সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হংকং

যুক্তরাজ্যে বিএনও ভিসাধারীদের যোগ্য নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে পাঁচ বছরের একটানা বসবাসের শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাজ্যে ৫ বছরের অপেক্ষা ছাড়াই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এক শ্রেণির প্রবাসীদের সন্তানরা

যুক্তরাজ্যে হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) বা বিএনও ভিসাধারীদের নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে যোগ্য শিশুদের আর নিজস্বভাবে পাঁচ বছর একটানা যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে না। ফলে মা-বাবা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাঁদের সন্তানরাও একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা সংশোধন করে এ পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে বিএনও ভিসার আওতায় থাকা নির্ভরশীল শিশুদের জন্য প্রযোজ্য।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগে বিএনও ভিসার আওতায় থাকা নির্ভরশীল শিশুদেরও সাধারণত স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে পাঁচ বছর একটানা যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব শিশু মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে, তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে। তবে এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে সব শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবে। শিশুর বয়স, পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচর্যা ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং মা-বাবার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   নতুন নির্দেশিকায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো শিশুর মা-বাবার ভিসার মেয়াদ আলাদা হলে স্থায়ী বসবাসের আবেদন কীভাবে বিবেচনা করতে হবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারত। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যে দর্শনার্থী ভিসায় থাকা কেউ দেশটির ভেতর থেকেই বিএনও ভিসার আওতায় আবেদন করতে চাইলে কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, তা-ও পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, দর্শনার্থী ভিসা পাওয়া মানেই বিএনও ভিসার জন্য আবেদন করার অযোগ্য হয়ে যাওয়া নয়। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   বিএনও ভিসা মূলত হংকংয়ের নির্দিষ্ট বাসিন্দা ও তাঁদের যোগ্য পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুযোগ দিতে চালু করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং ব্রিটিশ শাসন থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের আগে ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) মর্যাদা চালু করা হয়েছিল। পরে হংকংয়ে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাজ্য ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিএনও ভিসা কর্মসূচি চালু করে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ পান। তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও নির্দিষ্ট শর্তে জীবনসঙ্গী, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান ও নাতি-নাতনিরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন সেই পরিবারগুলো, যাদের সন্তানরা মা-বাবার তুলনায় পরে যুক্তরাজ্যে এসেছে অথবা পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। আগে মা-বাবা স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হলেও সন্তানের নিজস্ব বসবাসের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় একই সময়ে সবার আবেদন করা সম্ভব হতো না। সংশোধিত নির্দেশিকার ফলে এ ধরনের ক্ষেত্রে শিশুর আবেদন বিবেচনার সুযোগ বাড়বে। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত একজন মা-বাবাকে একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে হবে, অথবা আগে থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার কিংবা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। অন্য অভিভাবকের ক্ষেত্রেও নিয়ম রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।   প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের জন্য পাঁচ বছরের একটানা বসবাসের নিয়মে এই সংশোধন কোনো পরিবর্তন আনেনি। বিএনও ভিসাধারী প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে আরও ১২ মাস পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। ফলে নতুন পরিবর্তনটি মূলত নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন সহজ করার জন্য নেওয়া হয়েছে, পুরো বিএনও ভিসা ব্যবস্থার নিয়ম বদলে দেওয়ার জন্য নয়।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ১৫তম সংস্করণের নির্দেশিকায় এ পরিবর্তনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী, মা-বাবার সঙ্গে একই সময়ে শিশুদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, GOV.UK; Legit.ng।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ভিটেমাটি হারানোর বেদনায় কাঁদছেন উচ্ছেদের মুখে পড়া হংকংয়ের এক গ্রামীণ বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
২৮.৬ বিলিয়ন ডলারের হাই-টেক হাবের জন্য উচ্ছেদ করা হচ্ছে হংকংয়ের ২৫টি গ্রাম!

হংকংয়ে ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশাল হাই-টেক হাব গড়ে তুলতে অন্তত ২৫টি গ্রাম উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। ‘নর্দার্ন মেট্রোপলিস’ নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় হংকংয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাত সম্প্রসারণ, নতুন আবাসন তৈরি এবং মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে হংকংয়ের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করা। পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় গ্রাম, জলাভূমি ও কৃষিজমিকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।   প্রকল্পটির কারণে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করা গ্রামগুলোর অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে হচ্ছে। ৭১ বছর বয়সী চ্যান ইউক-তং এমনই একজন। হংকংয়ের উত্তরের একটি গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় নিজের ছোট নীল ইটের বাড়িতেই কাটানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের জন্য তার বাড়িও ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন।   নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর বা ৭৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হবে। অঞ্চলটির আয়তন হংকংয়ের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। এই এলাকায় বর্তমানে গ্রাম, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাভূমি রয়েছে। ভূমি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন লিবার রিসার্চ কমিউনিটির হিসাবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ২৫টি গ্রাম ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হবে।   হংকং সরকার নর্দার্ন মেট্রোপলিসকে শহরটির নতুন অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে তুলে ধরছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি হংকংকে ম্যাকাও এবং চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রেটার বে এরিয়ার নয়টি শহরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে। প্রযুক্তি, শিল্প, আবাসন ও লজিস্টিকস খাতকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে প্রকল্পটির ব্যাপকতা নিয়ে পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। লিবার রিসার্চ কমিউনিটির প্রতিনিধি ব্রায়ান ওংয়ের মতে, আগে তুলনামূলকভাবে সংরক্ষিত থাকা এলাকায় নতুন শহর গড়ে তুললে পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, উন্নয়নের ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক জলাভূমি এবং দীর্ঘদিনের গ্রামীণ জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, প্রকল্পের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকাগুলোকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু পুরোনো বাড়ি ও বসতিকে সংরক্ষণযোগ্য সাংস্কৃতিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে, সেগুলোর অনেককেই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরিয়ে দিতে হচ্ছে।   গ্রামবাসীদের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী নিকি সো তিন প্রজন্ম ধরে যে গ্রামে তার পরিবার বসবাস করেছে, সেখানকার বাড়ি হারিয়েছেন। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি সরকারি আবাসনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে নতুন বাড়ি পেলেও পুরোনো গ্রামের প্রতিবেশী ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।   গত জুলাইয়ে ভূমি বিভাগের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা নিকি সোদের এলাকায় গিয়ে সেটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। এর আগে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের কেউ কেউ উন্নয়ন প্রকল্পটি সফল হওয়ার আশা করছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর প্রকল্পটি প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে বহু বছরের বসতভিটা হারানোর ত্যাগটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে।   নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে অন্তত ২২৪ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা প্রায় ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি জানিয়েছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৬০ বিলিয়ন হংকং ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হংকং কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। ব্যাংকগুলোর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে, প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি হংকংয়ের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারে।   ইতোমধ্যে নর্দার্ন মেট্রোপলিস এলাকায় বড় ধরনের ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মাসে প্রকল্পের আওতায় প্রথম বড় আকারের ভূমি বিক্রির চুক্তি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে দেওয়া হয়। ওই কনসোর্টিয়ামে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ই-কমার্স কোম্পানি জেডি ডটকম রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবাসন ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।   প্রকল্পটির পেছনে হংকংয়ের অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে শহরটির সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেনঝেন ও হাংঝুর মতো প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাও হংকংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার হংকংকে আলাদা সুবিধা দিতে পারে।   নর্দার্ন মেট্রোপলিসের মাধ্যমে হংকং নতুন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে বহু পুরোনো গ্রাম ও বসতিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পটির সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত হংকংয়ের অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং এর জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।   সূত্র: এএফপি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলকে ৩৯-৩৮ পয়েন্টে হারিয়ে ৭৫ বছর পর দলগত পদক জিতেছে মিশর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বমঞ্চে ফেন্সিংয়ে ইসরায়েলকে হারিয়ে ৭৫ বছর পর ব্রোঞ্জ জয় মিশরের

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মিশর। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩৯-৩৮ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্ব ফেন্সিংয়ের দলগত ইভেন্টে ৭৫ বছর পর পদকের দেখা পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।   বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। একপর্যায়ে স্কোর ৩৮-৩৮ সমতায় পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ‘গোল্ডেন টাচ’-এ নির্ণায়ক পয়েন্ট এনে মিশরকে ৩৯-৩৮ ব্যবধানে জয় উপহার দেন দেশটির তারকা ফেন্সার মোহাম্মদ এল-সায়েদ।   এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত ইভেন্টে পদক জিতল মিশর। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর এমন সাফল্য দেশটির ফেন্সিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ এল-সায়েদ ও তার সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত উদযাপনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মিশরীয় খেলোয়াড়রা আবেগঘন উদযাপনে মেতে ওঠেন।   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে যে ম্যাচ শেষে এল-সায়েদ ইসরায়েলের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দান করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আন্তর্জাতিক ফেন্সিং ফেডারেশন (এফআইই) বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হংকংয়ে ২২ থেকে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের শীর্ষ ফেন্সাররা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করে হংকং, যেখানে ব্যক্তিগত ও দলগত—উভয় বিভাগেই পদকের জন্য লড়েছেন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফেন্সিংয়ে মিশরের ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ফেন্সাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, আর এবার দলগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়ল মিশর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করায় দণ্ডিত ব্রিটিশ নারী ইসাবেল রোজ। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণ অভিযোগ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা! ব্রিটিশ নারীকে কারাগারে দিল হংকং আদালত

হংকংয়ে এক নারী ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার দায়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই নারী পরিকল্পিতভাবে অভিযোগটি তৈরি করেছিলেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ করেছিলেন।   ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইসাবেল রোজ নামের ওই নারী হংকং পুলিশের কাছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ঘটনার দুই দিন পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। রোজকেই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে। তদন্তে উঠে আসে, তিনি যাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন, সেই একই ব্যক্তির কাছ থেকেই ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। মামলাটি আদালতে গেলে হংকংয়ের জেলা আদালতের বিচারক অ্যাড্রিয়ানা সে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। বিচারক বলেন, অভিযোগটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছিল এবং তা “স্পষ্টভাবে মিথ্যা” বলে প্রমাণিত হয়েছে।   আদালত অভিযুক্ত পুরুষকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ ঘোষণা করে। বিচারক তাকে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রোজকে ব্ল্যাকমেইল এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রোজের আইনজীবীরা আদালতের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। আদালত তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারাগারে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে রোজ হংকংয়ের তাই লাম সংশোধনাগারে সাজা ভোগ করছেন।   আদালতের রায়ের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। কারণ মিথ্যা অভিযোগ শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অবস্থানই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক অবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে বিচার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যৌন অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অভিযোগের গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ ও ব্ল্যাকমেইলের দায়ে হংকংয়ে ছয় বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্রিটিশ তরুণী ইসাবেল রোজ। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ ও ব্ল্যাকমেইলের দায়ে হংকংয়ে ব্রিটিশ তরুণীর কারাদণ্ড

হংকংয়ে এক ব্রিটিশ ব্যাংকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে ব্ল্যাকমেইল ও বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অপরাধে ২৬ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ তরুণীকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডিত তরুণীর নাম ইসাবেল রোজ। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা রোজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভ্রমণের সময় ওই ব্রিটিশ ব্যাংকারের সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শুরুতে তার আমন্ত্রণে হংকংয়ে যান। হংকংয়ে পৌঁছানোর পরই ওই ব্যাংকার তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে হংকংয়ের ডিস্ট্রিক্ট জজ আদ্রিয়ানা নোয়েল সু চিং রায়ে উল্লেখ করেন যে, এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং অভিযুক্ত তরুণী বিচার চলাকালীন বিন্দুমাত্র অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর ওই ব্যক্তির কাছে প্রথমে ৫ হাজার পাউন্ড এবং পরবর্তীতে ১ লাখ পাউন্ড দাবি করেন রোজ, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়। যদিও রোজ দাবি করেছিলেন যে, ওই অর্থ তাঁর বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং চিকিৎসার ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিচারক তা খারিজ করে বলেন যে, অভিযুক্ত ব্যাংকার তার প্রতি উদারতা দেখালেও রোজ তার সেই সুযোগ নিয়েছিলেন। বিচারক তাঁর আচরণকে ‘অশুভ’ ও ‘দুষ্টু প্রকৃতির’ বলে মন্তব্য করেন।   এদিকে এই রায়ের পর নারী অধিকার কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর নারীদের আচরণ সবসময় একরকম হয় না এবং ট্রমার কারণে তাদের আচরণে ভিন্নতা আসতে পারে। তবে আদালতের রায়ের পর তরুণীর পরিবার ও আইনি দল পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনার জেরে প্রায় দুই বছর হংকংকে আটকে থাকার পর অবশেষে তাকে এই সাজা ভোগ করতে হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০