জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ফলাফল ভোট গণনার সময় প্রভাবিত করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি পঞ্চগড় জেলা শাখার ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দায় যেমন অন্যদের ওপর দেওয়া যায়, তেমনি এটাও সত্য যে আমরা আমাদের ভোট গণনার সময় যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি আমাদের ১০ জন ভোটার থাকে, সেই ১০টি ভোটও রক্ষা করতে হবে। আবার কোথাও যদি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯০টি আমাদের হয়, তাহলে সেই ৯০টি ভোটও নিশ্চিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিরোধী দল হিসেবে সংসদে আছি। স্থানীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে নাকি আলাদাভাবে হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেভাবেই হোক, জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক আশা ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের লড়াই রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভয় ও সাহসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ভয় ছোঁয়াচে—ভয় পেলে মানুষ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহস আরও বেশি ছোঁয়াচে। একজন মানুষ যখন সাহস দেখায়, তখন অন্যরাও সেই সাহস থেকে অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আপনাদের মধ্য থেকেই কেউ মেম্বার, কেউ চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।
বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে তারাবির নামাজের পর মাজার এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এনসিপির নেতা সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান দিচ্ছেন এবং সেখানে উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সাড়া দিচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে মাজার প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সিলেট জেলা এনসিপির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, তারাবির নামাজ শেষে মাজার এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক তরুণ জড়ো হন। তাঁদের দেখে উপস্থিত অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরে সারজিস আলমও তাতে কণ্ঠ মিলান। তিনি দাবি করেন, এতে মাজারের পবিত্রতা বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। একটি মহল বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে সিলেট জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উপদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় নয়। এ ছাড়া নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম মন্তব্য করেন, সুলতানুল বাঙাল হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দিয়ে মাজার এলাকার আদব নষ্ট করেনি। ঘটনাটি ঘিরে সিলেটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকলেও এনসিপির পক্ষ থেকে এটিকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ ও সংবাদ প্রচারে বাধার মধ্যেও সঠিক তথ্য জানাতে প্রথম আলোর ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক Sarjis Alam। শনিবার উগ্রবাদীদের অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত Prothom Alo ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন, জুলাইয়ের সংকটময় সময়ে যখন ইন্টারনেট শাটডাউন ছিল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল, তখন প্রথম আলোর মাধ্যমেই নিহত ও হতাহতদের প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয়েছিল। কঠিন সেই সময়ে পত্রিকাটির প্রচেষ্টাকে তিনি সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে যেন কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মতপার্থক্য থাকলেও তা কোনোভাবেই সহিংসতা বা ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। এ সময় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের নির্মিত ‘আলো’ প্রদর্শনীটি ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত অগ্নিদগ্ধ ভবনে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রথমে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রদর্শনীর কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দৌড়ানোর ঘটনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, এ দৃশ্য তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধনে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের ভাষ্যমতে, অভ্যুত্থানের একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে পরিচিত রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে গাড়ির পেছনে দৌড়াতে দেখা যায়। এ দৃশ্য তার কাছে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন সারজিস আলম। তিনি আরও বলেন, রাকিবের নেতৃত্বে দেশে লাখ লাখ ছাত্র রয়েছে। এমন একজন নেতাকে যেভাবে দৌড়াতে দেখা গেছে, তা তিনি অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও দেখেননি বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির সংস্কৃতিতে নতুন একটি মানদণ্ড স্থাপন করতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ ছাত্র রাজনীতির দিকনির্দেশনা দেবে। অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তির পর তিনি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, এনসিপি ইতোমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সারজিস আলম বলেন, দ্রুত প্রার্থী যাচাই-বাছাই শুরু করা হবে। উপজেলা এবং সাংগঠনিক অঞ্চলে গিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও জানান, এনসিপি তৃতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের ভুল না হওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবেন। এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সারজিস আলম বলেন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকা জরুরি। মানুষের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য, তারাই মূল্যায়ন পাবে। তবে এনসিপি ও জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও জোটকেন্দ্রিক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।
পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে পরিকল্পিত কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থী সারজিস আলম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এই অভিযোগ জানিয়েছেন। সারজিস আলম লিখেছেন, পঞ্চগড়-১ আসনে ‘শাপলা কলি’ ভোটে হারেনি। প্রশাসন, বিএনপি এবং ডিপস্টেট মিলে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করে শাপলা কলিকে হারিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ভোটকেন্দ্রে থাকা প্রশাসনের সদস্যের স্বীকারোক্তি, প্রধান পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফলশীট, গণভোটের ব্যালটের চেয়ে এমপি ভোটে ২৫ হাজার বেশি ব্যালট, প্রথম ৮০টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে যাওয়ার পর দুই ঘন্টা ধরে ফলাফল প্রকাশ বন্ধ রাখা এবং পরবর্তী সব ফলাফলে অপ্রত্যাশিত মার্জিনে একসাথে ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের মতো ঘটনা সবই প্রমাণ হিসেবে আছে। সারজিস আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কৌশল ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং অন্য পক্ষকে জয়ী করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রলয়ঙ্করী নেতা এবং পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সারজিস আলম সাফ জানিয়েছেন, তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া থেকে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ চিরতরে নির্মূল করা হবে। গত বুধবার সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব হুঙ্কার দেন। সারজিস আলম বলেন, "গোটা পঞ্চগড় জেলা আজ গুটিকয়েক চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। আমাদের সহজ-সরল শ্রমিক ভাই-বোনেরা দিনরাত এক করে বালু ও পাথর মহাল থেকে যা আয় করেন, তার একটি বড় অংশ 'পার্সেন্ট' হিসেবে রক্তচোষাদের পকেটে চলে যায়। যারা দিনের বেলা ফেরেস্তার মতো বড় বড় কথা বলেন, তারাই রাতের আঁধারে মাদক আর চোরাকারবারির টাকা ভাগ করে নেন।" তিনি আরও যোগ করেন, ভোটাররা যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তবে এই ‘রক্তচোষা’ নেতাদের পঞ্চগড় থেকে ছুড়ে ফেলা হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সারজিস আলম প্রতিশ্রুতি দেন যে, তেঁতুলিয়ার জরাজীর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পুরোদমে চালু করে প্রয়োজনীয় ডাক্তার নিয়োগের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে বর্তমান মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি ধ্বংস করার ঘোষণা দেন তিনি। তেঁতুলিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মীর মো. মুরশেদ, জাগপা সভাপতি শাহাজাহান মেম্বার এবং জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন। পথসভার আগে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে একটি বিশাল নির্বাচনি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় নির্বাচনী পথসভায় সময়সীমা লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। রাত ৮টার পর মাইক ব্যবহার করার কারণে ১১ দলীয় জোটের পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বুড়াবুড়ি বাজারে সারজিস আলমের পথসভায় এই অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তেঁতুলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ। জরিমানার অর্থ সেই মুহূর্তেই নগদ পরিশোধ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী আচরণ বিধি ১৭-এর ২ লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে আগামী নির্বাচনী সভায় নির্ধারিত সময়ে মাইক ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আকাশ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আচরণ বিধি পর্যবেক্ষণ করছি। কেউ লঙ্ঘন করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সারজিস আলমের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় জরিমানার অর্থ নগদ প্রদান করেছি এবং আগামীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আচরণ বিধি মেনে মাইক ব্যবহার করব।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।