লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনের পর ভোট গণনা নিয়ে বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী জালিয়াতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন সাবেক শিশু অভিনেতা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোক্তা ব্রক পিয়ার্স।
সোমবার তিনি ‘কিউর দ্য ভোট’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেন। এর লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম, দুর্নীতি বা জালিয়াতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলোর স্বাধীন যাচাই নিশ্চিত করা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী কর্মকর্তা, সরকারি কর্মচারী, ঠিকাদার, প্রচারকর্মী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, তথ্য ফাঁসকারী ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্ভাব্য অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য জমা দিতে পারবেন।
উদ্যোগটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমা পড়া সব তথ্য স্বাধীন আইনজীবী, নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ এবং তদন্তকারীরা পর্যালোচনা করবেন। এরপর প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
আয়োজকদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। তারা বলছেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া নয়; বরং যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জনআস্থা বৃদ্ধি করা।
সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ক্যারেন ব্যাস প্রথম এবং নিত্যা রামান দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। শেষ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ভোট নিত্যা রামানের পক্ষে যাওয়ার পর ভোট গণনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই ‘কিউর দ্য ভোট’ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতীতের জনস্বার্থভিত্তিক পুরস্কার কর্মসূচির উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ম্যাগাজিন প্রকাশক ল্যারি ফ্লিন্ট ২০০৭ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের যৌন কেলেঙ্কারি ও ভণ্ডামির তথ্য উন্মোচনের জন্য ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।
পরে ২০১২ সালে কংগ্রেস সদস্যদের ব্যক্তিগত অনিয়মের তথ্য এবং ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় সহায়ক তথ্যের জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন তিনি।
উদ্যোগটির সমর্থকদের মতে, নির্বাচনী স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা ব্যক্তিরা সামনে আসতে উৎসাহিত হবেন।
ব্রক পিয়ার্স দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়। ২০২০ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। পরে সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সহায়তায় ভারমন্ট থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
জুলাই হলো 'পোস্টপার্টাম চেঞ্জেস অ্যাওয়ারনেস মান্থ' বা প্রসূতিকালীন পরিবর্তনের সচেতনতা মাস। সন্তান জন্মদানের পর অনেক নারী যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সময় এটি। এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মতে, সন্তান জন্মদানের পর প্রতি সাতজন নারীর মধ্যে প্রায় একজন প্রসূতিকালীন বিষণ্নতায় ভোগেন। নতুন মাতৃত্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে অনেক মা-ই নানা ধরনের আবেগীয় ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য সহায়তা ও চিকিৎসা সহজলভ্য। তিন সন্তানের জননী মেলিসা ফার্নান্দেজ এই চ্যালেঞ্জগুলোর অভিজ্ঞতা সরাসরি অর্জন করেছেন। তিনি জানান, মা হওয়ার পর তিনি প্রসূতিকালীন মানসিক দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ফার্নান্দেজ বলেন, "আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের পরিচয়ের পরিবর্তন। গর্ভবতী হওয়ার আগে আমি সিরক দু সোলেই-এর একজন উচ্চমানের অ্যাক্রোব্যাট ছিলাম। গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, স্তন্যপানের সমস্যা, ঘুম না হওয়া, চাকরি হারানো, নিজের পরিচয় হারানো এবং নিজের সমাজ বা বন্ধুসঙ্গ হারানোর মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে।" এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে 'আটলান্টা পোস্টপার্টাম ডুলা' নামের একটি সংস্থা শুরু করতে অনুপ্রাণিত করে, যা নারীদের মাতৃত্বের এই পরিবর্তন সহজে অতিক্রম করতে সাহায্য করে। ফার্নান্দেজ বলেন, "আমরা প্রায়ই দেখি যে সন্তান আসার পর বন্ধু ও স্বজনরা যখন বেড়াতে আসেন, তারা শিশুটিকে দেখতেই আসেন। কিন্তু মায়ের যত্ন কে নিচ্ছেন?" এই সংস্থার সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ সেবা হলো দিন ও রাতের বেলার প্রসূতিকালীন সহায়তাকারীর সেবা। যেখানে প্রশিক্ষিত সহায়তাকারীরা ঘরে এসে মায়ের পাশাপাশি নবজাতকের যত্ন নিতে সাহায্য করেন। এছাড়া নতুন মায়েদের প্রাথমিক চাপ কমাতে এই সংস্থাটি খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবাও দিয়ে থাকে। পরিবারগুলোর জন্য আরেকটি মাধ্যম হলো 'পিস ফর মমস', যা এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনভিত্তিক একটি প্রোগ্রাম। এই উদ্যোগটি জর্জিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রসূতি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে যুক্ত করে, যা মায়েদের সময়মতো মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বাল্ডউইন পার্ক এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ জন বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ৮টার দিকে বাল্ডউইন পার্কের ইস্ট রামোনা বুলেভার্ডের ১২৮০০ ব্লকের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে দ্বিতীয় স্তরের জরুরি সতর্কতা জারি করা হলেও দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরে তা তৃতীয় স্তরের অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়। দমকলকর্মীরা প্রথমে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরে তাদের প্রতিরক্ষামূলক কৌশল গ্রহণ করতে হয়, অর্থাৎ বাইরে থেকে পানি ছিটিয়ে আগুনের বিস্তার রোধে কাজ চালানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতর থেকে একজনকে উদ্ধার করেন। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আহতের সংখ্যা সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাসিন্দাদের অস্থায়ী আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবিক সংস্থাগুলো কাজ করছে। আগুনের কারণ এখনও জানা যায়নি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে সময়মতো বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং অতিরিক্ত দমকল ইউনিট মোতায়েন করাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সহায়তা করেছে।
বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর নিউইয়র্ক সিটির পার্ক, বনাঞ্চল, জলাভূমি ও অন্যান্য সবুজ এলাকাগুলো এখন একাধিক প্রজাতির বাদুড়ের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। নগরের কংক্রিটের পরিবেশের মধ্যেও এসব স্তন্যপায়ী প্রাণীর উপস্থিতি অনেক গবেষকের কাছেই অপ্রত্যাশিত বলে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন সবুজ এলাকায় বাদুড় নিয়মিত খাদ্য সংগ্রহ, চলাচল এবং কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য এসব স্থান ব্যবহার করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় কীটপতঙ্গের আধিক্য এবং গাছপালার উপস্থিতি তাদের টিকে থাকার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক সিটির বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শহরে অন্তত কয়েকটি দেশীয় বাদুড় প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে বড় বাদামী বাদুড়, পূর্বাঞ্চলীয় লাল বাদুড়, হোরি বাদুড় ও সিলভার-হেয়ার্ড বাদুড় উল্লেখযোগ্য। এরা মশাসহ বিভিন্ন উড়ন্ত পোকামাকড় খেয়ে নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নগরের সবুজ এলাকা শুধু মানুষের বিনোদনের জন্য নয়, বরং বন্যপ্রাণীর জন্যও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে। এমনকি পূর্বের গবেষণায় নিউইয়র্কের সবুজ ছাদ (Green Roof) এলাকায়ও প্রচলিত ছাদের তুলনায় বেশি বাদুড়ের কার্যকলাপ রেকর্ড করা হয়েছে, যা নগর পরিকল্পনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণের মধ্যেও পর্যাপ্ত গাছপালা, পার্ক ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা গেলে বাদুড়সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর টিকে থাকা সহজ হবে। একই সঙ্গে এসব প্রাণী প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।