সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সন্তান

তিন বছর আগে পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিল একমাত্র ছেলে
৩ বছরের ব্যবধানে পুকুরের ডুবে একে একে ৩ সন্তানের মৃ'ত্যু দিশেহারা বাবা-মা

তিন বছর আগে পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিল একমাত্র ছেলে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল পরিবারের বাকি দুই সন্তানও। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই বোনের মৃত্যুর পর এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কৃষ্ণ কাহার ও তাঁর স্ত্রী। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিন সন্তানকে হারিয়ে এখন নিঃসন্তান এই দম্পতি। একই পরিবারের তিন শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   রোববার দুপুর ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু স্বর্ণা রানী কাহার (৭) ও রূপা রানী কাহার (৫)। তারা স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ কাহারের মেয়ে। স্বর্ণা স্থানীয় চর আমানউল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুই মেয়েকে হারানোর পর তাঁদের বাবা-মা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশু দুটির মা পিংকী রানী বাথরুমে ছিলেন। এ সুযোগে দুই বোন বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর মা বাইরে এসে মেয়েদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রথমে আশপাশের বাড়িতে খুঁজেও তাদের সন্ধান পাননি তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে পুকুরের পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়।   সন্দেহ হওয়ামাত্র পিংকী রানী পুকুরে নেমে মেয়েদের খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে দুই মেয়েকে উদ্ধার করেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে আসে গভীর শোক। খবর পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এদিকে দুই শিশুর মৃত্যুর পর পরিবারের অতীতের আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা সামনে এসেছে। চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় তিন বছর আগে এই দম্পতির বড় ছেলেও পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। ওই দুর্ঘটনার পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু রোববারের ঘটনায় শেষ দুই সন্তানকেও হারালেন কৃষ্ণ কাহার ও তাঁর স্ত্রী। তিন সন্তানের মৃত্যুই পানিতে ডুবে হওয়ায় পরিবারটির শোক আরও গভীর হয়েছে।   উপপরিদর্শক আশরাফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।   বাংলাদেশে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু দীর্ঘদিনের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণও পানিতে ডুবে যাওয়া। সংস্থা দুটি শিশুদের পানির কাছাকাছি একা না রাখা, নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা এবং বয়স অনুযায়ী সাঁতার শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। নোয়াখালীর এই ঘটনা আবারও বাড়ির আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ের কাছে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। সূত্র: ইত্তেফাক  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
শতাক্ষী দ্বিবেদী নামের এক নারী
বিবাহিত জানার পর চাকরির ইন্টারভিউতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা জানতে চান এইচআর

চাকরির ইন্টারভিউতে বিবাহিত জানার পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শতাক্ষী দ্বিবেদী নামের এক নারী। ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, মানবসম্পদ বিভাগের এক প্রতিনিধি তাঁর কাছে জানতে চান, শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত প্রশ্ন করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিবেদীর সঙ্গে শুরুতে বাসস্থান ও অফিসে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে কথা হচ্ছিল। তিনি জানান, যাতায়াতে তাঁর কোনো সমস্যা হবে না। তাঁর স্বামীও একই এলাকায় যাতায়াত করেন, তাই স্বামীর সঙ্গে যেতে পারবেন।    দ্বিবেদীর ভাষ্য, স্বামীর প্রসঙ্গ আসার পরই কথোপকথন ব্যক্তিগত বিষয়ে মোড় নেয়। এইচআর প্রতিনিধি তখন তাঁর কাছে শিগগির সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চান। প্রশ্নটিকে তিনি চাকরির সাক্ষাৎকারে তাঁর মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে অনুপযুক্ত প্রশ্নগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেন।  এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর নারী কর্মীদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দ্বিবেদী। তাঁর আপত্তি ছিল, নারীদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও নিয়োগের সময় তাঁদের বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কেউ দ্বিবেদীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। অন্যরা বলেছেন, অবিবাহিত নারীদেরও ইন্টারভিউতে বিয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এসব মন্তব্য ব্যবহারকারীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার বর্ণনা।   দ্বিবেদী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি। ফলে অভিযোগটি কোন নিয়োগদাতার বিরুদ্ধে, তা জানা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ওই এইচআর প্রতিনিধি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও নেই। ইন্টারভিউয়ের কথোপকথনের বিবরণটি দ্বিবেদীর নিজের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একের পর এক গর্ভপাত, চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং গর্ভেই যমজ সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২০টি সন্তান হারানোর পর একসময় মা হওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী পরমজিৎ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও গর্ভধারণ করেন তিনি। এবার সুস্থ যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান এই নারী।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরমজিৎ ও তাঁর স্বামী নামিন্দরের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সন্তান নেওয়ার জন্য এই দম্পতিকে একাধিকবার চিকিৎসার সহায়তা নিতে হয়েছে। আইভিএফ চিকিৎসা, বারবার গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং খুব প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভ নষ্ট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।   তবে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০১৮ সালে। সে বছর যমজ পুত্রসন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন পরমজিৎ। সন্তান দুটির নামও রেখেছিলেন তাঁরা, অমৃত ও ফতেহ। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। এটি গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা, যেখানে মায়ের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   পরমজিৎ জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় শারীরিক সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানালেও প্রথমদিকে তাঁর উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল, এসব উপসর্গ গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে জানা যায়, তাঁর একটি সন্তানের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য সন্তানটিকেও আর বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়।   শেষ পর্যন্ত যমজ দুই সন্তানকেই হারান পরমজিৎ ও নামিন্দর। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা টুইনস ট্রাস্টের প্রকাশিত বিবরণেও ২০১৮ সালে তাঁদের যমজ সন্তান অমৃত ও ফতেহকে হারানোর ঘটনাটি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে সন্তান দুটিকে হারান পরমজিৎ।   এই ঘটনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরমজিৎ জানিয়েছেন, যমজ সন্তান হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়াও তাঁর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছিল। সন্তান হারানোর শোক তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল।   তবু মা হওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি তিনি। পরবর্তী কয়েক বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান এই দম্পতি। কিন্তু বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে নতুন করে চেষ্টা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।   ২০২২ সালে ভারতে সফরের সময় পরমজিতের জীবনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি অমৃতসর এবং শিখ ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান হজুর সাহিবে যান। সেখানে প্রার্থনা করেন, জীবনে যদি আবার সন্তান আসে, তাহলে সেই সন্তানকে নিয়ে তিনি পুনরায় সেখানে ফিরবেন।   পরমজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, আবারও গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মাথায় পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।   খবরটি আনন্দের হলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে উদ্বেগও তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। কারণ এর আগেও যমজ সন্তান হারিয়েছিলেন তিনি। নতুন গর্ভধারণের পর একই ধরনের জটিলতা আবার দেখা দিতে পারে কি না, সেই আশঙ্কা ছিল।   চিকিৎসকেরা তাঁর আগের গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইতিহাস বিবেচনায় রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখেন। পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সন্তানদের বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।   অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পরমজিৎ। দুই মেয়ের নাম রাখা হয় আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা এবং একের পর এক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর এই দুই শিশুর জন্ম তাঁদের পরিবারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।   পরমজিৎ জানিয়েছেন, জন্মের পর প্রথমবার দুই মেয়েকে কোলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এত দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বহন করার পর শেষ পর্যন্ত দুই মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আভনূর ও আজুনি এখন প্রায় তিন বছর বয়সী। সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে পরমজিৎ ও নামিন্দরের। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপের পর তাঁদের পারিবারিক জীবনে এসেছে পরিবর্তন।   নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সন্তান হারানো কিংবা দীর্ঘদিন গর্ভধারণে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান পরমজিৎ। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে থাকা নারীদের জন্য মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসকদের যথাযথ মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে ২০১৮ সালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গর্ভাবস্থায় শারীরিক উপসর্গ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে এর আগে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা এবং হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায় না।   পরমজিতের জীবনের এই ঘটনা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, বারবার গর্ভপাতের মানসিক প্রভাব এবং জটিল গর্ভাবস্থায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর সফল গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা থেকে সব দম্পতির ক্ষেত্রে একই ফলাফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা এবং ২০টি সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর শেষ পর্যন্ত দুই কন্যাসন্তানকে কোলে পেয়েছেন পরমজিৎ। একসময় যে দম্পতি আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সংসারে বেড়ে উঠছে আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ব্যক্তিগত শোক এবং চিকিৎসার নানা জটিলতা পেরিয়ে এই দুই শিশুর জন্মই এখন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে

সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘমেয়াদে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সন্তান জন্মের পর কয়েক বছর এই রোগের ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে বদলায়।    সন্তান জন্মের পর ঝুঁকি কতটা বাড়বে এবং কত দিন থাকবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ক্যানসারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।   ২০১৮ সালে প্রকাশিত ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের আপেক্ষিক ঝুঁকি সন্তান জন্ম না দেওয়া নারীদের তুলনায় প্রসবের প্রায় পাঁচ বছর পর সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই গবেষণায় ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় বয়স বেশি হলে এবং স্তন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকির বৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। এই ফল কোনো ব্যক্তির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।    অন্যদিকে, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্তন্যদানের সময় মাসিক চক্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরের নিজস্ব কিছু হরমোনের সংস্পর্শও কমে। এটি সুরক্ষামূলক প্রভাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে বুকের দুধ খাওয়ালেই স্তন ক্যানসার হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।    গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার বিরল। কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় স্তন বড় হওয়া, ভারী লাগা বা টিস্যুর পরিবর্তনের কারণে সন্দেহজনক গুটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, এসব স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   তাই স্তনে বা বগলে নতুন গুটি, স্থায়ী শক্ত অংশ, ত্বকে টোল পড়া, স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বুকের দুধ ছাড়া অন্য ধরনের নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ স্তনের পরিবর্তন ক্যানসার নয়। তবু কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু গর্ভাবস্থা বা দুধ জমার ফল ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
হাসপাতাল
সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর ঘরে এসেছিল যমজ কন্যাসন্তান। পরিবারে নতুন অতিথি আসার আনন্দ থাকার কথা থাকলেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।   স্ত্রী ও সদ্য জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি ফেরার পর আলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং নবজাতকদের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।   ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালবাথান এলাকায়। আলাল উদ্দিনের স্ত্রী হাসপাতালে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পাঁচ বছর পর তাঁদের ঘরে সন্তান আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারটিতে নেমে আসে শোক।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও দুই নবজাতক হাসপাতালে থাকলেও আলাল রাতে বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো হয়।   প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   নিহতের ভাই জামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন আলাল। ফলে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঋণের চাপ এবং সদ্য জন্ম নেওয়া দুই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় যোগ হওয়ায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এসব চাপের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়, পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাটি একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারের চিকিৎসাব্যয় ও ঋণের চাপের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সন্তান জন্ম ও চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হয়।   একদিকে পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর দুই সন্তানের জন্ম, অন্যদিকে বাবার আকস্মিক মৃত্যু—দুই বিপরীত ঘটনার মধ্যে পড়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মুখে। হাসপাতালে থাকা মা ও দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ডাউন সিনড্রোমে বেড়ে ওঠা দুই সন্তানকে নিয়ে আইসক্রিম ব্যবসায় বাবা
ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জোয়েল ওয়েগেনার চেয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তান মেরি ও জশ যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তৈরি করেন একটি নতুন পথ। পুরোনো একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সন্তানদের নিয়ে শুরু করেন পারিবারিক ব্যবসা ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়ে মেরি কেট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে পরিবারে চিন্তা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সীমিত হওয়ায় জোয়েল সিদ্ধান্ত নেন, অপেক্ষা না করে সন্তানদের জন্য নিজেরাই একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করবেন। এরপর ইন্ডিয়ানার একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সেটি মেরামত করেন জোয়েল। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির কাজ। ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মেরি ও জশের বাস্তব কর্মজীবনের প্রশিক্ষণের জায়গা। আইসক্রিম বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, টাকা সামলানো, প্রশ্ন করা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগ—এসব দক্ষতা কাজ করতে করতেই অনুশীলন করছেন মেরি ও জশ। জোয়েলের মতে, সন্তানদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি কাজের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও স্বচ্ছন্দভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া ও নিয়মিত কাজ করার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। ওহাইওর লোভল্যান্ড এলাকায় শুরু হওয়া ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’ পরে বৃহত্তর সিনসিনাটি অঞ্চলেও পরিচিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল এবং কমিউনিটি আয়োজনে আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখা যায় ওয়েগেনার পরিবারকে। ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসেই তাঁদের বিক্রি প্রায় ৫ হাজার আইসক্রিমে পৌঁছেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিবেদনে মোট বিক্রি ১০ হাজারের বেশি ট্রিটে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। তবে জোয়েলের কাছে এই ব্যবসার সাফল্য শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপার বিষয় নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সন্তানদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন জোয়েল। তাঁর বিশ্বাস, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মেরি ও জশের গল্প তাই শুধু একটি আইসক্রিম ব্যবসার গল্প নয়। এটি এমন এক বাবার গল্প, যিনি সন্তানদের জন্য সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজেরাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। একটি পুরোনো আইসক্রিম ট্রাক তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে কাজ শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন দরজা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।    ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না।   দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল।   ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।    কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন।   ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।”   কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।    এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।   কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ।   কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন বাবা-মা
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ দেখতে পারবেন বাবা-মা

কিশোর-কিশোরীরা একা উবারে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি উবার। এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উবারের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সন্তানের রাইড চলাকালীন গাড়ির ভেতরের দৃশ্য লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবক।   উবারের নতুন এই লাইভ ভিডিও সুবিধা ২৫ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে। উবারের টিন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই রাইড নিতে পারে। নতুন ফিচারের লক্ষ্য হলো সন্তান একা স্কুল, খেলাধুলা বা অন্য কোনো কাজে যাতায়াত করার সময় বাবা-মাকে রাইডের পরিস্থিতি আরও সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া।   রাইড শুরু হওয়ার পর লাইভ ভিডিও সুবিধা পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। এরপর উবার অ্যাপ থেকে এক ট্যাপেই রাইডের লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি ধারণ করা হবে উবার ড্রাইভারের ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে, যাতে মূলত গাড়ির পেছনের সিটের দৃশ্য দেখা যায়।   তবে প্রতিটি রাইডে লাইভ ভিডিও সুবিধা নিশ্চিত নয়। ড্রাইভার চাইলে এই সুবিধা চালু বা বন্ধ রাখতে পারবেন। ফলে কোনো রাইড শুরু হওয়ার আগে বাবা-মা জানতে পারবেন না যে ওই রাইডে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে কি না। লাইভ ভিডিও চালু থাকলে বাবা-মা রাইডের যেকোনো সময় সেটি দেখতে পারবেন। বাবা-মা ভিডিও দেখা শুরু করলে কিশোর যাত্রী এবং ড্রাইভার দুজনকেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।   রাইড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইভ ভিডিওও বন্ধ হয়ে যাবে। উবার জানিয়েছে, ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং রাইড চলাকালীন এটি কেবল সংশ্লিষ্ট কিশোরের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকই লাইভ দেখতে পারবেন। উবার নিজেও রাইড চলাকালীন ওই ভিডিও দেখতে পারবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন হলে এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফাইলের ডিক্রিপশন কী ব্যবহারের সুযোগ কোম্পানির থাকতে পারে।   উবারের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে রাইডের ভিডিও রেকর্ডিং ১৪ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে। তবে কোনো ভিডিও নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্টের অংশ হলে কোম্পানির ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী সেটি আরও বেশি সময় রাখা হতে পারে।   প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি মার্কেটে নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো, র‍্যালি-ডারহাম, পোর্টল্যান্ড, সান অ্যান্টোনিও, ক্লিভল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং এল পাসো। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। উবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার পাশাপাশি টিন অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই রয়েছে রাইডের লাইভ ট্র্যাকিং, পিন ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা। রাইডের সময় বাবা-মা সন্তানের অবস্থান ও যাত্রার অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন।   উবার ২০২৩ সালে টিন অ্যাকাউন্ট চালু করে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এই সেবা রয়েছে এবং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর থেকে টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বছরে কোটি কোটি রাইড সম্পন্ন করছেন। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য রাইডের সময় আরও সরাসরি নজর রাখার সুযোগ তৈরি হলো।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা
মেয়ের মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে, ৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা

সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে।   ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি।   সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়।   এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি।   প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড।   চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে।   ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি।   ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।   পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।   ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি।   ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না
বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না

ম্যাসাচুসেটসের মার্থা’স ভিনইয়ার্ডে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে দুই সন্তানকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কেভিন ফস্টার। প্রবল স্রোতে তাঁর দুই কিশোর ছেলে কেনেথ ও কেডেনসহ পাঁচজন পানিতে বিপদে পড়েছিলেন।   ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে লং পয়েন্ট এলাকায় তাঁদের উদ্ধারে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন সাহস করে পানিতে নামেন। শেষ পর্যন্ত ফস্টারের দুই ছেলেসহ চারজন নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু ফস্টারকে অচেতন অবস্থায় তীরে আনা হলে তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের বিপদে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়াটা ছিল ফস্টারের স্বভাবেরই অংশ। তাঁর স্ত্রী নাদিয়া ও দুই সন্তান এখন তাঁকে হারানোর গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেভিন ছিলেন ভালোবাসা, উদারতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত একজন মানুষ।   ফস্টারের মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়েও শোক নেমে এসেছে। তাঁর স্মরণে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর দুই ছেলের শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল।   ১১ আগস্ট ফস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে তাঁর শেষ মুহূর্তটি এখন শুধু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়—সন্তানদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক বাবার ভালোবাসার প্রতীক।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সন্তানদের সাথে একজন অসহায় মা। ছবি :সংগৃহীত
সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা

মাত্র ৫০০ টাকা ঘরভাড়া দিতে না পেরে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে রেহানা খাতুনকে। এখন দুই সন্তানকে নিয়ে তার আশ্রয় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর মর্মবেদনার সৃষ্টি করেছে।   স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন রেহানা। দীর্ঘদিন ভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারান তিনি। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন।   স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। ফলে খোলা জায়গাতেই প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে রেহানার।   স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তিনি লক্ষ্য করেন, রেহানার মাথায় চুল নেই। কারণ জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করেছেন তিনি।   আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রেহানার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তার জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তারা।   সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের সেই কাঠামো। সেটিকেই একটি পূর্ণাঙ্গ ঘরে পরিণত করে দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকার স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন, বেড়া ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সামর্থ্য না থাকায় সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি।   রেহানা খাতুন বলেন, “দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।”   এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন সহায়তার আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার চাওয়া খুব বেশি নয়। মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না এবং রাতে অন্তত নিরাপদে ঘুমাতে পারবেন তারা।

Unknown আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে একটি সন্তান, তাতেই প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার খরচ! তালিকায় শীর্ষে মেরিল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রে একটি সন্তান, তাতেই প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার খরচ! তালিকায় শীর্ষে মেরিল্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশুকে জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত লালন-পালন করতে এখন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যবিমা, পোশাক, পরিবহন ও শিশু পরিচর্যার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সন্তান প্রতিপালনের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।    লেন্ডিংট্রির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি শিশুর পেছনে বছরে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৭ ডলার। তবে শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে খরচ আরও বেশি, কারণ এ সময় ডে কেয়ার ও পরিচর্যা ব্যয়ই সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্য হাওয়াই। সেখানে ১৮ বছরে একটি শিশুর পেছনে আনুমানিক ৪ লাখ ১২ হাজার ৬৬১ ডলার খরচ হয়। এর পরেই রয়েছে আলাস্কা ও মেরিল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি, আলাবামা ও সাউথ ডাকোটা।    ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চলেও শিশু লালন-পালনের ব্যয় দেশের অনেক অংশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে আবাসন ও শিশু পরিচর্যার খরচ এই অঞ্চলের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।    গবেষকরা হিসাব করতে গিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুর পোশাক, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা, ডে কেয়ার এবং প্রযোজ্য কর-সুবিধা বিবেচনায় নিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সন্তান লালন-পালনের মোট ব্যয় এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।    শিশু পরিচর্যার ব্যয় নিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি নবজাতক ও চার বছর বয়সী একটি শিশুর বার্ষিক পরিচর্যা ব্যয় গড়ে ২৮ হাজার ডলারের বেশি। এই ব্যয়কে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে হলে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন, যা অধিকাংশ পরিবারের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, ডে কেয়ারের মূল্য এবং আবাসন সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালন অনেক পরিবারের জন্য আগের চেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০