নিউইয়র্কের বাফলোতে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার
নিউইয়র্ক বাফলোর ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফলো প্রতিদিন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্ট ও গ্যাং অ্যাসল্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাফলো পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে বাফলোর ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টের রোজ সুপার মার্কেটের পার্কিং লটে এ ঘটনা ঘটে। আহত আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দুই বন্ধুকে নিয়ে নায়াগ্রা ফলসে যাওয়ার জন্য ১০০ ডলারে একটি রাইডের ব্যবস্থা করেছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর রাইড নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষই পুলিশে ফোন করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। তার দাবি, এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, চশমা ভেঙে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাফলো প্রতিদিন-এর তথ্যমতে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন আব্দুল মান্নান তাজু ও জাহাঙ্গীর সম্রাট। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন ও মাসুক নামে আরও দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের ভূমিকা তদন্ত করছে।
আহত আরিফুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তিনি সম্প্রতি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন এবং একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। মারধরের ঘটনায় তিনি বুকে, মাথায়, হাতে ও কোমরে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে বিশ্রাম ও থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা জামিন পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে বাফলো প্রতিদিন জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ, দিদারুল ইসলামের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দিদারুল ইসলাম নিজের জীবনের বিনিময়ে অন্যদের রক্ষা করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন। মেয়র জোহরান মামদানি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, দিদারুল ইসলাম যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাঁর সাহস, মানবিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠাকে নিউইয়র্ক সিটির জন্য এক স্থায়ী অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে এক বন্দুকধারীর হামলায় দিদারুল ইসলাম নিহত হন। সে সময় তিনি ভবনটিতে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলায় তিনি ছাড়াও আরও তিনজন নিহত হন। পরে হামলাকারী ভবনের ভেতরেই আত্মহত্যা করে। ওই ঘটনার পর এনওয়াইপিডি দিদারুল ইসলামকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেয় এবং তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর একটি ‘মেডেল অব অনার’ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরে এনওয়াইপিডিতে যোগ দিয়ে ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন বিনয়ী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি মাসে ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় তাঁর বসবাসের এলাকার একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’। এছাড়া তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘দিদারুল ইসলাম পুলিশ রিক্রুটমেন্ট অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ জননিরাপত্তা খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের এনওয়াইপিডিতে যোগদানে উৎসাহিত করা এবং তাঁদের পূর্ববর্তী সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনা। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এই স্মরণানুষ্ঠান শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জননিরাপত্তায় নিবেদন এবং একজন অভিবাসীর সাহসিকতাকে নতুন করে সম্মান জানানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
৮৪ লাখ ডলার বেতনের স্বপ্নের শীর্ষ পদে বসার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় আকস্মিক মৃত্যু ব্রায়ান ম্যালয়ের
নিউইয়র্কের বাফলোতে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে যেসব ভুল এড়াতে বলছেন এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তা বা 'মেডিকেইড' সুবিধা গ্রহণকারী প্রবীণদের মৃত্যুর পর তাদের বসতবাড়ি বেহাত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০১২ সালে মারা যাওয়া ফিলোমেন বেনোইট নামের এক নারী প্রায় ৯ বছর ধরে মেডিকেইড সুবিধা নিয়েছিলেন, যার ফলে তার নামে ৪ লাখ ১৫ হাজার ডলারের বেশি সরকারি ব্যয়ের বিল জমেছিল। ২০১৯ সালে তার স্বামী ক্লারভক্সের মৃত্যুর পর নিউজার্সি কর্তৃপক্ষ তাদের বসতবাড়ির ওপর আইনি অধিকার (লিয়েন) দাবি করে বসে। পরে বাড়িটি ৩ লাখ ২ হাজার ডলারে বিক্রি হলেও দেখা যায়, মেডিকেইডের পাওনা অর্থের পরিমাণ বাড়িটির বিক্রয়মূল্যের চেয়েও এক লাখ ডলারেরও বেশি! মূলত যুক্তরাষ্ট্রের 'মেডিকেইড এস্টেট রিকভারি' নীতির কারণেই দেশটিতে এমন সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা নার্সিং হোমের ব্যয় অত্যন্ত চড়া; একটি সাধারণ রুমের বাৎসরিক খরচ ১ লাখ ১৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ পরিবারগুলো যখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তখন মেডিকেইড তাদের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তিটি তৈরি হয় আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়ে। মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সময় আবেদনকারীর নিজের ব্যবহৃত বসতবাড়িটিকে সম্পদের হিসাবে ধরা হয় না। ফলে পরিবারগুলো স্বস্তিতে থাকে এই ভেবে যে তাদের বাড়িটি হয়তো নিরাপদ। কিন্তু ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো সুবিধাভোগীর মৃত্যুর পর রাজ্য সরকারগুলোকে বাধ্য করা হয় ওই ব্যক্তির পেছনে ব্যয় হওয়া দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিতে। বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানেরা উত্তরাধিকার সূত্রে বাড়িটি পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর নিজেদের পকেট থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণ বিল বা প্রপার্টি ট্যাক্স পরিশোধ করেন। কিন্তু মৃত্যুর পর যখন 'এস্টেট রিকভারি' বা সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নিয়মটি কার্যকর হয়, তখন তাদের চরম স্বপ্নভঙ্গ হয়। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক আমান্ডা স্পিশাক-থমাসের মতে, এই রিকভারি নীতির কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের সঞ্চিত সম্পদের মূল অংশই হলো এই বসতবাড়ি। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সামান্য অর্থও তাদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে, যা এই আইনি বেড়াজালে আটকে ব্যাহত হচ্ছে। তবে মেডিকেইডের এই অর্থ আদায়ের নিয়ম একেক রাজ্যে একেক রকম হতে পারে। পিটসবার্গ এলাকার প্রবীণ-আইনজীবী টিম সেচলার জানান, কিছু রাজ্য কেবল 'প্রোবেট' বা সাধারণ আইনি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় থাকা সম্পদ থেকে তাদের খরচ আদায় করে। কিন্তু নিউজার্সির মতো বেশ কিছু রাজ্য এস্টেট বা সম্পদের অনেক বিস্তৃত সংজ্ঞা ব্যবহার করে, যার ফলে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তিতেও তারা আইনি ভাগ বসাতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কয়েক বছর পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে তাদের সাধের বাড়িটি আর তাদের নেই। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আকস্মিক সংকটের আগেই সঠিক আইনি পরিকল্পনা ও পরামর্শ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যে ভিসায় ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হাজারো ভারতীয়, সেই এইচ-১বি বন্ধের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নবীন চিকিৎসক
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান, জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বেলারুশীয় ডেন্টিস্ট প্রেমিকাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে রাখার জন্য এক অভিনব ও প্রতারণামূলক পথ বেছে নিয়েছিলেন প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিন। স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রেমিকাকে নির্বাসন (ডিপোর্টেশন) থেকে বাঁচাতে তিনি এক ভুয়া সমকামী বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) কর্তৃক প্রকাশিত বেশ কিছু গোপন ইমেইল এবং 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, এপস্টিনের ওই প্রেমিকার নাম কারিনা শুলিয়াক (৩৭)। ২০১০ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে ২০১২ সালে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ডেন্টিস্ট্রিতে ভর্তির আবেদন করার সময় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে শুলিয়াককে পাঠানো এক ইমেইলে এপস্টিন লেখেন, "আমার মনে হয় এখন তোমার একজন আমেরিকান প্রেমিকা খুঁজে নেওয়ার সময় এসেছে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম উপায় হবে সমকামী বিয়ে।" এরপর এপস্টিন নিজেই তার এক ৩০ বছর বয়সী নারী সহকারীকে শুলিয়াকের সাথে বিয়ের জন্য নির্বাচন করেন। নিউ ইয়র্কে সমকামী বিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ নিয়ে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর সিটি ক্লার্ক অফিসে আইনগতভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর শুলিয়াকের গ্রিন কার্ডের আবেদন সফলভাবে প্রক্রিয়াধীন হয় এবং ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। এর ঠিক পরের বছরই ওই নারী সহকারীর সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। 'হাউস কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এপস্টিন মূলত তার ওই সহকারীকে এই বিয়েতে বাধ্য করেছিলেন। বিয়ের পর ওই সহকারী যখন জানতে পারেন যে মাত্র কয়েকদিন পরই শুলিয়াকের ডিপোর্টেশন শুনানি হতে যাচ্ছে, তখন তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কমিটি এই বিয়েকে নিছক 'প্রতারণামূলক' বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, কেবল শুলিয়াককে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি বৈধতা দিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কমিটি তার নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো সুপারিশ করেনি। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করা শুলিয়াক ছিলেন এপস্টিনের জীবনের শেষ প্রেমিকা। ২০১৯ সালে জেলের ভেতর আত্মহত্যার মাত্র দু'দিন আগে সই করা উইলে এপস্টিন তার এই প্রেমিকাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার, ৩২ ক্যারেটের একটি আংটি এবং প্যারিস ও পাম বিচসহ নিজের বিতর্কিত ‘পেডো আইল্যান্ড’ ও নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চ লিখে দিয়েছিলেন। ২৮৮ মিলিয়ন ডলারের সেই উইলে শুলিয়াক ছাড়াও গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং এপস্টিনের ভাই মার্কের নাম ছিল। উল্লেখ্য, শুলিয়াকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি, এমনকি তাকে এপস্টিনের ভুক্তভোগী হিসেবেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। শুলিয়াকের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, ম্যানহাটনের জেলে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের আগের দিনও এপস্টিন শুলিয়াকের সাথে কথা বলেছিলেন। ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন যে তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল যৌন অপরাধের অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হতে সময় লাগবে এবং তিনি শুলিয়াককে মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের অফিস নিয়ে যখন বিতর্ক, তখন চার দিনের ক্লাসে মিলছে ইতিবাচক ফল
যুক্তরাষ্ট্রে শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত