আমেরিকা

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত

মোহাইমিনুল ইসলাম জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0

 আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমন অভিযানের মধ্যেই মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরেকজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিনিয়াপোলিস থেকে ভারী অস্ত্রধারী ফেডারেল কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। আল জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা শনিবার সাংবাদিকদের জানান, ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। নিহত ব্যক্তি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। পরে তার বাবা–মা পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, নিহতের নাম আলেক্স প্রেটি। তিনি পেশায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) একজন নার্স ছিলেন।

 

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে সেখানে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এমন অবস্থার মধ্যেই এই গুলির ঘটনা ঘটল।

 

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড নামের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় একজন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা তার গাড়ির দিকে গুলি চালালে রেনি গুড নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই শহরটিতে প্রতিদিন ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। গত সপ্তাহে আরেকটি পৃথক ঘটনায় ফেডারেল এজেন্টরা ভেনেজুয়েলার এক ব্যক্তিকেও গুলি করেন।

 

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়াল্‌জ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটা আমাদের শহরের মানুষের ওপর চালানো পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা। আর আজ সেই নিষ্ঠুরতায় আরেকজন প্রাণ হারালেন।”

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, একজন মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট এমন এক ব্যক্তিকে গুলি করেন, যার কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল। কর্মকর্তারা তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তিনি প্রতিরোধ করেন বলে দাবি করা হয়। ডিএইচএসের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, এজেন্টদের দিকে এগিয়ে আসা ওই ব্যক্তি ‘সহিংসভাবে প্রতিরোধ’ করলে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই গুলি ছোড়া হয়।

 

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভর্নর টিম ওয়াল্‌জ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা একটি বন্দুকের ছবি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় পুলিশ কোথায় ছিল এবং কেন আইসিই কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় তাদের মোতায়েন করা হয়নি।

 

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আলেক্স প্রেটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ফেডারেল এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। একপর্যায়ে এক এজেন্ট প্রেটি ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের দিকে পেপার স্প্রে ছোড়েন। প্রেটি স্প্রে ঠেকাতে এবং অন্যদের সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে একাধিক এজেন্ট তাকে ধস্তাধস্তি করে মাটিতে ফেলে দেন এবং মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকেন।

 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এজেন্টরা প্রেটিকে মাটিতে চেপে ধরে রাখার সময় একজন এজেন্ট অস্ত্র বের করে একাধিক গুলি ছোড়েন। এরপর রাস্তায় প্রেটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

গবেষক ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী সংগঠন ‘বেলিংক্যাট’ জানিয়েছে, ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম গুলি ছোড়ার আগেই প্রেটির কাছ থেকে একটি বন্দুক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সংগঠনটি জানায়, অন্তত দুইজন এজেন্টকে গুলি ছুড়তে দেখা যায় এবং কমপক্ষে ১০টি গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রেটি সম্পূর্ণ নড়াচড়া বন্ধ করে দেওয়ার পরই বেশিরভাগ গুলি ছোড়া হয়।

 

পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, পুলিশের ধারণা অনুযায়ী প্রেটি একজন বৈধ ও অনুমতিপ্রাপ্ত অস্ত্রধারী ছিলেন। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে নির্দিষ্ট অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে।

 

এই ঘটনার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুলিশপ্রধান সাধারণ জনগণ এবং ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন প্রশ্নে নতুন বিতর্ক— আদালতের রায়ে স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক ফেডারেল আদালতের রায়। তিন লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (TPS) বাতিলের উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করেছে আদালত, যা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে Donald Trump প্রশাসনের জন্য।   মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ Ana Reyes রায়ে বলেন, বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইতিয়ান নাগরিকদের আইনি অবস্থান বহাল থাকবে। তার মতে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যথাযথ নিরপেক্ষতা ছিল না এবং তা আগেভাগেই নির্ধারিত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।   রায়ে তিনি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন Department of Homeland Security-এর সচিব Kristi Noem-কে। বিচারকের মন্তব্য অনুযায়ী, TPS বাতিলের পেছনে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু হাইতিয়ান অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ TPS বাতিল হলে লাখো মানুষ কাজ, বাসস্থান ও আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তেন।   এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিললেও আপাতত আদালতের আদেশেই স্বস্তিতে রয়েছেন হাজারো হাইতিয়ান পরিবার। তবে অভিবাসন নীতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আরব সাগরে সামরিক উত্তেজনা চরমে- মার্কিন বাহিনীর গুলিতে ইরানি ড্রোন ভেঙে পড়ে

নতুন ইতিহাস গড়ল ওয়ালমার্ট

১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল ওয়ালমার্ট

নির্বাচন ব্যবস্থাকে 'জাতীয়করণ' করার আহ্বান ট্রাম্পের: তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন
কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত একটি তদন্তে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ) কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। মঙ্গলবার হাউস ওভারসাইট কমিটির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত 'কন্টেইম্পট অফ কংগ্রেস' বা কংগ্রেস অবমাননার ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে ক্লিনটন দম্পতি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। এর আগে তারা তদন্ত কমিটির তলবে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন, যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কমিটি। তদন্ত কমিটির রিপাবলিকান সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে এপস্টাইনের সাথে ক্লিনটন পরিবারের সম্পর্ক এবং তার দ্বীপে যাতায়াতের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আসছিলেন। যদিও বিল ক্লিনটন আগে জানিয়েছিলেন যে, তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে কয়েকবার যাতায়াত করলেও তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এপস্টাইনের প্রভাব ও তার সাথে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লেনদেনের বিষয়ে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। হিলারি ক্লিনটনও এই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সাক্ষ্যদান প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ক্লিনটন দম্পতির এই সাক্ষ্যদান মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ইউএস স্ট্র্যাটেজিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস রিজার্ভ

খনিজ সম্পদের সুরক্ষায় ‘প্রজেক্ট ভল্ট’, মার্কিন শিল্প খাতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের

ভারতের ওপর শুল্ক ৫০% থেকে নামিয়ে ১৮% করলেন ট্রাম্প

ছবি: এআই-নির্মিত

কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি নামের উল্লেখ

গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ও জেফরি এপস্টেইন। ছবি: এবিসি নিউজ
কিভাবে প্রথম শিকার ধরেছিলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করেছে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা, ২ হাজার ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি, যা জেফরি এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের দীর্ঘদিনের যৌন নির্যাতন এবং কিশোরী গ্রুমিংয়ের চক্রের চূড়ান্ত প্রমাণ তুলে ধরে। মার্কিন বিচার বিভাগ ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে। এসব ফাইল জেফরি এপস্টেইনের যৌন নির্যাতন ও শিশু পাচারের অভিযোগের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষভাবে উঠে এসেছে তাঁর সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকাও, যিনি কিশোরী ও তরুণী মেয়েদের এপস্টেইনের জালে টেনে আনতেন।   মিশিগানের ইন্টারলোচেন স্কুল অব দ্য আর্টস-এর একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ১৯৯৪ সালে এপস্টেইন ও গিলেইন প্রথম শিকার নির্বাচন করেন। ১৩ বছর বয়সী ‘জেন ডো’ নামের এক কিশোরী সেখানে অংশ নেন। এপস্টেইন নিজেকে শিল্প অনুরাগী ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি জানার পর কয়েক মাস পর তাকে চায়ের আমন্ত্রণ জানান।   এরপর থেকে জেন ডো নিয়মিত এপস্টেইনের বাড়িতে যেতেন, যেখানে সুইমিংপুল, সিনেমা ও শপিংয়ের আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি যৌন নির্যাতন শুরু হয়। এফবিআই রিপোর্ট ও আদালতের নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইন ও গিলেইন কিশোরীদের একে অপরের কাছে পাঠাতেন, গ্রুমিং করাতেন এবং নগদ অর্থ, শিক্ষা খরচ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে প্রলোভিত করতেন।   ২০০৪–২০০৫ সালে এপস্টেইনের বাড়িতে যেসব মেয়েদের আনা হতো, তাঁদের বয়স ছিল ১৪–১৮ বছরের মধ্যে। প্রতিজন নতুন কিশোরী আনার বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়া হতো। গিলেইন এই নেটওয়ার্ক পরিচালনার মূল কৌশল ছিলেন।   ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন চুপ ছিলেন ভয়ে। জেন ডো প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে ২০২০ সালে এক ভুক্তভোগী গিলেইনকে ‘সাইকোপ্যাথ’ আখ্যা দেন। বিচার চলাকালে ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন। গিলেইন ২০২১ সালে শিশু যৌন পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।   সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইনের কাছে আসা-যাওয়া করা বিশ্বের নামি-দামি অনেক ব্যক্তির পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এসব নথি শুধুমাত্র অপরাধীকে নয়, পুরো ক্ষমতার নেটওয়ার্ক ও জনমতের উত্তেজনাকেও সামনে এনেছে।

নুরুল্লাহ সাইদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে সমঝোতা, ভারতীয় পণ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

তেহরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ও তার মা চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার

এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে এবার আলোচনায় মামদানির মা মীরা নায়ার

0 Comments