সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সিআইএ

ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি ডলার দুর্নীতি করা সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেভিড রাশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ, কারাদণ্ডের মুখে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির বা সিআইএ এর এক সাবেক কর্মকর্তা সরকারি তহবিলের প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ডেভিড জে. রাশ নামের ৪৯ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। আত্মসাৎ করা এই অর্থ দিয়ে তিনি ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল সম্পত্তি, শত শত স্বর্ণের বার এবং দামি গাড়ি কিনেছিলেন। সম্প্রতি আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তার এসব অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআইয়ের তদন্তে এই নজিরবিহীন দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।   ডেভিড রাশ সিআইএ এর একজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পদে কর্মরত ছিলেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের গোপনীয় তথ্য বা টপ সিক্রেট ক্লিয়ারেন্সের অধিকারী ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, সিআইএতে এই উচ্চ পদে পৌঁছানোর জন্য তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামরিক অভিজ্ঞতার বিষয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শ্রেণিবদ্ধ কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুযোগ পান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একটি ভুয়া স্পেশাল অ্যাক্সেস প্রোগ্রাম তৈরি করেন। অত্যন্ত গোপনীয়তার অজুহাত দেখিয়ে তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের এই প্রকল্পের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া থেকে বিরত রাখেন।   ভুয়া এই গোপন কর্মসূচির আওতায় ডেভিড রাশ কয়েকজন সরকারি ঠিকাদারকে নিযুক্ত করেন এবং তাদের বোঝান যে তারা একটি বৈধ ও অতি গোপনীয় সরকারি প্রকল্পের অংশ। আদালতের নথিতে এটিকে স্যাপ নাম্বার ওয়ান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি সরকারি কাজে যুক্ত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। সংবেদনশীল সরকারি কাজের কথা বলে একটি স্বাধীন সাবকন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে তিনি এই হোল্ডিং কোম্পানি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি খুলেছিলেন। পরবর্তীতে এই তহবিলের অর্থ দিয়ে তিনি দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল আবাসন কেনা এবং সংস্কারের কাজ শুরু করেন।   আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে ফ্লোরিডায় অন্তত চারটি বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি কিনেছিলেন এই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এর মধ্যে পাম বিচ এলাকায় ১৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন, ২২ দশমিক ৯ মিলিয়ন এবং ২৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তিনটি বাড়ি ও জমি রয়েছে। এছাড়া হোপ সাউন্ড এলাকায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আরও একটি জমি কেনেন তিনি। পাশাপাশি এক লাখ ৭২ হাজার ডলারের বেশি দামের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং ৬৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের একাধিক দামি ঘড়ি কেনেন। এফবিআই তার ভার্জিনিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৯৮টি স্বর্ণের বার, ২১ লাখ ডলারের বেশি নগদ অর্থ, এক লাখের বেশি ইউরো এবং রোলেক্সসহ অন্তত ৩০টি দামি ঘড়ি উদ্ধার করে।   ডেভিড রাশ মিথ্যা দাবি করে এসব স্বর্ণের বার কিনেছিলেন এই বলে যে, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সরকারি কাজের জন্য এগুলো প্রয়োজন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাশ তার নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সরকারের কোটি কোটি ডলার প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত বিলাসের জন্য তা ব্যয় করেছেন। তিনি তার শপথ, সহকর্মী এবং আমেরিকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আগামী ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, সেই সাথে তাকে জরিমানা প্রদান ও অবৈধভাবে অর্জিত সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের সম্মুখীন হতে হবে।   উৎস: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং রিয়েল্টর ডটকম

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর (CIA) সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড রাশ সরকারি তহবিল তছরুপের কথা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রড বা তারবার্তায় জালিয়াতির একটি অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। ভুয়া গোপন প্রজেক্টের নামে সরকারের প্রায় ২০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়ে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সোনার বার কিনেছিলেন তিনি।   আদালতের কাছে দোষ স্বীকারের চুক্তি অনুযায়ী, রাশ এখন অন্তত ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৮টি সোনার বার, ফ্লোরিডায় ৪টি বিলাসবহুল বাড়ি, দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং ৩৫টি দামি ঘড়ি। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রাশ একটি ভুয়া 'ক্লাসিফায়েড প্রোগ্রাম' বা গোপন প্রকল্পের গল্প সাজিয়েছিলেন। এরপর একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার সরিয়ে নেন এবং তা দিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচ ও হোব সাউন্ড এলাকায় চারটি বাড়ি কেনেন, যা তিনি পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।   অন্যদিকে, সোনার বারগুলো কেনার জন্য তিনি ঠিকাদারদের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভুয়া 'সংবেদনশীল সরকারি কার্যক্রম'-এর কথা বলেছিলেন।   গত মে মাসে ডেভিড রাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এফবিআই (FBI) এজেন্টরা ৪০ মিলিয়ন বা চার কোটি ডলারের সোনার বার, ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়িগুলো উদ্ধার করে। মূলত সিআইএ-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি ধরা পড়ার পর তারা বিষয়টি এফবিআইকে জানায়।   শুনানিকালে সরকারি আইনজীবীরা রাশকে একজন 'চরম প্রতারক' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ, তিনি নিজের প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের কাছে পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার করেছিলেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এই বিশাল জালিয়াতির ছক কষেছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সিআইএ, ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা, সতর্ক করল সিআইএ

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ আরও গভীর হলে ইসরায়েল গৃহসংঘাত কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ধরনের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি গোপন মূল্যায়ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গোপন নথিটির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে নথিটি সিআইএ প্রকাশ করেনি এবং সংস্থাটি এ বিষয়ে ড্রপ সাইট নিউজের মন্তব্যের অনুরোধেরও জবাব দেয়নি।   ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ বা ‘ভেতর থেকে ভাঙন’ শিরোনামের এই মূল্যায়নটি গত আগস্টে সিআইএর ‘রেড সেল’ ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা তৈরি করেন। সংস্থাটির এই শাখার কাজ হলো প্রচলিত গোয়েন্দা বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে বিকল্প পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্লেষণ করা। দুই মার্কিন সূত্র নথিটির বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমটির কাছে বর্ণনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মূল্যায়নে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক চাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাদের মানসিক চাপ, কট্টরপন্থী ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি নিয়ে অসন্তোষ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের সহিংসতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক লড়াই। এসব বিষয় একসঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।   সামরিক সেবা নিয়ে বিরোধকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম বড় বিভাজন হিসেবে দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কট্টরপন্থী ইহুদি বা হারেদি সম্প্রদায়ের অনেক পুরুষ ধর্মীয় শিক্ষার কারণে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। কিন্তু গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে নিয়মিত রিজার্ভ সেনা তলবের কারণে অন্য অংশের নাগরিকদের মধ্যে এই সুবিধা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সময়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অনেক সেনা গুরুতর মানসিক চাপ ও আঘাত নিয়ে ফিরছেন বলেও মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।   অর্থনৈতিক চাপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে সামরিক ব্যয় বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। ব্যাংক অব ইসরায়েলের গভর্নর আমির ইয়ারন এর আগে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের পর দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশে উঠেছে এবং সরকারি ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ হয়েছে।   নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও এই অস্থিরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্টের ২৬তম মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর জোট ও তার বিরোধী জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ হলেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের ফল ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   সিআইএর কথিত মূল্যায়নে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিচ্ছিন্নতা বাড়ার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যায়নকারীরা আশঙ্কা করছেন, অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হলে বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে পারে, যা ইসরায়েলের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।   তবে গোপন নথিতে ইসরায়েলে নিশ্চিতভাবে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে এমন কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত একসঙ্গে আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি ‘গৃহসংঘাতের’ দিকে যেতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজের এক মার্কিন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নথির লেখকেরা পরিস্থিতিটিকে এমন এক পর্যায়ে দেখেছেন যেখানে সামান্য কোনো ঘটনা বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির বিনিয়োগ কমে যাওয়া, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা এবং হামাস বা হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে মূল্যায়নে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সেবা, অর্থনীতি, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যেই তীব্র। ফলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন শুধু নতুন সরকার গঠনের বিষয় নয়, যুদ্ধপরবর্তী ইসরায়েলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন কতটা গভীর হয়েছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: ড্রপ সাইট নিউজ, আনাদোলু, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি সাবেক সিআইএ প্রধানের, ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ অভিযোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও মানসিক অবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।   বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করা জন ব্রেনান বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়। তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই অবস্থার উদাহরণ হতে পারেন।   গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, “এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।” তিনি বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।   সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণীত। একজন প্রেসিডেন্টের হাতে যখন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তখন তার মানসিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রেনান বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় সুসংহত ও বিচক্ষণ। কিন্তু ট্রাম্পের আচরণে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরানো ছাড়া বিকল্প নেই।   ব্রেনানের এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখছে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০