- প্রচ্ছদ
- Topic
#সামাজিকযোগাযোগমাধ্যম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমকে বিয়ের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল চরম হতাশা। যাঁকে এত দিন নিজের স্বপ্নের নারী বলে বিশ্বাস করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। এডিমার মার্টিন্স নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে জেসিকার প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, এই নারীই তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটাতে চান তিনি। একাকিত্ব কাটিয়ে জীবনে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় মার্টিন্স এই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, জেসিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্কটিকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের কাছে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে যাত্রার খরচ জোগাড় করেন। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্য থেকে রওনা দেন মার্টিন্স। তাঁর গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর থেকে জেসিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই ব্যক্তির আশা ছিল, অবশেষে স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে এবং একসঙ্গে জীবন শুরু করার পথ খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেসিকার দেখা পাননি মার্টিন্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এত দিন যাঁকে সত্যিকারের মানুষ মনে করে ভালোবেসেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। এই খবর জানার পর মার্টিন্সের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট। যাত্রার জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করে ফেলায় তাঁর হাতে অর্থও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেলো হরিজন্তেতে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্থানীয় সিটি হলে যান। সেখানে একজন সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশাতেই তিনি এত দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে সম্পর্ককে সত্যি ভেবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি পরিচয় এবং এআই-নির্ভর কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষের সন্ধান করছেন, যাঁকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে অ্যাকাউন্টটি অনুসরণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে মার্টিন্স ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখে ওই চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা বাস্তব কোনো নারী নন; তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকছেন। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজতেই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগার ব্যবহার করতে চাইলেও দিল্লির একটি পাঁচ তারকা হোটেল তাঁকে অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিনি শাংরি-লা ইরোস নিউ দিল্লি হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। ঘটনাটি নিয়ে ভারতে আলোচনা শুরু হলেও ভিডিওতে হোটেলকর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন দেখা যায় না। ফলে ঠিক কী কারণে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। পোস্টদাতা প্রশ্ন তোলেন, হোটেলে থাকার জন্য নিবন্ধিত না হলেই জরুরি প্রয়োজনে কাউকে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না কেন। পোস্টে ভারতের ১৮৬৭ সালের সরাই আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে ওই আইনের উল্লেখ করে যে কেউ যেকোনো হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে পারেন, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না। সরাই আইনের ৭(২) ধারায় ‘অবাধ প্রবেশাধিকার’ বলতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর অনুমোদিত ব্যক্তির পরিদর্শনের জন্য প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। ধারাটিতে সাধারণ মানুষের হোটেলের শৌচাগার ব্যবহারের সরাসরি অধিকার লেখা নেই। অন্য কোনো স্থানীয় নিয়ম এই হোটেলে প্রযোজ্য কি না, সেটিও এই ভিডিও থেকে নির্ধারণ করা যায় না। অনলাইনে প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। অনেকে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত। অন্যরা হোটেলের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলেছেন। কেউ কেউ নারীর বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, তার প্রমাণ নয়। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তারা অভিযোগের বিষয়ে হোটেলের বক্তব্য চেয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব জানানো হয়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নারীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমার পাশাপাশি অনলাইন অশালীন কনটেন্টে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানতে নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালে এবং বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি কিংবা আগে থেকে পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে অনলাইন অশালীন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ শিক্ষক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই নতুন এই নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কলেজে যাওয়ার আগের শেষ তিন বছরের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। মেক্সিকো ছাড়াও ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও পেরুসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও মনোযোগী করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করা একটি অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য এফবিআইয়ের যোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে সংস্থাটির সাফল্য ও অর্জনের তথ্য তুলে ধরতে বলেছিলেন প্যাটেল। তবে এফবিআইয়ের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পরিচালক বেন উইলিয়ামসন এতে রাজি হননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনটি করলে ‘আপনার জন্য ভালো দেখাবে না’। সরকারের সদ্য প্রকাশ করা নথিতে থাকা ৫ ফেব্রুয়ারির একটি টেক্সট বার্তায় প্যাটেল ও উইলিয়ামসনের এই কথোপকথন সামনে এসেছে। জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত বার্তা অনুযায়ী, এক্সে একটি অ্যাকাউন্ট প্যাটেলের সরকারি ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ব্যঙ্গ করে একটি পোস্ট দেয়। উইলিয়ামসন ওই অ্যাকাউন্টকে এমন একটি বট অ্যাকাউন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন, যেটি ‘এপস্টিন নিজে আত্মহত্যা করেননি’—এমন বক্তব্য প্রচার করে। তবে ওই পোস্ট উপেক্ষা করতে চাননি প্যাটেল। তিনি এফবিআইয়ের যোগাযোগ কর্মকর্তাদের ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে সংস্থাটির গত বছরের সাফল্য ও রেকর্ড তুলে ধরতে বলেন। পরে প্যাটেল জানতে চান, তাঁর দলের পক্ষ থেকে এমনটি করা হচ্ছে কি না। উইলিয়ামসন জানান, তারা তা করছে না। এরপর উইলিয়ামসন স্পষ্টভাবে প্যাটেলকে জানান, ওই অ্যাকাউন্টের জবাব দেওয়া হবে না। কারণ, এটি করলে প্যাটেলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্যাটেল অবশ্য বিষয়টিকে ওই অ্যাকাউন্টকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, পোস্টটি কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এত মানুষ পোস্টটি দেখছে, তাই তাদের সামনে এফবিআইয়ের সাফল্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা দরকার বলে মনে করেন তিনি। তবে উইলিয়ামসন জানান, আলোচনায় যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত পোস্টের ভিউয়ের সংখ্যা, প্রতিক্রিয়ার নয়। জনসংযোগ ও কৌশলগত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডিন বলেন, প্যাটেলকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে উইলিয়ামসন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তাঁর মতে, শীর্ষ কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অজ্ঞাতনামা অনলাইন ট্রলকে জবাব দেওয়ার লাভ খুব কম। বরং একবার জবাব দিলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্কে বারবার জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এফবিআইয়ের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পরিচালক হিসেবে বেন উইলিয়ামসন সংস্থাটির জনসমক্ষে যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো দেখভাল করেন। তাঁর সঙ্গে প্যাটেলের এই কথোপকথনকে সংস্থাটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পরিচালকের প্রস্তাবে সরাসরি আপত্তি জানানোর বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এই কথোপকথন সামনে আসায় এফবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন এবং সিনেটের অনুমোদনের পর এফবিআই পরিচালক হন কাশ প্যাটেল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কথিত অনিয়মের সমালোচনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর আগের ভূমিকার কারণে বেশ আলোচিত ও বিতর্কিত হয়ে আছেন। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির মে মাসের এক জরিপে ৩০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার প্যাটেলের কাজের প্রতি সন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৫৬ শতাংশ তাঁর কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ১৪ শতাংশ কোনো মত দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজতে লিংকডইনের মতো পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভাইরাল হয়েছেন এক ভারতীয় মা। পিএইচডি ডিগ্রিধারী ওই মা লিংকডইনে ছেলের পরিচয় ও বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে উপযুক্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তার পোস্টে ছেলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আগ্রহী পরিবারগুলোকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পোস্টের শুরুতে থাকা ‘Not in a rush, but…’ অর্থাৎ ‘তাড়াহুড়ো নেই, তবে...’ ধরনের বার্তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কাড়ে। সাধারণত চাকরি খোঁজা, পেশাগত যোগাযোগ, রিক্রুটমেন্ট ও ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত লিংকডইনকে এমন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে শুরু হয় নানা ধরনের মজার আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি লিংকডইন ধীরে ধীরে আধুনিক যুগের বিয়ের প্ল্যাটফর্মেও পরিণত হচ্ছে? এতদিন যেখানে রিক্রুটার, চাকরিপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে লিংকডইনের পরিচিতি ছিল, সেখানে এবার ছেলের জন্য পাত্রী খোঁজার পোস্ট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারে সন্তানের বিয়ের জন্য পরিবারের সদস্যদের সক্রিয়ভাবে পাত্রপাত্রী খোঁজার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়াই যখন পেশাগত নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে চলে আসে, তখন ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে। পোস্টটি ঠিক কতটা বিস্তৃতভাবে ছড়িয়েছে বা এর মাধ্যমে কোনো বিয়ের যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অনলাইন পরিচয়ের সীমানাও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মিশে যাচ্ছে।
‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।
আবুধাবির একটি নিলামে বিরল সাদা বাজপাখি বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। মেয়ের পছন্দের এই পাখিটি কিনতে তার মামা এই বিপুল অর্থ খরচ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়েছে। তবে নিলাম কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যে ক্রেতার পরিচয় বা মেয়েকে খুশি করতেই পাখিটি কেনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাটি ঘটে আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল হান্টিং অ্যান্ড ইকুয়েস্ট্রিয়ান এক্সিবিশন ২০২৬ বা এডিআইএইচইএক্সের পঞ্চম দফার বাজপাখি নিলামে। সেখানে ‘কারমুশা পিওর আল্ট্রা হোয়াইট’ নামে একটি বিরল সাদা গাইর কারমুশা বাজপাখির বাচ্চা ১৫ লাখ দিরহামে বিক্রি হয়। চলতি প্রদর্শনীর নিলামে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া বাজপাখি। যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক মগলিশ ফ্যালকন ফার্মে পাখিটি প্রজনন করা হয়েছিল। এর ওজন প্রায় ১ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি। সম্পূর্ণ সাদা পালক ও বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নিলামে পাখিটি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। এই নিলাম ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাইখা আল মানসুরি নামের এক তরুণী ও তার মামার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শাইখাকে বাজপাখি ও পাখির প্রতি নিজের আগ্রহের কথা বলতে দেখা যায়। কে তাকে পাখি সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছেন জানতে চাইলে তিনি তার মামার কথা বলেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়ায়, তার ইচ্ছা পূরণ করতে মামাই ১৫ লাখ দিরহামের বাজপাখিটি কিনেছেন। তবে ভিডিওতে ওই ব্যক্তি যে ১৫ লাখ দিরহামের পাখিটির ক্রেতা, এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। তাই মেয়ের ইচ্ছা পূরণে মামা পাখিটি কিনেছেন, বিষয়টি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি হিসেবেই রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাজপাখি পালন ও শিকার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এডিআইএইচইএক্সে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাজপাখি প্রজননকারী, ব্যবসায়ী ও শিকারপ্রেমীরা অংশ নেন। এবারের প্রদর্শনীতে ৫৫টি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজপাখি প্রজনন ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে এক মুসলিম ট্যাক্সি চালককে যাত্রীদের কুকুর দিয়ে ভয় দেখানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় পেছনের আসনে থাকা যাত্রীরা একটি ছোট কুকুরকে চালকের দিকে এগিয়ে দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে চালক গাড়ি থামিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চালক কুকুরটি দেখে স্পষ্টভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে যাত্রীদের একজন কুকুরটিকে চালকের মাথার দিকে এগিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চালক গাড়ি থামিয়ে বাইরে চলে যান এবং আর গাড়িতে ফিরতে রাজি হননি। যাত্রীরা ঘটনাটিকে ‘প্র্যাঙ্ক’ বা মজা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাটিকে মুসলিম পরিচয়ের কারণে চালককে লক্ষ্য করে হয়রানি হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে চালকের নাম, ঘটনাস্থলের নির্দিষ্ট শহর কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ঘটনাটিকে নিছক মজা নয়, বরং চালকের জন্য বিপজ্জনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালককে ভয় দেখানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
২০১৭ সালের চীনের গোল্ডেন উইক ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া তিন চীনা নারীকে ঘিরে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, মুখ ব্যান্ডেজে ঢাকা ও ফুলে থাকা অবস্থায় তারা হাতে পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাদের চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে এতটাই অমিল হয়েছিল যে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তাদের দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়। তবে পরে জানা যায়, ঘটনাটির এই বর্ণনা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় ভাইরাল দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন নারীকে পরিচয় যাচাই করতে আটকে রাখা বা ফ্লাইটে উঠতে না দেওয়ার দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়নি। ছবিটি প্রথমে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে চীনা টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়া প্রকাশ করেছিলেন। পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, গোল্ডেন উইকের ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করানোর পর ওই নারীরা দেশে ফেরার সময় সমস্যায় পড়েছেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে আরও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি তাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় সেই দাবিকে ‘তথ্যভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করে। ফলে ভাইরাল ছবিটি সত্য হলেও ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পুরো গল্পকে সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন নয়। অস্ত্রোপচারের পর মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে ভ্রমণের সময় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে কিছু ক্লিনিক বিদেশি রোগীদের অস্ত্রোপচারের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে থাকে। সৌন্দর্য বাড়ানোর আশায় প্লাস্টিক সার্জারি করলেও অস্ত্রোপচারের পরপরই ভ্রমণ করলে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি পরিচয় যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে তিন চীনা নারীকে ঘিরে ২০১৭ সালের ভাইরাল ঘটনাটি যে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার সত্য ঘটনা ছিল, সে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।