাকে খুঁজে বের করেন। ২০১৬ সালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি ভার্জিনিয়ায় প্ল্যাডল পরিবারের কাছে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। শুরুতে এটি ছিল দীর্ঘদিন পর বাবা-মেয়ের পুনর্মিলন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের পরিস্থিতি বদলে যায়। কেটির জন্মদাতা মা অ্যালিসার বর্ণনা অনুযায়ী, স্টিভেনের আচরণ ধীরে ধীরে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। কেটি পরিবারের সঙ্গে থাকার কয়েক সপ্তাহ পর স্টিভেন তার ঘরে মেঝেতে ঘুমাতে শুরু করেন। অ্যালিসা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শেষ পর্যন্ত অ্যালিসা ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।   ২০১৭ সালের মে মাসে অ্যালিসা জানতে পারেন, কেটি গর্ভবতী এবং শিশুটির বাবা স্টিভেন। পরিবারের ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের ডায়েরি থেকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন বলে পরবর্তী সময়ে অ্যালিসা জানান। এরপর তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। এর মধ্যেই কেটি ও স্টিভেন তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পর্যায়ে নিয়ে যান। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই মেরিল্যান্ডের পার্কটনে তারা বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়ের আবেদনপত্রে তারা নিজেদের পরস্পরের আত্মীয় নন বলে তথ্য দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের বাবা-মেয়ের সম্পর্ক গোপন করেছিলেন।   কেটি ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় বেনেট। পরে কেটি ও স্টিভেন উত্তর ক্যারোলাইনার নাইটডেলে বসবাস শুরু করেন। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ায়নি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কেটি ও স্টিভেনকে অজাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেন। তাদের শিশুসন্তান বেনেটকে স্টিভেনের মায়ের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। কেটি ফিরে যান তার দত্তক বাবা-মায়ের কাছে।   স্টিভেনের আইনজীবী সে সময় দাবি করেছিলেন, তার মক্কেলকে কেটির সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করার কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আইনগত তদন্ত চলছিল এবং আদালতের নির্দেশে তাদের আলাদা থাকতে হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে কেটি ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল সকালে উত্তর ক্যারোলাইনার নাইটডেলে পুলিশ একটি বাড়িতে গিয়ে সাত মাস বয়সী বেনেটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। স্টিভেনের মা এর আগে জরুরি নম্বরে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তার ছেলে শিশুটিকে হত্যা করার কথা বলেছেন।   এরপর একই দিন কানেকটিকাটের নিউ মিলফোর্ডে একটি গাড়ির ভেতর কেটি ও তার দত্তক বাবা অ্যান্থনি ফুসকোর মরদেহ পাওয়া যায়। অ্যান্থনির বয়স ছিল ৫৬ বছর। পুলিশ জানায়, দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির শব্দ শোনার কথা জানান। তদন্তে উঠে আসে, কেটি ও অ্যান্থনি যখন ডোভার থেকে কানেকটিকাটের ওয়াটারবেরির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন স্টিভেন তাদের গতিবিধি নজরে রাখছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজেও কাছাকাছি এলাকায় তার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর নিউ মিলফোর্ডে তাদের গাড়ির কাছে গুলির ঘটনা ঘটে।   হত্যাকাণ্ডের পর স্টিভেন নিউইয়র্কের ডোভার এলাকায় পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। একটি গাড়ির ভেতর তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তিনি নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন। এভাবে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চারজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটি ও স্টিভেনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই হত্যাকাণ্ডের আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ছিল। স্টিভেনের মা জরুরি নম্বরে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, কেটি সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ায় তার ছেলে ক্ষুব্ধ ছিল। পরে স্টিভেন তার কাছে কেটি, শিশুসন্তান ও অ্যান্থনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে পুলিশকে জানানো হয়।   স্টিভেনের বিরুদ্ধে চলমান অজাচার মামলাটি অবশ্য তার মৃত্যুর কারণে বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। পরবর্তী নথি ও প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ঘটনার পর কেটির জন্মদাতা মা অ্যালিসা প্ল্যাডল বলেন, তিনি এই ঘটনার মধ্যেও মানুষকে অজাচার ও এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে চান। তার কাছে ঘটনাটি ছিল বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সঙ্গে একটি আনন্দের পুনর্মিলন থেকে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হওয়ার গল্প।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় থাকা এই দম্পতির দুই ছোট শিশু ঘটনার সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাদের দুই শিশু সন্তান বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের তল্লাশির সময় অভিযুক্ত স্বামীর শার্টে লেগে থাকা বিশাল রক্তের দাগ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্যারেজে রাখা একটি গাড়ির ডিকি থেকে স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে জেক বিগনি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ। ওইদিন সকালে তার স্ত্রী এলিয়ানা বিগনি এক বান্ধবীর সঙ্গে সকালের নাশতা করার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। জেকের অতীতের সহিংস আচরণের কথা বিবেচনা করে ওই বান্ধবী এলিয়ানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ জেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হলফনামা থেকে জানা যায়, জেক যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলেন, তখন তার শার্টে বিশাল একটি রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘর পরিষ্কার করার সময় এই দাগ লেগেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানান, এলিয়ানা ওইদিন সকালে এসেছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পর চলেও গেছেন।   তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা ভেতরে তল্লাশি চালান। সে সময় অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের ছিটে দেখতে পান তারা। এরপর ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গ্যারেজে রাখা একটি সাদা হুন্দাই গাড়ির ডিকি থেকে এলিয়ানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, এলিয়ানা মূলত তার সন্তানদের নিতেই ওইদিন জেকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। কলিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার এখনো তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করেননি।   লোমহর্ষক এই ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক ৩০ মিনিট আগে জেক তার মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, "তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। সে মারা গেছে।" জেক তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, "আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং সে মারা গেছে।" এই কথা শোনার পরই আতঙ্কিত হয়ে তার মা পুলিশে খবর দেন।   বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কারণে এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। মাত্র এক বছর আগে জেকের চাকরির সুবাদে তারা সপরিবারে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ২ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান ওই অ্যাপার্টমেন্টেই ছিল। তবে তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   প্ল্যানো পুলিশের কর্মকর্তা জেরি মিনটন ফক্স৪-কে বলেন, "এমন একটি জঘন্য অপরাধের সময় ওই দুই শিশু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা ঠিক কী দেখেছে বা দেখেনি, তা নিয়ে আমি এখন কোনো অনুমান করতে চাই না, তবে তারা সেখানে ছিল।"   কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেক বিগনিকে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
১৫ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওবেদ রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাশের অ্যাপার্টমেন্টের দেয়াল ভেঙে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঘরে ঢুকে হামলার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হামলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় এবং একাধিকবার আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় ঘরে ৫ ও ৭ বছর বয়সী আরও দুই শিশু ছিল।   গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবেদ রেয়েস। ৫ আগস্ট রাতে জর্জিয়ার গেইনসভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। গেইনসভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রেয়েস তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টের একটি আলমারির পাশের দেয়ালে বড় একটি গর্ত করে পাশের ইউনিটে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি কিশোরীর ওপর হামলা চালান।   পুলিশের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট ও পিপল জানিয়েছে, রেয়েস যে দেয়াল ভেঙেছিলেন সেটি দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে ছিল। দেয়ালটি ভেঙে তিনি পাশের ইউনিটের একটি আলমারিতে ঢোকেন। ওই সময় কিশোরী সেখানে দুই ছোট শিশুর সঙ্গে ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর রেয়েস কিশোরীকে ধরে ফেলেন এবং তাকে একাধিকবার ঘুষি মারেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। কিশোরী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে একপর্যায়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে ভবনের বাইরের চলাচলের পথে চলে আসতে সক্ষম হয়।   তবে পুলিশ বলছে, রেয়েস তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ রাত ১০টার কিছু আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা চলমান অবস্থায় রেয়েসকে দেখতে পায়। পরে কর্মকর্তারা তাকে কিশোরীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন।   ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝের দেয়ালে তৈরি হওয়া বড় গর্তের ছবিও প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে পাশের ইউনিটে প্রবেশের পথ তৈরি হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গর্ত ব্যবহার করেই রেয়েস পাশের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে।   এ ঘটনায় রেয়েসের বিরুদ্ধে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশ, গুরুতর হামলা, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণ এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। তবে তার অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, রেয়েসকে হল কাউন্টি কারাগারে কোনো জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এবং মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে।   গেইনসভিল পুলিশ প্রধান জে প্যারিশ ঘটনায় দ্রুত ৯১১-এ ফোন করা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আশপাশের মানুষের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণেই পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও ক্ষতি ঠেকাতে পেরেছে। পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘কিছু দেখলে জানানো’ ধরনের নাগরিক সচেতনতা একটি কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরী এই ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে পারে। পুলিশ প্রধান তার প্রতি কমিউনিটির সমর্থন কামনা করেছেন।   ঘটনাটি গেইনসভিলে আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেশী ইউনিটের মধ্যে থাকা দেয়াল ভেঙে একজন ব্যক্তি অন্য অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেয়ালটি কীভাবে ভাঙা হয়েছিল এবং ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি।   পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রেয়েসকে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির সমারভিলে বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন।   তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।   নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
বাবা-মাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৯ বছর বয়সী ইউলিসেস সারভিন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মা-বাবাকেই গুলি করে হত্যা করল ১৯ বছরের ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পুটনাম কাউন্টিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের বাবা-মাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি শুক্রবার রাতে সাটসুমা এলাকার একটি বাড়ির সামনে ঘটে।   পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ১৬ মিনিটে মুসকেট ড্রাইভের একটি বাড়ি থেকে জরুরি ফোনকল আসে। ফোনকারী জানান, এক ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন। পরে আরেকটি ফোনকলে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার খবর পাওয়া যায়।   ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির বাইরে ১৯ বছর বয়সী ইউলিসেস সারভিনকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি ছোট শিশুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি অস্ত্রটি ফেলে দেন। এরপর শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে সারভিনকে আটক করা হয়।   পরে বাড়ির বাইরে আলাদা দুটি স্থানে সারভিনের বাবা ও মাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ৫১ বছর বয়সী মিগুয়েল সারভিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৪৭ বছর বয়সী সিসিলিয়া সারভিন।   তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, সারভিন, তার বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে একটি তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির ভেতরে থাকা আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যান।   পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সারভিনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যার অভিযোগ, ভবন বা যানবাহনের দিকে গুলি ছোড়ার দুটি অভিযোগ, গুরুতর হামলার তিনটি অভিযোগ এবং শিশুকে অবহেলার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুটনাম কাউন্টি কারাগারে বিচারপূর্ব আটক রয়েছেন। আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেনি।   তবে তদন্ত এখনো চলমান। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি তিনি কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। নিহত দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রেপ্তারের সময় সারভিনের সঙ্গে থাকা শিশুটির বয়স বা পরিচয় প্রকাশ করেনি। এছাড়া ঘটনাস্থলে আরও শিশু ছিল কি না বা থাকলে তাদের অবস্থা কী সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রবীণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণা চক্রের অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বয়স্কদের টার্গেট করে ২২ লাখ ডলারের প্রতারণা, ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তার ৩ চীনা নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অন্তত ২২ লাখ ডলারের একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো।   ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি গ্রেগরি কিহো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইয়ংবো লি, হুয়াশান লু এবং ইউশিয়াং ঝাওকে ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের (Conspiracy to Commit Mail Fraud) অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না। তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বৈত নাগরিক বলে জানিয়েছেন গ্রেগরি কিহো।   ৬৭ পৃষ্ঠার ফৌজদারি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইয়ংবো লির নেতৃত্বে এই চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্যের প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে বাধ্য করা হতো। সেই অর্থ পরবর্তীতে চীন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাহরাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।   এ মামলায় আরও তিনজন লিং ওয়াং, শৌশিন লুও এবং শিয়াওওয়েই লিন এখনও পলাতক। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, তারা বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।   অভিযোগপত্রে এখন পর্যন্ত ২৮ জন ভুক্তভোগীর নাম রয়েছে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই নতুন ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলছে এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন ভুক্তভোগী একাই প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, মোট প্রতারণার অর্থ অন্তত ২২ লাখ ডলার।   গ্রেগরি কিহো বলেন, এই অর্থের বড় অংশই উদ্ধার করা কঠিন হবে। কারণ অর্থ বিভিন্ন দেশের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জুন মাসে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক প্রবীণ নারী অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলে অরল্যান্ডো পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরে অরল্যান্ডো পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালায়।   তদন্তে অভিযুক্তদের একজনের নামে অরল্যান্ডোর একটি ইউপিএস স্টোরে নিবন্ধিত পোস্ট অফিস বক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে নজরদারির মাধ্যমে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের অরল্যান্ডোর একটি ব্যাংকে যাতায়াত করতে দেখেন এবং সেখান থেকে তদন্ত আরও এগিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেগরি কিহো বলেন, প্রতারণার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রতারণা ঘটবে, সেখানেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তির অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত অভিযোগ জানানো। কারণ অর্থ একবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।   অরল্যান্ডো পুলিশের প্রধান এরিক স্মিথও জনগণকে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা সন্দেহজনক কোনো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, তাহলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।   মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি কবে থেকে সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০