নিজের মেয়েকেই বিয়ে করেছিলেন বাবা, পরে মেয়েসহ তাদের শিশুসন্তানকে হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রে দত্তক পরিবারের কাছে বড় হয়ে ওঠা এক তরুণীর সঙ্গে তার জন্মদাতা বাবার পুনর্মিলনের পর ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। জন্মদাতা বাবার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করেন তরুণী। পরে তাদের একটি সন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই বাবা নিজের মেয়েকে, তাদের শিশুসন্তানকে এবং মেয়েটির দত্তক বাবাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনা, কানেকটিকাট ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে। নিহত তরুণীর নাম কেটি প্ল্যাডল। তার জন্মদাতা বাবা স্টিভেন প্ল্যাডল। তাদের সাত মাস বয়সী ছেলে বেনেট প্ল্যাডলও ওই ঘটনায় নিহত হয়। কেটির দত্তক বাবা অ্যান্থনি ফুসকোও গুলিতে নিহত হন। পরে স্টিভেন নিউইয়র্কের ডোভার এলাকায় আত্মহত্যা করেন। সে সময় কেটির বয়স ছিল ২০ বছর। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তিন অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চালায়।
ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। ১৯৯৫ সালে ২০ বছর বয়সী স্টিভেন অনলাইনে ১৫ বছর বয়সী অ্যালিসার সঙ্গে পরিচিত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যালিসা গর্ভবতী হন এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় ডেনিস। মাত্র আট মাস বয়সে তাকে দত্তক দেওয়া হয়। পরে টনি ও কেলি ফুসকো শিশুটিকে দত্তক নিয়ে তার নাম রাখেন কেটি। নিউইয়র্কের কাছাকাছি ডোভার এলাকায় কেটি দত্তক পরিবারের সঙ্গে বড় হতে থাকেন।
প্রায় ১৮ বছর পর কেটি তার জন্মদাতা বাবা-মাকে খুঁজে বের করেন। ২০১৬ সালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি ভার্জিনিয়ায় প্ল্যাডল পরিবারের কাছে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। শুরুতে এটি ছিল দীর্ঘদিন পর বাবা-মেয়ের পুনর্মিলন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের পরিস্থিতি বদলে যায়।
কেটির জন্মদাতা মা অ্যালিসার বর্ণনা অনুযায়ী, স্টিভেনের আচরণ ধীরে ধীরে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। কেটি পরিবারের সঙ্গে থাকার কয়েক সপ্তাহ পর স্টিভেন তার ঘরে মেঝেতে ঘুমাতে শুরু করেন। অ্যালিসা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শেষ পর্যন্ত অ্যালিসা ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
২০১৭ সালের মে মাসে অ্যালিসা জানতে পারেন, কেটি গর্ভবতী এবং শিশুটির বাবা স্টিভেন। পরিবারের ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের ডায়েরি থেকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন বলে পরবর্তী সময়ে অ্যালিসা জানান। এরপর তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান।
এর মধ্যেই কেটি ও স্টিভেন তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পর্যায়ে নিয়ে যান। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই মেরিল্যান্ডের পার্কটনে তারা বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়ের আবেদনপত্রে তারা নিজেদের পরস্পরের আত্মীয় নন বলে তথ্য দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের বাবা-মেয়ের সম্পর্ক গোপন করেছিলেন।
কেটি ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় বেনেট। পরে কেটি ও স্টিভেন উত্তর ক্যারোলাইনার নাইটডেলে বসবাস শুরু করেন।
তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ায়নি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কেটি ও স্টিভেনকে অজাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেন। তাদের শিশুসন্তান বেনেটকে স্টিভেনের মায়ের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। কেটি ফিরে যান তার দত্তক বাবা-মায়ের কাছে।
স্টিভেনের আইনজীবী সে সময় দাবি করেছিলেন, তার মক্কেলকে কেটির সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করার কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আইনগত তদন্ত চলছিল এবং আদালতের নির্দেশে তাদের আলাদা থাকতে হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে কেটি ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়।
২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল সকালে উত্তর ক্যারোলাইনার নাইটডেলে পুলিশ একটি বাড়িতে গিয়ে সাত মাস বয়সী বেনেটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। স্টিভেনের মা এর আগে জরুরি নম্বরে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তার ছেলে শিশুটিকে হত্যা করার কথা বলেছেন।
এরপর একই দিন কানেকটিকাটের নিউ মিলফোর্ডে একটি গাড়ির ভেতর কেটি ও তার দত্তক বাবা অ্যান্থনি ফুসকোর মরদেহ পাওয়া যায়। অ্যান্থনির বয়স ছিল ৫৬ বছর। পুলিশ জানায়, দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির শব্দ শোনার কথা জানান।
তদন্তে উঠে আসে, কেটি ও অ্যান্থনি যখন ডোভার থেকে কানেকটিকাটের ওয়াটারবেরির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন স্টিভেন তাদের গতিবিধি নজরে রাখছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজেও কাছাকাছি এলাকায় তার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর নিউ মিলফোর্ডে তাদের গাড়ির কাছে গুলির ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পর স্টিভেন নিউইয়র্কের ডোভার এলাকায় পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। একটি গাড়ির ভেতর তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তিনি নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন। এভাবে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চারজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটি ও স্টিভেনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই হত্যাকাণ্ডের আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ছিল। স্টিভেনের মা জরুরি নম্বরে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, কেটি সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ায় তার ছেলে ক্ষুব্ধ ছিল। পরে স্টিভেন তার কাছে কেটি, শিশুসন্তান ও অ্যান্থনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে পুলিশকে জানানো হয়।
স্টিভেনের বিরুদ্ধে চলমান অজাচার মামলাটি অবশ্য তার মৃত্যুর কারণে বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। পরবর্তী নথি ও প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনার পর কেটির জন্মদাতা মা অ্যালিসা প্ল্যাডল বলেন, তিনি এই ঘটনার মধ্যেও মানুষকে অজাচার ও এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে চান। তার কাছে ঘটনাটি ছিল বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সঙ্গে একটি আনন্দের পুনর্মিলন থেকে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হওয়ার গল্প।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশের পরিচিত শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্নেকহেড’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এই মাছ কিনে বা মাছ ধরে খেয়ে থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নেকহেড মাছ খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আসলে যুক্তরাষ্ট্রে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়া কি নিষিদ্ধ, নাকি বিষয়টি অন্য কিছু? সরকারি তথ্য বলছে, বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে খাবার হিসেবে মাছটি এবং জীবিত স্নেকহেড মাছ নিয়ে পরিবেশগত আইনকে আলাদা করে দেখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএর সিফুড তালিকায় বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। এ মাছের গ্রহণযোগ্য বাজারজাত নাম হিসেবে ‘Channa’ ও ‘Snakehead’ উল্লেখ রয়েছে। একই তালিকায় ‘Shoil’ নামটিও এই প্রজাতির সঙ্গে পরিচিত নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের শোল মাছ এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত স্নেকহেডের মধ্যে সরাসরি প্রজাতিগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে ‘স্নেকহেড’ একটি সাধারণ নাম, এর অধীনে একাধিক প্রজাতির মাছ রয়েছে। যেমন Northern Snakehead-এর বৈজ্ঞানিক নাম Channa argus, আর বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। তাই কোনো স্নেকহেড মাছ দেখেই সেটিকে বাংলাদেশের শোল মাছ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছের প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্নেকহেড মাছ কি যুক্তরাষ্ট্রে খাওয়া নিষিদ্ধ? এফডিএর বর্তমান সিফুড তালিকায় Channa striata খাবার হিসেবে বাজারজাত হওয়া মাছের তালিকায় রয়েছে। তাই ‘যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ এমন সাধারণ দাবি সরকারি তথ্যের সঙ্গে মেলে না। তবে স্নেকহেড মাছের ক্ষেত্রে খাবারের নিরাপত্তা এবং জীবিত মাছ নিয়ে পরিবেশগত নিয়ম আলাদা বিষয়। স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ অবস্থায় না খাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মিঠাপানির মাছের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নির্দিষ্ট পরজীবী পাওয়া যায়, সেখানকার মিঠাপানির মাছ কাঁচা বা কম রান্না করে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মাছের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রান্না করা নিরাপদ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। শুধু লবণ দেওয়া, ধোঁয়ায় শুকানো বা আচার করার মতো পদ্ধতিকে পরজীবী ধ্বংসের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা উচিত নয়। ফলে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালোভাবে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয়। আর যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেরাই মাছ ধরে খান, তাদের জন্য আরও একটি বিষয় জানা জরুরি। মাছটি কোন জলাশয় থেকে ধরা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা বলছে, বিভিন্ন হ্রদ ও নদীর মাছের মধ্যে পারদ ও পিসিবির মতো দূষক থাকতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে ধরা মাছ খাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার বিষয়ে কোনো সরকারি সতর্কতা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। জর্জিয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস বলছে, রাজ্যে স্নেকহেড মাছের যেকোনো প্রজাতি আমদানি, পরিবহন, বিক্রি, হস্তান্তর বা নিজের কাছে রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণী লাইসেন্সের নিয়ম রয়েছে। তাই কেউ মাছ ধরে ফেললে সেটিকে অন্য কোথাও জীবিত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া বা স্থানান্তর করার আগে রাজ্যের নিয়ম জানা জরুরি। এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য মাছটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা, খাবার হিসেবে মাছটি বিষাক্ত—এমন ঘোষণা নয়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘স্নেকহেড মাছ খাওয়া যায় না’ ধরনের সরল দাবি দিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড নামে পরিচিত এবং এফডিএর সিফুড তালিকায় Channa striata রয়েছে। তবে মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ না খাওয়া, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা এবং নিজে মাছ ধরলে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার সরকারি সতর্কতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মূল সতর্কতাটি তাই আতঙ্কের নয়, সচেতনতার। শোল মাছ খাওয়ার আগে মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়াই নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নিজে ধরা মিঠাপানির মাছের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারি মাছ খাওয়ার পরামর্শও বিবেচনায় রাখা উচিত।
খাওয়া-ঘোরা আর সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার চাকরি, ১০ দিনেই মিলবে ১০ হাজার ডলার
সোশ্যাল সিকিউরিটির নতুন আপডেট আসছে অক্টোবরে, ভাতার সঙ্গে বদলাবে আয়ের লিমিটও
চীনে ৩০ কোটি ডলারের এআই সার্ভার পাচারে ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ওই দুই ব্যক্তি নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাঁদের বি রু দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য শুক্রবারও নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এরপর তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য এক নয়। এর আগে ইরানকে বহিষ্কারের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে দেশটির মিশন জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক ছেড়েছে। আনাদোলুর ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ইরানি মিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সফরের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। তবে ইরানি মিশনের ওই বক্তব্য ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগের প্রস্থান নিয়ে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র যে দুই সদস্যকে নিয়ে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি সেই আগের ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদলকে কঠোর বিধিনিষেধসহ ভিসা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। তবে আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সেখানে থেকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, চলমান সং ঘা তের অবসান এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর মতো বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে। এদিকে, এই ঘটনাকে জাতিসংঘ থেকে ইরানের সদস্যপদ বাতিল কিংবা দেশটির স্থায়ী মিশন বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ এবং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দেশত্যাগের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কুলে এনার্জি ড্রিংক খেয়ে ছেলের মৃ ত্যু, অন্য বাবা-মাকে সতর্ক করতে কাজ করছেন পরিবার
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ১২ বছর, অবশেষে মিলল ৬ ক্যারেটের বিশাল হীরা!
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে আইটি সাপোর্ট, সাইবারসিকিউরিটি, ফ্লেবোটমি, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কমার্শিয়াল ড্রাইভিং ও ডেটা অ্যানালিটিকসের প্রশিক্ষণ বিবেচনা করতে পারেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। এসবের কিছু কোর্স কয়েক মাসে শেষ করা যায় এবং কিছু চাকরিতে কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোর্স শেষ করলেই তিন মাসের মধ্যে চাকরি বা মাসে চার হাজার ডলার আয় নিশ্চিত হয় না। কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা, পেশাগত সার্টিফিকেশন এবং নিয়োগদাতার শর্ত আলাদা করে বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রথম বিকল্প গুগলের আইটি সাপোর্ট ও সাইবারসিকিউরিটি সার্টিফিকেট। এগুলো দুটি আলাদা প্রশিক্ষণ। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেক ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট নিজের সুবিধামতো পড়াশোনা করে তিন থেকে ছয় মাসে শেষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কোর্সের সাবস্ক্রিপশন খরচ মাসে ৪৯ ডলার। ফলে মোট খরচ নির্ভর করে শিক্ষার্থী কত সময়ে কোর্স শেষ করছেন তার ওপর। অনলাইনে পড়ার সুবিধা থাকলেও চাকরির প্রস্তুতির জন্য শেখা বিষয় অনুশীলন এবং সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগশর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইটি সাপোর্টের সব চাকরিতে কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিএলএস। তবে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হয় এবং পদভেদে যোগ্যতা বদলায়। কোর্সে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া ভর্তি হওয়া সম্ভব হলেও চাকরিতে অভিজ্ঞতা চাওয়া হতে পারে। বিএলএসের ২০২৫ সালের পেশাগত যোগ্যতাসংক্রান্ত তথ্যে কম্পিউটার ইউজার সাপোর্টের ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ চাকরিতে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। তাই একটি সার্টিফিকেট পেলেই নির্দিষ্ট বেতনের চাকরি পাওয়া যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। দ্বিতীয় বিকল্প ফ্লেবোটমি প্রশিক্ষণ। এই পেশায় রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব, রক্তদান কেন্দ্র ও চিকিৎসকের অফিসে ফ্লেবোটমিস্টরা কাজ করেন। বিএলএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের মে মাসে এই পেশায় জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৪৫ হাজার ২৩০ ডলার। এটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া প্রত্যেক কর্মীর শুরুর বেতন নয়। প্রশিক্ষণের সময় ও ফি প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়। ভর্তির আগে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগদাতার গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেশনের সুযোগ আছে কি না, তা জানতে হবে। তৃতীয় বিকল্প সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ। নিউইয়র্কে নার্সিং হোমের নার্স এইড প্রশিক্ষণে ক্লাসরুম ও ক্লিনিক্যাল অংশ মিলিয়ে অন্তত ১০০ ঘণ্টা থাকতে হয়। অনুমোদিত প্রশিক্ষণ শেষ করার পাশাপাশি নির্ধারিত দক্ষতা পরীক্ষা এবং লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাই শুধু অনলাইন কোর্স শেষ করাকে সিএনএ হিসেবে কাজের পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন মনে করা যাবে না। বিএলএসের হিসাবে, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্টদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। সিএনএ প্রশিক্ষণ রোগীর সেবায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি পথ। তবে এটি শেষ করলেই রেজিস্টার্ড নার্স বা আরএন হওয়া যায় না। আরএন হওয়ার শিক্ষা ও লাইসেন্সের শর্ত আলাদা। একইভাবে হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে চাকরি নিশ্চিত, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়াও সঠিক নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সার্টিফিকেশন ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। চতুর্থ বিকল্প কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএলের প্রস্তুতি। ট্রাক বা বাসের ধরন অনুযায়ী লাইসেন্সের শ্রেণি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ভিন্ন হয়। নিউইয়র্কের ডিএমভির নির্দেশনায় কমার্শিয়াল লার্নার পারমিট নেওয়া, যোগ্য চালকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন এবং রোড টেস্টের ধাপ রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রোড টেস্টের আগে এন্ট্রি লেভেল ড্রাইভার ট্রেনিংও সম্পন্ন করতে হয়। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্সের সনদ পাওয়া এবং ডিএমভির সিডিএল পাওয়া একই বিষয় নয়। বিএলএসের হিসাবে, ভারী ট্রাক ও ট্র্যাক্টর ট্রেইলার চালকদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। তবে কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতা অনুযায়ী আয় বদলায়। সিডিএল থাকলেই এমটিএ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হয় না। লাইসেন্সের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ার শর্তও পূরণ করতে হয়। পঞ্চম বিকল্প গুগল ডেটা অ্যানালিটিকস সার্টিফিকেট। এটি ডেটা নিয়ে কাজের প্রাথমিক প্রস্তুতির একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ। গুগলের ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট কর্মসূচির অন্যান্য কোর্সের মতো এটিও নমনীয় সময়ে পড়া যায়। তবে সার্টিফিকেট অর্জন এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের ডেটা অ্যানালিস্ট পদে নির্বাচিত হওয়া আলাদা ধাপ। আবেদন করার আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া শিক্ষা, সফটওয়্যার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মিলিয়ে নিতে হবে। যে প্রশিক্ষণই বেছে নেওয়া হোক, ভর্তির আগে মোট ফি, পরীক্ষার খরচ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও আর্থিক সহায়তার শর্ত লিখিতভাবে জানা প্রয়োজন। বেতনের জাতীয় মধ্যম হিসাবকে নিজের নিশ্চিত আয় ধরে নেওয়া যাবে না। স্বল্পমেয়াদি কোর্সকে চাকরির প্রস্তুতির একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করলে খরচ, সময় ও প্রত্যাশার মধ্যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে এক বছরে আট হাজারের বেশি ধর্ষণ! তালিকার শীর্ষে ইউটাহ
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!