সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্কুল

ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে নিহত ২৪ শিশু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুতে দুটি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট পদদলনে অন্তত ২৪ শিশু নিহত হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটে বের হওয়ার সময় এ পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ৩০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের সৃষ্টি হয়। এতে বহু শিশু হতাহত হয়। পূর্ব ডিআর কঙ্গোর এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতায় রয়েছে। বুকাভু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
পাঁচ বছর বয়সী বেনেডিক্ট ব্লাইথ
স্কুলের গরুর দুধের অ্যালার্জিতে শিশুর মৃত্যু, বাবা-মায়ের প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের স্কুলে নতুন নিরাপত্তা নিয়ম

গরুর দুধে অ্যালার্জির কারণে পাঁচ বছর বয়সী বেনেডিক্ট ব্লাইথের মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে অ্যালার্জি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন বাধ্যতামূলক নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। বেনেডিক্টের পরিবারের দীর্ঘ প্রচারণার পর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।   বেনেডিক্ট ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর স্কুলে গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শে আসার পর প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাক্সিয়ায় আক্রান্ত হয়। ইনকোয়েস্টে বলা হয়, তার মৃত্যুর কারণ ছিল গরুর দুধের প্রোটিনের কারণে দুর্ঘটনাজনিত অ্যানাফাইল্যাক্সিস। তদন্তে আরও উঠে আসে, স্কুলে অ্যালার্জি প্রতিরোধের কিছু ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং জরুরি অবস্থায় অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর ব্যবহারে দেরি হয়েছিল।   বেনেডিক্টের জন্য স্কুলে তার বাবা-মায়ের দেওয়া ওট মিল্ক আলাদা করে রাখা হতো। কিন্তু ঘটনার দিন বিরতির পর তাকে যে পানীয় দেওয়া হয়েছিল, সেটি গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শের সম্ভাব্য উৎস হয়ে ওঠে। শুরুতে তার বাড়ি থেকে আনা একটি বিস্কুটকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরে তদন্তে সেটি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল না বলে উঠে আসে।   বেনেডিক্টের মৃত্যুর পর তার মা হেলেন ও বাবা পিটার ব্লাইথ স্কুলে অ্যালার্জি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রচারণা শুরু করেন। তাদের উদ্যোগের পর নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বেনেডিক্টস ল’।   নতুন বিধিবদ্ধ নির্দেশনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালার্জি নিরাপত্তা নীতি তৈরি ও প্রকাশ করতে হবে। অ্যালার্জি সম্পর্কে সব কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং যেসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন, তাদের পৃথক স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা রাখতে হবে। গুরুতর অ্যালার্জির ঘটনা ও কাছাকাছি বিপদের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।   এ ছাড়া স্কুলগুলোকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর মজুত রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হলেও যাতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেটিই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।   ইংল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা ৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম মূলত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল, একাডেমি, ফ্রি স্কুল, বিশেষায়িত স্কুল ও বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য।   বেনেডিক্টের পরিবারের প্রচারণার ফলে নতুন নিয়ম চালু হলেও তারা বলছে, শুধু নীতিমালা তৈরি করাই যথেষ্ট নয় - বাস্তবে শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা যেন তা সঠিকভাবে অনুসরণ করেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু
নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু

নেপালে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর জীবন রক্ষা করেছেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে স্কুল খালি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন ৪৭ বছর বয়সী ইংরেজির শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি।   বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোনে সতর্কবার্তা পান দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে এবং গ্রামের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীর স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।   প্রথমে দাওয়াদি মনে করেছিলেন, কংক্রিটের তৈরি তিনতলা স্কুল ভবনটি নিরাপদ। ভবনটি নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুলে এসে জানান, পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে সব শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন তিনি। স্কুলবাসের চালকদেরও দ্রুত শিশুদের সরিয়ে নিতে বলেন। এর মধ্যে একটি বাস সেতু পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়।   এরপর শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে উঁচু এলাকায় পালাতে শুরু করে। আতঙ্কে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাওয়াদিও পেছন থেকে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে থাকেন।   শেষ পর্যন্ত শিশুরা একটি বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ বন্যার স্রোতে তাদের স্কুল ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়।   এই ঘটনায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর সবাই প্রাণে বেঁচে যায়। তবে স্কুলের দুই কর্মী প্রাণ হারান। ইতিহাসের শিক্ষক ৩২ বছর বয়সী সান্তোষ পারিয়ার সকালের নাশতা রান্না করতে নদীর পাশের ভাড়া বাসায় ফিরে গিয়ে স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে মারা যান।   স্থানীয়রা দাওয়াদিকে বীর হিসেবে প্রশংসা করলেও তিনি নিজের ভূমিকা নিয়ে বলেন, “আমি আর কী করতে পারতাম?”   এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয় লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের একটি বিশাল বরফ ও পাথরের অংশ ভেঙে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে লেন্দে খোলা নদীর ওপর পড়ে যাওয়ার পর। এতে পাহাড়ি নদীগুলোতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভার্জিনিয়ার বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুল
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভার্জিনিয়ার বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুল

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামে থাক বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুলে মোল্ডের নতুন উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর স্কুলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটিতে ইঁদুরের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় এমন পরিস্থিতিতে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে অন্য একটি স্কুলে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিচমন্ড পাবলিক স্কুলস।   সোমবার, ২৪ আগস্ট শিক্ষক ও স্টাফরা শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করতে স্কুল ভবনে প্রবেশের পর নতুন কয়েকটি জায়গায় মোল্ড দেখতে পান। এর মধ্যে বুলেটিন বোর্ডের কাগজের পেছনেও মোল্ড পাওয়া যায়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সবাইকে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে পরিষ্কার ও মোল্ড পরীক্ষা শুরু করা হয়।   রিচমন্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন কামরাস জানিয়েছেন, ভবনটি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থী বা স্টাফদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে পরিষ্কার, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ট্রিটমেন্ট এবং প্রতিটি কক্ষের এয়ার কোয়ালিটি পরীক্ষা করা হবে।   এর আগে স্কুলের এইচভিএসি সিস্টেমে সমস্যার পর ভবনের বেসমেন্ট ও কিছু আসবাবপত্রে মোল্ড শনাক্ত হয়েছিল। পরবর্তী এয়ার কোয়ালিটি পরীক্ষায়ও কিছু এলাকায় মোল্ড স্পোরের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেশাদার কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করে এইচভিএসি ডাক্ট পরিষ্কার, এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন এবং মোল্ড রিমিডিয়েশন শুরু করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষে ইঁদুর দেখা যাওয়ায় এক্সটারমিনেটরও নিয়োগ করা হয়।   স্কুল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, রিমিডিয়েশনের সময় একটি সাপ্লাই ক্লোজেটের সিলিংয়ের ওপরে লুকানো আর্দ্র পাইপকে মোল্ডের সম্ভাব্য প্রধান উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই জায়গা পরিষ্কার করার পর মোল্ডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে নতুন করে মোল্ড শনাক্ত হওয়ায় আবারও পুরো ভবনে পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।   রিচমন্ড পাবলিক স্কুলস জানিয়েছে, বারাক ওবামা এলিমেন্টারি আপাতত এই সপ্তাহে চালু হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লার্ক স্প্রিংস এলিমেন্টারি স্কুলকে অস্থায়ী স্থান হিসেবে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তবে মূল স্কুল ভবনে শিক্ষার্থীরা কবে ফিরতে পারবে, তা নতুন পরীক্ষার ফল ও রিমিডিয়েশন কাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে।   স্কুলটি এর আগেও মোল্ড সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৪ সালের একটি রিপোর্টে সেখানে অল্প পরিমাণে মোল্ড বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায় এবং তখন সেটি পরিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্কুল ভবনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার
স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার! ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির জন্য নগদ ইন্সেন্টিভস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালু হচ্ছে। নির্ধারিত সপ্তাহে প্রতিদিন সব ক্লাসে উপস্থিত থাকলে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১০০ ডলার এবং মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা ৫০ ডলারের ভিসা গিফট কার্ড পাবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট তাদের 'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' কর্মসূচিতে মিডল স্কুল শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করছে।   এই কর্মসূচি অবশ্য নতুন নয়। ডেট্রয়েটের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিতি কমাতে আগের দুই বছর ধরে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত পাঁচ দিনের প্রতিটি চক্রে শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখতে পারলে একজন হাইস্কুল শিক্ষার্থী ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। পুরো কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ ছিল।   ডিস্ট্রিক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একবার ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। ডেট্রয়েটের ২৬টি হাইস্কুলে মোট ১৫ হাজার ২৪৭ শিক্ষার্থী ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একটি পেমেন্ট পেয়েছে।   শুধু স্কুলে হাজির হলেই অবশ্য টাকা পাওয়া যায় না। নির্ধারিত পাঁচ দিনের চক্রে শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুলে থাকতে হয় এবং নির্ধারিত প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। উপস্থিতির তথ্য স্কুলের রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীদের গিফট কার্ড দেওয়া হয়।   কর্মসূচিটির ফলাফলও নজরে পড়ার মতো। ডিস্ট্রিক্টের হিসাবে, হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার কর্মসূচি শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে হাইস্কুল পর্যায়ে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা কমে প্রায় ৫৪ শতাংশে নেমে আসে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে কোনো শিক্ষার্থী একটি শিক্ষাবর্ষের মোট স্কুল দিবসের অন্তত ১০ শতাংশ অনুপস্থিত থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিত শিক্ষার্থী হিসেবে ধরা হয়। ১৮০ দিনের একটি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১৮ দিন বা তার বেশি স্কুল মিস করলে এই শ্রেণিতে পড়তে পারে একজন শিক্ষার্থী।   ডেট্রয়েটে সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রায় ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির তালিকায় ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, বিশেষ করে হাইস্কুল পর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।   এই কারণেই জানুয়ারি থেকে মার্চের সময়কে আর্থিক প্রণোদনার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শীতের এই সময়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাধারণত কমে যায়। অথচ একই সময়ে নিয়মিত ক্লাস করা ক্রেডিট অর্জন এবং সময়মতো গ্র্যাজুয়েশনের পথে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১৮ দিন বা তার কম স্কুল মিস করা শিক্ষার্থীরা স্টেট অ্যাসেসমেন্টে গ্রেড লেভেল বা তার ওপরে ফল করার ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি সম্ভাবনাময়। এ কারণেই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সরাসরি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার কৌশল বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আগের কর্মসূচিটি শুধু নবম থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সেটি মিডল স্কুলেও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ উপস্থিতির সপ্তাহে ১০০ ডলারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে, আর যোগ্য মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা একইভাবে সপ্তাহে ৫০ ডলার পাবে।   'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' ডেট্রয়েট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বৃহত্তর উপস্থিতি উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। ডিস্ট্রিক্টের 'ব্লুপ্রিন্ট ২০২৭' পরিকল্পনায় গড় দৈনিক উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪২ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্কুলে উপস্থিতির বিনিময়ে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য স্পষ্ট - শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনা, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বাড়ানো এবং তাদের গ্র্যাজুয়েশনের পথে ধরে রাখা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা
স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছেলেকে অভিনব কায়দায় শিক্ষা দিলেন এক মা। স্থানীয় এক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় ছেলেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘গ্রেফতারের’ অভিনয় করানো হয়। তবে এটি কোনো সত্যিকারের গ্রেফতার ছিল না, পুরো ঘটনাটিই ছিল মা, ছেলে ও পুলিশ অফিসারের মজার আয়োজন।   ঘটনাটি ঘটেছে কলোরাডোর কীনসবার্গে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কোল্টন সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে প্রথম দিনের প্রচলিত ‘ব্যাক টু স্কুল’ ছবি তুলতে রাজি হচ্ছিল না। মা আমান্ডা স্টলজ তখন স্থানীয় পুলিশ অফিসার জ্যাকের সহায়তা নেন।   অফিসার জ্যাকও বিষয়টিকে মজার ছলে নেন। তিনি কোল্টনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বোঝানোর অভিনয় করেন যে, স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো নাকি ‘আইনবিরোধী’। পরে ছেলেটিকে পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়েও ছবি তোলা হয়।   সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি উপভোগ করছে কোল্টন। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায়ও তাকে হাসতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে পুলিশ গাড়ির পেছনে বসে হাসছে সে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অফিসার জ্যাক।   অবশ্য কোল্টনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে প্রকৃত অর্থে আটকও করা হয়নি। ঘটনাটি ছিল স্কুলের প্রথম দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে মা ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের পরিকল্পিত কৌতুক।   অমান্ডা পরে মজা করে লেখেন, তার ছেলে স্কুলে যাওয়ার আগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পড়েছিল। অফিসার জ্যাক তাকে বুঝিয়েছেন, স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে মাকে অস্বীকার করা নাকি সত্যিই ‘আইনের বিরুদ্ধে’।   ঘটনার পর অমান্ডা স্থানীয় পুলিশ অফিসারদের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।   অমান্ডা বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কোল্টনের স্কুলে ফেরার দিনের ছবিও পেয়ে গেছেন। ফলে যে ছবি তুলতে রাজি না হওয়া থেকে পুরো ঘটনার শুরু, পুলিশের মজার ‘গ্রেফতারের’ সুবাদে সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য ব্যতিক্রমী এক স্মৃতি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের মধ্যাহ্নভোজে দীর্ঘদিন পর আবার পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধসহ আরও পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সুযোগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্কুলের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ স্কুলের খাবারে ফিরিয়ে আনার আইনে স্বাক্ষর করেন। পরে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ নতুন বিধি কার্যকর করে। এর ফলে দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য স্কুলসহ বিভিন্ন ফেডারেল শিশু-পুষ্টি কর্মসূচিতে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ও দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধ দেওয়ার সুযোগ আবার চালু হয়।   এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নতুন খাদ্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে পুরোপুরি প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের খাবারে এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু দুধ বা নতুন কিছু খাবার যোগ করা নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য স্কুলের খাবারের ব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে পরিচিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ অর্থবছরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে স্কুলের সরাসরি সংযোগ তৈরির কর্মসূচিতে প্রায় দুই কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৮টি প্রকল্পকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় কৃষক, খাদ্য উৎপাদক এবং স্কুলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও খাদ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে।   স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাবার স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ, গ্রীষ্মকালীন খাবার কর্মসূচি এবং শিশু যত্নকেন্দ্রে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এই কর্মসূচি। পাশাপাশি স্কুল বাগান, কৃষি শিক্ষা, স্থানীয় খাদ্য সংগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার মতো কার্যক্রমও এতে রয়েছে।   কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই অনুদান কর্মসূচি চালুর পর থেকে এক বছরে সবচেয়ে বড় আর্থিক বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকে সংস্থাটি ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে। এ অর্থ দিয়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিভিন্ন মার্কিন অঞ্চলে ১ হাজার ২৬৫টির বেশি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের রান্নাঘর আধুনিক করার জন্যও আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির আওতায় রান্নাঘরের সরঞ্জাম কেনার জন্য দুই কোটি ডলারের অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্কুলগুলো আধুনিক ওভেন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে তাজা খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।   তবে স্কুলের খাবারে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সরকারের নতুন নীতিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনো খাবার সবার জন্য একইভাবে উপকারী কি না, তা বয়স, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে পারে।   সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের খাবার ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের দুধের দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের খাবারের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জন্যও স্কুলভিত্তিক বড় বাজার তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
লং আইল্যান্ডে মুসলিম ছেলেদের আবাসিক স্কুল চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদ। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে মুসলিম আবাসিক স্কুল চালুর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বে শোর আবাসিক এলাকায় একটি মুসলিম ছেলেদের আবাসিক স্কুল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১২০ জন কিশোর শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই আবাসিক স্কুলটি তাদের শান্ত উপশহরের পরিবেশ নষ্ট করবে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুন মাসে ৫ মিলিয়ন ডলারে ১৩ একরের একটি ওয়াটারফ্রন্ট সম্পত্তি কিনে নেয় ‘ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’। এর আগে সম্পত্তিটি রোমান ক্যাথলিক মন্টফোর্ট মিশনারিদের অধীনে ছিল এবং একসময় সেখানে একটি ক্যাথলিক সেমিনারি ও পরবর্তীতে প্রিস্টদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে নতুন মালিকরা সেখানে ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র ও আবাসিক স্কুল চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় ‘স্যাক্সন সেজ নো’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।   গত মঙ্গলবার আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের এক সভায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শত শত ক্ষুব্ধ বাসিন্দা উপস্থিত হয়ে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় একটি বড় মাপের আবাসিক স্কুল চালু হলে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, যানজট এবং এলাকার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এছাড়া ছোট শিশুদের জন্য একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালুর বিষয়েও বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে স্কুলটির আইনজীবী স্যামুয়েল এল. বিফুলকো এবং আয়োজকরা জানিয়েছেন, টাউনের জোন কোড মেনেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে বোর্ডিং স্কুলটি পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নিয়মকানুন থাকায় এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও দাবি তাদের। বর্তমানে বিষয়টি আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের পর্যালোচনায় রয়েছে।   সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ওহাইওর নতুন শিক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ পাঠ্যসূচি। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে, এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলেই শেখানো হতে পারে শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি পাঠ্যবিষয় চালু হচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে, উচ্চবিদ্যালয় শেষ করা, পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করা এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে দারিদ্র্যে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সম্প্রতি সিনেট বিল ২৭৬–এ স্বাক্ষর করায় এটি আইনে পরিণত হয়েছে।    সিনেট বিল ২৭৬ মূলত স্কুল মনোবিজ্ঞানীদের আন্তঃরাজ্য লাইসেন্সিং সহজ করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে আইনসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এতে শিক্ষা-সংক্রান্ত একাধিক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ বা সাফল্যের ধারাবাহিকতা নামে পরিচিত এই পাঠ্যসূচি। বিলটি দুই কক্ষেই পাস হওয়ার পর গভর্নরের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি কার্যকর হবে।    নতুন পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে, যারা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন, পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানে যুক্ত হন এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করেন, তাদের দারিদ্র্যের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত মতামত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি ধারণা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।    সমর্থকদের মতে, স্কুলে যেহেতু আর্থিক সচেতনতা, পেশা পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে পাঠদান করা হয়, তাই পরিবার গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক নিয়েও তথ্যভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া যৌক্তিক। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো জীবনধারা চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।    অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, এই পাঠ্যসূচি সফল জীবনের একটি নির্দিষ্ট মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা সব পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাদের মতে, একক অভিভাবক, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কাছে বড় হওয়া শিশু, দত্তক পরিবার কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কাঠামো থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারে। এছাড়া দারিদ্র্যের পেছনে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, মজুরি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বহু জটিল কারণ কাজ করে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এই আইন শুধু ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ চালুই করেনি, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো স্কুলে নির্দিষ্ট খেলাধুলা বা সহশিক্ষা কার্যক্রম না থাকলে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাশের স্কুল জেলার সেই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আবেদন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার সুপারিনটেনডেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সুযোগ দেওয়া হবে।    ওহাইওর এই আইন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষা, পরিবার, দারিদ্র্য এবং স্কুলের পাঠ্যক্রম নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি বাস্তবমুখী জীবনশিক্ষা হলেও, বিরোধীদের মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে রাষ্ট্রের এমন নির্দেশনামূলক অবস্থান বিতর্কিত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মামলা করা নিউইয়র্কের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষিকা লরেন ভিটালে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গর্ভবতী শিক্ষিকাকে পেটে লাথি, পরে তাকেই দোষ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়

নিউইয়র্ক সিটির এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে উল্টো ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করেছে। পরে প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন।   নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী লরেন ভিটালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পিএস ৮৪ বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়াতেন তিনি। মামলায় ভিটালে অভিযোগ করেছেন, সহিংস আচরণের নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা এক শিক্ষার্থীকে আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়াই তার শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার মুখে থুতু নিক্ষেপ করে এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারে।   আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার পর ভিটালের রক্তক্ষরণ, পেটে ব্যথা, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দেয়। পরে তিনি নিজেই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে যান এবং চিকিৎসা নেন। তবে হামলার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করে বলে অভিযোগ করেছেন ভিটালে। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার আঘাতের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করেন, তার বিরুদ্ধে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, বেতন কেটে নেন এবং কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।   ভিটালের ভাষ্য, "তারা বলেছিল আমি নাকি পেটে লাথি খাওয়া এড়াতে পারতাম। আমি তো সিনেমার নায়ক নই যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু এড়িয়ে যেতে পারব।" তিনি আরও বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, হয়তো আমার সন্তানকে হারাব।"   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। ভিটালের দাবি, প্রশ্নটি তাকে অস্বস্তিতে ফেললেও চাকরির প্রয়োজন থাকায় তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।   তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের শুরুতে আরেক সহিংস শিক্ষার্থীকে তার শ্রেণিকক্ষে রাখার বিরুদ্ধে শিক্ষক ইউনিয়নে অভিযোগ করার পর থেকেই তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীও এক পর্যায়ে তাকে কামড় দেয় এবং পর্দার রড দিয়ে আঘাত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলায় বলা হয়েছে, পরে গর্ভধারণের খবর বিদ্যালয়ের এক কাউন্সেলরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ করে নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার কাজের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয় এবং তাকে একটি টিচার ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান-এর আওতায় আনা হয়। ভিটালের অভিযোগ, গর্ভধারণের পর থেকেই তাকে আরও বেশি পর্যবেক্ষণ করা হতো এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে।   এ বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ইউনিয়নের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার এক সপ্তাহ পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হওয়ার ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বর্তমানে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মা ভিটালে আদালতের মাধ্যমে চাকরি ফিরে পেতে চান। তিনি বলেন, "আমি আবারও শিশুদের পড়াতে চাই। শিক্ষকতাই আমার পেশা, আমি শুধু আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাই। যা ঘটেছে, তাতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি।"   এদিকে, মামলার বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর হামলায় ২ শিক্ষক আহত

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের হারফোর্ড কাউন্টিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এলিমেন্টারি স্কুল) এক শিক্ষার্থীর হামলায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্কুল ছুটি হওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোরের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হারফোর্ড কাউন্টির হাভরে ডি গ্রেস এলাকার 'রয়-উইলিয়ামস এলিমেন্টারি স্কুল'-এ এক শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষকের মধ্যে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা (পুলিশ সদস্য) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই হামলায় আহত দুই শিক্ষকের আঘাত অবশ্য গুরুতর বা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শেরিফ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় ওই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে বা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় অন্য কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। মারামারির ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব বা ট্রমা তৈরি না হয়, সেজন্য বুধবার (১৭ জুন) স্কুলে অতিরিক্ত কাউন্সেলিং বা মানসিক পরামর্শ সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে স্কুল ছুটির পর ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ক্লাসের জন্য বিশাল সরকারি অনুদান ঘোষণা

১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রাক্কালে স্কুল-পরবর্তী বিশেষ ক্লাসের জন্য ১৩ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১৩২.৫ মিলিয়ন) একটি বিশাল তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানোর বিকল্প তৈরি করে দিতে এবং পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সঙ্গীত দল, বিতর্ক ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ক্লাসের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, যার ঠিক আগেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তহবিল ঘোষণা করলেন মন্ত্রীরা।   দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর থেকে ডিজিটাল আসক্তির চাপ কমাতে এই সুসংগঠিত স্কুল-পরবর্তী ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৪ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যুক্ত থাকলেও তাদের মধ্যে একাকীত্বের হার অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলের মানদণ্ড নির্ধারণের সময় দেশটির শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অফস্টেড’ এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশের অংশ হিসেবে এই ধরনের অতিরিক্ত ক্লাসের সুযোগ-সুবিধাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করবে।   শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন এই তহবিলের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো শিশুর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা আর্থিক অসচ্ছলতা যেন তার মেধা বিকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি শিশুরই খেলাধুলা এবং সৃজনশীল শিল্পকলা উপভোগ করার সমান অধিকার রয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে।   সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দীও এই কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি ভালোবাসে এমন কোনো শিশুকে তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে পড়তে দেওয়া হবে না। তবে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল অ্যান্ড কলেজ লিডার্সের সাধারণ সম্পাদক পেপে ডি’আইসিও সতর্ক করে বলেছেন, স্কুলগুলো ইতিমধ্যেই তীব্র আর্থিক এবং কর্মী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারের এই ভালো আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত চাপের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
রোবট যখন ছাত্র: চীনে যন্ত্রমানবদের জন্য বিশেষ স্কুলের যাত্রা শুরু

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বিশ্বলড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য আরও পাকাপোক্ত করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। দেশটির জিয়াংসি প্রদেশে হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো অবয়ব বিশিষ্ট রোবটদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এক ‘সুপার ট্রেনিং স্কুল’। শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ময়কর তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন। মানুষের শিশু যেভাবে অনুকরণ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখে, জিয়াংসির এই বিশেষ স্কুলে রোবটদের ঠিক সেভাবেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারখানার জটিল যান্ত্রিক কাজ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির রান্নাবান্না, ঘর গোছানো কিংবা বয়স্কদের সেবা করার মতো সংবেদনশীল কাজগুলো রপ্ত করছে এই যন্ত্র-মানবগুলো। উন্নত ভিআর প্রযুক্তি এবং মোশন-ক্যাপচার সিস্টেমের মাধ্যমে প্রশিক্ষকরা রোবটগুলোর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি নিখুঁত করার কাজে সহায়তা করছেন। এই স্কুলে প্রতিটি রোবটের ব্যক্তিগত দক্ষতা তদারকির জন্য দুই জন করে দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োজিত আছেন। রোবটগুলো যাতে বাস্তব জীবনের প্রতিকূলতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেজন্য সেখানে কৃত্রিম ঘরবাড়ি এবং কারখানার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘এমবডিড এআই’, যা রোবটকে কেবল তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং মানুষের মতো সরাসরি শারীরিক সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ করতে সক্ষম করে তোলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ঝু কাই সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মানুষের মতো চলাফেরা বা কাজ শিখতে রোবটদেরও নিবিড় অনুশীলনের প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য হলো এদের এমনভাবে তৈরি করা যাতে তারা মানুষের কোনো সাহায্য ছাড়াই যেকোনো পরিবেশে জটিল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০৪৫ সালের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে প্রায় ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট নামানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। জিয়াংসির এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সেই বিশাল প্রকল্পেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তির এই বৈপ্লবিক অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার এবং মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সংগৃহীত ছবি
স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছে। সরকারের উদ্যোগে শিগগিরই স্কুলগুলোতে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান চালানোর বিষয়ে ভাবনা চলছে।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানান, এই বিষয়টি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষভাবে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।   শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করে, শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রায়শই পাবলিক পরীক্ষা পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে আয়োজন করে, যা জাতীয় পর্যায়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০