নিউইয়র্কে নওশীন-হিল্লোলের নতুন উদ্যোগ, কাচ্চি থেকে কফিতে জমজমাট ‘এন ক্যাফে ৩৬৫’
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা নওশীন ও নোভার নতুন উদ্যোগ ‘এন ক্যাফে ৩৬৫ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতোমধ্যে ক্যাফেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ।
লং আইল্যান্ডের ওয়ানটাঘ এলাকায় অবস্থিত নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতি, পরিবারবান্ধব পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মিলনস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ।
উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে ভিড় করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনরা উপস্থিত হয়ে নওশীন ও নোভাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নওশীন ও নোভা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ‘এন ক্যাফে ৩৬৫’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তাদের ভাষায়, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন, পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে মানসম্মত খাবার ও সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
ক্যাফেটিতে কফি, বিভিন্ন ধরনের পানীয়, স্ন্যাকস ও মূল খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। উদ্যোক্তারা জানান, খাবারের মান ও পরিবেশ—দুই দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোলও। অভিনয়ের পাশাপাশি খাদ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে হিল্লোল জানান, ২০১৭ সালে তার খাদ্যভ্রমণ ও খাবার নিয়ে কাজের শুরু। এরপর বিভিন্ন সময়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে গত বছর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাসার কাছেই একটি রেস্টুরেন্ট স্পেস পাওয়ার পর তার স্ত্রী নওশীন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল হন।
হিল্লোল লেখেন, শুরুতে এটি শুধু একটি ক্যাফে হিসেবে ভাবা হলেও ধীরে ধীরে সেটি পূর্ণাঙ্গ রেস্টুরেন্ট ও বারে রূপ নেয়। তিনি জানান, মাংসের সব আইটেমে হালাল উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ খাবারের রেসিপি নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আলু প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ল্যাম্ব শ্যাঙ্ক রান্না—সবকিছুই ইন-হাউজ পদ্ধতিতে করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে রাখা হয়েছে ঢাকার জনপ্রিয় খাবার কাচ্চিও। মজার ছলে তিনি লেখেন, এবার আমেরিকানদের কাচ্চি খাওয়া শেখানোর চেষ্টা করবেন তারা।
নিজের স্ট্যাটাসে হিল্লোল আরও উল্লেখ করেন, ‘এন ক্যাফে’ নামটি অনেকেই নওশীনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেও এর অর্থ আসলে ‘নিউইয়র্ক ক্যাফে’।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এটি লং আইল্যান্ডে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও খাবারকে আরও পরিচিত করে তুলবে বলেও আশা করছেন তারা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবিতে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও সমমনা সংগঠনের প্রবাসী সমর্থকেরা। প্রকাশিত ভিডিও ও কর্মসূচির বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) স্টার্লিং-বাংলাবাজার এলাকার আল-আকসা পার্টি হলে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ পরিবার, দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নাম রয়েছে। কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হয়। সমাবেশ ঘিরে প্রকাশিত পোস্টে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিওর বিবরণও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং সমাবেশে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে হাজির হওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাননি। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ফেরত আনতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।ব্রঙ্কসের সমাবেশে কতজন অংশ নিয়েছেন, তার নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি। সূত্র: সমাবেশের প্রকাশিত ভিডিও ও আয়োজকদের বিবরণ
নিউইয়র্কে মেডিকেইডে ৫ লাখ ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
নিউ জার্সিতে গাড়িবিমার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম আদায়, ১ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে গাইকো
টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী আজিজ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওসসেওলা কাউন্টির হারমনি হাইস্কুলের বাইরে এক কিশোরকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগে ৯ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৬ অক্টোবর দুপুরের খাবারের বিরতিতে ক্যাফেটেরিয়ায় ঘটা এক বুলিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় ১৭ বছর বয়সী ওই ছাত্রকে এই নির্মম হামলার শিকার হতে হয়। বুধবার স্কুলের কর্মীদের সহায়তায় অভিযুক্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার দিন দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় কয়েক জন বখাটে শিক্ষার্থী এক ছাত্রীকে লক্ষ্য করে গাজর ছুঁড়ছিল। ভুক্তভোগী কিশোর সেটি দেখে প্রতিবাদ করেন এবং তাদের থামতে বলেন। এ নিয়ে দুই অভিযুক্তের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ওই কিশোর ছাত্রীকে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া থেকে বেরিয়ে যান। তবে স্কুল ছুটির পর দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি যখন টানেলের পাশ দিয়ে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক অভিযুক্ত তার ওপর হামলা চালায়। এরপর আরও আটজন যোগ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। মারধরের একপর্যায়ে ওই কিশোরের মুখ থেকে রক্ত ঝরতে দেখে তার প্রেমিকা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তার মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তার মুখের ক্ষতে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন তার বোন। এদিকে, মোবাইল ফোনে ধারণ করা মারধরের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী কুইয়ানেল আন্তোনিও রেইস-সিনট্রন ও ব্রায়ান আলেকজান্ডার রামিরেজকে ওসসেওলা কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাতজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় (যাদের মধ্যে একজন ১৭, পাঁচজন ১৬ এবং একজন ১৪ বছর বয়সী) তাদের কিশোর সংশোধনাগারে (জুভেনাইল অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার) রাখা হয়েছে। সবার বিরুদ্ধেই গুরুতর মারধর ও দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওসসেওলা কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, তারা এই অপরাধীদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই বিচার করতে চায়। শেরিফ অফিসের মুখপাত্র কিম মন্টেস বলেন, "এটি কোনো সাধারণ মারামারি ছিল না; ৯ জন মিলে একজনের ওপর এই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। সৌভাগ্যবশত তার আঘাত আরও গুরুতর হয়নি।" তিনি অন্য এক শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য ওই কিশোরের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং হামলাকারীদের ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দেন। অন্যদিকে, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক শ্যানফ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে স্কুল বা সম্প্রদায়ের কোথাও এ ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। ওসসেওলা কাউন্টি শেরিফ ক্রিস ব্ল্যাকমনও শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে সহিংসতা চালালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ধনকুবেরদের ওপর ৫ শতাংশ করের প্রস্তাব, মেটার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জাকারবার্গের নতুন চাল
টেক্সাসে আইএসের হয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে হ ত্যার ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের কিশোর
ফুটবল খেলা দেখার মাঝে ‘বাধা’, স্ত্রীকে ৪৫ মিনিট চেয়ারে বেঁধে রাখার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় গরিব ও নিম্ন-আয়ের মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা ৪৬ লাখ ডলারের খাদ্য সহায়তা বা 'স্ন্যাপ' (SNAP) সুবিধা আত্মসাতের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া তারকা মার্সেডিজ রেশার্ড নিউকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনলাইনে 'শটি ড্রেড' নামে পরিচিত ৩৯ বছর বয়সী এই র্যাপার ও ইনফ্লুয়েন্সার দীর্ঘদিন ধরে অন্যের পরিচয় চুরি করে এই বিশাল জালিয়াতি চক্র চালিয়ে আসছিলেন। গত ৭ অক্টোবর ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করার পর, ১৩ অক্টোবর লাস ভেগাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যমতে, শটি ড্রেড ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত চুরি করা পরিচয়ের মাধ্যমে ৩৫০টির বেশি ভুয়া স্ন্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর নিজের কোম্পানি 'শটি ড্রেড এলএলসি'-কে একটি অনুমোদিত স্ন্যাপ রিটেইলার হিসেবে নিবন্ধন করে অন্তত ৪০ লাখ ডলার সরাসরি হাতিয়ে নেন। গরিবের মুখের খাবার চুরি করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ, দামি গাড়ি ও বান্ডিল বান্ডিল নগদ অর্থ দেখিয়ে নিজের বিলাসবহুল জীবনের অহংকার করতেন তিনি। এমনকি দরিদ্রদের ব্যঙ্গ করে অনলাইনে অবমাননাকর মন্তব্যও করতেন। জালিয়াতির এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মেইল ফ্রড, পরিচয় চুরি ও অবৈধ লেনদেনসহ ৬৩টি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত স্কুলবাসে ১৯ শিশু, চালক অসুস্থ! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নায়ক হলেন ২৭ বছরের যুবক!
৩ কোটি ডলারের সম্পদের তথ্য থেকে সংশোধিত হিসাবে ৯৫ হাজার ডলার, তদন্তের মুখে ইলহান ওমর