শিক্ষা ঋণ

পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন
পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন, শেষ পর্যন্ত উঠল প্রায় ৩৫ লাখ টাকা!

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ জোগাড় করতে শিক্ষাঋণ না নিয়ে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাইক হেইস। ১৯৮৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে পড়াশোনা শুরু করার সময় চার বছরের খরচ মেটাতে তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। সেই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি লাখ লাখ মানুষের কাছে মাত্র এক সেন্ট করে সাহায্য চাওয়ার পরিকল্পনা করেন।   তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ছে, মাইক নিজে ২৮ লাখ মানুষের কাছে আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এমনটি নয়। তিনি যোগাযোগ করেছিলেন শিকাগো ট্রিবিউনের জনপ্রিয় কলামিস্ট বব গ্রিনের সঙ্গে। গ্রিনের লেখা তখন যুক্তরাষ্ট্রের বহু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো এবং তার পাঠকসংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়ন।   মাইক বব গ্রিনকে জানান, যদি ২৮ লাখ মানুষ তাকে মাত্র এক সেন্ট করে পাঠান, তাহলে তার চার বছরের কলেজ খরচ উঠে যাবে। অভিনব পরিকল্পনাটি গ্রিনের পছন্দ হয় এবং তিনি ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের কলামে মাইকের আবেদন প্রকাশ করেন।   এরপরই শুরু হয় অভাবনীয় সাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠির সঙ্গে আসতে থাকে এক সেন্টের কয়েন। অনেকে শুধু এক সেন্টেই থামেননি। কেউ পাঁচ সেন্ট, কেউ দশ বা ২৫ সেন্ট, আবার কেউ ডলার কিংবা চেক পাঠিয়েছেন। কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও অনুদান আসে।   অল্প সময়ের মধ্যেই এত চিঠি আসতে শুরু করে যে স্থানীয় পোস্ট অফিসেও চাপ তৈরি হয়। মাইকের ছোট্ট আবেদন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তার গল্প প্রচার হতে থাকে।   শেষ পর্যন্ত মাইক প্রায় ২৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। ওই অর্থ দিয়েই ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে চার বছরের পড়াশোনার খরচ মেটান তিনি।   পরে ১৯৯১ সালে ফুড সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন মাইক। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ডলার আরেকজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল নবীন শিক্ষার্থীকে দেওয়ার কথাও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে।   ঘটনাটি প্রায় চার দশক আগের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের যুগ শুরু হওয়ারও আগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে সংবাদপত্রের পাঠকদের ছোট ছোট অনুদান একত্র করে নিজের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে পেরেছিলেন, সেই কারণেই গল্পটি এখনো মানুষের আগ্রহ কাড়ে।   মাইকের পরিকল্পনার মূল হিসাব ছিল খুবই সহজ। একজনের কাছে এক সেন্ট প্রায় মূল্যহীন মনে হতে পারে, কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সামান্য করে সহযোগিতা করলে সেটিই বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। তার ক্ষেত্রে সেই এক সেন্টের ধারণাই শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ডলারের কলেজ ফান্ডে পরিণত হয়েছিল।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খেলাপির সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ঋণ খেলাপির নতুন রেকর্ড: কিস্তি পরিশোধে হিমশিম ৯৫ লাখ আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ঋণগ্রহীতার সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মহামারিকালীন ঋণ পরিশোধ স্থগিত কর্মসূচির সমাপ্তি এবং শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে লাখো মানুষ কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৯৫ লাখ ফেডারেল শিক্ষাঋণগ্রহীতা যা মোট ঋণগ্রহীতার প্রায় ২০ শতাংশ টানা নয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া ঋণ পরিশোধ স্থগিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর খেলাপির সংখ্যা এক লাফে প্রায় ৪২ লাখ বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের সহায়তায় দেওয়া মোট ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২৩৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘প্রটেক্ট বরোয়ার্স’-এর নীতিনির্ধারণ পরিচালক আইসা কানচোলা বানিয়েজ এপিকে বলেন, “মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়তে থাকা শিক্ষাঋণের কিস্তি তাদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে অনেকেই নিয়মিত কিস্তি দিতে পারছেন না।”   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক মাস কিস্তি বকেয়া থাকলেই একজনের ঋণমান (ক্রেডিট স্কোর) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর ঋণ খেলাপি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে সরকার ভবিষ্যতে বেতন বা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার একটি অংশ কেটে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লাভজনক (ফর-প্রফিট) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতারা সরকারি বা অলাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছেন। এই শ্রেণির ৩৩ শতাংশ ঋণগ্রহীতা অন্তত ৯০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধ করেননি।   অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিসিসিপিতে শিক্ষাঋণ খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে লুইজিয়ানা, আলাবামা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাস। এছাড়া আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, নিউ মেক্সিকো এবং নেভাদাও খেলাপির দিক থেকে শীর্ষ ১৫ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অনেকের ধারণা শিক্ষাঋণ খেলাপিরা বেকার বা কর্মহীন। বাস্তবে এর বড় অংশই কর্মজীবী মানুষ, যারা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে শিক্ষাঋণের কিস্তির চাপ সামলাতে পারছেন না।   কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ ফেডারেল শিক্ষাঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। যদিও ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কিস্তি পরিশোধ পুনরায় চালু হয়, বাইডেন প্রশাসন এক বছরের জন্য একটি ‘সুরক্ষা সময়’ (বাফার পিরিয়ড) দিয়েছিল। এই সময়ে কিস্তি বকেয়া থাকলেও ঋণ খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়নি। সেই সময়সীমা ২০২৪ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুন থেকে আবারও ঋণ খেলাপির হিসাব শুরু হয়।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষাঋণ পরিশোধ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আয়ভিত্তিক সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিশোধ কর্মসূচি ‘সেভ’ (SAVE) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য একাধিক বিকল্পের পরিবর্তে একটি সাধারণ পরিশোধ পরিকল্পনা এবং একটি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ফলে আগে ‘সেভ’ কর্মসূচির আওতায় থাকা লাখো ঋণগ্রহীতাকে এখন তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।   তবে যেসব ঋণ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়েছে, সেগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য ঋণগ্রহীতারা আয়ভিত্তিক ধারাবাহিক নয়টি কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন অথবা নতুন ফেডারেল ডাইরেক্ট লোনের মাধ্যমে ঋণ একীভূত (কনসোলিডেশন) করতে পারেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতারণামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আরও প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর মোট ১১ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ চূড়ান্তভাবে মওকুফ করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত ঋণগ্রহীতাদের পক্ষে একটি যুগান্তকারী রায় দেওয়ার পর এই বিপুল অঙ্কের ঋণ বাতিলের পথ পুরোপুরি সুগম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতারিত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হলো।   মামলাটির সূত্রপাত ঘটেছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে। তখন অভিযোগ উঠেছিল, বেশ কয়েকটি লাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায় এবং তাদের বিপুল পরিমাণ ফেডারেল ঋণ নিতে একপ্রকার বাধ্য করে।   পরবর্তীতে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় সরকার এই মামলাটির নিষ্পত্তিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় প্রায় ৩ লাখ ঋণগ্রহীতার শিক্ষাঋণ আগেই মওকুফ করা হয়েছিল। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর যেসব শিক্ষার্থী প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন, তাদের আবেদনগুলো ইউএস এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে পর্যালোচনা করার জন্য ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।   কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন এসব ঝুলে থাকা আবেদন পর্যালোচনার জন্য আদালতের কাছে আরও ১৮ মাস বাড়তি সময় চেয়েছিল। একটি ফেডারেল জেলা আদালত তাদের সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে সেই খারিজের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলেই মূলত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যায়।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো শ্রেণিভিত্তিক (ক্লাস-অ্যাকশন) মামলাটির আওতায় উপকৃত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াল, যাদের মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ চিরতরে বাতিল হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী অলাভজনক আইনি সংস্থা 'প্রজেক্ট অন প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিং' জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শ্রেণিভিত্তিক আইনি সমঝোতা। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষ্পত্তির নজিরবিহীন ঘটনা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আজ থেকে ফেডারেল শিক্ষাঋণে বড় পরিবর্তন, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ঋণে নতুন সীমা, বিশেষ ঋণ কর্মসূচি বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে আজ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ফেডারেল শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় স্নাতকোত্তর ও পেশাগত ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং পুরো শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিতে পারবেন। অন্যদিকে চিকিৎসা, আইন, ডেন্টাল, ভেটেরিনারি ও অন্যান্য স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং মোট ২ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   আগে এই বিশেষ ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে নিতে পারতেন। তবে ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে যারা একই শিক্ষা কর্মসূচিতে এই সুবিধা নিয়েছেন, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আগের নিয়ম অনুযায়ী কিছু সুবিধা বজায় রাখতে পারবেন।   ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য মূলত দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত শিক্ষাঋণ নির্ভরতা কমানো, সরকারি ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে উৎসাহিত করা।   তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নতুন ঋণসীমার কারণে উচ্চ ব্যয়ের স্নাতকোত্তর ও পেশাগত ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে পারেন, যেখানে সুদের হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

সিদ্দিকুর রহমান জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নিয়মে বড় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত
১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর, প্রভাব পড়বে লাখো শিক্ষার্থীর ওপর

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল শিক্ষাঋণ (স্টুডেন্ট লোন) ব্যবস্থায় বুধবার (১ জুলাই) থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের চালু করা সেভ (Saving on a Valuable Education বা SAVE) পরিশোধ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং প্যারেন্ট প্লাস (Parent PLUS) ঋণের ক্ষেত্রে নতুন ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের গ্র্যাজুয়েট প্লাস (Graduate PLUS) ঋণ কর্মসূচিও ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের লাখো শিক্ষাঋণগ্রহীতার ঋণ নেওয়া এবং পরিশোধের নিয়মে পরিবর্তন আসবে।   বন্ধ হচ্ছে ‘সেভ’ পরিকল্পনা বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সেভ পরিকল্পনায় প্রায় ৭০ লাখ ঋণগ্রহীতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় অনেকের মাসিক কিস্তি শূন্য ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ কর্মসূচির আওতায় কিস্তি আদায় স্থগিত ছিল। যদিও ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হতে থাকে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেভ পরিকল্পনায় থাকা ঋণগ্রহীতাদের অন্য পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা বেছে না নিলে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি নতুন ব্যবস্থার একটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর একটি হলো রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান (RAP), যেখানে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর। অন্যটি টিয়ার্ড স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান, যেখানে ঋণের ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পরিকল্পনায় অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি আগের তুলনায় কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।   কিছু পুরোনো পরিকল্পনা থাকছে সীমিত সময় পে অ্যাজ ইউ আর্ন (PAYE) এবং ইনকাম-কনটিনজেন্ট রিপেমেন্ট (ICR) পরিকল্পনা আপাতত চালু থাকলেও ২০২৮ সালের মধ্যে এগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে এসব পরিকল্পনায় নাম লেখানো যাবে।   অন্যদিকে নতুন করে ফেডারেল শিক্ষাঋণ না নিলে অনেক ঋণগ্রহীতা ইনকাম-বেইজড রিপেমেন্ট (IBR) পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে কিছু ধরনের প্যারেন্ট প্লাস ঋণ এই সুবিধার বাইরে থাকবে।   প্যারেন্ট প্লাস ঋণে নতুন সীমা সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য অভিভাবকদের নেওয়া প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার এবং একজন শিক্ষার্থীর জন্য সর্বমোট ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত এই ঋণ নেওয়া যাবে।   তবে ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে যেসব শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে প্যারেন্ট প্লাস বা নির্ধারিত ফেডারেল ঋণের অর্থ পেয়েছেন, তারা কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার বাইরে থাকবেন। এছাড়া ১ জুলাইয়ের পর নেওয়া বা একীভূত করা নতুন প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রে টিয়ার্ড স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান ছাড়া অন্য কোনো আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনার সুযোগ থাকবে না। এসব ঋণগ্রহীতা পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস (PSLF) কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারবেন না।   স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ঋণেও সীমা নতুন আইনে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ফেডারেল ঋণের পরিমাণও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫০০ ডলার এবং জীবনভর মোট ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।   অন্যদিকে চিকিৎসা, আইনসহ বিভিন্ন পেশাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার এবং সর্বমোট ২ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এতদিন সীমাহীন ঋণ সুবিধা দেওয়া গ্র্যাজুয়েট প্লাস কর্মসূচি ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় একই প্রতিষ্ঠানে একই বিষয়ে পড়ছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছর পর্যন্ত আগের সুবিধা পাবেন।   ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি ফেডারেল শিক্ষাঋণ হিসেবে জীবনভর সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর আগে এ ধরনের কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছিল না।   স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধে সুদ কমবে পরিবর্তনের মধ্যেও ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন শিক্ষা বিভাগ। যারা অটোপে বা স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন, তারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের সুদের হারে অতিরিক্ত ১ শতাংশ ছাড় পাবেন।   এর আগে অটোপে সুবিধা ব্যবহারকারীরা ০ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ ছাড় পেতেন। নতুন সুবিধা পেতে আগ্রহীদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক কিস্তি বাড়ার পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার সুযোগও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে যাবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০