সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্ক নিকসের জয়ের আনন্দে খুদে ভক্তদের জন্য বিশেষ আয়োজন, প্যারেডের আগেই জমজমাট উৎসব

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৭:৫৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্ক নিকসের ঐতিহাসিক এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় উদযাপনে বাদ যায়নি শিশুরাও। বৃহস্পতিবার শহরের মূল ‘টিকার-টেপ প্যারেড’-এর আগেই, বুধবার আপার ওয়েস্ট সাইডে শত শত খুদে ভক্ত তাদের প্রিয় দলকে নিয়ে মেতে ওঠে। শিশুদের স্কুলের সময়সূচি এবং মূল প্যারেডের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে চিলড্রেনস মিউজিয়াম অব ম্যানহাটন (সিএমওএম) প্রথমবারের মতো শিশুদের উপযোগী এই বিশেষ পার্টির আয়োজন করে।

 

মিউজিয়ামের সিইও ডাভা শুব জানান, শহরের বড় অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত সকালে হয়, তাই শিশুদের স্কুল, রাতের খাবার ও ঘুমানোর রুটিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিকেল ৪টায় এই আয়োজন করা হয়েছে। আপার ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দা এবং নিকসের একনিষ্ঠ ভক্ত জেসিকা সাইনফেল্ড ও অ্যামি শুমারের হাত ধরে উৎসবের সূচনা হয়। “গো নিউইয়র্ক গো” গানের তালে নেচে ওঠা খুদে ভক্তদের আনন্দ দিতে কমলা ও নীল রঙের কনফেত্তি ওড়ানো হয়।

 

সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের এই ইভেন্টে ছিল ফেস পেইন্টিং, নাচ এবং নিকস তারকাদের বিশাল কাটআউটের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ, যা শিশুদের মূল প্যারেডে যেতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘুচিয়েছে।

 

শিশুদের জন্য এই আলাদা আয়োজনের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মূল প্যারেডের সময়সূচি। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী আগেই জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মূল প্যারেড শুরু হলেও শহরের স্কুলগুলোর ক্লাস বা রিজেক্টস পরীক্ষা স্থগিত করা হবে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পক্ষে মূল আয়োজনে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

 

তাছাড়া, শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হতে যাওয়া এই প্যারেডে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, ছোট শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবার বা পানি নিয়ে সেখানে যাওয়া অভিভাবকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই জ্যারেড ভার্টেরামোর মতো অনেক অভিভাবকই ঝুঁকি না নিয়ে তাদের সন্তানদের মিউজিয়ামের এই নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে নিয়ে এসেছেন।

 

তবে এর মধ্যেও ১০ বছর বয়সী মেসন আলভারাডোর মতো কিছু ভাগ্যবান শিশু আছে, যাদের অভিভাবকরা জীবনের এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে একদিনের জন্য স্কুল কামাই করার অনুমতি দিয়েছেন। মেসনের মা অ্যাঞ্জেলিকা জানান, নিকস খেলোয়াড়দের হাল না ছাড়ার মানসিকতা শিশুদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা, তাই তারা সশরীরে মূল প্যারেড দেখতে উপস্থিত থাকবেন।

 

আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি মিউজিয়ামের এই আয়োজনের একটি বড় শিক্ষণীয় দিকও ছিল। কঠোর পরিশ্রম, দলবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরপরই প্রতিপক্ষ সান আন্তোনিও স্পার্সের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিকস তারকা জ্যালেন ব্রানসনের হাত মেলানোর মতো চমৎকার স্পোর্টসম্যানশিপ থেকে শিশুদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ শেখানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন আয়োজকরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডোনাল্ড ট্রাম্প, নিকি মিনাজ
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিকি মিনাজকে নিয়োগের প্রস্তাবে সায় ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে জনপ্রিয় র‍্যাপ শিল্পী নিকি মিনাজকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবকে ভালো ধারণা বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন। তবে নিকি মিনাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিংবা তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি হোয়াইট হাউস। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   ডানপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিকি মিনাজের প্রসঙ্গ ওঠে। জনসন জানতে চান, জনপ্রিয় এই র‍্যাপ শিল্পীকে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করা উচিত কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি ভালো ধারণা এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাববেন। পরক্ষণেই জনসনকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনিও এই দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারবেন।   ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর নিকি মিনাজকে নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য ছিল হালকা মেজাজের কথোপকথনের অংশ। প্রেসিডেন্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া, সম্ভাব্য সাক্ষাৎকার কিংবা সিদ্ধান্তের সময়সূচির কথা জানাননি। ফলে তিনি সত্যিই মিনাজকে নিয়োগের কথা ভাবছেন, নাকি কেবল উপস্থাপকের প্রস্তাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদটি গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট দায়িত্ব ছাড়েন ক্যারোলিন লিভিট। এরপর প্রায় ৪৫ দিন পদটি শূন্য ছিল। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেটি জাকারিয়াকে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাঁকে পদ ছাড়তে হয়। এরপর থেকে আবারও স্থায়ী প্রেস সেক্রেটারি ছাড়াই চলছে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত যোগাযোগ কার্যক্রম।   কেটি জাকারিয়া ১৩ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিং করেন। প্রায় ১৪ মিনিটের ওই ব্রিফিংয়ের পর তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ও আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তাঁর আইন পেশা পরিচালনার অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। পরে ট্রাম্প জানান, তিনি জাকারিয়াকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। ১৬ অক্টোবর তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার খবর নিশ্চিত হয়।   এই পরিস্থিতিতে নিকি মিনাজকে পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার আলোচনা প্রথম সামনে আসে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেউংয়ের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকে। গত ২৫ অক্টোবর এয়ার ফোর্স ওয়ানে নিকি মিনাজের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতে দেখা যায় র‍্যাপ শিল্পীকে। পোস্টের সঙ্গে চেউং রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, সম্ভবত হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি পাওয়া গেছে।   চেউংয়ের ওই পোস্টে মার্কিন পতাকা ও হাসির ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান নিকি মিনাজ। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে সম্ভাব্য প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে চেউংয়ের মন্তব্য ছিল অনানুষ্ঠানিক। সেটিকে নিয়োগের ঘোষণা কিংবা হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি।   একই দিন মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিকি মিনাজ। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাঁর প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে ট্রাম্পও মিনাজের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাঁকে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই উপস্থিতি র‍্যাপ শিল্পীর রাজনৈতিক অবস্থানকে আবারও আলোচনায় আনে।   নিকি মিনাজ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতজগতের পরিচিত মুখ। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। র‍্যাপ সংগীতের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তবে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি থাকা এবং হোয়াইট হাউসের সরকারি মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির প্রধান দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক নীতি ও সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া। নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং, গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরাও এই পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এই দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি নীতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি কে হতে পারেন, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে আরও কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্কট জেনিংস, হ্যারিসন ফিল্ডস, মার্গো মার্টিন ও নাটালি হার্প। তবে তাঁদের কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।   অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বেটিং প্ল্যাটফর্ম কালশি ও পলিমার্কেটেও পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি নিয়ে লেনদেন চলছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আনা কেলিকে ঘিরে তুলনামূলক বেশি লেনদেনভিত্তিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিকি মিনাজের ক্ষেত্রে এই হার অনেক কম। তবে এসব প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য নয়। লেনদেনকারীদের ধারণা ও বাজারের পরিস্থিতির ওপর এগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।   এ বিষয়ে শনিবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং নিউজউইককে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দল বর্তমানে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। চেউংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজেই প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে তুলে ধরছেন। তিনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। তবে পরবর্তী স্থায়ী প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।   আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পদটি শূন্য থাকলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাচনি প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে স্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক সময়সীমা ঘোষণা করেনি।   সব মিলিয়ে নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাবকে ভালো ধারণা বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তাঁর মন্তব্যের পরও কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে জনপ্রিয় র‍্যাপ শিল্পী সত্যিই হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দায়িত্ব পাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ৫:১৭
বাবা ২৫ বছর বয়সী ফারমিন মেদ্রানো-পেরেজ এবং মা ২৪ বছর বয়সী জেনেইক্সা রদ্রিগেজ-ক্রেসপো

ফ্লোরিডায় পুকুরের পানিতে একা চার বছরের শিশু, অবহেলার অভিযোগে মা-বাবা গ্রেপ্তার

শিক্ষার্থীর মাকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে নিহত ছাত্রের মাকে ভিসা দিতে রাজি ট্রাম্প, জানালেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগে বিশাল একটি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু

জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে ১ হাজার চাকরির সুযোগ

শিশু সাবারের ডাইনোসরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ একপর্যায়ে তার আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
খেলনা ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহে বদলে গেল শিশুর আচরণ, খেলনা ছুড়ে আহত করল দাদাকে

যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিবারের আড়াই বছরের শিশুর ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ একসময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে খেলনা ডাইনোসর নিয়ে তার উচ্ছ্বাসকে স্বাভাবিক শিশুসুলভ আনন্দ হিসেবেই দেখেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ তার দৈনন্দিন আচরণে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ডাইনোসরের মতো গর্জন, পা দিয়ে মেঝেতে আঘাত করা এবং পরিবারের সদস্যদের মারার মতো আচরণ করতে থাকে সে। একপর্যায়ে খেলনা ডাইনোসর ছুড়ে মেরে তার দাদার গাল কেটে দেয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন শিশুটির বাবা-মা।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির নাম সাবার। তার মা এলিজা কারাজাহ জানান, বসন্তকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আনন্দ দিতে বাবা বালপ্রিত ১৫টি ছোট প্লাস্টিকের ডাইনোসর খেলনা কিনে আনেন। এরপর থেকেই ডাইনোসরের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। খেলনাগুলো সব সময় সঙ্গে রাখত সে। ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময়ও ১৫টি ডাইনোসরই সঙ্গে নিয়ে যেত। পরে ডাইনোসরের ছবি আঁকা পোশাক পরা, এ ধরনের সিনেমা দেখা এবং ডাইনোসর নিয়ে তথ্যচিত্র দেখার প্রতিও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে।   শিশুটির মা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টি তাদের কাছে বেশ মজার মনে হয়েছিল। ডাইনোসর দেখলেই সাবার আনন্দে মেতে উঠত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আগ্রহ এতটাই বেড়ে যায় যে টেলিভিশনে অন্য কিছু দেখতেই চাইত না। ডাইনোসরবিষয়ক সিনেমা, তথ্যচিত্র ও ইউটিউব ভিডিওই হয়ে ওঠে তার পছন্দের একমাত্র বিনোদন। ছোট ভাইয়ের জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। মায়ের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন। এ সময় তার ডাইনোসরবিষয়ক ভিডিও দেখার সুযোগও বেড়ে যায়।   একপর্যায়ে সাবার শুধু ডাইনোসরের অভিনয় করেই ক্ষান্ত থাকত না, খেলনাগুলো পরিবারের সদস্যদের আঘাত করার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। প্রথমে খেলনাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি আঘাত করত। পরে সেগুলো ছুড়ে মারতে থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের গায়ে আঘাত করত। একবার একটি উড়ন্ত ডাইনোসরের খেলনা ছুড়ে তার দাদার গাল কেটে দেয়। ঘটনাটির পর পরিবারটি সিদ্ধান্ত নেয়, আপাতত ডাইনোসর নিয়ে সব ধরনের ভিডিও ও অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। এরপর ধীরে ধীরে ধারালো খেলনা, বড় খেলনা এবং ছোট খেলনাগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়।   শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ কেইটলিন ব্লাইথের মতে, ছোট শিশুদের কোনো নির্দিষ্ট খেলনা বা বিষয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ বয়সে শিশুরা চারপাশের জগৎকে বুঝতে ও বিভিন্ন বিষয় শ্রেণিবদ্ধ করতে শেখে। ডাইনোসরের নাম, আকার ও ধরন সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে তারা কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের আনন্দ পেতে পারে। ২০০৭ সালে ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৭৭ জন অভিভাবকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশুর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। তবে এ ধরনের আগ্রহের বিষয়বস্তু ও স্থায়িত্ব শিশুভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ব্লাইথ বলেন, ডাইনোসর সেজে গর্জন করা বা পা দিয়ে মেঝেতে আঘাত করা স্বাভাবিক কল্পনাপ্রসূত খেলার অংশ হতে পারে। তবে খেলতে গিয়ে অন্যকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, শুধু খেলনা সরিয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। শিশুটি কেন এমন আচরণ করছে, সেটিও বোঝা জরুরি। বড়দের উচিত শিশুর খেলায় অংশ নেওয়া এবং গল্পের মাধ্যমে তাকে অন্যের প্রতি যত্নশীল আচরণ শেখানো। যেমন, খেলায় কোনো ডাইনোসন আহত হলে অন্য ডাইনোসররা তাকে সাহায্য করছে, এমন গল্প তৈরি করা যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞের ধারণা, ছোট ভাইয়ের জন্মের পর পরিবারের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসায় সাবারের মধ্যে তৈরি হওয়া অনুভূতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল ডাইনোসরকেন্দ্রিক খেলা। নিজের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করতে না পারায় সে হয়তো গর্জন বা আক্রমণাত্মক আচরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করছিল। তবে এটি বিশেষজ্ঞের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, শিশুটির আচরণের নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।   এলিজা জানান, ডাইনোসরবিষয়ক ভিডিও ও খেলনা থেকে দূরে রাখার পর সাবারের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন সে আগের তুলনায় বেশি কথা বলে এবং নিজের মন খারাপ, আনন্দ বা ভয় পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে। ছবি আঁকা, নাচা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলাও করছে। মাঝেমধ্যে এখনো ডাইনোসরের মতো গর্জন বা পা দিয়ে আঘাত করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে পরিবারটি তাকে কথার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবার ডাইনোসরের খেলনা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন তারা।   এলিজার মতে, ডাইনোসর নয়, বরং অতিরিক্ত পর্দানির্ভরতা এবং বাড়িতে নতুন শিশুর আগমনের পর পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ছেলের আচরণে প্রভাব ফেলেছিল। তাই আপাতত ডাইনোসরবিষয়ক খেলনা ও ভিডিও থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছেন তারা।   সূত্র: নিউজউইক, ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন হিউম্যান নিউরোসায়েন্স’ সাময়িকী এবং ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকী।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ২৩:২২
মিশিগানের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ সালে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ২২৩ জন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় দৌড়ানোর সময় ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর গলায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে সন্ধ্যায় জগিংয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নারী, হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

বাবার পারকিনসনের ওষুধের খরচ জোগাতে গিয়ে নিজের খাবার বন্ধ করে দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের এক তরুণী, পরে পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে ধরা পড়ে অনাহারজনিত শারীরিক জটিলতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে না খেয়ে থাকতেন নিউ ইয়র্কের তরুণী, শেষ পরিণতি হাসপাতালে

যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিশিগানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলকে হত্যার হুমকি, মিশিগান থেকে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) পরিচালক কাশ প্যাটেলকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অ্যান্থনি ড্যানিয়েল পালাজোলো (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশিগানের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির কার্যালয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, মিশিগানের চেস্টারফিল্ড টাউনশিপের বাসিন্দা পালাজোলো অক্টোবরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাশ প্যাটেল ও তাঁর এক সহযোগীকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ৮ অক্টোবর ওই সহযোগীকে পাঠানো একটি বার্তায় তিনি লেখেন, ওই ব্যক্তিকে হত্যার জন্য লোক ঠিক করেছেন এবং প্যাটেলও বাঁচবেন না। বার্তাটিতে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ‘বেবি বার্ড’ নামে। তবে প্যাটেলের ওই সহযোগীর পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ব্রায়ান ককজেনাশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পালাজোলোর ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান শনাক্ত করেন। ৯ অক্টোবর এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা চেস্টারফিল্ড টাউনশিপে তাঁর বাসায় গিয়ে কথা বলেন। এ সময় পালাজোলো জানান, সরকারি সংস্থাগুলো তাঁর সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে তিনি মনে করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি ফেসবুকে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চেয়ে বলেন, কাউকে ক্ষতি করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না।   তবে এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও তাঁর হুমকিমূলক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর তিনি সংশ্লিষ্ট এক এফবিআই কর্মকর্তার সরকারি ইমেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠান। একই সঙ্গে টেক্সাসের একটি কেন্দ্রীয় আদালত, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস এবং সুপ্রিম কোর্টেও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরদিন ওই কর্মকর্তাকে ফোন করে দুটি ভয়েস মেসেজ দেন পালাজোলো। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।   শুক্রবার মিশিগানের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক ডেভিড আর গ্র্যান্ডের সামনে হাজির করা হয় পালাজোলোকে। শুনানি শেষে তাঁকে সাময়িকভাবে আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) তাঁর জামিন ও হেফাজতসংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। শুক্রবারের শুনানিতে তিনি কোনো দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করে আবেদন করেননি। এদিকে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। পালাজোলোর পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবীও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।   এর আগে চলতি বছরের মার্চে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যালডেন ওয়েলচ রামল নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাশ প্যাটেলের বাগ্‌দত্তা অ্যালেক্সিস উইলকিনসকে হুমকিমূলক ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় রামল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তাঁর বিচার আগামী ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা রয়েছে। পালাজোলোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিশিগানের অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সিএনএন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ২০:৪০
ভায়োলেটা মাইলিয়ান

ছুটিতে থেকেও রোগী দেখানোর বিল! কোটি ডলার জালিয়াতিতে চিকিৎসকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

খুলনার শেখ আল আমিন

খুলনার শেখ আল আমিন এখন মার্কিন সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার

ফ্লোরিডাভিত্তিক ‘ভিলা ভি রেসিডেন্সেস’-এর বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ ‘এমভি ওডিসি’

আজীবন সমুদ্রভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধ ক্রুজ, বিপুল অর্থ হারিয়েও অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তুষ্ট দুই বোন

0 Comments