- প্রচ্ছদ
- Topic
শিশু
ফ্লোরিডায় বাবার বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে আনতে গিয়ে তাদের ও তাদের বাবার ম র দে হ খুঁজে পেয়েছেন অলিভিয়া পিকোলো নামে এক মা। গত বুধবার, ৭ অক্টোবর, ব্রেভার্ড কাউন্টির কোকো শহরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ৩৭ বছর বয়সী জোসেফ ডিংওয়াল তাঁর সাত বছরের ছেলে রেমি ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরিয়াকে গু লি করে হ ত্যা করার পর নিজেও আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ। কোকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিজের কাছে নেওয়ার নির্ধারিত দিনে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন অলিভিয়া। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সরেন্টো ড্রাইভে জোসেফের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দরজাটি কিছুটা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে দুই সন্তান ও তাদের বাবাকে মৃ ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এরপর দুপুরে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন অলিভিয়া। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সন্তানদের হারানোর শোক এবং তাদের বাবার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অলিভিয়া। তাঁর পোস্ট উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তানদের নিরাপত্তা ও দেখভালের দায়িত্ব যাঁর ওপর ছিল, তাঁর কাছ থেকেই এমন পরিণতি আসবে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়েও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা তাঁর কাছে বড় বলে জানিয়েছেন তিনি। অলিভিয়া আরও বলেছেন, রেমি ও আরিয়ার মা হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। সন্তানদের জীবনের পরিচয় যেন শুধু তাদের মৃ ত্যুর ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই তাঁর চাওয়া। বরং তারা কেমন ছিল, তাদের ভালোবাসা, স্বভাব ও একসঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলোই মানুষের মনে বেঁচে থাকুক—এমনটাই চান তিনি। আরেকটি পোস্টে সন্তানদের কাপড় ধোয়ার সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অলিভিয়া। ওয়াশিং মেশিনে পড়ে থাকা ছোট ছোট মোজা ও জামাকাপড় দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ব্যবহৃত এসব ছোট জিনিস তাঁর কাছে তাদের স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময় পার করতে সন্তানদের স্মৃতিই তাঁকে শক্তি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিবেশীরাও হতবাক হয়ে পড়েছেন। রাস্তার বিপরীতে বসবাসকারী মার্কোস গার্সিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে, মধ্যরাতের দিকে তিনি দুটি জোরালো শব্দ শুনেছিলেন। তাঁর কাছে শব্দগুলো গু লির শব্দ বলে মনে হয়েছিল। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ওই সময় বাড়ির বাইরে একজনকে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তবে শুধু শব্দ শোনার সময়ের ভিত্তিতে মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা যায়নি। কোকো পুলিশপ্রধান ইভ্যান্ডার কলিয়ার জানিয়েছেন, ওই সময়ে গু লির শব্দের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো জরুরি ফোন আসেনি। তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে বাড়িটিতে বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ১১ বার পুলিশ ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ছিল। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। পুলিশপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কেন দুই শিশুর জীবন এমনভাবে শেষ হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে শিশুদের শেষকৃত্যের খরচ বহন এবং অলিভিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিবারের বন্ধুদের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।
শিশুদের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বেরিয়ে আসার কৌশল শেখাতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিউইয়র্কের দমকল বিভাগ। 'জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহ' উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আগুন প্রতিরোধের মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে শিশুদের কাছে অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়কভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণত শিশুদের জন্য অগ্নিনিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলো বোঝা ও মনে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শেখার পুরো প্রক্রিয়াটিকে তাদের উপযোগী করে বিনোদনমূলক উপায়ে সাজিয়েছে দমকল বিভাগ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো। হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, সে বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই একটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দমকল বিভাগের মতে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদকালীন সময়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমন পূর্বপ্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহের এই আয়োজনে শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিও আগুন থেকে সুরক্ষার জরুরি নিয়মগুলো নিয়মিত অনুশীলনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দমকল বিভাগ মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবন রক্ষাকারী এসব কৌশল শেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। এছাড়া শিশুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম শেখানোর বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেন যেকোনো বিপদের সময় শিশুরাও নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে পারে।
চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বাসিন্দা ম্যাডিসন মালমগ্রেন ও তার স্বামী মার্ক। আগের তিন সন্তানই সুস্থভাবে জন্ম নেওয়ায় চতুর্থ সন্তানকে ঘিরেও তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে করা আল্ট্রাসাউন্ডে চিকিৎসকেরা এমন কিছু অস্বাভাবিকতা দেখতে পান, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় পরিবারের আনন্দ। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, অনাগত সন্তান সানি গল্টজ সিনড্রোম নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। ম্যাডিসন জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি জানতে পারেন আবারও মা হতে চলেছেন। আগের গর্ভধারণের তুলনায় এবার বমিভাব ও অসুস্থতা বেশি থাকলেও শুরুতে বড় কোনো সমস্যা মনে হয়নি। বরং চতুর্থ সন্তানের লিঙ্গ জানার জন্য তিনি আরও বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে চিকিৎসকের কাছ থেকে যখন জানতে পারেন সন্তানটি মেয়ে, তখন তিন মেয়ের পর আরেকটি কন্যাসন্তানকে ঘিরে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে। বড় তিন মেয়েও তাদের ছোট বোনকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ সপ্তাহের নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। স্ক্যান করার সময় চিকিৎসাকর্মীর মুখের অভিব্যক্তিতে উদ্বেগ দেখতে পান ম্যাডিসন। তিনি কী হয়েছে জানতে চাইলে তখনই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিবারটিকে মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও ১০ দিন। অনাগত সন্তানের কোনো সমস্যা থাকতে পারে জেনেও সেই সময়টুকু অসহায়ভাবে অপেক্ষা করা ছিল পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পর একের পর এক উদ্বেগের তথ্য সামনে আসে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, গর্ভের শিশুটি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট। তার হাত ও পায়ে অতিরিক্ত আঙুল ছিল এবং কিছু আঙুল ও পায়ের আঙুল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরীক্ষায় তার চোখও দেখা যাচ্ছিল না। পাশাপাশি ফুসফুসের বিকাশও যথেষ্ট হয়নি বলে চিকিৎসকেরা জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ম্যাডিসনের অ্যামনিওসেন্টেসিস পরীক্ষা করা হয় এবং ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ। গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের কাছাকাছি সময়ে সেই পরীক্ষার ফল আসে। শিশুটির নাম তখনই রাখা হয়েছিল সানি। পরীক্ষায় তার গল্টজ সিনড্রোম বা ফোকাল ডার্মাল হাইপোপ্লাসিয়া শনাক্ত হয়। এটি একটি বিরল জিনগত রোগ, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বক, হাত, পা ও চোখে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চোখ বা অশ্রুনালি অনুপস্থিত থাকা, দাঁতের অস্বাভাবিকতা, ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটি, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির সমস্যা, শ্রবণশক্তির ঘাটতি এবং মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকেরা ম্যাডিসন ও মার্ককে সতর্ক করে জানান, সানির শারীরিক জটিলতা এতটাই গুরুতর যে জন্মের পর সে বেঁচে নাও থাকতে পারে। বেঁচে থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এই খবর ম্যাডিসনের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, যে সন্তানকে তারা এতটা চেয়েছেন এবং যার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাকে হয়তো জন্মের পর ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন না, এই সম্ভাবনা মেনে নেওয়া ছিল অসহনীয়। তবে সন্তানকে নিয়ে হাল ছাড়েননি ম্যাডিসন। আইডাহোর স্থানীয় চিকিৎসকেরা আগে গল্টজ সিনড্রোমের রোগীর চিকিৎসা করেননি। তাই আরও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা সান ফ্রান্সিসকোর একজন জিন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, সানির জন্ম এমন একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হওয়া উচিত যেখানে তার বিরল রোগ সম্পর্কে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পুরো পরিবারকে নিয়ে আইডাহোর মেরিডিয়ান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান তারা। প্রায় ৬০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। পরিবারের বাড়ি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অনিশ্চিত সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যেতে হয়েছিল তাদের। এমনকি সানি বেঁচে থাকলে কখন তাকে নিয়ে আইডাহোতে ফিরতে পারবেন, সেটিও তারা জানতেন না। তারপরও মেয়ের চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সিদ্ধান্তটি নিতে দ্বিধা করেননি তারা। অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ জুন সানির জন্ম হয়। ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় অস্ত্রোপচারকক্ষে তাকে জন্ম দিতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া যায়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ৪ আউন্স, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ৯ কেজি। কয়েক মাস ধরে চিকিৎসকেরা যে আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন, সেই কারণে সন্তানকে প্রথমবার দেখার মুহূর্তটিও ছিল ম্যাডিসনের জন্য গভীর উদ্বেগের। জন্মের পর সানিকে সরাসরি নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে সেখানে গিয়ে পরিবারটি এমন একটি খবর পায়, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ছিল। সানি নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল। চিকিৎসকেরা আগে আশঙ্কা করেছিলেন, তার ফুসফুস জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট বিকশিত নাও হতে পারে। তাই জন্মের পর তাকে নিজে শ্বাস নিতে দেখা পরিবারের কাছে ছিল বড় স্বস্তির মুহূর্ত। যদিও তার চিকিৎসায় নিউরোলজি, চক্ষু, হৃদ্রোগ, ত্বক, প্লাস্টিক সার্জারি ও হরমোন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের যুক্ত হতে হয়। শারীরিকভাবে খুব ছোট হওয়ায় সানির শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখতে তাকে সিপিএপি যন্ত্রের সহায়তা নিতে হয়। খাবার দেওয়ার জন্য নাক দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো একটি নলও ব্যবহার করা হয়। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। এই সময়েই ম্যাডিসন ও মার্ক তাদের প্রথম তিন মেয়েকে ছোট বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বোনদের সঙ্গে সানির দেখা হওয়া পরিবারের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হয়ে থাকে। প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর ২২ জুলাই সানিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার অনুমতি পান ম্যাডিসন ও মার্ক। পরদিন তারা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইডাহোর উদ্দেশে রওনা হন। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক মাসে যে পরিবারটি জানত না তারা আদৌ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, সেই পরিবারই শেষ পর্যন্ত চার মেয়েকে এক ছাদের নিচে নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়। ম্যাডিসনের কাছে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বর্তমানে সানির বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সে চোখ ছাড়াই জন্মেছে, বাম কানে শুনতে পায় না এবং তার দুই হাতের কিছু অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বয়স অনুযায়ী তার শারীরিক আকারও ছোট। মস্তিষ্কের বিকাশও সম্পূর্ণ হয়নি বলে ভবিষ্যতে তার শেখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিতে হয়। ম্যাডিসনের হিসাবে, প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে তাদের। তবু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ম্যাডিসন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গল্টজ সিনড্রোম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, কোনো একটি রোগের নাম দিয়ে একটি শিশুর পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য নানা জটিলতার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু জন্মের পর সানি একের পর এক সেই আশঙ্কার অনেকটাই অতিক্রম করেছে। ম্যাডিসনের কাছে সানি শুধু একটি চিকিৎসা-নির্ণয় নয়, বরং শুরু থেকেই তাদের পরিবারের একজন সদস্য। গর্ভে থাকার সময় থেকেই তারা তাকে ভালোবেসেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন। বড় তিন বোনও এখন তাকে ঘিরে বড় হচ্ছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর চার মেয়েকে একই বাড়িতে একসঙ্গে দেখতে পাওয়াকেই ম্যাডিসন তার পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি বলে মনে করেন। সূত্র: নিউজউইক, ম্যাডিসন মালমগ্রেনের প্রকাশিত তথ্য
ছয় বছর বয়সী ওয়াইটের জন্য চুল কাটানো বরাবরই বেশ কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। নাপিতের দোকানের শব্দ, শরীরে অন্য কারও স্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকা—এই বিষয়গুলো তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় আরও বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও চুল কাটার সময় স্বাভাবিকভাবে চেয়ারে বসে থাকা সহজ নয়। কানাডার কুইবেকে নাপিত ফ্রান্সিস ‘ফ্রাঞ্জ’ জ্যাকবের কাছে গত দুই বছর ধরে ওয়াইটের চুল কাটাচ্ছেন তার মা ফভি লাফ্রেনিয়ের। এই সময়ের মধ্যে ফ্রাঞ্জ বুঝে গেছেন, ওয়াইটকে অন্য শিশুদের মতো চেয়ারে বসিয়ে রেখে চুল কাটা সম্ভব নয়। তাই শিশুটিকে নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে চুল কাটার কাজটি করা যায়, সেই পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সময় ওয়াইট অনেক সময় নাপিতের চেয়ারে বসে থাকতে পারে না। সে বারবার উঠে দোকানের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। কখনো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি ফ্রাঞ্জ। বরং ওয়াইট যেখানে যায়, সেখানেই তাকে অনুসরণ করে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই কাজটি সহজ করার জন্য ফ্রাঞ্জ কর্ডলেস ক্লিপার কিনেছেন। ফলে বৈদ্যুতিক তার বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। ওয়াইট দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলেও ফ্রাঞ্জ তার সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন। কখনো ওয়াইট মেঝেতে শুয়ে পড়লে ফ্রাঞ্জও মেঝেতে বসে বা শুয়ে চুল কাটার কাজ চালিয়ে যান। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটিকে অস্বস্তিতে না ফেলে প্রয়োজনীয় কাজটি শেষ করা। সম্প্রতি ওয়াইটের চুল কাটার সময় ফ্রাঞ্জের মেঝেতে শুয়ে কাজ করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটার পরিবর্তে নাপিত শিশুটির অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করছেন। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে যে বিষয়টি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ফ্রাঞ্জের কাছে সেটি তার কাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তিনি নিয়মিত অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটেন। তাই এসব শিশুর আচরণ, অস্বস্তি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটার ক্ষেত্রে সময়ও তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে। ফ্রাঞ্জের ক্ষেত্রে কোনো কোনো চুল কাটার জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ সেখানে শুধু দ্রুত চুল কেটে দেওয়া নয়, শিশুটির স্বস্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও ফ্রাঞ্জ ধৈর্য ধরে কাজ করেন। শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে হাঁটার সুযোগ দেন। কোথাও থেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করেন। মেঝেতে শুয়ে পড়লে প্রয়োজনে সেখানেই চুল কাটেন। অর্থাৎ শিশুটিকে নিজের কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বদলে তিনি নিজের কাজের পদ্ধতিটিই শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন। ফ্রাঞ্জের এই আচরণ শুধু ওয়াইটের পরিবারের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়নি, বরং অন্য অনেক পরিবারের কাছেও তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার মানবিক ও ধৈর্যশীল আচরণের কথা ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার কাছে শিশুদের চুল কাটাতে আসেন। কেউ কেউ তার কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথও পাড়ি দেন। একটি শিশুর আচরণকে বিরক্তিকর বা সমস্যাজনক হিসেবে না দেখে তার প্রয়োজন বুঝে কাজ করার এই পদ্ধতিই ফ্রাঞ্জকে আলাদা করে তুলেছে। চুল কাটার মতো সাধারণ একটি কাজও অটিজমে আক্রান্ত কোনো শিশুর জন্য কতটা কঠিন হতে পারে, ওয়াইটের ঘটনাটি সেটিই সামনে এনেছে। ওয়াইটের চুল কাটার সেই ভাইরাল ছবিটি তাই শুধু একজন নাপিতের ভিন্নভাবে কাজ করার দৃশ্য নয়। এটি একজন শিশুর প্রয়োজনের প্রতি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফ্রাঞ্জের জন্য বিষয়টি হয়তো তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ, কিন্তু তার এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক মানুষের কাছে বড় মানবিকতার বার্তা হয়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিতে হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৬ কোটির বেশি অতিরিক্ত যোগ্য শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই অভিভাবক সেটি ব্যবহার করতে পারবেন—এমন নয়। অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি দাবি বা ক্লেইম করতে হবে। পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা যাবে। ক্লেইম না করা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও চালু হবে না। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ১,০০০ ডলারের অর্থ পেতেও অ্যাকাউন্টটি ক্লেইম করা প্রয়োজন। কারা পাবেন ১,০০০ ডলার? সব ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারী শিশু ১,০০০ ডলারের সরকারি অর্থ পাবেন না। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু, যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, তারা ট্রেজারি বিভাগের এককালীন ১,০০০ ডলারের পাইলট প্রোগ্রাম অবদানের জন্য যোগ্য। এই অর্থ শিশুর ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হবে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া কিছু শিশু সরকারি ১,০০০ ডলারের জন্য যোগ্য না হলেও বেসরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। মাইকেল ও সুসান ডেলের উদ্যোগে যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি মূল সরকারি ১,০০০ ডলারের আলাদা কর্মসূচি। বছরে কত টাকা জমা দেওয়া যাবে? ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে পরিবার, বন্ধু, নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে পারে। সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা ৫,০০০ ডলার, যা ২০২৭ সালের পর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকারি ১,০০০ ডলারের পাইলট অবদান এই ৫,০০০ ডলারের সীমার মধ্যে ধরা হয় না। নিয়োগকর্তাও নির্দিষ্ট শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারেন, যা ৫,০০০ ডলারের সামগ্রিক সীমার অংশ হিসেবে গণ্য হয়। টাকা কখন ব্যবহার করা যাবে? ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য তৈরি। শিশুর বয়স ১৮ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট গ্রোথ পিরিয়ডে সাধারণভাবে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। গ্রোথ পিরিয়ড শেষ হলে প্রচলিত আইআরএ-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ, এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো প্রতিদিনের খরচের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর নামে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ গড়ে তোলা। অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে? ১. যোগ্যতা যাচাই করুন: ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা শিশু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের জন্য যোগ্য হতে পারে। ২. অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করুন: স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অভিভাবককে সেটি দাবি করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করে অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করা যায়। ৩. ১,০০০ ডলারের যোগ্যতা দেখুন: শিশু ২০২৫–২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরকারি এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। ৪. চাইলে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিন: পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তা অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন, বার্ষিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর অ্যাকাউন্ট দাবি করা এক বিষয় নয়। আপনার সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে গেলেও সেটি ব্যবহার ও সরকারি অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপটি অভিভাবককেই সম্পন্ন করতে হবে।
ফ্লোরিডার এক মা তিন দিনের বাহামাস ক্রুজে যাওয়ার সময় দুই মাস বয়সী শিশুসহ নিজের চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিনের ভ্রমণ শেষে সোমবার ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আদালতের নথি অনুযায়ী, নর্থ মায়ামি বিচের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাথালি বেলিজেয়ারকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা কার্নিভাল কনকোয়েস্ট ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পর আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে শিশুদের অবহেলার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ জানতে পারে, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বেলিজেয়ারের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরি দেখেন, যেখানে ক্রুজের টিকিট দেখা যাচ্ছিল। ওই মা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিশুদের তাদের প্রপিতামহীর কাছে রেখে যাবেন। কিন্তু দুই দিন পর ওই ব্যক্তি বেলিজেয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, টেলিভিশন চালু রয়েছে এবং ভেতর থেকে শিশুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন চার শিশুকে একসঙ্গে বাথরুমে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। আদালতের অভিযোগপত্রে চার শিশুর সবার বয়স উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর এবং আরেকজন দুই মাস বয়সী শিশু। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুদের দেখাশোনার কথা ছিল তাদের প্রপিতামহীর। তিনি পুলিশকে জানান, বেলিজেয়ার তাকে বলেছিলেন যে তিনি বাইরে যাচ্ছেন এবং শিশুদের তার কাছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে যাননি। বেলিজেয়ারের ভাইও পুলিশকে জানান, তাকে শিশুদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছিল। তদন্তের সময় পুলিশ আরও জানতে পারে, বেলিজেয়ার শুক্রবার যাত্রা শুরু হওয়া তিন দিনের একটি ক্রুজের টিকিট কিনেছিলেন। জাহাজটি তিন দিন পর ফিরে আসার সময় স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর বেলিজেয়ারকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক দম্পতির বিরুদ্ধে দুই মাস বয়সী ছেলেশিশুকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে তেলেঙ্গানায় নেওয়া হয় এবং মোট চার দফা হাতবদল হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা ভান্দনা কাম্বলে ও যোগেশ কাম্বলে প্রায় এক মাস বয়সে তাকে সীমা রেশওয়ালের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে দেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সীমা পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় সঙ্গীতা আওহাদের কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন। সঙ্গীতা নানদেড়ে নিয়ে গিয়ে সুরেশ গুন্টুকার কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে শিশুটিকে দেন। পুলিশ জানায়, নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া সুরেশ পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় উমা খটকমের কাছে একই দামে হায়দরাবাদে পৌঁছে দেন। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাবা-মা বিক্রির টাকার একটি অংশ দিয়ে একটি স্মার্টফোন ও স্বর্ণালংকার কিনেছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। শিশুটির খোঁজে তদন্ত চলার সময় মা ভান্দনা ২০ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন বলে পুলিশ জানায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সুরেশ ও উমা শিশুটিকে মুকুন্দওয়াড়ি থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে তার সুরক্ষা ও দেখভালের জন্য তাকে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, অন্য রাজ্যগুলোতে বিস্তৃত কোনো শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে ঘটনাটির যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফ্লোরিডায় ৬ মাসের এক শিশুর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে শিশু অবহেলার অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা দেরি হলে শিশুটির মৃ ত্যু হতে পারত। ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। পুলিশ জানায়, শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বসার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সে তার ছোট বোনকে দেখতে গিয়ে তাকে প্লে-পেনের ভেতর অ চেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়। প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে শিশুদের একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ০.৩ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল থাকলে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণ ঘা তী হতে পারে। হাসপাতালে করা আরও কিছু পরীক্ষায় শিশুটির পেটে, মাথায় ও উরুতে কালশিটের দাগ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রতিবেদনে এসব আঘাতকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মীরা পুলিশকে জানান, শিশুটির অবস্থা ছিল ‘গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তাদের ধারণা, আরও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারত। এ ঘটনায় শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাইয়ের দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারা এবং সাহায্য চাওয়া তার জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান। জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক মেঘান মার্টিন জানান, অল্প বয়সী শিশুদের শরীরে অ্যালকোহল গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চেতনার পরিবর্তন, বমি এবং বমি শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী জেসি ওয়ালড্রপ এবং মা ২৭ বছর বয়সী দেশিরে উজুনবয়লুকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুজনই দাবি করেন, কীভাবে শিশুটির শরীরে অ্যালকোহল গেল সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা নিজেদের মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন। মা পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিন তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, পরিবারের কেউ হয়তো একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে দিয়েছিল। পরে সেই বোতল থেকেই বাবা শিশুটির জন্য দুধ তৈরি করে থাকতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তদন্তে পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে সেটি বন্ধ ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান বোতলটি ব্যাকপ্যাকের বাইরে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ভাই ওই বোতল থেকে কিছু ভদকা পান করেছিলেন। ওয়ালড্রপ ও উজুনবয়লুকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রে প্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তারা জা মিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আইনজীবী ব্রায়ান্ট কামারেনো জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি ও আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্তদের কয়েক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে মাত্র ১১ বছর বয়সেই অনন্য এক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে নজর কেড়েছে নেহেমিয়াহ টার্নার। কুকুর-বিড়াল হাঁটানো বা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার করার বদলে সে বেছে নিয়েছিল বই পড়ে শোনানোর কাজ। আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে বসে মোট ১০০ ঘণ্টা বই পড়ে শুনিয়ে সে গড়েছে একটি অনন্য রেকর্ড। নেহেমিয়াহ অংশ নেয় জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির ‘পজিটিভ রিডিং’ কর্মসূচিতে। এই কর্মসূচিতে শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কুকুর ও বিড়ালের পাশে বসে তাদের উদ্দেশে বই পড়ে শোনায়। ২০২৪ সালে দাদির সঙ্গে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত সেখানে যেতে থাকে নেহেমিয়াহ। চলতি বছরের জুনে তার পড়ার সময় ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ হয়। জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, নেহেমিয়াহই এই কর্মসূচির প্রথম শিশু, যে ১০০ ঘণ্টার মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ জন্য তাকে একটি সনদও দেওয়া হয়। পরে জ্যাকসনভিল সিটি কাউন্সিলেও তার এই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ‘পজিটিভ রিডিং’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করা নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের জন্যও এটি একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। অপরিচিত পরিবেশে থাকা কুকুর-বিড়াল অনেক সময় চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে থাকে। শিশুদের শান্তভাবে বই পড়ে শোনানো তাদের মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে এবং কিছুটা স্বস্তি পেতে সহায়তা করতে পারে বলে জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটি জানিয়েছে। নেহেমিয়াহর কাছে বিষয়টি শুধু স্বেচ্ছাসেবা নয়, প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি সুযোগ। সে নিয়মিত কুকুরদের বই পড়ে শোনাত এবং আশা করত, তার কণ্ঠ তাদের শান্ত থাকতে সাহায্য করবে। তার পড়া শোনা কুকুরদের মধ্যে ছিল ‘হপার’ নামের একটি কুকুরও। প্রাণীটি প্রায় ৪০০ দিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পর শেষ পর্যন্ত দত্তক যায়। এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি শিশু অংশ নিয়েছে। জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির মতে, প্রাণীদের সামনে জোরে জোরে বই পড়ে শোনানো শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। সংস্থাটি বিভিন্ন গবেষণার তথ্যও তুলে ধরেছে, যেখানে প্রাণীদের সামনে পড়ার মাধ্যমে শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহ ও সাবলীলতা বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। নেহেমিয়াহর এই অর্জন এখানেই শেষ নয়। ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ করার পরও সে থামতে চায় না। ভবিষ্যতে ১১০, ১৫০ এমনকি ২০০ ঘণ্টা পর্যন্ত বই পড়ে শোনানোর লক্ষ্য রয়েছে তার। মাত্র ১১ বছর বয়সে তার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় কোনো পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন হয় না - কখনো কখনো একটি বই, একটি কণ্ঠ আর একটু সময়ই যথেষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি ফ্লাইটে ক্লান্ত এক মায়ের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট মনিক হ্যারিস। ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বরের একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে, যা পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ। ফ্লাইট চলাকালে হ্যারিস লক্ষ্য করেন, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়তে শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে রেখে মাকে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি প্রকাশ করেন। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি লাইক পড়ে এবং হাজারো মানুষ মন্তব্য ও শেয়ার করেন। ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, মা ছিলেন নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন এবং মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন। হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রশংসা করেন। হ্যারিস পরে জানান, তিনি কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজটি করেননি। তার ভাষায়, মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না; কিন্তু তা কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাটি এবার একজন যাত্রী দেখেছেন এবং সেই মুহূর্তই তাকে হাজারো মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে এবং তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ক্লান্ত নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের এমন তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে। আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন। কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ওপর শিক্ষকের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা বসানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবকরা। এ বিষয়ে নতুন একটি আইন পাসের জন্য তারা জোরালো আন্দোলন শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনলাইনে এ সংক্রান্ত পিটিশনে বেকার্সফিল্ড সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ১২ হাজার ৮০০ এবং ভিসালিয়া ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ২ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তিন সন্তানের মা ব্রিটনি কামাচো জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভিসালিয়া পুলিশের কাছ থেকে তিনি প্রথম জানতে পারেন যে তার সন্তানরা তাদের শিক্ষকের কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ৩৪ বছর বয়সী কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক লেসি অ্যান হর্স্টিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যিনি কামাচোর তিন সন্তানকেই পড়াতেন। তুলারে কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ১০টি অভিযোগ দায়ের করলেও, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। কামাচোর তিন সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে 'ইকোলালিয়া' নামক সমস্যায় আক্রান্ত এবং অন্য দুই সন্তান একেবারেই কথা বলতে পারে না, যা এই ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। কামাচোর মতে, এই শিশুদের নিজেদের কথা বলার সামর্থ্য নেই, তাই তাদের সুরক্ষার জন্য শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, অ্যাশলি হপউড নামের আরেক অভিভাবক বেকার্সফিল্ডের শ্রেণিকক্ষগুলোতে ক্যামেরা বসানোর দাবিতে অনলাইনে পিটিশন শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা কোনো কষ্ট বা ক্ষতির শিকার হলে তা অন্যদের বোঝাতে পারে না, ফলে ক্যামেরার নজরদারি ছাড়া তারা অবহেলা ও নির্যাতনের চরম ঝুঁকিতে থাকে। তবে ১৯৭৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আইন অনুযায়ী, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সম্মতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার বেআইনি। তাই বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যতামূলক ক্যামেরা বসানোর এই দাবি পূরণে রাজ্য আইনসভার হস্তক্ষেপ ও নতুন আইন প্রণয়নের দিকেই তাকিয়ে আছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বাইরে চলে যায় মাত্র ৩ বছরের এক শিশু। পরে ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা ব্রিট। ঘটনাটি তাকে এতটাই ভয় পাইয়ে দেয় যে তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে যেন তার ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। ব্রিট জানান, সম্প্রতি তিনি ছেলেকে খাটের বদলে নতুন ‘বিগ বয় বেডে’ ঘুমানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। এতে শিশুটির রাতে ঘরের ভেতর চলাফেরার স্বাধীনতা বেড়ে যায়। এক রাতে প্রায় ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে যায় তার। শিশুটি বাবা-মাকে খুঁজতে প্রথমে তাদের শোবার ঘরের দিকে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে সে বাড়ির সামনের দরজার দিকে এগিয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, দরজা তালাবদ্ধ থাকার পরও শিশুটি সেটি খুলে বাইরে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। ঘটনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর ব্রিট সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দরজায় অতিরিক্ত চাইল্ড লক লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি শেয়ার করে অন্য অভিভাবকদেরও শিশুদের দরজা খোলার সক্ষমতা এবং ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে টানা তিন দিন পর ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে জেলার তিমুরে গ্রামে আকস্মিক ও ভয়ংকর বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাদামাটি ও আবর্জনার নিচ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা। উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান তারা। এরপর দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। অলৌকিক এই উদ্ধারের ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নেটিজেনরা উদ্ধারকর্মীদের অসীম সাহসিকতার ব্যাপক প্রশংসা করছেন। উদ্ধারের পর জানা যায়, সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা এই শিশুটির নাম মানিশা মাগার। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ তার পরিবার ও স্বজনদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারের পরপরই তিমুরেতে এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খারাপ আবহাওয়া ও দৃষ্টিসীমা কম থাকায় সেদিন তা সম্ভব হয়নি। পরদিন শনিবার দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এদিকে, ভয়াবহ এই বন্যায় নেপালজুড়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত বন্যার ছোবলে ৭৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। দেশজুড়ে উদ্ধারকাজ এখনও পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশের সার্বিক পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। উদ্ভূত এই বিশাল মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
গাজায় চলমান সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্যে এক ফিলিস্তিনি শিশুর অসহায় কথোপকথনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেল উলুসাল কানালের প্রচারিত ওই ভিডিওতে শিশুটিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওতে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, “আমার পায়ে ব্যথা করছে। আমি আর হাঁটতে পারছি না। আমরা কোথায় যাচ্ছি, সেটাও জানি না।” দীর্ঘ সময় ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষের শারীরিক ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে ওঠে তার কথায়। গাজায় সংঘাতের কারণে বহু পরিবার বারবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি গভীর মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। উলুসাল কানালের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রেক্ষাপট ও শিশুটির পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে থাকা বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি বাস্তব ঘটনার বা ওই শিশুর প্রকৃত ছবি নয়। এটি কেবল প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু বোঝাতে তৈরি করা একটি প্রতীকী ছবি।
সৌদি আরবে বসবাসকারী দৃষ্টিহীন বার্মিজ শিশু হুসেইন মোহাম্মদ তাহির শুধু কোরআন তেলাওয়াত শুনেই পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছে বলে জানা গেছে। জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন হুসেইনের এক হাতেও সামান্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। টেলিভিশন দেখতে না পারায় ছোটবেলায় তার বাবা তাকে একটি রেডিও কিনে দেন। সেই রেডিওতে ২৪ ঘণ্টাই কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করা একটি স্টেশন চালু থাকত। পরিবারের সদস্যরা তখনও বুঝতে পারেননি, নিয়মিত শুনতে শুনতেই শিশুটি আয়াতগুলো মুখস্থ করে ফেলছে। জেদ্দা থেকে মদিনায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর হুসেইনের এই অসাধারণ প্রতিভার বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। মদিনায় গিয়ে নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদে নববিতে একদিন তার বাবা তাকে সূরা আল-বাকারার কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করতে বলেন। বাবার বিস্ময় আরও বেড়ে যায় যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়সী হুসেইন পুরো সূরা আল-বাকারা নির্ভুলভাবে তেলাওয়াত করে শোনায়। এরপর মদিনার কোরআন শিক্ষক ও আলেমরা তার কোরআন মুখস্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষ কোরআন হিফজের একটি হালকায় তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মুখস্থ কোরআন শেখার দক্ষতাকে আরও বিকশিত করার সুযোগ তৈরি হয়। হুসেইনের ঘটনা দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শ্রবণশক্তি, স্মরণশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোরআন হিফজের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে শিশুটির বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত নথি সীমিত।
গর্ভের শিশুর গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ার পর গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি। কিন্তু তাদের সারোগেট মা ম্যাককেনা ওয়েস্ট সেই সিদ্ধান্তে রাজি না হয়ে টেক্সাসে চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটির জন্ম দেন। এখন সেই শিশুই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর জন্মের পর তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে নিয়ে অভিভাবকত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতে লড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ। ডালাসের একটি আদালতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে গিলকার ও আহমেদ দাবি করেন, তারা শিশুটির জেনেটিক বাবা-মা এবং শিশুটির চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। অন্যদিকে সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্টের আইনজীবীরা আদালতে তার পক্ষে শিশুটির একক কনজারভেটরশিপ বা অভিভাবকত্ব চেয়েছেন, যাতে তিনি শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আদালত মঙ্গলবার চূড়ান্ত কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। ঘটনার শুরু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে। তখন পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা HLHS রয়েছে। এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি, যেখানে হৃদ্যন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না এবং শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা না হলে এ ধরনের অবস্থায় জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুর মৃত্যু হতে পারে। শিশুটির এই জটিলতা জানার পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন বলে আদালতের নথি ও শুনানিতে উঠে এসেছে। ওয়েস্টও আদালতে স্বীকার করেছেন, ২৩ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় তিনি দম্পতির অনুরোধে গর্ভপাতের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গর্ভপাত করাতে রাজি হননি। তার দাবি, শিশুটির বেঁচে থাকার এবং দীর্ঘ জীবন পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। এরপর তিনি আলাস্কা থেকে টেক্সাসে চলে যান, যেখানে শিশুটির জন্ম হয়। ১২ আগস্ট টেক্সাসে শিশুটির জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গিলকার ও আহমেদ শিশুটির নাম রেখেছেন রুমি। অন্যদিকে ওয়েস্ট শিশুটিকে গ্যাব্রিয়েল নামে ডাকেন। শিশুটির গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণে জন্মের পর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। পরে তার প্রথম বড় ধরনের হার্ট সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, HLHS আক্রান্ত শিশুদের জন্য একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আদালতে গিলকার জানান, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে এবং তাকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আদালতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, শিশুটি তাদের সন্তান এবং তারা তাকে হারাতে চান না। অন্যদিকে ওয়েস্টের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর যে দম্পতি গর্ভপাত চেয়েছিলেন, তারা এখন শিশুটির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের যুক্তি, শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওয়েস্টের কনজারভেটরশিপ থাকা উচিত। শুনানিতে ওয়েস্টের আইনজীবী এমনও জানান, দম্পতি যদি শিশুটির প্রয়োজনীয় সার্জারি ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন, তাহলে ওয়েস্ট তার কাস্টডি দাবি প্রত্যাহার করতে পারেন।
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাংয়ে ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার মানবিকতার একটি ঘটনা ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানাকে সাইকেলের নিচে চাপা দেওয়ার পর সেটিকে বাঁচাতে নিজের কাছে থাকা সব টাকা, মাত্র ১০ রুপি, নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় শিশুটি। সাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ মুরগির ছানাটির ওপর দিয়ে চলে যায় ডেরেকের সাইকেল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আহত ছানাটিকে কোলে তুলে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসে সে। এরপর বাবা ধীরাজ ছেত্রীর কাছে ছানাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। ছেলের এমন অনুরোধে অবাক হলেও বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেননি ধীরাজ। বরং তিনি বলেন, ছানাটিকে হাসপাতালে নেওয়া এতটাই জরুরি মনে হলে ডেরেক নিজেই যেন সেটিকে নিয়ে যায়। বাবার কথা শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেনি ডেরেক। নিজের কাছে থাকা একমাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে নিজের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যায় কাছের হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চায় শিশুটি। তবে ততক্ষণে মুরগির ছানাটি মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা ডেরেককে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতালে মুরগির ছানা ও ১০ রুপির নোট হাতে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ডেরেকের একটি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি শেয়ার করে সাঙ্গা সেজ নামের এক ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনার পর নিজের সব টাকা নিয়ে ছানাটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল শিশুটি। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সাঙ্গা সেজ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, হাসপাতালের লোকজন ছানাটিকে চিকিৎসা না দিয়ে শুধু তার ছবি তুলেছে। পরে সে নাকি বাবাকে জানিয়েছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকেরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের স্কুলও তার সহমর্মিতার স্বীকৃতি দেয়। তাকে প্রশংসাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। ডেরেকের মানবিকতার বিষয়টি পরে প্রাণীকল্যাণ সংগঠন পেটা ইন্ডিয়ার নজরেও আসে। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ দেয়। একটি দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে। নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে। তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে। কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।
শিশুকে শাসন করতে শারীরিক শাস্তি কার্যকর, বহু পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ফিলিপাইনের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. লিয়ানে আলামপে। দেশটির সিনেটে শিশু ও কিশোরদের আচরণ নিয়ে এক শুনানিতে তিনি বলেছেন, শিশুদের মারধর বা কঠোর শারীরিক শাস্তি তাদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলে, এমন দাবির পক্ষে গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই। বরং কঠোর শাসনের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের সিনেটের নারী, শিশু, পারিবারিক সম্পর্ক ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেন আলামপে। তিনি মেট্রো ম্যানিলার আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে শিশু লালনপালন ও শারীরিক শাস্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। আলামপে আইনপ্রণেতাদের জানান, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক গবেষণায় শারীরিক শাস্তিকে কার্যকর শৃঙ্খলা তৈরির নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করা হয়নি। বরং শিশুদের ওপর ঘন ঘন বা কঠোর শারীরিক শাস্তির সঙ্গে আগ্রাসন, উদ্বেগ এবং পরবর্তী সময়ে সহিংস আচরণের মতো সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত আলামপে ও অন্য গবেষকদের আগের গবেষণাতেও ফিলিপিনো পরিবারে শারীরিক শাস্তির ব্যবহার এবং শিশুদের আচরণগত সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিশু ও অভিভাবকদের ওপর পরিচালিত গবেষণায়ও শারীরিক শাস্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে কিশোর বা তরুণদের সহিংস আচরণের জন্য একটি মাত্র কারণকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও সতর্ক করেছেন আলামপে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, বেড়ে ওঠার ধরন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা এবং আশপাশের সামাজিক পরিস্থিতি মিলেই তার আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। ফলে তীব্র রাগ, হতাশা বা চাপের মুহূর্তে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি বোঝা তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এ কারণে শিশুদের আচরণ সংশোধনে শুধু ভয় বা শাস্তির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শেখানো, সীমা নির্ধারণ এবং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের শিশু বিচার ব্যবস্থার নীতিরও মিল রয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসন ও restorative justice-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আইনগত সমস্যায় জড়িয়ে পড়া শিশুদের মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। ফিলিপাইনের সমাজকল্যাণ বিভাগ এর আগেও বলেছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে restorative justice নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় শিশুকে শুধু অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তার আচরণের কারণ বোঝা, দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশু শাসনে মারধর নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। অনেক সমাজেই দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়েছে, শারীরিক শাস্তি না দিলে শিশু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কিন্তু শিশু বিকাশ নিয়ে সাম্প্রতিক দশকের গবেষণা এই ধারণাকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গবেষকদের মতে, শৃঙ্খলার উদ্দেশ্য যদি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুকে ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে শারীরিক শাস্তি কখনও কখনও সাময়িকভাবে আচরণ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু একটি শিশু কেন কোনো আচরণ ভুল, কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই শিক্ষা শুধু ভয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় না। এই কারণেই শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানি বাজার থেকে ৪১ হাজারেরও বেশি বেবি জাম্পার এবং সুইং (দোলনা) প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। শিশুদের পড়ে যাওয়া, আঘাত পাওয়া এবং শ্বাসরোধ হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি অন্তত ৩২টি আহত হওয়ার ঘটনার পর ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই পণ্যগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (সিপিএসসি) জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার আদেশের আওতায় রয়েছে 'ট্যালকো গিয়ার' (Taleco Gear) ব্র্যান্ডের বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার অ্যান্ড সুইং। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালকো গিয়ারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনলাইনে এই পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। সেসময় এগুলোর দাম ছিল ৬৫ থেকে ১২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। সিপিএসসি আরও জানিয়েছে, ট্যালকো গিয়ারের কাছে ইতোমধ্যে পণ্যগুলো থেকে পড়ে যাওয়া, আঘাত লাগা এবং শ্বাসরোধের ঝুঁকির অন্তত ৫২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাথায় আঘাত পেয়ে ফুলে যাওয়া ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো অন্তত ৩২টি শিশু আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করা পণ্যগুলোর ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পণ্যগুলো ফেরত দিয়ে কীভাবে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পেতে কোম্পানিটির সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।