- প্রচ্ছদ
- Topic
শিক্ষিকা
জার্মানিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রায় ১৬ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত পুরো বেতন নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ৬২ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৯ সাল থেকে স্কুলে পড়াতে যাননি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বেতন পেয়েছেন এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো শারীরিক পরিশ্রমের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর অসুস্থতার সনদ এবং বেতন নেওয়ার বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন জার্মানির সরকারি কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ল্যাডবাইবেলের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি জার্মানির নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভেসেল শহরের একটি সরকারি ভোকেশনাল বিজনেস কলেজের। অভিযুক্ত শিক্ষিকা ২০০৩ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি অসুস্থতার ছুটি নেওয়া শুরু করেন। এরপর আর নিয়মিত শিক্ষকতায় ফিরে যাননি। তবে অসুস্থতার সনদ জমা দেওয়ার মাধ্যমে পুরো বেতন পেতে থাকেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে কলেজটিতে নতুন প্রধান শিক্ষক যোগ দেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মীদের তালিকায় ওই শিক্ষিকার নাম থাকলেও তিনি তাঁকে চিনতেন না। এমনকি ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর আগে কখনো পরিচয়ও হয়নি। তারপরও বছরের পর বছর সরকারি বেতন দেওয়া অব্যাহত ছিল। পরবর্তী সময়ে কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসার পর দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা কর্মীদের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, একজন শিক্ষিকা প্রায় দেড় দশক ধরে কোনো ক্লাস না নিয়েও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ২০২৪ সালে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা তাঁর অসুস্থতার নথি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ এবং ওই সময়ে তিনি কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা পরীক্ষা শুরু করেন। তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষিকার স্কুবা ডাইভিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। স্কুবা ডাইভিং হলো পানির নিচে বিশেষ শ্বাসপ্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডুব দেওয়ার একটি কার্যক্রম। এতে শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে শিক্ষকতা করতে অক্ষম থাকার দাবি জানালেও তিনি কীভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। তবে স্কুবা ডাইভিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলেই তাঁর অসুস্থতার দাবি মিথ্যা হয়ে যায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তদন্তকারীরা। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। ফলে শিক্ষিকার প্রকৃত চিকিৎসাগত অবস্থা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার যৌক্তিকতা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা ডাইভিংয়ের জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকার দুটি মেডিকেল সার্টিফিকেট জাল করে থাকতে পারেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব সনদে এমন একজন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। অভিযোগটি সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন অসুস্থতার ছুটিতে থাকা শিক্ষিকাকে সরকারি মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানান। পরে আদালত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বহাল রাখেন এবং তাঁকে মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেন। এই ঘটনার আর্থিক দিকও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই শিক্ষিকাকে দেওয়া বেতনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তদন্তকারীরা এই অর্থকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে ২০০৯ সাল থেকে পুরো সময়ে তিনি মোট কত অর্থ পেয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরগুলোর অনুপস্থিতি নিয়ে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্তকারীরা মূলত ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিক্ষিকা দীর্ঘ ১৬ বছরের অনুপস্থিতির সময় মোট ১০টি অসুস্থতার সনদ জমা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর আরও একটি সনদ জমা দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এসব সনদের বৈধতা এবং সেগুলো ব্যবহার করে বেতন নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ১১টি বিশেষ গুরুতর প্রতারণার ঘটনা এবং দুটি নথি জালিয়াতির অভিযোগে বিচার চালানোর মতো পর্যাপ্ত সন্দেহের ভিত্তি পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁর দায় নির্ধারিত হবে। জার্মানির আইন অনুযায়ী, গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও এই মামলায় শেষ পর্যন্ত কী সাজা হতে পারে, তা নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি চাকরি ও অবসরসংক্রান্ত বিরোধও রয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, শিক্ষকতার চাকরিতে অসুস্থতার ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি বিকল্প চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কোনো পেশায় কাজ করেছেন কি না। তাঁর ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একজন সরকারি কর্মীর অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। এই ঘটনা জার্মানির সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থতার ছুটি পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা একজন শিক্ষিকার বেতন কীভাবে বছরের পর বছর চালু ছিল এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে কেন বিষয়টি আগে নজরে আসেনি, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জার্মানিতে সরকারি কর্মীদের অসুস্থতার ছুটি ও বেতনসংক্রান্ত সুবিধা তাঁদের চাকরির ধরন এবং প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করে। তবে অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কর্তৃপক্ষের চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক তদারকির সুযোগ রয়েছে। এই মামলায় সেই তদারকি যথাযথভাবে হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। স্কুবা ডাইভিংয়ের কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদের বৈধতা নিয়েও তদন্ত চলছে। আদালত এখনো তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ১৬ বছর বেতন নেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হলেও সেই অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশে কর্মরত শিক্ষিকা হাজিয়া আমাজুদ কর্মস্থলে হিজাব খুলতে অস্বীকার করায় চাকরি হারিয়েছেন। আসেনেডে শহরের কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাস নামের বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। প্রদেশের স্কুলগুলোতে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক নিষিদ্ধ করার নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাজুদ স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই হিজাব পরতেন। ২০২৪ সালে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্মীদের বিধিমালা পরিবর্তন করে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়। ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক বিষয় পড়ানো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পরও আমাজুদ হিজাব পরেই শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেন। এ নিয়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের পর একাধিক শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের শৃঙ্খলামূলক কমিটির সামনে হাজির হন। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আমাজুদের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনের সময় আগে থেকেই হিজাব পরতেন এবং তার কাজের দক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পেয়েছিলেন। চাকরি হারানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এর ফলে শুধু চাকরিই নয়, তার আয়, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী নিয়োগও হারাতে হচ্ছে। অন্যদিকে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্মীদের জন্য অনুমোদিত বিধিমালা কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কার্ট মোয়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে পরিচালনার নীতির সঙ্গে এই বিধিমালা সম্পর্কিত। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি আদালত আমাজুদের হিজাব পরার অধিকার নিয়ে করা কয়েকটি দাবি খারিজ করেছিল। আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পরও বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আমাজুদের পক্ষে থাকা সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন ACOD চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রাসেলসের আপিল চেম্বারে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ইউনিয়নটির মতে, এই মামলার রায় বেলজিয়ামের স্কুলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতির মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনাটি বেলজিয়ামে শিক্ষক ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি ও অভিন্ন কর্মবিধির কথা বলছে, অন্যদিকে আমাজুদ ও তার ইউনিয়ন ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। এখন আপিল প্রক্রিয়ায় এই দুই নীতির মধ্যে আইনি সীমারেখা কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক শিক্ষিকা আদালতে অঝোরে কেঁদেছেন। গত সোমবার রিভারসাইড সুপিরিয়র কোর্টে শুনানিকালে ভুক্তভোগী ওই কিশোরের মা তাদের পারিবারিক ট্রমা ও মানসিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা ৩৪ বছর বয়সী আমান্ডা লেই কুইনোনেজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রায় চার বছর আগে নিজের ওই ছাত্রের সঙ্গে জঘন্য এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। আমান্ডা কুইনোনেজ রিভারসাইডের এলেনর রুজভেল্ট হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষিকা এবং ওয়াটার পোলো ও সাঁতারের কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিকৃত যৌন নিপীড়ন এবং তাকে যৌন উদ্দীপক সামগ্রী সরবরাহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা-মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা চেয়ে আমান্ডা স্বীকার করেন যে, একজন শিক্ষিকা হিসেবে তিনি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতে ওই কিশোরের মা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, শিক্ষিকার এমন ঘৃণ্য আচরণের কারণে তার ছেলেকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অন্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি ও উপহাসের কারণে ভুক্তভোগী কিশোর ও তার বড় ভাইকে স্কুলের বেসবল দল ছাড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাকে বারবার বলতেন এই সম্পর্ক গোপন রেখে তাকে (শিক্ষিকাকে) রক্ষা করতে হবে। ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকা এই সাবেক শিক্ষিকাকে মঙ্গলবার পুনরায় আইনি হেফাজতে নেওয়ার কথা রয়েছে। মানসিক মূল্যায়নের জন্য আপাতত তাকে স্টেট প্রিজনে পাঠানো হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার জন্য তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ ছাত্রকে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। জঘন্য এই ঘটনার শিকার হয়ে ওই কিশোর ঈশ্বরের ওপর থেকে নিজের বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন। ব্রুক অ্যান্ডারসন নামের ২৮ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা বর্তমানে যৌন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৩০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাবাসের দুই মাস পার হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে এই নতুন দেওয়ানি মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনাটির শুরু হয়েছিল খুব স্বাভাবিকভাবেই। টাম্পার রিভারভিউ হাই স্কুলে পড়ার প্রথম দুই বছর ওই ছাত্র বিজ্ঞান শিক্ষিকা ব্রুক অ্যান্ডারসনের ক্লাসরুমেই দুপুরের খাবার খেতেন। তবে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষিকা ধীরে ধীরে ছাত্রটির সাথে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষিকা তাকে অত্যন্ত অশালীন ও যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠাতে শুরু করেন, যা ছাত্রটির হাইস্কুলের শেষ বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর গত বছরের এপ্রিল মাসে (২০২৫) ওই ছাত্রকে আপত্তিকর ছবি পাঠান এবং মে মাসে ক্লাসরুমের ভেতর তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রটির বয়স সম্মতি প্রদানের আইনি বয়সের (Age of consent) চেয়ে এক বছর কম ছিল। এর আগে ফৌজদারি আদালতে তিনটি বেআইনি যৌন কার্যকলাপসহ একাধিক অভিযোগে ওই শিক্ষিকা নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী কিশোরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জঘন্য এই যৌন নির্যাতনের কারণে ওই কিশোর স্থায়ী মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন, যার ফলে ঈশ্বরের ওপর তার বিশ্বাসও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য রোড আইল্যান্ডে এক বিলাসবহুল পরিবেশে বেড়ে ওঠা ওই শিক্ষিকার কাছে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। এছাড়াও, এমন একজন বিকৃত মানসিকতার শিক্ষিকাকে স্কুলে নিয়োগ দিয়ে চরম অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় হিলসবরো কাউন্টি স্কুল বোর্ডের কাছেও আরও ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। শিক্ষিকা নিজে থেকে ফৌজদারি অপরাধের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় বর্তমান ক্ষতিপূরণ মামলায় ভুক্তভোগী কিশোরের অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন কাউন্টিতে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রকে নগ্ন ছবি পাঠানো এবং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার দায়ে ক্যাসিডি কার্টার (২১) নামের এক সাবেক সাবস্টিটিউট শিক্ষিকাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার পর বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ডিয়ারবর্ন কমিউনিটি স্কুল কর্পোরেশনে সাবস্টিটিউট শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ওই মিডল স্কুলের ছাত্রের সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যুক্ত হন কার্টার। নভেম্বর মাসের শুরুর দিক থেকে তাদের মধ্যে এই অনলাইন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কার্টার প্রায়ই গোসলের পর গভীর রাতে নিজের নগ্ন ছবি ওই ছাত্রকে পাঠাতেন। এমনকি মেসেজে তিনি ছাত্রটিকে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলেও জানাতেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্র নিজেই বিষয়টি স্কুল রিসোর্স অফিসারকে জানালে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করা হয় এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা কার্টারের ফোন থেকে সেই আপত্তিজনক ছবি ও মেসেজগুলো উদ্ধার করেন। ডিয়ারবর্ন কাউন্টির প্রসিকিউটর লিন ডেডেন্স জানান, প্রাথমিকভাবে কার্টারের বিরুদ্ধে শিশু সলিসিটেশনের (প্রলোভন) মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করায় অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করে এই সাজা দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের পেশাদারিত্বের সীমা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্ক সিটির এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে উল্টো ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করেছে। পরে প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী লরেন ভিটালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পিএস ৮৪ বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়াতেন তিনি। মামলায় ভিটালে অভিযোগ করেছেন, সহিংস আচরণের নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা এক শিক্ষার্থীকে আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়াই তার শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার মুখে থুতু নিক্ষেপ করে এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারে। আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার পর ভিটালের রক্তক্ষরণ, পেটে ব্যথা, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দেয়। পরে তিনি নিজেই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে যান এবং চিকিৎসা নেন। তবে হামলার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করে বলে অভিযোগ করেছেন ভিটালে। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার আঘাতের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করেন, তার বিরুদ্ধে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, বেতন কেটে নেন এবং কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ভিটালের ভাষ্য, "তারা বলেছিল আমি নাকি পেটে লাথি খাওয়া এড়াতে পারতাম। আমি তো সিনেমার নায়ক নই যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু এড়িয়ে যেতে পারব।" তিনি আরও বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, হয়তো আমার সন্তানকে হারাব।" মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। ভিটালের দাবি, প্রশ্নটি তাকে অস্বস্তিতে ফেললেও চাকরির প্রয়োজন থাকায় তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের শুরুতে আরেক সহিংস শিক্ষার্থীকে তার শ্রেণিকক্ষে রাখার বিরুদ্ধে শিক্ষক ইউনিয়নে অভিযোগ করার পর থেকেই তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীও এক পর্যায়ে তাকে কামড় দেয় এবং পর্দার রড দিয়ে আঘাত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, পরে গর্ভধারণের খবর বিদ্যালয়ের এক কাউন্সেলরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ করে নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার কাজের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয় এবং তাকে একটি টিচার ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান-এর আওতায় আনা হয়। ভিটালের অভিযোগ, গর্ভধারণের পর থেকেই তাকে আরও বেশি পর্যবেক্ষণ করা হতো এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে। এ বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ইউনিয়নের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার এক সপ্তাহ পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হওয়ার ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মা ভিটালে আদালতের মাধ্যমে চাকরি ফিরে পেতে চান। তিনি বলেন, "আমি আবারও শিশুদের পড়াতে চাই। শিক্ষকতাই আমার পেশা, আমি শুধু আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাই। যা ঘটেছে, তাতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, মামলার বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নিউপোর্টে এক শিক্ষিকাকে নিজের দুই দত্তক কিশোর পুত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকার নাম অ্যাম্বার সোয়েইন। তার বিচ্ছিন্ন স্বামী ওই শিক্ষিকা এবং এক দত্তক পুত্রের মধ্যকার কিছু আপত্তিকর খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে এই গুরুতর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। আরও পড়ুন... মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু? আদালতের নথি অনুযায়ী, সোয়েইন তার ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই দত্তক পুত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এক কিশোর জানায়, গত ডিসেম্বর মাস থেকে তার সঙ্গে সোয়েইনের এই সম্পর্ক শুরু হয়, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করে যে, তাদের মধ্যে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, অপর এক কিশোর তদন্তকারীদের জানিয়েছে, মায়ের বিছানায় ঘুমানোর এক পর্যায়ে তাদের মধ্যেও আপত্তিকর ঘটনা ঘটে এবং এক ভাই অন্য ভাইয়ের ঘরে মায়ের উপস্থিতি দেখে সন্দেহও পোষণ করেছিল। ফাঁস হওয়া মেসেজেও এক কিশোর পুনরায় মায়ের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। যদিও সোয়েইন প্রথমদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘুমের ঘোরের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পরবর্তীতে তদন্তকারীদের জেরার মুখে তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে এক কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। ▶️ ভিডিও দেখুন... আমেরিকায় মুসলিমদের বিস্ময়কর উত্তান ও অগ্রযাত্রা অ্যাম্বার সোয়েইন পেশায় পেন্ড ওরেইল রিভার স্কুলের একজন শিক্ষিকা ছিলেন এবং ফস্টার শিশুদের সহায়তাকারী 'স্পোকেন অ্যাঞ্জেলস' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। জানা গেছে, ২০১৭ সালে নিজের ক্লাসরুমের এক শিশু শিক্ষার্থীকে তিনি প্রথম দত্তক নিয়েছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের শিশু, যুব ও পরিবার বিভাগের কাছে টেক্সট মেসেজের প্রমাণ হস্তান্তরের ভিত্তিতে গত ২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। গত ৮ জুন আদালতে সোয়েইন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ৬ অক্টোবর এই মামলার বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।