যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে নদীতীরবর্তী একটি পার্কে বেড়াতে এসে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হলো একটি পর্যটক পরিবার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নগ্ন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তি সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক নগ্ন ব্যক্তি দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পথচারীদের হয়রানি করছেন—এমন একাধিক অভিযোগ আসে। একজন কলকারী জানান, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় ঘুষি মারারও চেষ্টা করেন। তবে সে সময় অন্য জরুরি ঘটনায় ব্যস্ত থাকায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি সাত বছরের শিশুকন্যার হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছের উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা সন্দেহভাজনকে আটক করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ৩১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ভেসি। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, প্রথম ডিগ্রির কাস্টডিয়াল ইন্টারফিয়ারেন্স, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমা কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করলে তার মা অন্য হাত ধরে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। টানাহেঁচড়া এতটাই তীব্র ছিল যে একপর্যায়ে শিশুটি মাটি থেকে ওপরে উঠে যায়। এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে ঘুষি, থাপ্পড় ও ধাক্কা দিয়ে শিশুটিকে তার কবল থেকে মুক্ত করেন। একজন পথচারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেপার স্প্রেও ব্যবহার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি গুরুতর আহত হয়নি। ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে শরীরে থাকা সামান্য আঁচড়ের চিকিৎসা দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়েনি। শিশুটির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তারা অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের মতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ভিনটন কাউন্টিতে একটি মলমূত্রপূর্ণ বাড়ি থেকে অত্যন্ত শোচনীয় ও 'প্রায় বন্য' অবস্থায় ১৬ জন ভাইবোনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের সাহায্যার্থে ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ওহাইও রাজ্য সরকার। সোমবার ওহাইওর শিশু ও যুব বিষয়ক দপ্তরের এই আর্থিক সহায়তার অনুরোধ একটি রাজ্য আইনসভা প্যানেল অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, এই ভয়াবহ ঘটনায় শিশুদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কারাগারে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রসিকিউটররা। উদ্ধার হওয়া সাইডার্স পরিবারের এই ১৬ ভাইবোনের বয়স ১৮ মাস থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে অনেকেই ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, আর কয়েকজনকে তো 'প্রায় বন্য' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো শিশুকে সাময়িক হেফাজতে নেওয়ার পর ভিনটন কাউন্টির মতো ছোট এলাকার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়। মাত্র ১২ হাজার ৬০০ জন বাসিন্দার এই কাউন্টির বাজেট ওহাইওর ৮৮টি কাউন্টির মধ্যে সবচেয়ে কম। এতগুলো শিশুর একসঙ্গে থাকা-খাওয়ার বিপুল খরচের ধাক্কা সামলাতেই মূলত রাজ্য সরকার ১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ভিনটন কাউন্টির প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার জুনিয়র জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে শিশুদের দাদা গ্যারি সাইডার্স সিনিয়রের চিকিৎসা ব্যয় পুরো কাউন্টিকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। কারাগারে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হওয়ায় তার বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। করদাতাদের ওপর এই বিপুল খরচের বোঝা না চাপিয়ে আদালত তার জামিনের শর্ত পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত জিম্মায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এর আগে গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা স্যান্ডার্স (৬৭), ছেলে গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬) এবং পুত্রবধূ এলিজাবেথ সাইডার্সকে (৩৩) ৩ লাখ ডলারের ক্যাশ বন্ডে কাউন্টি জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। গত ৩০ জুন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার ওয়ারেন্ট তামিল করতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ হ্যামডেনের ওই বাড়িতে যায়। সেখানে তল্লাশি চালাতে গিয়েই তারা মলমূত্র ও আবর্জনায় ভরা মাত্র ১২ বাই ১২ ফুটের একটি ছোট বদ্ধ ঘরে ১৬ জন শিশুকে অমানবিক অবস্থায় আবিষ্কার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই শিশুরা গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র এবং এলিজাবেথ সাইডার্সের সন্তান। তাদের কখনোই স্কুলে ভর্তি করা হয়নি এবং অনেকেই একেবারেই কথা বলতে পারে না। উদ্ধারের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কয়েকজনকে ওহাইওর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু ও যুব দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই শিশুদের পুনর্বাসনে প্রতিদিন মাথাপিছু ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার খরচ হবে, যা বছরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ডলারে দাঁড়াবে। এমন অমানবিক পরিস্থিতির জন্য ওই চার অভিভাবকের বিরুদ্ধে ৬৮টি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ ও যৌন অসদাচরণের অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ এবং যৌন অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে নিজের ১৫ মাস বয়সী শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ির ভেতর রেখে কাজে যাওয়ার দায়ে এক মাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই মা খাবার কেনার জন্য ম্যাকডোনাল্ডসেও থেমেছিলেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ভেনেসা এসকুইভেল নামের ২৮ বছর বয়সী ওই নারীকে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১৬ আগস্ট ডালাস থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তরে অবস্থিত ফ্রিসকো শহরে এই ঘটনা ঘটে। ফ্রিসকো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেসা জানতেন যে তার গাড়ির এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) নষ্ট এবং সে সময় বাইরের তাপমাত্রা ছিল অন্তত ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তা সত্ত্বেও তিনি শিশুটিকে গাড়িতে আটকে রেখে ‘হ্যান্ড অ্যান্ড স্টোন ম্যাসাজ অ্যান্ড ফেসিয়াল স্পা’-তে নিজের শিফটে কাজ করতে যান। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ওই দিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি সেখানে কাজ করেছিলেন। কাজ শেষে গরমে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে নিয়ে তিনি মেডিকেল সিটি প্ল্যানো হাসপাতালে যান। তবে একটি তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে পিপল ম্যাগাজিন জানিয়েছে, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে যাত্রাবিরতি নিয়েছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ভেনেসা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, তিনি সেদিন কাজে যাননি বরং এসি নষ্ট থাকায় শিশুটিকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঘুরছিলেন। তবে তদন্তে তার এই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ঘটনার পরের দিন এক সহকর্মীর সাথে ফোনে কথা বলার সময় ভেনেসা নিজের দোষ স্বীকার করেন। রেকর্ড করা ওই ফোনালাপে তিনি জানান, সন্তানকে দেখাশোনার জন্য কাউকে না পেয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েছিলেন এবং বাধ্য হয়েই শিশুটিকে গাড়িতে রেখে যান। ফক্স ফোর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেসা ফোনালাপে স্বীকার করেছিলেন যে এই ঘটনা সম্পূর্ণ তার নিজের দোষ এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন সন্তানের মৃত্যুর দায়ে তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে। এই মামলার প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাশলে উডল রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এত ছোট শিশুদের কখনোই গাড়িতে একা ফেলে রাখা উচিত নয়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং টেক্সাসের মতো জায়গায় তো নয়ই। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে জুরি বোর্ডের এই রায় সমাজের এমন দায়িত্বহীন অভিভাবকদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লেক ইরিতে নৌভ্রমণে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক প্রতিবেশী নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই নৌকায় থাকা আরেক ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশুটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, New York Post এবং ১৩ Action News–এর খবরে বলা হয়, গত ১ জুলাই ওহাইওর জেরুজালেম টাউনশিপের মেইঙ্কে মেরিনা থেকে ছোট একটি মোটরচালিত নৌকায় বেড়াতে বের হয় ১১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিক কানিংহাম। তার সঙ্গে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী প্রতিবেশী ক্রিস্টেন গেরি এবং ৩৮ বছর বয়সী জনাথন সিহা। কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌযাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপরের দিন লেক ইরির পানিতে জনাথন সিহার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, ক্রিস্টেন গেরি সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে (Child Endangerment) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, কয়েক দিনের টানা অনুসন্ধানের পর লেক ইরির তীরবর্তী এলাকায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটি নিখোঁজ অ্যাঞ্জেলিক কানিংহামের কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, নৌকায় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এতে কারও অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং একই নৌযাত্রায় একজনের মৃত্যু—দুই ঘটনাই তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুকে সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হলেও, পরে মর্গে নেওয়ার সময় তার শরীরে ক্ষীণ হৃদস্পন্দন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং শিশুটির পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্তও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গিলবার্ট শহরে। সম্প্রতি প্রকাশিত ৯১১ নম্বরে করা জরুরি ফোনকলের অডিও, পুলিশ নথি এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে ঘটনার বিস্তারিত সামনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ মাস বয়সী ভিনসেন্ট লরেঞ্জো ফিওরডিলিনোকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনের সুইমিং পুলে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ঠিকানা থেকে জরুরি সেবা নম্বরে দুটি ফোন করা হয়। প্রথম ফোনে এক স্বজন আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, তিনি তার ভাগ্নেকে পুলে পড়ে থাকতে দেখেছেন। অপারেটর জানতে চান শিশুটি শ্বাস নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, তারা নিশ্চিত নন। অন্য একটি ফোনকলে পরিবারের এক নারী সদস্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা তার বুকে চাপ দিয়ে পুনরুজ্জীবনের (সিপিআর) চেষ্টা করছেন। তবে শিশুটি কতক্ষণ পানির নিচে ছিল, তা তারা জানতেন না। জরুরি সেবা কেন্দ্রের অপারেটর শিশুটির ওজন, ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সিপিআর চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিতে থাকেন। ফোনালাপের একপর্যায়ে পরিবারের সদস্য জানান, শিশুটি সামান্য সাড়া দিতে শুরু করেছে বলেও মনে হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর শিশুটিকে দ্রুত মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পুলিশি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য শিশুটির শরীরে জীবনের কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করেছিলেন। এমনকি একজন নার্সও শিশুটির হৃদস্পন্দন অনুভব করার কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি নিজের চিকিৎসাগত সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন এবং দায়িত্ব পালনে বাধা না দিতে অনুরোধ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর মর্গ থেকে মরদেহ গ্রহণ করতে আসা এক মেডিকেল পরীক্ষক শিশুটির শরীরে ক্ষীণ হৃদস্পন্দন টের পান। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে তাকে ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশুটির পরিবারের খোলা তহবিল সংগ্রহের (গোফান্ডমি) পৃষ্ঠায় জানানো হয়, প্রথমদিকে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন যে শিশুটির একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাচ্ছে এবং তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তবে কয়েক দিন পর করা এমআরআই পরীক্ষায় দেখা যায়, তার মস্তিষ্কে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয়নি। কেবল সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা শিশুটির বেড়ে ওঠার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য, শিশুটি এখনো দীর্ঘ চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের পুনর্বাসন থেরাপির প্রয়োজন হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ স্বাস্থ্য হালনাগাদে জানানো হয়, সে ভেন্টিলেটরের সহায়তায় শ্বাস নিচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা ধীরে ধীরে তার চিকিৎসা এগিয়ে নিচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীদের কেউ কেউ তাকে "অলৌকিক শিশু" বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা, বিমানযোগে স্থানান্তর, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা অনলাইনে অনুদান সংগ্রহ শুরু করেন। এদিকে ঘটনাটি ঘিরে শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর করা বিষবিদ্যা পরীক্ষায় শিশুটির বাবা-মায়ের শরীরে টিএইচসি (গাঁজার সক্রিয় উপাদান) শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা বাড়ির গ্যারেজে গাঁজার তীব্র গন্ধও পেয়েছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, মাদক সেবনের কারণে শিশুর নিরাপত্তায় অবহেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে গিলবার্ট পুলিশ বিভাগ শিশুটির বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছে। পুলিশ বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে দুজনের বিরুদ্ধেই শিশু নির্যাতনের একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ম্যারিকোপা কাউন্টি অ্যাটর্নি'স অফিস জানিয়েছে, তারা পুলিশের সুপারিশ পেয়েছে এবং বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয় গড়ে তুলতে চালু হচ্ছে নতুন সরকারি বিনিয়োগভিত্তিক কর্মসূচি ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’। আগামী ৪ জুলাই থেকে এসব অ্যাকাউন্টে প্রথমবারের মতো অর্থ জমা দেওয়া শুরু হবে। যেসব অভিভাবক এখনো তাদের সন্তানকে নিবন্ধন করেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৬০ লাখের বেশি শিশুর জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৪ জুলাই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে এবং সেদিন থেকেই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক একটি সঞ্চয় কর্মসূচি। এটি অবসরের জন্য ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হিসাবের (আইআরএ) মতো পরিচালিত হবে। শিশু ১৮ বছর পূর্ণ করার আগ পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে। পরে উচ্চশিক্ষা, বাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য অনুমোদিত কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা যোগ্য বাসিন্দা, বয়স ১৮ বছরের কম এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর) রয়েছে, তারা এই কর্মসূচির আওতায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবে। কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অনেক অভিভাবক ফর্ম ৪৫৪৭ পূরণ করে সন্তানের জন্য এই অ্যাকাউন্টের আবেদন করেছিলেন। তবে যারা তখন আবেদন করতে পারেননি, কিংবা কর রিটার্ন জমার সময়সীমার পরে যাদের সন্তানের জন্ম হয়েছে, তাদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইনে ফর্ম ৪৫৪৭ পূরণ করে আবেদন করা যাবে, এমনকি ৪ জুলাইয়ের পরও নিবন্ধন করা সম্ভব। আবেদন করতে অভিভাবক ও সন্তানের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, যোগ্য হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এককালীন ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে চান কি না। এই সরকারি অনুদান শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল ও সুসান ডেলের দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ বছরের কম বয়সী, কিন্তু সরকারি ১ হাজার ডলারের অনুদানের জন্য অযোগ্য কিছু শিশু এককালীন ২৫০ ডলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও পেতে পারে। অ্যাকাউন্টে শুধু অভিভাবকই নয়, পরিবারের সদস্য, বন্ধু, নিয়োগকর্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ জমা দিতে পারবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বার্ষিক জমার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যক্তিগত অবদানের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) জানিয়েছে, শিশুর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সময়কাল হিসেবে গণ্য হবে। এরপর আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। কর্মসূচি চালুর আগে প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত সরকারি ই-মেইল কেবল no-reply@TrumpAccounts.Treasury.gov ঠিকানা থেকে পাঠানো হবে। ফোন কল বা খুদে বার্তার মাধ্যমে কোনো তথ্য চাওয়া হবে না। সন্দেহজনক যোগাযোগ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট TrumpAccounts.gov অথবা সরকারি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের জন্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে নতুন একটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কর্মসূচির আওতায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের নামে সরকার এককালীন এক হাজার ডলার জমা দেবে, যা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা হবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিশুদের জন্য বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবক বিনিয়োগ হিসাব খুলতে পারবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ওই হিসাবে এক হাজার ডলার জমা দেবে। ১৮ বছরের কম বয়সী অন্য শিশুদের জন্যও হিসাব খোলা যাবে, তবে তারা সরকারি এই এককালীন অর্থ পাবেন না। সরকারের দেওয়া অর্থ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প ব্যয়ের সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে। হিসাবধারী শিশু ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর উচ্চশিক্ষার ব্যয়, প্রথম বাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা কিংবা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অন্যান্য খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এই হিসাবে শুধু সরকারের অনুদানই নয়, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, নিয়োগকর্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকারও অর্থ জমা রাখতে পারবে। পরিবার বছরে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে, আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার অতিরিক্ত অনুদান নির্দিষ্ট শর্তে গ্রহণ করা হবে। কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই এতে বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা এসেছে। ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল এমন শিশুদের জন্য ৬২৫ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা সরকারি এক হাজার ডলারের সুবিধা পাবে না। এছাড়া মাইক্রন টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় মেহরোত্রা ২৫ কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সহায়তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের লাখো শিশুর জন্য শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তার মতো কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও তা নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সক্ষম হবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। আগামী ৪ জুলাই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিবন্ধন করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ভিনটন কাউন্টির একটি বাড়ি থেকে চরম অমানবিক ও নোংরা পরিবেশে বসবাসরত ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ওই পরিবারের চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হ্যামডেন এলাকার ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুদের উদ্ধার করা হয়। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন জানিয়েছেন, শিশুদের অবস্থা এতটা শোচনীয় ছিল যে, উদ্ধার অভিযানে আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা দেরি হলে হয়তো একাধিক শিশুর মৃত্যু হতে পারত। পুরো পরিস্থিতিকে ‘কল্পনার বাইরে’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, উদ্ধারকৃতদের বয়স দেড় থেকে ১৮ বছরের মধ্যে এবং চার বছর ধরে সমাজবিচ্ছিন্ন থাকায় এদের অনেকেই কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে সাতজনকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে এয়ারলিফট করে এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেওয়া হয়। ভিনটন কাউন্টির প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার নিশ্চিত করেছেন যে এটি কোনো মানব পাচারের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পারিবারিক ঘটনা। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন—গ্যারি সাইডারস সিনিয়র (৭৩), ক্রিস্টিনা সাইডারস (৬৭), গ্যারি সাইডারস দ্বিতীয় (৩৬) এবং এলিজাবেথ সাইডারস (৩৩), যারা সম্পর্কে শিশুদের দাদা, দাদি, বাবা ও মা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ১৬টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে শেরিফ রায়ান কেইন বাড়িটির পরিবেশকে চরম ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সেখানে মানুষের মলমূত্র ছড়িয়ে ছিল এবং শিশুদের একটি ছোট জায়গায় আটকে রাখা হতো। এমনকি সাধারণ গৃহপালিত পশুদেরও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের লাহোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কাহনা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শিশু, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ছাদ ধসের পরপরই ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের মধ্যে ১৪ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং বাকি পাঁচজন বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধসের সময় ওই কোচিং সেন্টারের ভেতরে ৩০ জনেরও বেশি শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ওপরের তলায় নির্মাণকাজ চলছিল এবং ঠিক সেই সময়েই নিচতলায় শিশুদের ক্লাস চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের ত্রুটি বা অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ ইতোমধ্যেই এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভবনের মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সাত বছরের এক শিশুর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা এক বছরের ছোট ভাইয়ের জীবন রক্ষা করেছে। পরিবারের বাড়ির সুইমিংপুলে পড়ে অচেতন হয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়েছে সে। এ ঘটনার পর তাকে বিরল এক শেরিফ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ জুন টেক্সাসের বার্লেসন এলাকায়। সেদিন জনসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা কেট্রন রোডের একটি বাড়িতে ছুটে যান। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে তারা দেখতে পান, এক বছর বয়সী লিয়াম নামে একটি শিশু বাড়ির সুইমিংপুলে পড়ে গিয়ে অচেতন অবস্থায় রয়েছে। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে দ্রুত ফোর্ট ওর্থের কুক চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। জনসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, লিয়ামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে চিকিৎসকেরা আশাবাদী। তদন্তে জানা যায়, এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে লিয়ামের সাত বছর বয়সী বড় ভাই প্যাট্রিক। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাট্রিক প্রথমে তার ছোট ভাইকে পানিতে ভাসতে দেখে দ্রুত তাকে টেনে পুলের বাইরে নিয়ে আসে। এরপর সে মাকে বিষয়টি জানায়। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাশের বাড়িতেও দৌড়ে গিয়ে অতিরিক্ত সাহায্য চায়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটময় মুহূর্তে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। সেখানে সাত বছরের একটি শিশু যেভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অসাধারণ। জনসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কেভেন জর্জ এক বিবৃতিতে বলেন, “সংকটের মুহূর্তে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও চাপে পড়ে স্থির হয়ে যান। কিন্তু প্যাট্রিক ঠিক তার উল্টোটা করেছে। সে মনোযোগ ধরে রেখেছে, দ্রুত কাজ করেছে এবং বয়সের তুলনায় অসাধারণ সাহস, সচেতনতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।” এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে প্যাট্রিককে শেরিফস কমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শেরিফ কার্যালয়ের পুরস্কার কমিটি পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। অনুমোদন পেলে তাকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা ও বিশেষ পদক প্রদান করা হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, প্যাট্রিকের নিঃস্বার্থতা, সাহস এবং ছোট ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। তাঁর এই কাজ স্মরণ করিয়ে দেয় যে বীরত্বের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি বিষয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বাড়ির সুইমিংপুলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং পুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে ছোট ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে প্যাট্রিকের যে দ্রুততা ও সাহসিকতার পরিচয় মিলেছে, তা স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাকে ‘ছোট্ট নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
নিউইয়র্ক নিকসের ঐতিহাসিক এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় উদযাপনে বাদ যায়নি শিশুরাও। বৃহস্পতিবার শহরের মূল ‘টিকার-টেপ প্যারেড’-এর আগেই, বুধবার আপার ওয়েস্ট সাইডে শত শত খুদে ভক্ত তাদের প্রিয় দলকে নিয়ে মেতে ওঠে। শিশুদের স্কুলের সময়সূচি এবং মূল প্যারেডের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে চিলড্রেনস মিউজিয়াম অব ম্যানহাটন (সিএমওএম) প্রথমবারের মতো শিশুদের উপযোগী এই বিশেষ পার্টির আয়োজন করে। মিউজিয়ামের সিইও ডাভা শুব জানান, শহরের বড় অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত সকালে হয়, তাই শিশুদের স্কুল, রাতের খাবার ও ঘুমানোর রুটিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিকেল ৪টায় এই আয়োজন করা হয়েছে। আপার ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দা এবং নিকসের একনিষ্ঠ ভক্ত জেসিকা সাইনফেল্ড ও অ্যামি শুমারের হাত ধরে উৎসবের সূচনা হয়। “গো নিউইয়র্ক গো” গানের তালে নেচে ওঠা খুদে ভক্তদের আনন্দ দিতে কমলা ও নীল রঙের কনফেত্তি ওড়ানো হয়। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের এই ইভেন্টে ছিল ফেস পেইন্টিং, নাচ এবং নিকস তারকাদের বিশাল কাটআউটের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ, যা শিশুদের মূল প্যারেডে যেতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘুচিয়েছে। শিশুদের জন্য এই আলাদা আয়োজনের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মূল প্যারেডের সময়সূচি। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী আগেই জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মূল প্যারেড শুরু হলেও শহরের স্কুলগুলোর ক্লাস বা রিজেক্টস পরীক্ষা স্থগিত করা হবে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পক্ষে মূল আয়োজনে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া, শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হতে যাওয়া এই প্যারেডে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, ছোট শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবার বা পানি নিয়ে সেখানে যাওয়া অভিভাবকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই জ্যারেড ভার্টেরামোর মতো অনেক অভিভাবকই ঝুঁকি না নিয়ে তাদের সন্তানদের মিউজিয়ামের এই নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে নিয়ে এসেছেন। তবে এর মধ্যেও ১০ বছর বয়সী মেসন আলভারাডোর মতো কিছু ভাগ্যবান শিশু আছে, যাদের অভিভাবকরা জীবনের এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে একদিনের জন্য স্কুল কামাই করার অনুমতি দিয়েছেন। মেসনের মা অ্যাঞ্জেলিকা জানান, নিকস খেলোয়াড়দের হাল না ছাড়ার মানসিকতা শিশুদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা, তাই তারা সশরীরে মূল প্যারেড দেখতে উপস্থিত থাকবেন। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি মিউজিয়ামের এই আয়োজনের একটি বড় শিক্ষণীয় দিকও ছিল। কঠোর পরিশ্রম, দলবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরপরই প্রতিপক্ষ সান আন্তোনিও স্পার্সের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিকস তারকা জ্যালেন ব্রানসনের হাত মেলানোর মতো চমৎকার স্পোর্টসম্যানশিপ থেকে শিশুদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ শেখানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন আয়োজকরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে "নিখোঁজ" হওয়া সাড়ে চার লাখ অভিবাসী শিশুর মধ্যে অন্তত ১ লাখ ৪৬ হাজার শিশুকে খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের প্রধান মার্কওয়েন মুলিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বিপুল সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশু সরকারি নজরদারির বাইরে চলে গিয়েছিল, যাদের মধ্যে এখনো প্রায় তিন লাখ শিশু সম্পূর্ণ অনধিসন্ধিত বা প্রশাসনিকভাবে নিখোঁজ রয়েছে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল সংখ্যক শিশুকে 'নিখোঁজ' বা 'হারিয়ে যাওয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করার পেছনে মূলত দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও নথিপত্রের ত্রুটি দায়ী। মূলত ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত ডিএইচএস-এর ইন্সপেক্টর জেনারেলের (ওআইজি) একটি অডিট রিপোর্টের সূত্র ধরে এই সংখ্যার হিসাব দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে আসা ৪ লাখ ৪৮ thousand বা প্রায় সাড়ে চার লাখ অনথিবদ্ধ শিশুকে কাস্টমস হেফাজত থেকে পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ না দেওয়া এবং ঠিকানায় গড়মিল থাকার কারণে বিশাল একটি অংশ সরকারি ফাইলের বাইরে চলে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এবং আইসিই কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানে সশরীরে অনুসন্ধান ও স্পন্সরদের খোঁজ নিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার শিশুকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের তদন্তে দেখা গেছে, এই শিশুদের একটি বড় অংশ কোনো অপরাধ চক্রের হাতে পাচার বা হারিয়ে যায়নি, বরং তারা তাদের প্রাথমিক স্পন্সরদের দেওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানাতেই সাধারণ জীবনযাপন করছিল। কেবল সরকারি আইনি নোটিশ বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে বিগত দিনে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। যদিও এর মধ্যে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ভয়াবহ যৌন নির্যাতন ও শ্রম পাচারের শিকার হওয়ার মতো লোমহর্ষক অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বর্তমানে গভীর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএইচএস প্রধান। এই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি স্পন্সরশিপ ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জালিয়াতির মাধ্যমে শিশুদের স্পন্সর সেজে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওহাইও থেকে তিন গুয়াতেমালান নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের ঘোষণা দেন। একই সাথে ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েন মুলিন নিউ ইয়র্ক, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ বা অভিবাসীবান্ধব শহরগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা না করার কারণে এসব অঞ্চল অপরাধী ও মানবপাচারকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে, যা শিশুদের সুরক্ষাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।
আধুনিক জীবনের প্রতিটি মোড়ে এখন শৈশবের এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরের ড্রয়িংরুম—সবখানেই শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন। চোখের পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ শর্ট ভিডিও কিংবা রিল স্ক্রল করে যাওয়া এখনকার শিশুদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ব্যস্ত অভিভাবকরা শিশুকে শান্ত রাখতে কিংবা নিজের কাজে মনোযোগ দিতে অবলীলায় তাদের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি নিরীহ মনে হলেও, এর আড়ালে শিশুদের মানসিক ও ভাষাগত বিকাশে কতটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একদল গবেষক তাদের এক গবেষণায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব এবং বয়ঃসন্ধির শুরুতে যারা নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের শব্দভান্ডার এবং পড়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিও বা ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় শিশুরা নতুন নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তারা সাধারণ শব্দ চিনতে এবং সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ডিজিটাল আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর আইনি তৎপরতা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন শিশুদের সুরক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ঠিক এমন এক সময়ে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার এই গবেষণাটি জনসমক্ষে এলো, যা শিশুদের হাতে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে অভিভাবকদের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিশুদের জন্য হামের টিকা বিদেশ থেকে আনা হয়নি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সংসদের অধিবেশনে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে দেশের সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু সেই সময়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কয়েক বছর ধরে শিশুদের জন্য হামের টিকা আমদানি করা হয়নি, যা বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ। তারেক রহমান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে এবং দ্রুত হামের টিকা সরবরাহ করেছে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হবে। হাম শনাক্তে ব্যবহৃত টেস্ট কিটের কিছু ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কিট দেশে পৌঁছেছে এবং আরও কিছু কিট বিমানবন্দরের কাস্টমসে রয়েছে, যা দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী শিশুদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিভাবকহীন অবস্থায় সীমান্তে আটক হওয়া শিশুদের যে সমস্ত শেল্টারে রাখা হয়েছিল, সেখানে সুরক্ষার বদলে তারা চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। বেশ কয়েকজন শিশু তাদের সাথে হওয়া অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মারধর, দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা এবং এমনকি যৌন নিগ্রহের মতো ভয়াবহ ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে "মানবিক বিপর্যয়" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, সরকারি নজরদারির অভাবে এবং বেসরকারি ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে শিশুদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের নেতারাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই কলঙ্কজনক ঘটনা তদন্তে তারা একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যুটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার রক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটি।
ইন্টারনেটের বিশাল জগতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট থেকে তাদের দূরে রাখতে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্লকটি একটি বিশেষ ‘এজ-ভেরিফিকেশন’ বা বয়স যাচাইকারী অ্যাপ উন্মোচন করেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অ্যাপটির কারিগরি কাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্ষতিকর কন্টেন্ট, আসক্তি এবং সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের বাঁচাতে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন প্রণয়ন করছে। অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। ইউরোপের দেশগুলোও একই পথে হাঁটছে। এই প্রেক্ষাপটে ইইউ এই ‘সহজ ও কার্যকর’ সমাধানটি নিয়ে এসেছে। এই অ্যাপটি অনেকটা করোনাকালীন ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্টের’ আদলে তৈরি। ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে অ্যাপটি ডাউনলোড করে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের (ID Card) মাধ্যমে বয়স যাচাই করবেন। কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় অ্যাপটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করেই কেবল তিনি নির্দিষ্ট বয়সের কি না, তা নিশ্চিত করবে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই অ্যাপটি সম্পূর্ণ বেনামী (anonymous) এবং এটি ব্যবহারকারীর অনলাইন গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবে না। এটি মূলত ‘ওপেন সোর্স’ প্রযুক্তিতে তৈরি, যাতে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারে। ফন ডার লিয়েন স্পষ্ট করে বলেন, “অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এখন আর কোনো অজুহাত নেই। শিশুদের সুরক্ষার জন্য ইউরোপ একটি নিখরচায় এবং সহজ সমাধান দিচ্ছে।” অ্যাপটি চালুর পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইইউ। বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি শিশুদের অধিকার রক্ষা করবে না এবং সঠিক বয়স যাচাই পদ্ধতি প্রয়োগ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করা হবে। ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট (DSA) অনুযায়ী বড় ধরনের জরিমানার মুখে পড়তে পারে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা মেটার মতো টেক জায়ান্টরা। প্রাথমিকভাবে ফ্রান্স, ইতালি, ডেনমার্ক এবং স্পেনের মতো সাতটি দেশ এই সিস্টেমটি গ্রহণ করার পথে রয়েছে। খুব শীঘ্রই পুরো ইউরোপ জুড়ে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে পারে।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে, আর বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এক নজরে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি: মোট মৃত্যু: ৯ জন (হাম নিশ্চিত: ১ জন, উপসর্গসহ: ৮ জন)। নতুন ভর্তি রোগী: ১১০৫ জন (সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে)। হাম শনাক্ত: ১৭৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫৩ জনে এবং নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে ১০ হাজার ২২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৫৬ জন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের এক ভয়াবহ নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া নতুন এক আইনে ফিলিস্তিনি শিশুদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা এই আইনকে ‘জল্লাদ আইন’ (The Gallows Law) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই বিলে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আইনে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় বা বয়সের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক আদালতগুলোতে বর্তমানে ১২ বছর বয়সী শিশুকেও বিচার করার বিধান রয়েছে, যা এখন এই প্রাণঘাতী আইনের আওতায় চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, বরং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনি শিশুদেরও ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই আইন পাসের মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এক আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত করার ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে এবং আপিলের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই আইনের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তিনি বারবার দাবি করে আসছেন যে, যারা ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালায় তাদের একমাত্র পরিণতি হতে হবে মৃত্যু। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মূলত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) এর তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতি বছর শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে এবং তাদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নতুন এই আইন কার্যকর হলে সামরিক আদালতে শিশুদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে এবং সামান্য অজুহাতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই আইনকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি দ্রুত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই আইনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি এখন ‘আইনের’ দোহাই দিয়ে শিশুদের ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের চরম অমানবিকতারই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ৭ বছর বয়সী শিশু এথেনা স্ট্র্যান্ডকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। অভিযুক্ত পার্সেল সরবরাহকারী চালক ট্যানার হার্নের আদালতে হঠাৎ করেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ফোর্ট ওয়ার্থের আদালতে শুনানির সময় তিনি শিশু অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর ফলে নির্ধারিত বিচার কার্যক্রম শুরুর আগেই মামলাটি সরাসরি শাস্তি নির্ধারণের পর্যায়ে চলে যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে একটি পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, অপহরণের পর শিশুটি কিছু সময় সরবরাহ ভ্যানের ভেতরে ছিল—যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংবেদনশীলতার কারণে এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হয়নি। অভিযুক্ত ট্যানার হার্নের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডেক্স এর হয়ে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। এখন জুরিবোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা এবং পার্সেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।