- প্রচ্ছদ
- Topic
শিশু হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের মানডান শহরে নিজ সন্তানদের ওপর এক মায়ের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মানসিক অস্থিরতা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে ২২ বছর বয়সী কাইলি এরহার্ট নামে এক নারী তাঁর দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এবং অপর এক সন্তানকে গুরুতর জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আদালত ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কাইলি এরহার্ট তাঁর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বামীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হন এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন। সে সময় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। স্বামী সাহসিকতার সঙ্গে তাঁর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিতে সক্ষম হলেও ধস্তাধস্তির সময় কাইলি তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে শিশুদের দাদিও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে তাড়া করে ঘরের বাইরে বের করে দেন এবং এরপরই নিজের তিন শিশু সন্তানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। এই হামলায় কাইলির ৫ মাস এবং ৩ বছর বয়সী দুই শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। অন্যদিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর ১ বছর বয়সী অপর সন্তান। তবে তাকে অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মানডান শহর পুলিশ প্রধান জেসন জিগলার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ কর্মকর্তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, এমন দৃশ্য কারো কখনোই দেখা উচিত নয়। জীবনের অন্যতম এক সংকটময় ও ভয়াবহ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি গর্বিত। এই ঘটনা কেবল ভুক্তভোগী পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সমাজ এবং প্রথম সাড়া দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের মানসিকভাবে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাইলি এরহার্টের বিরুদ্ধে আদালতে ৯টি ফৌজদারি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলা জজ মেরিনা স্পার অভিযুক্তের জামিন হিসেবে নগদ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ধার্য করেন। জেলা জজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তের সহিংসতার মাত্রা এবং সমাজ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই উচ্চ জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া শিশু ও স্বজনদের সঙ্গে কাইলির সব ধরনের যোগাযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। ঘটনার পর আদালতে কাইলি এরহার্ট নিজের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। মামলাটির প্রাথমিক শুনানি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মানডান পুলিশ বিভাগ।
যুক্তরাজ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের পর হত্যার দায়ে তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার এবং মায়ের সঙ্গী হ্যারিসন সিম্পসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে ওয়াকারকে অন্তত ২২ বছর এবং সিম্পসনকে অন্তত ২৮ বছর কারাভোগের পর মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। সিম্পসন শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুজনই শিশু নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ইংল্যান্ডের টিসসাইড ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে উঠে আসে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যাওয়া দুই বছরের ইসাবেল রোজ ওয়েলশ দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ২১টি হাড় ভাঙা, ৯৭টি নরম টিস্যুর আঘাত এবং আরও একাধিক গুরুতর জখমের প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালতে উপস্থাপিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে শিশুটির ওপর বারবার সহিংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ইসাবেলের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন হ্যারিসন সিম্পসন। পরে শিশুটি গুরুতর আহত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার ইন্টারনেটে "আমার ছোট শিশুর রক্তপাত কেন হচ্ছে" লিখে তথ্য খোঁজেন। আদালতে উপস্থাপিত নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় তিনি বাড়ির ভেতরে এদিক-ওদিক হাঁটছিলেন এবং জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার সময় ওয়াকার তার মেয়েকে নাম ধরে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন, "তুমি আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছ।" তবে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করতে তিনি বিলম্ব করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, শিশুটির অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠার অনেক পরে, পরিবারের এক সদস্যের পরামর্শে তিনি জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। পরে প্যারামেডিকরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মামলার শুনানিতে ইসাবেলের নানি ক্লেয়ার ওয়াকার জানান, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে নাতনির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি শিশুটিকে খুবই প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমান এবং সুস্থ স্বাভাবিক হিসেবে জানতেন। তবে শেষ দিকে তার শরীরে একের পর এক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। একটি পর্যায়ে শিশুটির পা ভেঙে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। পরে বাড়িতে গিয়ে তার পিঠেও আঘাতের দাগ দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি। তদন্তে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে জোরে ঝাঁকানো হয়েছিল এবং শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আঘাতই তার মারাত্মক মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়। আদালতে আরও বলা হয়, শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার বর্ণনা আদালত সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করে এবং শিশুর মর্যাদা ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখে। ওয়াকার ও সিম্পসন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তারা হত্যা, শিশু নির্যাতন, শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী হওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করে জুরি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, পরিবার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার পর তার মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে রাখার অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী সল মার্টিনেজ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তদন্তকারীদের সেই স্থানে নিয়ে যান, যেখানে স্যুটকেসের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মেমফিস পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই শিশুটির মা পুলিশকে জানান, তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে জোসেফ মার্টিনেজকে তার জৈবিক বাবা, যিনি শিশুটির অভিভাবক ছিলেন না, অনুমতি ছাড়াই বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন। পরদিন সল মার্টিনেজ বাড়িতে ফিরলেও শিশুটি তার সঙ্গে ছিল না। এরপরই নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তের বাবা গভীর রাতে তাকে একটি বড় বাদামি রঙের স্যুটকেস গাড়িতে তুলতে দেখেছিলেন। পরে ছেলে কোথায়, এমন প্রশ্ন করলে প্রথমে সল মার্টিনেজ দাবি করেন, শিশুটি এক বন্ধুর কাছে রয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি স্বীকার করেন যে শিশুটি মারা গেছে এবং তার মরদেহ উলফ রিভারের কাছে ফেলে রাখা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সল মার্টিনেজ তদন্তকারীদের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যান। সেখানে একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তিন বছর বয়সী জোসেফের মরদেহ। তবে কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সল মার্টিনেজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, গুরুতর শিশুনির্যাতন, মরদেহের অবমাননা, আলামত নষ্ট এবং গুরুতর শিশুনির্যাতনের সময় হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মেমফিস পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে। একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর ওয়াইয়ংয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার আগে পরিবারটি সম্পর্কে একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্বাধীন তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ৩২ বছর বয়সী ওই নারী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওয়াইয়ংয়ের বাইরন স্ট্রিটের একটি বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখানে চার বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুটি কয়েক দিন আগেই মারা গিয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট চ্যাড গিলিস বলেন, শিশুহত্যার প্রতিটি ঘটনাই একটি পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই সব প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রবিবার সকালে ওই নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তার লালা, রক্ত, নখের নমুনা এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আইনি কারণে অভিযুক্ত নারী এবং নিহত শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারটি এর আগে একাধিকবার ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটিজ অ্যান্ড জাস্টিস-এর সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। প্রতিবেশীরাও শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ অভিযোগটি প্রায় ১৮ মাস আগে দায়ের করা হয়েছিল। এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীর অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার ইতিহাস ছিল। এমনকি তার নিজের মা-ও একসময় আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক আদেশ নিয়েছিলেন। এসব তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, এত সতর্কবার্তার পরও কেন শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল। নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবার ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী কেট ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। সেখানে খতিয়ে দেখা হবে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, "এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো কী ঘটেছিল, কখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।" সরকার জানিয়েছে, সাবেক শিশু আদালতের বিচারক পিটার জনস্টোন এই স্বাধীন তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। ঘটনার পর ওয়াইয়ং শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে এক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে ফুল, মোমবাতি ও খেলনা রেখে তাকে শ্রদ্ধা জানান অনেকে। অনুষ্ঠানে 'ফরএভার ইয়াং' গান বাজানো হয় এবং উপস্থিত অনেকেই শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আয়োজক হেইলি ডিকিনসন বলেন, শিশুটিকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারত। আরেক বাসিন্দা ব্রেন্টন হালম বলেন, এই ঘটনা পুরো এলাকাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। শিশুটির পরিচিত হার্লে চিসলেট জানান, শিশুটি ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে কিছু চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন, তবে সেটিকে সাধারণ পারিবারিক ঝগড়া বলেই মনে করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিগগিরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নারী আদালতে হাজির হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ৭ মাস বয়সী এক শিশুকে মাথায় গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনায় নিহত শিশুটির ১৯ বছর বয়সী বাবার বিরুদ্ধেও অবহেলার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সেন্ট লুইসের একটি বাড়িতে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে ৭ মাস বয়সী কিয়োমি পার্কারকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সেন্ট লুইস মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ। আদালতের নথির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বাড়িতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে বলেছেন, ১০ বছর বয়সী অভিযুক্ত শিশুটি একটি শোবার ঘরের গদির নিচে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে কিয়োমির দিকে গুলি চালায়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও এক ৭ বছর বয়সী শিশু উপস্থিত ছিল। তদন্তে অভিযুক্ত শিশুটি পুলিশকে জানায়, অস্ত্রটি কোথায় রাখা ছিল সে তা জানত। আগেও সে অস্ত্রটি বের করে হাতে নিয়েছিল এবং সেটি তার জন্য সহজেই নাগালে ছিল। পরে নিহত শিশুটির বাবা ক্যা'ম্যারিয়ন পনেল পুলিশকে স্বীকার করেন, আগ্নেয়াস্ত্রটি তিনিই গদির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যেখান থেকে অভিযুক্ত শিশুটি সেটি পায়। তবে পনেলের সঙ্গে অভিযুক্ত ১০ বছর বয়সী শিশুটির সম্পর্ক কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর আদালতে ১০ বছর বয়সী শিশুটির বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মিসৌরির ইতিহাসে এত কম বয়সে হত্যা মামলার আসামি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিহত শিশুটির বাবা ক্যা'ম্যারিয়ন পনেলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা, অবহেলার মাধ্যমে শিশুর মৃত্যু ঘটানো এবং শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।