নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবার এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ মানুষের ওপর বোকো হারাম ও আইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর নৃশংস হামলার প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি শক্ত জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। বাজার, হাসপাতাল ও পোস্ট অফিসের মতো জনবহুল স্থানে নিয়মিত আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এমনই এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ২৩ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নাইজার সীমান্তের কাছে একটি সেনাঘাঁটির পাশে জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযানে পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আকাশপথ ও স্থলপথের সম্মিলিত আক্রমণে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে জঙ্গি ঘাঁটিটি। দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে বোকো হারাম এবং আইএস-এর অনুসারী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী সরাসরি স্বীকার না করলেও, সেনাবাহিনী এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে চরম উত্তজনা বিরাজ করছে। ইরানি নেতা খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে করাচির মার্কিন কনস্যুলেট এলাকা। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তাদের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। করাচি পুলিশের প্রধান সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘর্ষের পর এ পর্যন্ত ৯টি মরদেহ করাচি সিভিল হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৬ জন বলে জানানো হলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে তা আরও বেড়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ বা নিহতের মোট সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেননি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট ভবনের মূল সীমানার বাইরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, তবে চূড়ান্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার আগেই তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
যশোরের অভয়নগরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইফতারের আগে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ছয়জন খুলনার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছেন। সূত্র জানায়, বুধবার রাতে ভাটপাড়া এলাকায় বিএনপির সমর্থক আশিকের সঙ্গে জামায়াতের সমর্থক সাত্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের কর্মী ছাত্তার গুরুতর আহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাজারে মিছিল বের করলে বিএনপির কর্মীরা প্রতিবাদে সমবেত হন। এরপর সংঘর্ষ শুরু হয়। আহতদের মধ্যে বিএনপির মাহফুজুর রহমান ইউছুফ, ইকবাল শেখ, খালিদ শেখ, জাকির হোসেন ও শাহীন শেখ রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ইকবাল শেখ ও খালিদ শেখকে। জামায়াতে ইসলামীর আহতদের মধ্যে বোখারী মোল্যা, আবুল বাশার, মো. জাহাঙ্গীর হেসেন, আশরাফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও আহাদ আলীকে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলা জামায়াতের আমির সরদার শরীফ হুসাইন অভিযোগ করেন, বুধবার তাদের কর্মী ছাত্তারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়, যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মিছিল বের করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু অভিযোগ করেন, জামায়াতের মিছিল শেষে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধ রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় মারামারি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের অভয়নগর উপজেলা-এর বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে বিএনপির সমর্থক আশিক ও জামায়াত সমর্থক সাত্তারের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় মারামারি হয়, এতে সাত্তার আহত হন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শের আলীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হলে, আসরের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জামায়াতের মাসুদ কামাল, বুখারী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহাদ মোল্লাসহ চারজন আহত হন। বিএনপির ইকবাল, খালিদ শেখ, ইউসুফ হোসেন ও ফোরকানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের টহল দল ও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে বালিয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে সংঘর্ষ চালায়। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়া গ্রামের নাসির হাওলাদার ও আইয়ুব আলী মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে দুই পরিবারের নারীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে আইয়ুব আলীর মেয়ে সুমাইয়াকে মারধর করেন নাসিরের স্ত্রী ও মেয়ে। ঘটনার সূত্র ধরে রাতে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষ হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সংঘর্ষের প্রবণতা মাদারীপুরে সাম্প্রতিক দিনে বেড়েছে। গত শনিবার ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় চার ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সোমবার রাতেও শহরের বলরাম মন্দির এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ তারিখ) ভোরের দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম খলিল (৬০), তাহাজ্জত (৩০), ওসি (৩০) ও ফেরদৌস (৪০)। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরে জানা যাবে। বিস্তারিত আসছে...
নেত্রকোণা-৩ আসনের (কেন্দুয়া–আটপাড়া) কেন্দুয়ায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের গারাউন্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য মোনতাজ মিয়া। তাঁদের বাড়ি দেওপাড়া গ্রামে। তাঁরা বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী আলোচনা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। গুরুতর আহত দুজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী মাকসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার সকালে প্রথমে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদার এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরই জেরে পরবর্তীতে বিকেলে আবারও দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে সেনা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান।"
শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ দমনে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করেছে পুলিশ। একদিকে শতাধিক আহত হওয়ার দাবি আন্দোলনকারীদের, অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রকৃত পরিস্থিতি। আসলে কী ঘটেছিল সেখানে? বিস্তারিত জেনে নিন। ঘটনার মূলবিন্দু ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন 'যমুনা'র সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও শাহবাগ এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করলে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের অনেক কর্মীকে রক্তাক্ত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক পুলিশ সদস্যের গায়ে নেমপ্লেট ছিল না এবং তারা মাস্ক পরে হামলা চালিয়েছে—যা বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, পুলিশের গুলিতে শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, 'যমুনা' ও এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। তবে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি। ঢাকা মেডিকেলের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৩ জনের কারো শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। জননিরাপত্তা ও প্রধান উপদেষ্টার সুরক্ষায় আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত ও সরকারের প্রতিশ্রুতি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববার এ বিষয়ে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। আসন্ন নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেত্রী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতের এক সমর্থক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাইলট মোড় এলাকায় ভোটের প্রচারণায় গেলে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাহেদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যুবদল নেতা সবুজ মাদবরের বাকবিতণ্ডা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। আহত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে জামায়াতের ঝামেলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই কথা বলার সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। আহত জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবর বলেন, তারা লিফলেট বিতরণ করে পাইলট মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জামায়াতের লোকজন এসে তাদের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে হামলা চালায়। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে আহত জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, প্রচারণা শেষে তারা জামায়াত নেতা কাহেদ নজরুল ইসলামের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে হুমকি দেয়। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাহার মিয়া বলেন, ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস