আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা যদি চীন–এর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০০% শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করবে। এই হুমকি মূলত অন্য দেশের পণ্যগুলোকে কানাডার বাজারের মাধ্যমে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ লিখেছেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য “ড্রপ-অফ পোর্ট” বা মধ্যবর্তী রাস্তা হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, শিল্প ও সামাজিক অর্থনীতি নষ্ট করবে। তাই চুক্তি হলে “তাৎক্ষণিকভাবে ১০০% ট্যারিফ আরোপ করা হবে।”
এই মন্তব্য আসছে এমন এক সময়ে যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে সম্প্রতি চীনে সরকারি সফর করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি, কৃষিজাত পণ্যসহ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ বেড়েছে। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী বাণিজ্য শৃঙ্খলা ছিল, কিন্তু বর্তমানে এই সম্পর্ক শক্ত টানাপোড়েনে রয়েছে।
ট্রাম্পের পূর্বের বক্তব্যেও তিনি কানাডাকে মাঝে মাঝে “যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য” হিসেবে উল্লেখ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে শুল্কজনিত কঠোর নীতিসমূহের কথা ঘোষণা করেছেন। এই নতুন হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক বাজার ও কুটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখনো পর্যন্ত কানাডা সরকার থেকে এর ব্যাপারে অফিশিয়াল কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই শুল্ক বাস্তবে আরোপ হয়, তাহলে কানাডার রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে এবং উভয় দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরও ঝামেলায় পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে বিমানবন্দরে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। একই সময়ে অবতরণ করতে যাওয়া দুটি বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়লেও এক নারী বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকের শান্ত ও দ্রুত নির্দেশনার কারণে শেষ মুহূর্তে বিপদ কেটে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে একটি যাত্রীবাহী বিমান এবং একটি পণ্যবাহী বিমান ছেদকারী দুইটি রানওয়েতে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যাত্রীবাহী বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহর থেকে নিউয়ার্কে আসছিল, আর পণ্যবাহী বিমানটি একই সময়ে অন্য রানওয়ে দিয়ে নামার অনুমতি পেয়েছিল। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে থাকা নারী বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক রাডারে লক্ষ্য করেন যে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি অবস্থানে চলে এসেছে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একই স্থানে পৌঁছে যেতে পারে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে যাত্রীবাহী বিমানটিকে অবিলম্বে অবতরণ বাতিল করে পুনরায় আকাশে উঠে ঘুরে আসার নির্দেশ দেন। পাইলট সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ মেনে বিমানটিকে আবার উপরে তুলে নেন। এর ফলে রানওয়েতে নামতে থাকা অন্য পণ্যবাহী বিমানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে গেলেও তা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার শব্দধারণ পরে প্রকাশ হলে শোনা যায়, বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও নিয়ন্ত্রক অত্যন্ত শান্তভাবে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ওই নারী কর্মকর্তার প্রশংসা করে লিখেছেন, তার ধীরস্থিরতা ও পেশাদারিত্ব শতাধিক যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছে। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবতরণের সময়সূচি ও রানওয়ে সমন্বয়ে সাময়িক বিভ্রান্তির কারণে এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহকে স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ নিতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সাগরে ইতিমধ্যেই থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেলের বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের সংরক্ষিত তেল মজুতও বিশ্ববাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়ায় আছে। এই উদ্যোগের ফলে বিশ্বে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে। বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই পদক্ষেপ তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর হবে। এছাড়া মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি মূলত বিশ্ববাজারে সংকট এড়াতে এবং ইরানের তেলের ব্যবহার বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে না পারে সেজন্য নেওয়া হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শতাব্দী প্রাচীন নৌ-পরিবহন আইন ‘জোন্স অ্যাক্ট’ (Jones Act) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৬০ দিনের জন্য এই আইনটি শিথিল করার ফলে এখন থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে তেল, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করতে পারবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অতি প্রয়োজনীয় সম্পদগুলো যাতে দ্রুত মার্কিন বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” কী এই জোন্স অ্যাক্ট? ১৯২০ সালে পাস হওয়া ‘মার্চেন্ট মেরিন অ্যাক্ট’, যা ‘জোন্স অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, অনুযায়ী আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে অবশ্যই আমেরিকায় নির্মিত হতে হবে, মার্কিন নাগরিকদের মালিকানাধীন হতে হবে এবং জাহাজের কর্মীদের অধিকাংশকেই মার্কিন নাগরিক হতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌ-শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এই আইন করা হয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট এই আইন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন এই জরুরি পদক্ষেপ? ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে ঠেকেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৭০ ডলার। আমেরিকায় সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বাজার বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অভ্যন্তরীণ নৌ-শিল্প মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘আমেরিকান মেরিটাইম পার্টনারশিপ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শ্রমিকরা কাজ হারাতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন নৌ-শিল্পের ক্ষতি করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিথিলতা খুচরা বাজারে তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৩ থেকে ১০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাও (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই চাপ সামলানোর একটি প্রাথমিক চেষ্টা মাত্র।