শান্তির প্রতীক সরিয়ে যুদ্ধের বার্তা, বদলে যাচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সিল
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাদের সরকারি সিল বা প্রতীক পরিবর্তন করছে। নতুন প্রতীকে ঈগলকে শান্তির প্রতীক খেজুরপাতার বদলে যুদ্ধের প্রতীক তীরের দিকে মুখ করে দেখানো হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করছে—এই বাস্তবতাই নতুন প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
প্রচলিত ডিএইচএসের সিলে ঈগলের এক নখরে খেজুরপাতা এবং অন্য নখরে তীরের গোছা রয়েছে। বর্তমানে ঈগল খেজুরপাতার দিকে মুখ করে আছে, যা শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সিলে ঈগলকে তীরের দিকে মুখ করানো হবে। মুলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তীরের দিকে মুখ করা ঈগল যুদ্ধাবস্থার প্রতীক।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে মুলিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিনই দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলা করছে।
মুলিনের মতে, সন্ত্রাসবাদ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি। তবে হুমকির ধরন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মাদক কারবারিদের মধ্যে সহযোগিতাও বাড়ছে।
তিনি বিশেষভাবে মেক্সিকান মাদক কার্টেল, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ফেন্টানিলের বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বলেও জানান তিনি।
মুলিন বলেন, নিরাপত্তার হুমকি এখন শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে সহজেই কেনা যায় এমন সাধারণ ড্রোন ব্যবহার করেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—সব দিকের হুমকিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মুলিন। তার দাবি, ইরান, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত। প্রতি সপ্তাহে শত শত হাজার সাইবার হামলার ঘটনা মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন নির্বাচনী মৌসুমে রাজনৈতিক প্রার্থী ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক করেন মুলিন। তার মতে, ভিন্ন রাজনৈতিক মত থাকা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে মতপার্থক্যকে সহিংসতার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা হলে তা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।
মুলিন বলেন, প্রতিদিন নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলোর ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই সন্ত্রাস, অপরাধ ও সাইবার হামলা মোকাবিলায় ডিএইচএসকেও নিয়মিত কৌশল পরিবর্তন করে এগোতে হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ৩৬ বছর বয়সী এক মাকে খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। রোববার ডোনেলসন এলাকার কয়েকটি স্থানে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে তল্লাশিতে অংশ নেন তারা। সঙ্গে ছিল প্রশিক্ষিত একটি ক্যাডাভার কুকুর। নিখোঁজ ওই নারীর নাম কোর্টনি রিস। গত ১৮ আগস্ট লেবানন পাইকের একটি লন্ড্রোম্যাটে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেদিন দুপুর ১টার দিকে তার মামা তাকে ‘লোডস অব ক্লোদস’ লন্ড্রোম্যাটে নামিয়ে দিয়ে যান। রোববার স্বেচ্ছাসেবীরা ম্যাকলিনস বেন্ড ও ম্যাকগ্যাভক হাইস্কুলের কাছাকাছি ঘন জঙ্গলে পায়ে হেঁটে তল্লাশি চালান। লেবানন পাইকের পাশের একটি এলাকাতেও ক্যাডাভার কুকুর নিয়ে খোঁজ করা হয়। ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পাওয়ার বিষয়ে একটি তথ্য পাওয়ার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে পরে ধারণা করা হয়, গন্ধটি কোনো প্রাণীর কারণে হয়ে থাকতে পারে। তল্লাশিতে রিসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা আলামত পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান দলের নেতা ও প্রশিক্ষিত ভিকটিম অ্যাডভোকেট জুলস থর্প জানান, তারা অনেকটা এলাকা খুঁজেছেন। কোথাও যেন অনধিকার প্রবেশ না করা হয় এবং কোনো কিছু পাওয়া গেলে সেটি যেন কেউ স্পর্শ না করেন—স্বেচ্ছাসেবীদের সেভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তল্লাশি দলের সদস্যরা যেসব এলাকায় খোঁজ করেছেন, সেগুলোর তথ্যও সংরক্ষণ করেছেন, যাতে প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তা শেয়ার করা যায়। রিসের মা বনি অলিভার জানান, লন্ড্রোম্যাটে কাপড় ধোয়ার সময় নজরদারি ক্যামেরায় তার মেয়েকে দেখা যায়। পরে তিনি লাল টি-শার্ট ও জিনসের শর্টস পরেন এবং রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে যান। এরপর একটি ডমিনোজ পিজার দোকানের কাছে গিয়ে ক্যামেরার দৃশ্য থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে যান। সেদিন বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে রিস তার মাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তখন অলিভার যেতে পারেননি। সেটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ। মেয়েকে না আনতে পারার বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুশোচনার কথাও জানিয়েছেন অলিভার। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মেয়ের ফোনে কল করেন এবং অপেক্ষা করেন কখন সে ফিরে আসবে। রিসের তিন মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা তার দেখাশোনা করছেন। অলিভার জানান, শিশুটি সুস্থ আছে এবং তার ওজনও বাড়ছে। পরিবারের দাবি, সন্তানকে রেখে রিস স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মতো মানুষ নন। সন্তান জন্মের আগে তিনি তিনবার গর্ভপাতের শিকার হয়েছিলেন এবং ২৩ মে নিজের জন্মদিনে ছেলের জন্ম দেন। অলিভার বলেন, 'তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে। সে তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে, তা আমি নিশ্চিতভাবে জানি।' রিসের চুল কালো ও চোখ নীল। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল লাল টি-শার্ট ও জিনসের শর্টস। তার সন্ধান দিতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ২ হাজার ৫০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। রিসকে কেউ দেখে থাকলে বা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ন্যাশভিল মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
শান্তির প্রতীক সরিয়ে যুদ্ধের বার্তা, বদলে যাচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সিল
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়
ট্রাম্পের দাবি, ‘দেশের জন্য’ শেয়ারবাজারে কামিয়েছেন শত শত বিলিয়ন ডলার
প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার আনন্দের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বসবাসরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মুখোমুখি হতে হয়েছে বড় অঙ্কের হাসপাতাল বিলের। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে পাওয়া বিলে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের মোট চিকিৎসা ব্যয় দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। পরে নিজের হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা ও হিসাব সমন্বয়ের পর বিলের বড় একটি অংশ ইন্স্যুরেন্স বহন করে। তবে সব সমন্বয়ের পরও প্রায় ১০ হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে। এত বড় অঙ্কের অর্থ নিজেকে বহন করতে হওয়ায় বিষয়টি তার পরিবারের জন্যও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিয়াম জানান, হাসপাতালের বিলে এত বড় অঙ্কের খরচ দেখে শুরুতে তিনি সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর বিষয়টি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে তার মূল উদ্বেগ ছিল, হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে এই ৪০ হাজার ডলারের বিল কীভাবে মোকাবিলা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সিয়ামের এই অভিজ্ঞতা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এনেছে। কারণ হাসপাতালের মোট চিকিৎসা ব্যয় এবং একজন রোগীকে শেষ পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে যে অর্থ দিতে হয়, দুটি এক বিষয় নয়। হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চুক্তি ও কভারেজ অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন খরচ সমন্বয় হতে পারে। এরপর রোগীর নিজের বহন করতে হওয়া অর্থ নির্ধারিত হয়। কিন্তু হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। সন্তান জন্মের সময় হাসপাতালের চিকিৎসা, চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং অন্যান্য সেবার খরচ মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থের দায় তৈরি হতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোর জন্য আগে থেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেই পুরো হাসপাতাল বিল নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হবে, এমন নয়। কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা রয়েছে। অনেক পরিবার মেডিকেইড ও চিপের মতো সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে পারে। এসব সুবিধার ক্ষেত্রে পরিবারের আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলো সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, মোট আয়, কোন স্টেটে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন অবস্থার মতো বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ শুধু ইন্স্যুরেন্স নেই বলেই কেউ সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা থেকে বাদ পড়বেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী আবেদন করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী নারীদের জন্যও অনেক স্টেটে বিশেষ স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবারের আয় ও অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের মধ্যে থাকলে সন্তান জন্মের আগে থেকেই সরকারি স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ম, আয়সীমা ও অন্যান্য শর্ত স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যে স্টেটে পরিবারটি বসবাস করছে, সেই স্টেটের নিয়ম আগে থেকে যাচাই করা জরুরি। যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই এবং বড় অঙ্কের হাসপাতাল বিল হাতে এসেছে, তারা হাসপাতালের বিলিং বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তার সুযোগ আছে কি না, তা জানতে পারেন। অনেক হাসপাতাল কম আয়ের বা আর্থিক সংকটে থাকা রোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা, বিল কমানোর ব্যবস্থা কিংবা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। এসব সুবিধা হাসপাতাল ও স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। সিয়ামের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন প্রবাসী বাবার হাসপাতাল বিলের ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও। বিশেষ করে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতা, নিজের পকেট থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা দিতে হতে পারে এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসক ইন্স্যুরেন্সের আওতায় রয়েছেন কি না, সেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি। আর হঠাৎ বড় হাসপাতাল বিল হাতে এলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা, বিলের প্রতিটি খাত যাচাই করা এবং হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। কম আয়ের পরিবার হলে নিজের স্টেটের সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত। সিয়ামের ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সমন্বয়ের কারণে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের মোট হাসপাতাল খরচের পুরোটা তাকে বহন করতে হয়নি। তারপরও প্রায় ১০ হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই দেখিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের মতো বড় চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে আগে থেকেই সরকারি ও হাসপাতালভিত্তিক সহায়তার পথগুলো সম্পর্কে জানা কেন জরুরি।
পরিচিত দুই ব্যক্তিকে গুলি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ২৭ বছরের যুবক
বিমানে বর্ণবাদী গালাগাল, চাকরি হারালেন ডাক্ট টেপে বাঁধা যাত্রী
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি! সেপ্টেম্বরে শত শত পদে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন প্রবাসী বাঙালিরাও
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার ভয়াবহতার অন্যতম প্রতীক হয়ে আছে ‘ফলিং ম্যান’ নামে পরিচিত একটি ছবি। ছবিতে নর্থ টাওয়ার থেকে এক ব্যক্তিকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। হামলার দিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোসাংবাদিক রিচার্ড ড্রু ছবিটি ধারণ করেন। ছবিটি ধারণের সময় টুইন টাওয়ারে আটকে থাকা বহু মানুষ ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে জীবন বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন প্রায় ২০০ মানুষ ভবন থেকে নিচে পড়ে মারা যান। ‘ফলিং ম্যান’ ছবিটি সেই মর্মান্তিক ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে। ছবিটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এমন একটি মর্মান্তিক মুহূর্ত প্রকাশ করা কতটা সংবেদনশীল ও নৈতিক, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবাদপত্র ছবিটি একবার প্রকাশের পর আর ছাপেনি। তবে ছবিটির গুরুত্বের পক্ষে অবস্থান নেন রিচার্ড ড্রু। তাঁর মতে, ছবিটিতে কোনো সরাসরি রক্তাক্ত বা গ্রাফিক দৃশ্য নেই। বরং এটি ৯/১১ হামলায় মানুষের ভয়াবহ পরিণতির একটি নীরব দলিল। ছবিতে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে ধারণা করা হয়েছে, তিনি নর্থ টাওয়ারের ‘উইন্ডোজ অন দ্য ওয়ার্ল্ড’ রেস্তোরাঁর কর্মী অথবা ভবনের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তবে এসব ধারণার কোনোটিই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। হামলার ২৫ বছর পরও ‘ফলিং ম্যান’ ছবিটি ৯/১১-এর মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ও সেই দিনের ভয়াবহতার অন্যতম স্মারক হিসেবে মানুষের মনে রয়ে গেছে।
স্ত্রীসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের তথ্য পাঠাল এফবিআই
সোশ্যাল সিকিউরিটি আপডেট, সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলারের পেমেন্ট আসছে এই সপ্তাহে!