আমেরিকা

নিউইয়র্ক নিকসের জয়ের আনন্দে খুদে ভক্তদের জন্য বিশেষ আয়োজন, প্যারেডের আগেই জমজমাট উৎসব

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৭:৫৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্ক নিকসের ঐতিহাসিক এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় উদযাপনে বাদ যায়নি শিশুরাও। বৃহস্পতিবার শহরের মূল ‘টিকার-টেপ প্যারেড’-এর আগেই, বুধবার আপার ওয়েস্ট সাইডে শত শত খুদে ভক্ত তাদের প্রিয় দলকে নিয়ে মেতে ওঠে। শিশুদের স্কুলের সময়সূচি এবং মূল প্যারেডের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে চিলড্রেনস মিউজিয়াম অব ম্যানহাটন (সিএমওএম) প্রথমবারের মতো শিশুদের উপযোগী এই বিশেষ পার্টির আয়োজন করে।

 

মিউজিয়ামের সিইও ডাভা শুব জানান, শহরের বড় অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত সকালে হয়, তাই শিশুদের স্কুল, রাতের খাবার ও ঘুমানোর রুটিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিকেল ৪টায় এই আয়োজন করা হয়েছে। আপার ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দা এবং নিকসের একনিষ্ঠ ভক্ত জেসিকা সাইনফেল্ড ও অ্যামি শুমারের হাত ধরে উৎসবের সূচনা হয়। “গো নিউইয়র্ক গো” গানের তালে নেচে ওঠা খুদে ভক্তদের আনন্দ দিতে কমলা ও নীল রঙের কনফেত্তি ওড়ানো হয়।

 

সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের এই ইভেন্টে ছিল ফেস পেইন্টিং, নাচ এবং নিকস তারকাদের বিশাল কাটআউটের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ, যা শিশুদের মূল প্যারেডে যেতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘুচিয়েছে।

 

শিশুদের জন্য এই আলাদা আয়োজনের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মূল প্যারেডের সময়সূচি। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী আগেই জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মূল প্যারেড শুরু হলেও শহরের স্কুলগুলোর ক্লাস বা রিজেক্টস পরীক্ষা স্থগিত করা হবে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পক্ষে মূল আয়োজনে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

 

তাছাড়া, শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হতে যাওয়া এই প্যারেডে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, ছোট শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবার বা পানি নিয়ে সেখানে যাওয়া অভিভাবকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই জ্যারেড ভার্টেরামোর মতো অনেক অভিভাবকই ঝুঁকি না নিয়ে তাদের সন্তানদের মিউজিয়ামের এই নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে নিয়ে এসেছেন।

 

তবে এর মধ্যেও ১০ বছর বয়সী মেসন আলভারাডোর মতো কিছু ভাগ্যবান শিশু আছে, যাদের অভিভাবকরা জীবনের এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে একদিনের জন্য স্কুল কামাই করার অনুমতি দিয়েছেন। মেসনের মা অ্যাঞ্জেলিকা জানান, নিকস খেলোয়াড়দের হাল না ছাড়ার মানসিকতা শিশুদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা, তাই তারা সশরীরে মূল প্যারেড দেখতে উপস্থিত থাকবেন।

 

আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি মিউজিয়ামের এই আয়োজনের একটি বড় শিক্ষণীয় দিকও ছিল। কঠোর পরিশ্রম, দলবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরপরই প্রতিপক্ষ সান আন্তোনিও স্পার্সের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিকস তারকা জ্যালেন ব্রানসনের হাত মেলানোর মতো চমৎকার স্পোর্টসম্যানশিপ থেকে শিশুদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ শেখানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন আয়োজকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিঃ জিলো রিসার্চ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এবং তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রখ্যাত রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জিলোর নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৪২টি শহরে এখন প্রাথমিক বা 'স্টার্টার হোম'-এর দাম অন্তত ১০ লাখ ডলার (১ মিলিয়ন ডলার) বা তারও বেশি।   জিলো মূলত কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সর্বনিম্ন এক-তৃতীয়াংশ মূল্যের বাড়িকে 'স্টার্টার হোম' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে অন্তত সাত অঙ্কের (মিলিয়ন ডলার) মূল্যের সাধারণ বাড়ি থাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। করোনা মহামারির সময় থেকে আবাসন সংকট, বিপুল চাহিদা এবং ঐতিহাসিকভাবে মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণের সুদের হার কম থাকার কারণে বাড়ির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে।   জিলোর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কারা এনজি এক বিবৃতিতে জানান, মহামারিটি বাড়ি কেনার খরচকে নতুন করে নির্ধারণ করেছে। এর ফলে মিলিয়ন-ডলারের স্টার্টার হোমগুলো এখন কেবল কয়েকটি উপকূলীয় রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশের অন্তত দুই ডজনেরও বেশি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জিলো এ-ও উল্লেখ করেছে যে, দেশজুড়ে সাধারণ স্টার্টার হোমের গড় মূল্য এখনো ১০ লাখ ডলারের চেয়ে অনেক কম; যা বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।   ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েল্টরসের মতে, দেশটিতে একটি বাড়ির সামগ্রিক মধ্যম (মিডিয়ান) মূল্য প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, এই গড় মূল্যের একটি বাড়ি কেনার সামর্থ্য অর্জন করতে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার হওয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা গেছে, গড় আয়ের একটি পরিবারকে মধ্যম দামের বাড়ির পেছনে তাদের আয়ের অন্তত ৪০ শতাংশ ব্যয় করতে হয়। যদিও বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পরামর্শ দেন যে, ১৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার পর মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট যেন কোনোভাবেই বার্ষিক আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি না হয়।   জিলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আকাশছোঁয়া মূল্যের স্টার্টার হোমগুলোর বড় একটি অংশ ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলোতে অবস্থিত। রাজ্যটিতে এমন ১০৫টি শহর রয়েছে যেখানে একটি সাধারণ সম্পত্তির দাম অন্তত ১০ লাখ ডলার। অর্থনীতিবিদ কারা এনজি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও দামি স্টার্টার হোম ক্রমশ সাধারণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বের শহরগুলোতে মিলিয়ন-ডলারের স্টার্টার হোমগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে, কারণ সেখানে আবাসন সংকটের এখনো কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।   অন্যদিকে ‘সান বেল্ট’ এলাকার বাজারগুলো নতুন বাড়ি সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে, যার ফলে সেখানে দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।   জিলোর তথ্যমতে, মহামারির আগে যেখানে মাত্র ৯টি রাজ্যে মিলিয়ন-ডলারের স্টার্টার হোম ছিল, সেখানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি রাজ্যে অন্তত একটি করে এমন শহর রয়েছে। এই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া (১০৫টি) শীর্ষে রয়েছে। এরপরই রয়েছে নিউইয়র্ক (৪১টি), নিউ জার্সি (২৬টি), ফ্লোরিডা (১১টি), ম্যাসাচুসেটস (১০টি), ওয়াশিংটন (৮টি) এবং টেক্সাস (৭টি)। এছাড়াও কানেকটিকাট, হাওয়াই, মেরিল্যান্ড, কলোরাডো এবং ইলিনয়ের মতো রাজ্যগুলোতেও এমন উচ্চমূল্যের স্টার্টার হোমের দেখা মিলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৮:৩৯
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে বড় সংকট, অবসর ভাতায় কাটছাঁটের আশঙ্কা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্ক নিকসের জয়ের আনন্দে খুদে ভক্তদের জন্য বিশেষ আয়োজন, প্যারেডের আগেই জমজমাট উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য স্বল্প প্রশিক্ষণে সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ l ছবি: সংগৃহীত

উবার বা পিজা ডেলিভারি নয়: ৩-৬ মাসের প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার ৫ বাস্তব সুযোগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে আট নারী হত্যার দায়ে সিরিয়াল কিলারের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা

গিলগো বিচ সিরিয়াল কিলার রেক্স হিউম্যানের একটি নতুন মগশট বা পুলিশের তোলা ছবি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তার চোখেমুখে এক স্পষ্ট, শীতল ও ক্রূর দৃষ্টি ফুটে উঠেছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করার জন্য তাকে কারাগারে পাঠানোর ঠিক এক দিন আগে এই ভয়ংকর ছবিটি প্রকাশ্যে আসে।   ৬২ বছর বয়সী হিউম্যান গত এপ্রিলে আদালতে স্বীকার করেন যে, তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আটজন যৌনকর্মীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এবং তাদের মৃতদেহগুলো লং আইল্যান্ডের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়েছেন। এই দোষ স্বীকার চুক্তির (প্লি ডিল) অংশ হিসেবে তাকে তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা হয়। বুধবার রিভারহেড কোর্টহাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।   বিশালদেহী এই স্থপতির নতুন মগশটে যে ভীতিকর এবং অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টি দেখা গেছে, তা আদালতে দোষ স্বীকার করার সময় তার মুখে লেগে থাকা সেই কুটিল হাসির চেয়ে একেবারেই আলাদা। ছবিতে তার অভিব্যক্তিতে কোনো অনুশোচনার ছাপ নেই, বরং এক ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে।   গিলগো বিচের এই লোমহর্ষক ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লং আইল্যান্ডের বাসিন্দাদের মনে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে রেখেছিল। দশকের পর দশক ধরে অধরা থাকা এই খুনিকে নিয়ে পুলিশও অন্ধকারে ছিল। অবশেষে ২০২৩ সালে হিউম্যানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই দীর্ঘকালীন রহস্যের জট খুলতে শুরু করে এবং সম্প্রতি তার দোষ স্বীকার করার মধ্য দিয়ে এই ভয়ংকর অধ্যায়ের যবনিকা পাত হতে চলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৫:৩১
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একের পর এক বাড়ি দখলের অভিযোগ, আলোচনায় ‘সিরিয়াল স্কোয়াটার’

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে ফের টর্নেডো ও ধ্বংসাত্মক ঝড়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ছাত্রীদের চুম্বনে বাধ্য করার অভিযোগে শিক্ষিকা বরখাস্ত

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দত্তক নেওয়া দুই পুত্রের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নিউপোর্টে এক শিক্ষিকাকে নিজের দুই দত্তক কিশোর পুত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকার নাম অ্যাম্বার সোয়েইন। তার বিচ্ছিন্ন স্বামী ওই শিক্ষিকা এবং এক দত্তক পুত্রের মধ্যকার কিছু আপত্তিকর খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে এই গুরুতর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, সোয়েইন তার ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই দত্তক পুত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এক কিশোর জানায়, গত ডিসেম্বর মাস থেকে তার সঙ্গে সোয়েইনের এই সম্পর্ক শুরু হয়, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করে যে, তাদের মধ্যে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে।   অন্যদিকে, অপর এক কিশোর তদন্তকারীদের জানিয়েছে, মায়ের বিছানায় ঘুমানোর এক পর্যায়ে তাদের মধ্যেও আপত্তিকর ঘটনা ঘটে এবং এক ভাই অন্য ভাইয়ের ঘরে মায়ের উপস্থিতি দেখে সন্দেহও পোষণ করেছিল। ফাঁস হওয়া মেসেজেও এক কিশোর পুনরায় মায়ের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। যদিও সোয়েইন প্রথমদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘুমের ঘোরের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পরবর্তীতে তদন্তকারীদের জেরার মুখে তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে এক কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।   অ্যাম্বার সোয়েইন পেশায় পেন্ড ওরেইল রিভার স্কুলের একজন শিক্ষিকা ছিলেন এবং ফস্টার শিশুদের সহায়তাকারী 'স্পোকেন অ্যাঞ্জেলস' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। জানা গেছে, ২০১৭ সালে নিজের ক্লাসরুমের এক শিশু শিক্ষার্থীকে তিনি প্রথম দত্তক নিয়েছিলেন।   অভিযোগ সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের শিশু, যুব ও পরিবার বিভাগের কাছে টেক্সট মেসেজের প্রমাণ হস্তান্তরের ভিত্তিতে গত ২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। গত ৮ জুন আদালতে সোয়েইন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ৬ অক্টোবর এই মামলার বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৩:২৪
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায় ১৯ জুন শুরু হচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’

ছবি: সংগৃহীত

মেয়র জোহরান মামদানিকে অপসারণের ইঙ্গিত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির মুলিন

ছবি: সংগৃহীত

১৯৬৫ সালের আইন পুনর্মূল্যায়নের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মেরিটভিত্তিক অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

0 Comments