সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#যুক্তরাষ্ট্রেরখবর

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে হামে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার ৪১০ জনে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটিতে চলতি বছর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৩০ জন। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শত শত মানুষ।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৫১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের পরিস্থিতি এক রকম নয়। পেনসিলভানিয়া বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি রাজ্যগুলোর একটি। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে চলতি বছরে ১ হাজার ২২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সময় পর্যন্ত হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে, ১৬ অক্টোবর পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৬০ হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৮ জনে। রাজ্যটিতে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে পেনসিলভানিয়ায় হামের কারণে মৃ ত্যুর হিসাব নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিডিসি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মৃ ত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে কোন রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি মৃ ত্যুর কথা জানিয়েছে। মৃ ত্যুর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে সিডিসি হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃ ত্যুর হিসাব তৈরিতে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর তথ্যের পরিবর্তে ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের মৃ ত্যু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার শুরু করে। এই পরিবর্তন নিয়ে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সিডিসি ১৩ অক্টোবর জানায়, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যটিকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে, কোথায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তদন্তে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এই বয়সী মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৮৭ জন, যা মোট সংখ্যার ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্করা মিলেই মোট আক্রান্তের বড় অংশ। এ পরিস্থিতিতে স্কুল, পরিবার ও জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজ্যটি এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘোষণা ছিল প্রথম। এর মাধ্যমে রোগটির বিস্তার মোকাবিলায় পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে বা সংক্রমিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির প্রকাশিত জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১০ হলেও পেনসিলভানিয়ার পরবর্তী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজ্যটিতে সংক্রমণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বোস্টন ল্যাটিন একাডেমির সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক এডওয়ার্ড ব্রাউন
পুলিশের ব্যারাকে নারীকে ধ র্ষ ণের অভিযোগ, বোস্টনের স্কুল নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রে প্তা র

  যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডে সড়কের পাশে উলঙ্গ ও আতঙ্কিত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় বোস্টনের একটি স্কুলের সহকারী নিরাপত্তা পরিচালকের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ব্যারাকে ওই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এডওয়ার্ড ব্রাউন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   কেপ অ্যান্ড আইল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট কথিত ঘটনাটি ঘটে। ১৩ অক্টোবর ব্রাউনের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ৯ অক্টোবর বোস্টন ল্যাটিন একাডেমি থেকে তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কথিত ঘটনার দিন রাত ১টার কিছু আগে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশের ব্যারাকের কাছাকাছি সড়কের পাশে এক নারীকে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দুটি ফোনকল পায়। ওই ব্যারাকেই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নারীটিকে মার্থাস ভিনইয়ার্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশকে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ‘দ্য রিটজ’ নামের একটি বারে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্রাউন তাঁর কাছে যান, তাঁর শরীরের পেছনের অংশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং তাঁকে পানীয় কিনে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাউন তখন দ্বীপে কর্মরত এক স্টেট ট্রুপারের সঙ্গে পুলিশের ব্যারাকে রাত কাটাচ্ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নারীটি পুলিশকে জানান, বারে ব্রাউনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনাগুলো তাঁর মনে নেই। এরপর তাঁর মনে আছে, তিনি অপরিচিত একটি জায়গায় ঘুম ভেঙে দেখেন ব্রাউন তাঁর ওপর রয়েছেন। আদালতে এক প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীটি বিছানায় উপুড় হয়ে ও উলঙ্গ অবস্থায় জেগে ওঠেন। তিনি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি আবার কক্ষে ফিরে এসে তাঁকে জোর করেন এবং গলা চেপে ধরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই নারী সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। তিনি সিঁড়ি দিয়ে দুই তলা নেমে ভবনটি থেকে বেরিয়ে সড়কের দিকে ছুটে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে পথচারীরা তাঁকে দেখতে পান এবং সহায়তার ব্যবস্থা হয়। অভিযোগকারী নারী আয়ারল্যান্ডের নাগরিক। ঘটনার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাউনের বিরুদ্ধে আগের কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ও আদালতে উঠে এসেছে। প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে চারটি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে সাবেক দুই প্রেমিকার করা হয়রানির অভিযোগও ছিল। আদালত ওই দুই নারীর জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর একটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে বর্তমান মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এ ছাড়া ব্রাউনকে গ্রে প্তা র করার সময় তাঁর কাছে কোকেন ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটররা। তবে তাঁর আইনজীবী অ্যান্থনি আর. এলিসন আদালতে বলেন, ব্রাউন এর আগে কখনো কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি এবং তিনি একজন সুনাগরিক। আইনজীবী আরও বলেন, তাঁর মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং মামলার সব পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকা উচিত। ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তাঁকে অভিযোগকারী নারী ও মামলার সাক্ষীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর মামলার প্রাক্‌-বিচার শুনানির জন্য তাঁকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে। এদিকে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বোস্টন পাবলিক স্কুলস তাঁকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। তাঁর চাকরির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বরখাস্ত-সংক্রান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি গত দুই বছর ধরে স্কুল জেলায় সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বোস্টনের মেয়র মিশেল উ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। শিক্ষার্থী ও স্কুলের সঙ্গে যুক্ত সবার নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ব্রাউনের আইনজীবী বলেছেন, তাঁর মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ফলে ব্রাউনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আগামী শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যানসার গবেষক ডা. রচনা শ্রফের ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াণ
যে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করতেন, সেই আগ্রাসী ক্যানসারেই প্রাণ গেল ডা. রচনা শ্রফের

পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও গবেষক ডা. রচনা শ্রফ নিজেই আগ্রাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা গত ১২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনসের সহযোগী পরিচালক ছিলেন। টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে শরীরের একটি লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার পর তাঁর পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা লিম্ফোমা বা একধরনের র ক্তের ক্যানসার সন্দেহ করেছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষায় অ্যাডেনোকারসিনোমা শনাক্ত হয়। মে মাসের শেষ নাগাদ রোগটি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় ক্যানসারটি পাকস্থলী বা অন্ত্র থেকে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেলেও এর উৎপত্তিস্থল নিশ্চিত করা যায়নি। রচনা শ্রফ বিশেষ করে অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি তাঁকে এই দুই ধরনের ক্যানসারের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিজের গবেষণার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টুসনে বেড়ে ওঠা শ্রফের গবেষণায় আগ্রহ তৈরি হয় স্কুলজীবনেই। ১৯৯৩ সালে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের একটি গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পান। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি ও থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা এবং এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারে কর্মজীবনের পর ২০১৮ সালে তিনি টুসনে ফিরে আসেন। কর্মজীবনে তাঁর ৮০টির বেশি গবেষণা প্রকাশনা ছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কলেজ অব মেডিসিনের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুরারোগ্য ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা যাচাই এবং রোগীদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ছিল তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের অসুস্থতার মধ্যেও ভবিষ্যৎ গবেষকদের সহায়তায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন শ্রফ। সেপ্টেম্বরে পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজ করা নবীন গবেষকদের জন্য তাঁর নামে একটি স্থায়ী গবেষণা পুরস্কার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, সহকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে এ উদ্যোগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়। তাঁর স্বামী ডা. পুনিত শ্রফ এবং দুই সন্তান সিমরান ও শচিন রয়েছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
হিন্দু মন্দিরে হা মলার পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রে প্তা র
‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। শিকাগোর উপশহর প্যালাটাইনের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হু মকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১১ অক্টোবর হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি। পরে সহকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই তাঁকে আ টক করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত তথ্যের বরাতে শিকাগো সান টাইমস জানিয়েছে, পাপোরাকিস দুই বছর ধরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনা করছিলেন। তবে অরোরার একটি হিন্দু উপাসনালয়কে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রায় দুই মাস আগে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনার দিন গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তিকে গু লি করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু রাইফেল আটকে যাওয়ায় গু লি বের হয়নি। প্যালাটাইন পুলিশপ্রধান উইলিয়াম নর্ড ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি ১১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিং লটে ঢোকে। প্রায় ১৩ মিনিট পর সেটি বেরিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তখন গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেননি পুলিশপ্রধান। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন এক সহকর্মীর কাছে ভারতীয়দের হ ত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন পাপোরাকিস। পরদিন তিনি ওই সহকর্মীকে জানান, হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছেন। অ স্ত্র ঠিক করে আবার চেষ্টা করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথনের পর দুই সহকর্মী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশ তথ্যটি পাওয়ার পর প্যালাটাইন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়। পরে পাপোরাকিসের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গু লিভর্তি একাধিক ম্যাগাজিন, কয়েক শ রাউন্ড অতিরিক্ত গু লি এবং সুরক্ষাবর্মযুক্ত ভেস্ট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও ছিল। তদন্তকারীরা তাঁর নামে লেখা একটি নথি ও ইলেকট্রনিক বার্তা পরীক্ষা করছেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই নথিতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ও উগ্রবাদী বক্তব্যের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় তিনি একাই জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তদন্তে এফবিআইয়ের শিকাগো কার্যালয়ও সহায়তা করছে। ১৪ অক্টোবর কুক কাউন্টির রোলিং মেডোজ আদালতে শুনানির পর বিচারক পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর পরবর্তী আদালতে হাজিরার দিন ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচার এখনো হয়নি। সম্ভাব্য হু মকির বিষয়ে অরোরা পুলিশকে জানানোর পর স্থানীয় হিন্দু উপাসনালয়গুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে আমেরিকানদের। অনেকেই দেশ ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনই নিচ্ছেন না। বরং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ রাখতে দ্বিতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশের জন্য এই সুযোগ তৈরি হয়েছে পূর্বপুরুষের সূত্রে লুক্সেমবার্গের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে। লুক্সেমবার্গের জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ৩ হাজার ৫৭৪ জন আমেরিকান দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। নাগরিকত্বের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৬৫৭ জন নতুন করে স্বেচ্ছায় আবেদন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার বা অন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিক হয়েছেন। দুই পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্যের কারণ নাগরিকত্ব পাওয়ার পদ্ধতি। জাতীয় নিবন্ধনে যাঁদের নাগরিক হিসেবে গণনা করা হয়েছে, তাঁদের সবাই ওই বছর নতুন করে আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই আইন অনুযায়ী আগে থেকেই লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য ছিলেন। যেমন, জন্মের সময় বাবা বা মা লুক্সেমবার্গের নাগরিক হলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক শর্ত পূরণ করে দেশটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। তবে স্বেচ্ছায় আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়া ৬৫৭ জনের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিকল্প পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেনভারের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডির অভিজ্ঞতায় এই প্রবণতার ব্যক্তিগত দিকটি উঠে এসেছে। তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে বসবাসের চিন্তা তাঁর মনে ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও জোরালো হয়। ক্যাসিডির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন নতুন কিছু নয়। তবে দেশটিতে সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপের তুলনায় কম বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলেও অনেক সময় বিপুল ঋণের বোঝা নিতে হয়, আবার কখনো বাসস্থান কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কাটছাঁট করতে হয়। অনলাইনে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে ক্যাসিডি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন ছিলেন লুক্সেমবার্গের বাসিন্দা। তাঁর পাঁচ প্রজন্ম আগের এক পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওই পূর্বপুরুষ ১৮১৫ সালের পর লুক্সেমবার্গে জন্মেছিলেন বলে নাগরিকত্বের জন্য প্রাসঙ্গিক বংশগত শর্তের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস মিলে যায়। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট বংশধারার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং পূর্বপুরুষের জন্মসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে নারীরাও তাঁদের সন্তানদের নাগরিকত্বের অধিকার দিতে পারেন। ক্যাসিডিকে পারিবারিক নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় দিতে হয়। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাঁকে ভাষা পরীক্ষা দিতে হয়নি কিংবা লুক্সেমবার্গে গিয়েও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়নি। মার্চে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগের কারণেই দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে ইউরোপে কোথায় স্থায়ীভাবে থাকবেন, সে বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা তখনও চূড়ান্ত হয়নি। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা ড্যানিয়েল অ্যাটজও এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন। নেব্রাস্কায় জন্ম নেওয়া অ্যাটজ নিজেও পূর্বপুরুষের সূত্রে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহীর মা মার্গারিট ক্রুখটেন লুক্সেমবার্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি কানসাসে চলে যান। ২০০৮ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট শর্তে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা লুক্সেমবার্গের নাগরিক পূর্বপুরুষের বংশধরদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়। ২০১৭ সালে পাস হওয়া আরেকটি আইনে যোগ্য বংশধরদের জন্য একই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যার আবেদন করার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অ্যাটজ লুক্সেমবার্গে তাঁর হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়দের খুঁজে পান। তাঁদের একজন অ্যানেটের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অ্যাটজের ভাষায়, এই নাগরিকত্ব তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্য আমেরিকানদের আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। অ্যাটজ জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময়ও লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের আবেদন বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহের মাত্রা আরও বেশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর কর্মীর সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৫ হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ আমেরিকান নাগরিকত্বপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যা মোট আবেদনকারীদের আনুমানিক ১৫ শতাংশ। লুক্সেমবার্গ সরকারের অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯০। প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসরত নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৯২৫। জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ৯৫২ জন বেড়েছে। তবে নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই লুক্সেমবার্গে চলে যাওয়া নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁদের অধিকাংশই দেশটিতে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন না। অনেকেই স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশকে বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি কাজের সুযোগও সবার পেশাগত চাহিদার সঙ্গে মেলে না। ক্যাসিডিও ভবিষ্যতে লুক্সেমবার্গে থাকার কথা ভাবছেন, তবে আর্থিক দিক থেকে তা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর কাছে কিছুটা ভীতিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা পুরোপুরি হারাননি ক্যাসিডি। তাঁর মতে, দেশটিতে অনেক কঠিন ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের বাকি সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ কেবল দেশত্যাগের প্রবণতা নয়; অনেকের কাছে এটি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একটি বিকল্প ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় তাঁরা প্রয়োজনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কাজের পথ খোলা রাখতে চাইছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রে প্তারের পর তদন্ত
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের পাঁচটি ভিডিও পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডেনিস কিরান নামের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাসংক্রান্ত চারটি অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ স্মিরনা বিচ হাইস্কুলে কর্মরত কিরানকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয় বুধবার। ওই দিন স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা তাঁকে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা ফোনটি উরুর ওপরের অংশের কাছে রাখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর কিরানের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তাঁর ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ওই ফোনে শিক্ষার্থীদের কোনো অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘোড়ার সঙ্গে যৌ ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাঁচটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিরানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে শিশু ও প্রাণীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের শুরুতে স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ সামনে এলেও ফোনে শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডায় স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল গার্ডিয়ান কর্মসূচি। ২০১৮ সালে পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় স্কুল জেলার নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো কাউকে গ্রে প্তার করার ক্ষমতা পান না। তাঁদের মূল দায়িত্ব স্কুলের নিরাপত্তায় সহায়তা করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্কুলের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার সুইমিং পুলে সাত বছরের শিশুর মৃ ত্যু
চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি কমিউনিটি সুইমিং পুলে সাত বছরের এক শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে যাননি এক নারী চিকিৎসক—এমন অভিযোগ উঠেছে। বরং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিজের পরিবর্তে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে পানিতে পাঠিয়েছিলেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী চিকিৎসক সুকান্থিনি সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে গত ১০ এপ্রিল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর এভারবি কমিউনিটির একটি সুইমিং পুলে। নিহত শিশুটির নাম খুশিল বান্ডি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে গত ৫ অক্টোবর চিকিৎসক সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়।   সুব্বিয়াহ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও পেশায় চিকিৎসক। ঘটনার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে অরল্যান্ডোতে এসেছিলেন। সেখানে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে প্রতিবেশী পরিবারের যমজ দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়। পরে ওই শিশুদের মায়ের অনুমতি নিয়ে নিজের ছেলেসহ তিন শিশুকে সুইমিং পুলে নিয়ে যান তিনি।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন খুশিলের যমজ বোন লাইফ জ্যাকেট পরেছিল, কিন্তু খুশিলের গায়ে সেটি ছিল না। সুব্বিয়াহ পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি ধারণা করেছিলেন শিশুটি সাঁতার জানে। তাই তাকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নামতে দেওয়া হয়েছিল।   পুলিশের হাতে থাকা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে শিশুরা পুলে নামে। এর প্রায় এক মিনিট পরই খুশিল পানিতে বিপদে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পুলের মাঝামাঝি গিয়ে সে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং হাত-পা ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে পানির নিচে তলিয়ে যায়।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি বিপদে পড়ার পরও সুব্বিয়াহ দ্রুত তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। বরং পুলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে খুশিলকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। পুলিশের দাবি, শিশুটি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সাত মিনিটেরও বেশি সময় পর তাকে উদ্ধার করা হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর বয়সী শিশুদের পক্ষে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আরেক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। ওই দুই শিশু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চিৎকার করতে শুরু করে। পরে সুব্বিয়াহ পুলে থাকা অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য চান। ওই ব্যক্তি পানিতে নেমে খুশিলকে উদ্ধার করেন।   শিশুটিকে পানি থেকে তোলার পর সুব্বিয়াহ তার সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। পরে খুশিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক বক্তব্যে সুব্বিয়াহ দাবি করেছিলেন, শিশুটি প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পানির নিচে ছিল। তবে তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সময়ের অসংগতি খুঁজে পান। ফুটেজ অনুযায়ী, শিশুটি অনেক বেশি সময় ধরে বিপদে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।   প্রথমদিকে শিশুটির মৃ ত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা মনে করেন, শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গুরুতর অবহেলা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   তদন্তকারীদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সুব্বিয়াহর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ায় পানিতে ডুবে যাওয়ার বিপদ ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুর প্রাণহানির ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর ধারণা থাকার কথা। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগকে তাঁরা গুরুতর দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়। ৫ অক্টোবর তাঁকে অরেঞ্জ কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।   তবে চিকিৎসকের আইনজীবী রাজন যোশি অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়। আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   এ ঘটনাটি শিশুদের সুইমিং পুলে নিরাপত্তা ও প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি মৃ ত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর একটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় শিশুরা সব সময় চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণে সুইমিং পুলে শিশুদের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।   চিকিৎসক সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, শিশুটিকে উদ্ধারে তাঁর কথিত নিষ্ক্রিয়তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়াল উদ্ধার
বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ ভেবে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে গ্রে প্তা র এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ মনে করে বাড়ির উঠানে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। আলবা শাভেজ নামের ওই নারী অন্তত চারটি বিড়ালের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টির হোব সাউন্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই জায়গা থেকে আরও দুটি বিড়ালকে মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর ওই নারীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।   ঘটনার খবর পেয়ে মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও প্রাণী সুরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা হোব সাউন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব ফেডারেল হাইওয়ের ১১ হাজার নম্বর ব্লকে অবস্থিত ওই বাড়িতে যান। বাড়িটির মালিক শাভেজ বিড়ালগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার কথা জানানোর পর তদন্তকারীরা উঠানের বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন।   উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। তবে অন্য দুটি বিড়ালকে আর বাঁচানো যায়নি। প্রাণীগুলো কতক্ষণ মাটির নিচে ছিল, কিংবা কীভাবে তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাভেজ তাঁদের বলেছেন, তিনি অন্তত চারটি বিড়ালকে জীবন্ত পুঁতে রেখেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিড়ালগুলোকে তিনি ‘অশুভ আত্মা’ বলে মনে করতেন। তবে এমন ধারণার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ঘটনার পর শাভেজকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কতটি অভিযোগ আনা হয়েছে, আদালতে তাঁকে কখন হাজির করা হবে কিংবা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে বাড়ির উঠানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন। সেখানে অন্য কোনো বিড়াল বা প্রাণী পাওয়া যায় কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   উদ্ধার হওয়া দুটি বিড়ালের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও স্পষ্ট নয়। মাটির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা কতটা অসুস্থ বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। তাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবিত প্রাণীকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগের কারণে বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনাস্থলের আলামত, বাড়ির মালিকের বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখনো জানা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামে ২২ দেশের নাগরিকদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল এন্ট্রিতে ২২ দেশের নাগরিকদের সুযোগ, নেই কোনো আফ্রিকান দেশ

যুক্তরাষ্ট্র তার গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় আগাম যাচাই করা কম-ঝুঁকির ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তুলনামূলক দ্রুত কাস্টমস ও সীমান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।   গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরাও আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু কোনো দেশের নাগরিক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের সিবিপির নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২২টি দেশের তালিকায় রয়েছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য।   গ্লোবাল এন্ট্রি মূলত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান।   তবে এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সিবিপির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় কোনো আফ্রিকান দেশ নেই। ফলে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা এই তালিকার ভিত্তিতে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন।   গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ একাধিক বিমানবন্দরে এ সুবিধা রয়েছে।   তবে যোগ্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে সিবিপির যাচাই প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হতে হবে এবং গ্লোবাল এন্ট্রির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেন ও বাসযাত্রীদের মধ্যে হামের সংস্পর্শের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি
টিকা না নেওয়া ব্যক্তির ট্রেন-বাস ভ্রমণ, ছয় কাউন্টিতে হামের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টিকা না নেওয়া এক ব্যক্তির ট্রেন ও বাসে ভ্রমণকে ঘিরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে অ্যামট্রাক ট্রেন ও সংযোগকারী বাসে করে অঙ্গরাজ্যের অন্তত ছয়টি কাউন্টির মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন। এ ঘটনায় সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের সতর্ক করে সতর্কতা জারি করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ।   ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ (সিডিপিএইচ) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ১০ সেপ্টেম্বর শিকাগো থেকে অ্যামট্রাক ট্রেনে করে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছান। পরে ১২ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বেকার্সফিল্ড, সেখান থেকে স্টকটন এবং এরপর সংযোগকারী বাসে করে ওরোভিল যান। ১৩ সেপ্টেম্বর বাসে করে ওরোভিল থেকে স্যাক্রামেন্টো এবং পরে স্যাক্রামেন্টো থেকে এমেরিভিলে পৌঁছান।   এরপর ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর এমেরিভিল থেকে ডেনভারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই ভ্রমণপথের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার আলামেডা, বাট, কার্ন, লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন কাউন্টি জড়িত। নির্দিষ্ট সময়ে এসব ট্রেন, বাস বা সংশ্লিষ্ট স্টেশনে থাকা ব্যক্তিরা হামের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।   সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর জন্য স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে সিডিপিএইচ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যাত্রীদের নিজেদের হামের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।   হামের সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল বা পানি পড়া এবং শরীরে র‍্যাশ অন্যতম। কারও মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে আগে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এতে অন্যদের মধ্যে সং ক্র ম ণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩টি কাউন্টিতে মোট ৫৯টি হাম শনাক্ত হয়েছে। এসব রোগীর ৯৪ শতাংশ হয় টিকা নেননি, অথবা তাদের টিকা নেওয়ার অবস্থা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আ ক্রা ন্ত হতে পারেন।   সিডিপিএইচ জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সং ক্রা ম ক একটি রোগ এবং শিশুদের জন্য এর ঝুঁকি বেশি। হামের বিরুদ্ধে এমএমআর টিকার দুই ডোজ পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে। যাদের টিকা নেওয়ার তথ্য নেই বা নিজেদের টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না নিশ্চিত নন, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে টিকার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে পিকআপের পেছনে থাকা পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উদ্ধার করে সীমান্তরক্ষীরা
পিকআপের পানির ট্যাংকে লুকিয়ে ছিলেন চার অভিবাসী, মার্কিন নাগরিকসহ আ টক করল সীমান্তরক্ষী

টেক্সাসের ঈগল পাস এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উ দ্ধার করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। ট্যাংকটি এমনভাবে বন্ধ ছিল যে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষীরা।   সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা একটি গ্রামীণ মহাসড়কে টহল দেওয়ার সময় ২০০৭ সালের একটি ফোর্ড পিকআপ ট্রাক থামান। তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকের পেছনে থাকা ছোট একটি বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর চারজনকে আ টকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান তারা। চারজনকে বের করে আনতে এজেন্টরা পাওয়ার টুল ব্যবহার করে ট্যাংকটি কেটে খোলেন। এরপর তাদের সেখান থেকে উ দ্ধার করা হয়। সীমান্তরক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য উভালডে সাউথ স্টেশনে নেওয়া হয়। পিকআপটির চালক ছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক। তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অ ভি যোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রে প্তার ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল। ডেল রিও সেক্টরের প্রধান বর্ডার পেট্রোল এজেন্ট অ্যান্থনি গুড বলেন, পাচারকারীরা যাদের মানবপণ্য হিসেবে দেখে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয় না। কোনো বের হওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া সীমিত জায়গার ওই ট্যাংকের ভেতর মানুষকে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি আরও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারত। তবে উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তির পরিচয় বা তাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের আলামো এলাকায় আইসিইর অভিযান দেখতে গিয়ে দুই কিশোরকে আটকের অভিযোগ উঠেছে
আইসিইর অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই কিশোর, এরপর আ টকের অ ভি যোগ

টেক্সাসে আইসিইর একটি অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই ১৭ বছর বয়সী কিশোর। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থামার পর তাদের আ টক করা হয় এবং একজনকে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরানো হয়। আরেক কিশোরকে আইসিইর এক কর্মকর্তা আ ঘা ত করেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। দুই কিশোরের পরিবারের দাবি, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য রি ক্রু টিং অফিসে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে।   ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের আলামো এলাকায়। লুইস ওচোয়া নামে এক কিশোরের ভাষ্য, তারা রাস্তার পাশে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে সেটি ভিডিও করার জন্য গাড়ি থামিয়েছিল। এরপর কর্মকর্তারা তাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন কিশোরকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরাতে দেখা যায়।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে থাকা আরেক কিশোর নেমে আসার পর এক আইসিই কর্মকর্তা তাকে কয়েকবার আ ঘা ত করছেন। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সে অ প্রা প্ত ব য় স্ক।’ পরে ওই কিশোরকেও মাটিতে ধরে রাখা হয় এবং হা ত ক ড়া পরানো হয়।   লুইস ওচোয়া অ ভি যোগ করেছেন, তাকে ম রি চের স্প্রে দেওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে আ টক করা হয়। তার দাবি, এ সময় তার কবজিতে আ ঘা ত লাগে। ওচোয়ার মা তেরেসা ওচোয়া জানান, ছেলের সঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, ছেলে অ প্রা প্ত ব য় স্ক হওয়ায় ঘটনাটি পরিবারের জন্য আরও উদ্বেগের ছিল।   দুই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারা মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য একটি রি ক্রু টিং অফিসে যাচ্ছিল। পথে আইসিইর অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে তারা সেখানে থেমে ভিডিও করছিল।   তবে ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি দুই কিশোরকে আইসিই কর্মকর্তাদের কাজে বা ধা দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএইচএসের দাবি, তাদের একজন আইসিইর গাড়ির জানালায় বারবার আ ঘা ত করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন।   ডিএইচএসের ভাষ্য, পরে ওই কিশোরকে আ টক করতে গেলে তিনি মৌখিক ও শারীরিকভাবে প্র তি রোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব ল প্র য়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ঘটনায় দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আ হ ত হন এবং তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   অন্যদিকে কিশোরদের পক্ষ থেকে ডিএইচএসের এসব অ ভি যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের পরিবারের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা দৃশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওর পুরো প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনার পর দুই কিশোর আলামো পুলিশের কাছে অ ভি যোগ করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইসিইর অ ভি যা নের সময় দুই কিশোরের আ টক এবং তাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য এখন তদন্তের আওতায় এসেছ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে হামলার সময় নজরদারি ক্যামেরায় কিশোরীর বাবা-মা
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে ওয়ালমার্টের ভেতরে শপিং কার্ট নিয়ে বাগ বি তণ্ডার জেরে ৭৭ বছরের এক ক্রেতাকে পি টিয়ে হ ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নি হত ওই ব্যক্তির নাম বার্ট আতিয়েঞ্জা। ঘটনার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন। স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েঞ্জাকে নিয়ে চার্চ থেকে ফেরার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন বার্ট। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী দ্রুতগতিতে শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় জোসেফিনকে প্রায় ধা ক্কা দিতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বার্ট। জোসেফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে বার্টের কিছুক্ষণ কথা কা টা কাটি হয়। তিনি কর্মীকে বলেন, কার্ট দিয়ে তার স্ত্রীকে প্রায় ধা ক্কা দেওয়া হলেও সে ক্ষমা চায়নি। এরপর ওই কিশোরী একটি ক্যান ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। পরে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর কিশোরীর বাবা ট্রাভিস ল্যাথান হোয়াইট ও মা এরিকা ল্যাট্রিস মিচেল ওয়ালমার্টের ভেতরে ওই দম্পতিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অংশের একটি আইলে বার্টের ওপর হা ম লা করা হচ্ছে। জোসেফিনের দাবি, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বার্টকে পেছন থেকে ধা ক্কা দেন, ধরে ফেলেন এবং ঘু ষি মা রেন। একপর্যায়ে তাকে তাকের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরও তাকে লা থি মা রা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে রক্ষা করতে জোসেফিন তাদের থামতে অনুরোধ করেন। হা ম লার পর বার্ট কিছুক্ষণ কথা বলতে পারছিলেন। স্ত্রীকে তিনি সাহায্যের জন্য উঠতে বলেন। কিন্তু জোসেফিন দেখতে পান, তার মুখ দিয়ে র ক্ত পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকার সময় একপর্যায়ে বার্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ভোঁ তা আ ঘা তের কারণে তার মৃ ত্যু হয়েছে। পরে তার মৃ ত্যুকে হ ত্যা কাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ ট্রাভিস হোয়াইট ও এরিকা মিচেলকে গ্রে প্তার করে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আ ক্র মণ, দলবদ্ধভাবে হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হ ত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। তারা জা মি ন ছাড়াই নরফোক কারাগারে আ ট ক রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা-মা তাকে নিরাপদ রাখতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। পরিস্থিতি আবেগের বশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর মতে, হা ম লার ঘটনা ঘটলেও সেটি হ ত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই। এদিকে ওই কিশোরীও গ্রে প্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হা ম লা ও মা র ধ র, গুরুতর হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নাম প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সে নরফোকের একটি কিশোর আ ট ক কেন্দ্রে রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ১৮৯৪ সালের পুরোনো ম্যাগাজিন
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিন ফেরত, বেঁচে গেল ১২ হাজার ডলারের জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরিতে ১৩২ বছর পর একটি ম্যাগাজিন ফেরত দিয়েছেন এক ব্যক্তি। ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যার ‘দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন’টি তিনি কয়েক দশক ধরে নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন।  ব্যক্তিটির নাম জন হ্যানসন। তিনি জানান, ম্যাগাজিনটি কীভাবে তার বাড়িতে এসেছিল, তা তিনি জানেন না। কয়েক দশক ধরে সেটি তার কাছে ছিল। লাইব্রেরিতে বই ফেরত দেওয়ার ওপর এক বছরের জন্য জরিমানা স্থগিতের খবর দেখে তিনি অবশেষে ম্যাগাজিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  লাইব্রেরির হিসাব অনুযায়ী, ম্যাগাজিনটি ৪৮ হাজার ২২০ দিন দেরিতে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত জরিমানা কার্যকর থাকলে তার বিল দাঁড়াত প্রায় ১২ হাজার ৫৫ ডলার। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরি এক বছরের জন্য পুরোনো জরিমানা স্থগিত করেছে। ফলে হ্যানসনকে কোনো অর্থই দিতে হচ্ছে না।  লাইব্রেরি জানিয়েছে, ম্যাগাজিনটি আর সাধারণ সংগ্রহে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। বরং ঐতিহাসিক নথিপত্র সংরক্ষণের কনকর্ড রুমে এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।  মজার বিষয় হলো, ম্যাগাজিনটি যখন ধার নেওয়া হয়েছিল, তখন কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরির বয়সও ছিল মাত্র প্রায় ২০ বছর। লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৩ সালে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন
পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষক তাসিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জার্কুয়েস র‍্যাটলিফ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। তাসিয়া ফরচুনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে তাঁর প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে।   গত ৩ আগস্ট জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে তখন পচন ধরার বিভিন্ন পর্যায়ের চিহ্ন ছিল।   জ্যাকসন পুলিশের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের রাতে রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তাসিয়ার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তদন্তে নতুন করে গতি আসে।   পুলিশ দুটি তল্লাশি পরোয়ানা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে র‍্যাটলিফকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে না পেয়ে সদর দপ্তরে ফিরছিল। এ সময় শহরের একটি রাস্তায় হাঁটারত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, তাসিয়ার সঙ্গে র‍্যাটলিফের কোনো ধরনের পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ প্রধান।   ব্র্যাকনি বলেন, তাসিয়াকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনই কোনো অনুমান করতে চায় না পুলিশ। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।   তিনি বলেন, “এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এটিই তদন্তের শেষ নয়।”   তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হয়েছে।   তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।   এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ট্রে রিডকে ডেল্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে এবং ভিক্সবার্গে ৩০-এর কোঠায় থাকা গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি কোরি জুকাটিসকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল।   তাসিয়ার ঘটনায় অবশ্য তদন্তের চিত্র ভিন্ন। ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   তবে পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, র‍্যাটলিফের গ্রেপ্তারকে তদন্তের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ওহাইওতে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শালস
এক দশক অপহৃত ছিলেন, পালিয়ে বেঁচে ফেরা আমান্ডার সহায়তায় নিখোঁজ ৭৯ শিশু উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শালস সার্ভিস। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে আগস্টজুড়ে চলা এই অভিযানকে কর্তৃপক্ষ ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছর। এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন আমান্ডা বেরি। ২০০৩ সালে ক্লিভল্যান্ডে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং মুক্ত হন। এবার নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযানে যুক্ত হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিটি শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে উদ্ধারের আহ্বান জানান। ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, আগস্টজুড়ে চলা ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’-এ ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে তদন্তকারীরা ওহাইওর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও অন্য অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান। কিছু শিশুর সন্ধান জর্জিয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এসব মামলার মধ্যে মানবপাচারের আশঙ্কা, যৌন পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবহেলা এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনকে উদ্ধার। ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এবং ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল। তদন্তের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে লকবোর্নের একটি বাড়ির বেডরুমের আলমারির মেঝের নিচের গোপন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিন কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ১৬ বছর বয়সী বোনকেও উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দুই মেয়ের মাকে একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্তও চলমান রয়েছে।  আরেক ঘটনায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে টোলিডোতে উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে আগে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তদন্তের সূত্র ধরে তাকে এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে খুঁজে পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও মূল্যায়ন করা হয়, আর ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য অপরাধ নিয়ে স্থানীয় তদন্ত চলছে। ইউএস মার্শালসের কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ছিল অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফেডারেল সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে যুক্ত ছিলেন। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, আমান্ডা বেরির সঙ্গে কাজ করতে পারা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বেরি অভিযানের আগে কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করতে। আমান্ডা বেরির নিজের অভিজ্ঞতাই এই অভিযানের মানবিক দিকটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘ বন্দিত্বের পর নিজে মুক্ত হয়ে এখন নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন তিনি। ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, শিশুদের খুঁজে বের করা অভিযানের প্রথম ধাপ। উদ্ধার হওয়ার পর তাদের নিরাপদ পুনর্বাসন, মানসিক চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। 

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
নিরাপত্তার জন্য বাড়তি দাম দিতেও প্রস্তুত মার্কিনরা, বাড়ছে গেটেড কমিউনিটির চাহিদা
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।  গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার এই ব্যক্তি নিজের উঠোনে নানা ধরনের ফল ও সবজি চাষ করেন
উঠোনে সবজি চাষ করেই বিপাকে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যক্তি, গুনছেন একের পর এক জরিমানা!

নিজের বাড়ির সামনের উঠোনে ফল-সবজির বাগান করেই বিপাকে পড়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার চাইনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান। শখের বাগানটি এখন তার জন্য রীতিমতো জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা’র অভিযোগে এরই মধ্যে তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। এবারও নিয়ম না মানলে আরও ৫০০ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তিনি।   ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ ঠিকাদার। ২০১৯ সালে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ থেকে বাড়ির সামনের লনে সবজি ও ফলের গাছ লাগানো শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর পর সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে বেশ বড়সড় বাগানে। তার বাগানে এখন মিষ্টি আলু, স্কোয়াশ, আদা, হলুদ, হর্সর‍্যাডিশ, কলা, আখ, বরই, পিচ, ব্লুবেরি, প্যাশনফ্রুটসহ নানা ধরনের ফল ও সবজি জন্মে। এমনকি ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ করে তিনি ইচ্ছা করেই ড্যান্ডেলিয়নও চাষ করেন। শেরম্যানের দাবি, অধিকাংশ প্রতিবেশীই তার বাগান পছন্দ করেন। তবে পাশের একজন প্রতিবেশীর অভিযোগ থেকেই শহরের এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা। যদিও এক প্রতিবেশী সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে জানিয়েছেন, বাগানটি সবসময় ঠিকমতো ছাঁটাই করা হয় না এবং সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। শেরম্যান অবশ্য বলছেন, তার জমিতে অতীতে ইঁদুরের সমস্যা থাকলেও কয়েক বছর ধরে তা নেই। তার মতে, বাড়ির পাশে শুধু খালি মাটি থাকলেও ইঁদুরের সমস্যা তৈরি হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে শেরম্যানের আরেকটি আপত্তি হলো—ঠিক কোন গাছগুলো সমস্যা তৈরি করছে, তা তাকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না। তার ভাষ্য, স্কোয়াশের মতো অনেক গাছই মৌসুমি; এগুলো স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফুল দেয় এবং এক বছরের মধ্যেই মারা যায়। চাইনো শহরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাগান নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে বাকি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা ছাঁটাই বা সরিয়ে না ফেলা পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। শেরম্যানের বক্তব্য, নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন খাবার নিশ্চিত করতেই তিনি বাড়িতে চাষাবাদ করছেন। বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তার আস্থা নেই। তাই নিজের হাতে যতটা সম্ভব নিরাপদ খাবার উৎপাদন করতে চান তিনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজ মায়ের সন্ধানে ক্যাডাভার কুকুর নিয়ে চলছে তল্লাশি
শেষ ফোনকলের পর উধাও মা, এবার জঙ্গলে শুরু হলো মরিয়া তল্লাশি

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ৩৬ বছর বয়সী এক মাকে খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। রোববার ডোনেলসন এলাকার কয়েকটি স্থানে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে তল্লাশিতে অংশ নেন তারা। সঙ্গে ছিল প্রশিক্ষিত একটি ক্যাডাভার কুকুর।   নিখোঁজ ওই নারীর নাম কোর্টনি রিস। গত ১৮ আগস্ট লেবানন পাইকের একটি লন্ড্রোম্যাটে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেদিন দুপুর ১টার দিকে তার মামা তাকে ‘লোডস অব ক্লোদস’ লন্ড্রোম্যাটে নামিয়ে দিয়ে যান।   রোববার স্বেচ্ছাসেবীরা ম্যাকলিনস বেন্ড ও ম্যাকগ্যাভক হাইস্কুলের কাছাকাছি ঘন জঙ্গলে পায়ে হেঁটে তল্লাশি চালান। লেবানন পাইকের পাশের একটি এলাকাতেও ক্যাডাভার কুকুর নিয়ে খোঁজ করা হয়। ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পাওয়ার বিষয়ে একটি তথ্য পাওয়ার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে পরে ধারণা করা হয়, গন্ধটি কোনো প্রাণীর কারণে হয়ে থাকতে পারে।   তল্লাশিতে রিসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা আলামত পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান দলের নেতা ও প্রশিক্ষিত ভিকটিম অ্যাডভোকেট জুলস থর্প জানান, তারা অনেকটা এলাকা খুঁজেছেন। কোথাও যেন অনধিকার প্রবেশ না করা হয় এবং কোনো কিছু পাওয়া গেলে সেটি যেন কেউ স্পর্শ না করেন—স্বেচ্ছাসেবীদের সেভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   তল্লাশি দলের সদস্যরা যেসব এলাকায় খোঁজ করেছেন, সেগুলোর তথ্যও সংরক্ষণ করেছেন, যাতে প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তা শেয়ার করা যায়।   রিসের মা বনি অলিভার জানান, লন্ড্রোম্যাটে কাপড় ধোয়ার সময় নজরদারি ক্যামেরায় তার মেয়েকে দেখা যায়। পরে তিনি লাল টি-শার্ট ও জিনসের শর্টস পরেন এবং রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে যান। এরপর একটি ডমিনোজ পিজার দোকানের কাছে গিয়ে ক্যামেরার দৃশ্য থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে যান।   সেদিন বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে রিস তার মাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তখন অলিভার যেতে পারেননি। সেটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ।   মেয়েকে না আনতে পারার বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুশোচনার কথাও জানিয়েছেন অলিভার। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মেয়ের ফোনে কল করেন এবং অপেক্ষা করেন কখন সে ফিরে আসবে।   রিসের তিন মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা তার দেখাশোনা করছেন। অলিভার জানান, শিশুটি সুস্থ আছে এবং তার ওজনও বাড়ছে।   পরিবারের দাবি, সন্তানকে রেখে রিস স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মতো মানুষ নন। সন্তান জন্মের আগে তিনি তিনবার গর্ভপাতের শিকার হয়েছিলেন এবং ২৩ মে নিজের জন্মদিনে ছেলের জন্ম দেন।   অলিভার বলেন, 'তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে। সে তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে, তা আমি নিশ্চিতভাবে জানি।'   রিসের চুল কালো ও চোখ নীল। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল লাল টি-শার্ট ও জিনসের শর্টস।   তার সন্ধান দিতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ২ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। রিসকে কেউ দেখে থাকলে বা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ন্যাশভিল মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
খেজুরপাতার বদলে এবার তীরের দিকে ঈগল—যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতীকে আসছে ‘যুদ্ধের’ বার্তা
শান্তির প্রতীক সরিয়ে যুদ্ধের বার্তা, বদলে যাচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সিল

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাদের সরকারি সিল বা প্রতীক পরিবর্তন করছে। নতুন প্রতীকে ঈগলকে শান্তির প্রতীক খেজুরপাতার বদলে যুদ্ধের প্রতীক তীরের দিকে মুখ করে দেখানো হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করছে—এই বাস্তবতাই নতুন প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। প্রচলিত ডিএইচএসের সিলে ঈগলের এক নখরে খেজুরপাতা এবং অন্য নখরে তীরের গোছা রয়েছে। বর্তমানে ঈগল খেজুরপাতার দিকে মুখ করে আছে, যা শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সিলে ঈগলকে তীরের দিকে মুখ করানো হবে। মুলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তীরের দিকে মুখ করা ঈগল যুদ্ধাবস্থার প্রতীক। ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে মুলিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিনই দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলা করছে। মুলিনের মতে, সন্ত্রাসবাদ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি। তবে হুমকির ধরন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মাদক কারবারিদের মধ্যে সহযোগিতাও বাড়ছে। তিনি বিশেষভাবে মেক্সিকান মাদক কার্টেল, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ফেন্টানিলের বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বলেও জানান তিনি। মুলিন বলেন, নিরাপত্তার হুমকি এখন শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে সহজেই কেনা যায় এমন সাধারণ ড্রোন ব্যবহার করেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—সব দিকের হুমকিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মুলিন। তার দাবি, ইরান, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত। প্রতি সপ্তাহে শত শত হাজার সাইবার হামলার ঘটনা মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আসন্ন নির্বাচনী মৌসুমে রাজনৈতিক প্রার্থী ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক করেন মুলিন। তার মতে, ভিন্ন রাজনৈতিক মত থাকা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে মতপার্থক্যকে সহিংসতার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা হলে তা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। মুলিন বলেন, প্রতিদিন নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলোর ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই সন্ত্রাস, অপরাধ ও সাইবার হামলা মোকাবিলায় ডিএইচএসকেও নিয়মিত কৌশল পরিবর্তন করে এগোতে হচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০