আমেরিকা

টলেডো শহরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস, একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৩:২২
ওহাইওতে চাকা ফেটে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দাদিসহ ৩ জনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
ওহাইওতে চাকা ফেটে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দাদিসহ ৩ জনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িতে থাকা পাঁচজন অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাঁদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার কিছু পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

টলেডোর ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, ফোর্ড এক্সপ্লোরার মডেলের গাড়িটির চাকা ফেটে যাওয়ার পর সেটি একটি পার্কিং লটে থামানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়। টলেডো শহরের মুখপাত্র র‍্যাচেল হার্ট জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে এক দাদি এবং তাঁর নাতি-নাতনিরা রয়েছেন। চাকা ফেটে যাওয়ার পর ওই নারীর ছেলে তাঁদের সাহায্য করতে এসে গাড়ির ভেতরে তাঁদের অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

টলেডোর মেয়র ওয়েড ক্যাপসুকেভিচ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতার সূত্র মেলেনি। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অপর ২ শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কীভাবে গাড়িটির ভেতরে এত বেশি মাত্রায় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে গেল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

 

তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়িটির দরজা বন্ধ করে স্টার্ট দেওয়ার পর ভেতরে থাকা গ্যাস পরিমাপক যন্ত্রে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ফায়ার চিফ আর্মস্ট্রং জানান, কয়েক বছর আগে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল যেখানে গাড়ির নিচের পাটাতনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস প্রবেশ করেছিল।

 

এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৭ মডেলের প্রায় ১৫ লাখ ফোর্ড এক্সপ্লোরার গাড়ির ভেতরের অংশে ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগে মার্কিন সরকারের একটি সংস্থা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তদন্ত চালিয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানায় যে, এসব এসইউভি-তে বিপজ্জনক মাত্রার কার্বন মনোক্সাইড পাওয়া যায়নি এবং গাড়িগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করার প্রয়োজন নেই।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
আইসিই-এর একদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩৮ জনকে I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
টেক্সাসে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, একদিনে গ্রেপ্তার ২৩৮ অবৈধ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের অধীনে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্যমতে, রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি অঞ্চলে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের নতুন রেকর্ড।   সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৮ জুনের এই বড় পরিসরের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক রাখার মতো গুরুতর অপরাধের সাজা খাটার পূর্ব-রেকর্ড রয়েছে। আইসিই-এর হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুডেলো এক বিবৃতিতে বলেন, "জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনাই আইসিই-এর চলমান লক্ষ্য। সমাজ থেকে একজন একজন করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করে আমেরিকান সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।"   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ম্যানুয়েল মোরালেস-জেরোনিমো নামে এক মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যাকে 'পায়সাস' গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আইসিই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারধর করে জখম করা, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।   এছাড়া এই অভিযানে জোসে আলফ্রেডো কাস্তিলো-মেন্ডোজা নামের আরও এক মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও আগে থেকে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের রেকর্ড রয়েছে।   এদিকে, আইসিই-এর 'ট্রাফিক স্টপ' বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। তল্লাশিকালে সাম্প্রতিক কিছু প্রাণঘাতী ঘটনার জেরে ওঠা সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এই ঘোষণার দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিএইচএস-এর ওই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইসিই-এর ট্রাফিক স্টপকে 'অপরাধ দমনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:১১
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার স্বয়ংক্রিয় সুযোগ হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টকে ছুরিকাঘাত; সহকর্মীর পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া-অ্যারিজোনা সীমান্তে বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তার উপর হামলা, গুলিতে হামলাকারী নিহত

ওহাইওতে চাকা ফেটে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দাদিসহ ৩ জনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
টলেডো শহরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস, একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িতে থাকা পাঁচজন অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাঁদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার কিছু পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।   টলেডোর ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, ফোর্ড এক্সপ্লোরার মডেলের গাড়িটির চাকা ফেটে যাওয়ার পর সেটি একটি পার্কিং লটে থামানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়। টলেডো শহরের মুখপাত্র র‍্যাচেল হার্ট জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে এক দাদি এবং তাঁর নাতি-নাতনিরা রয়েছেন। চাকা ফেটে যাওয়ার পর ওই নারীর ছেলে তাঁদের সাহায্য করতে এসে গাড়ির ভেতরে তাঁদের অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।   টলেডোর মেয়র ওয়েড ক্যাপসুকেভিচ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতার সূত্র মেলেনি। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অপর ২ শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কীভাবে গাড়িটির ভেতরে এত বেশি মাত্রায় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে গেল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।   তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়িটির দরজা বন্ধ করে স্টার্ট দেওয়ার পর ভেতরে থাকা গ্যাস পরিমাপক যন্ত্রে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ফায়ার চিফ আর্মস্ট্রং জানান, কয়েক বছর আগে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল যেখানে গাড়ির নিচের পাটাতনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস প্রবেশ করেছিল।   এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৭ মডেলের প্রায় ১৫ লাখ ফোর্ড এক্সপ্লোরার গাড়ির ভেতরের অংশে ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগে মার্কিন সরকারের একটি সংস্থা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তদন্ত চালিয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানায় যে, এসব এসইউভি-তে বিপজ্জনক মাত্রার কার্বন মনোক্সাইড পাওয়া যায়নি এবং গাড়িগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করার প্রয়োজন নেই।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৩:২২
ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন নীতিমালার প্রস্তাব করল মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মার্কিন ভিসা নীতি বদলাচ্ছে, থাকছে না অনির্দিষ্ট মেয়াদ

অবৈধ ভোট ও জালিয়াতিসহ ৫টি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার টেক্সাসের আরকোলা শহরের মেয়র ফ্রেড বার্টন। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ভোট ও চুক্তি অনিয়মের অভিযোগে শহরের মেয়রের বিরুদ্ধে ৫টি ফৌজদারি মামলা

গৃহহীন জীবন থেকে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান—প্রিন্স উইকস | ছবি: সংগৃহীত

হোমলেস থেকে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান: নিউইয়র্কে ১৯ বছরের তরুণের অবিশ্বাস্য সাফল্য

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ফিলিস্তিনপন্থী এই কর্মী মাহমুদ খলিল | ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কয়েকটি বেসরকারি সংগঠনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনপন্থী মত প্রকাশ দমন এবং আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের লক্ষ্যে সরকার ও কয়েকটি ইসরায়েলপন্থী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।   মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তাসহ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ক্যানারি মিশন এবং বেতার নামের সংগঠনগুলোর নেতৃত্বকে আসামি করা হয়েছে।   মাহমুদ খলিলের অভিযোগ, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ (ডক্সিং), ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশকারীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ছিল একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা।   মামলা দায়েরের পর এক বিবৃতিতে খলিল বলেন, যারা তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আতঙ্কিত করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার লড়াইয়ের এটি আরেকটি ধাপ। তাঁর ভাষায়, এই মামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা ছিল, তা প্রকাশ পাবে।   তিনি আরও বলেন, “আমি লড়াই থামাব না, যতক্ষণ না আমার সন্তানের জন্মের সময় পাশে থাকতে না পারার জন্য এবং আমার জীবনের ১০৪ দিন কেড়ে নেওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয়।”   খলিলের আইনজীবীরা মামলায় ১৮৭১ সালের ‘কু ক্লাক্স ক্ল্যান অ্যাক্ট’-এর উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বর্ণবাদী সহিংসতা ও সরকারি ষড়যন্ত্র ঠেকাতে প্রণীত এই আইনের আওতায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করে তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।   মাহমুদ খলিলের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছে সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস। সংস্থাটি এর আগেও ২০২৫ সালে তাঁর আটক ও বহিষ্কারের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে তাঁকে প্রতিনিধিত্ব করেছে।   অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের দাবি, মাহমুদ খলিল ছাত্র ভিসা পাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য গোপন করেছিলেন। তবে খলিল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সর্বশেষ দায়ের করা মামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও রাজনৈতিক নজির হয়ে উঠতে পারে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলা ভবিষ্যতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথও তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১০:৫
মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের গোপন সম্পর্কের দাবি জেডি ভ্যান্সের। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে যৌন অপরাধী এপস্টিনের সম্পর্ক ছিল: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

সরকারকে প্রতারণা করে সরকারি চাকরি নয়—ডেবোরাহ উইৎজবার্গ | ছবি: সংগৃহীত

করোনা ত্রাণ ঋণ জালিয়াতি: শিকাগোর ৩৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আরও ৮ জনকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

নিউ ইয়র্ক পুলিশে পদোন্নতি পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি, নেতৃত্বেও শক্ত অবস্থান

0 Comments