যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইড নিয়মের ফাঁদে পড়ে বেহাত হতে পারে পৈতৃক বসতবাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তা বা 'মেডিকেইড' সুবিধা গ্রহণকারী প্রবীণদের মৃত্যুর পর তাদের বসতবাড়ি বেহাত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০১২ সালে মারা যাওয়া ফিলোমেন বেনোইট নামের এক নারী প্রায় ৯ বছর ধরে মেডিকেইড সুবিধা নিয়েছিলেন, যার ফলে তার নামে ৪ লাখ ১৫ হাজার ডলারের বেশি সরকারি ব্যয়ের বিল জমেছিল।
২০১৯ সালে তার স্বামী ক্লারভক্সের মৃত্যুর পর নিউজার্সি কর্তৃপক্ষ তাদের বসতবাড়ির ওপর আইনি অধিকার (লিয়েন) দাবি করে বসে। পরে বাড়িটি ৩ লাখ ২ হাজার ডলারে বিক্রি হলেও দেখা যায়, মেডিকেইডের পাওনা অর্থের পরিমাণ বাড়িটির বিক্রয়মূল্যের চেয়েও এক লাখ ডলারেরও বেশি! মূলত যুক্তরাষ্ট্রের 'মেডিকেইড এস্টেট রিকভারি' নীতির কারণেই দেশটিতে এমন সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা নার্সিং হোমের ব্যয় অত্যন্ত চড়া; একটি সাধারণ রুমের বাৎসরিক খরচ ১ লাখ ১৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ পরিবারগুলো যখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তখন মেডিকেইড তাদের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তিটি তৈরি হয় আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়ে।
মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সময় আবেদনকারীর নিজের ব্যবহৃত বসতবাড়িটিকে সম্পদের হিসাবে ধরা হয় না। ফলে পরিবারগুলো স্বস্তিতে থাকে এই ভেবে যে তাদের বাড়িটি হয়তো নিরাপদ। কিন্তু ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো সুবিধাভোগীর মৃত্যুর পর রাজ্য সরকারগুলোকে বাধ্য করা হয় ওই ব্যক্তির পেছনে ব্যয় হওয়া দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিতে।
বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানেরা উত্তরাধিকার সূত্রে বাড়িটি পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর নিজেদের পকেট থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণ বিল বা প্রপার্টি ট্যাক্স পরিশোধ করেন। কিন্তু মৃত্যুর পর যখন 'এস্টেট রিকভারি' বা সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নিয়মটি কার্যকর হয়, তখন তাদের চরম স্বপ্নভঙ্গ হয়।
রাটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক আমান্ডা স্পিশাক-থমাসের মতে, এই রিকভারি নীতির কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের সঞ্চিত সম্পদের মূল অংশই হলো এই বসতবাড়ি। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সামান্য অর্থও তাদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে, যা এই আইনি বেড়াজালে আটকে ব্যাহত হচ্ছে।
তবে মেডিকেইডের এই অর্থ আদায়ের নিয়ম একেক রাজ্যে একেক রকম হতে পারে। পিটসবার্গ এলাকার প্রবীণ-আইনজীবী টিম সেচলার জানান, কিছু রাজ্য কেবল 'প্রোবেট' বা সাধারণ আইনি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় থাকা সম্পদ থেকে তাদের খরচ আদায় করে। কিন্তু নিউজার্সির মতো বেশ কিছু রাজ্য এস্টেট বা সম্পদের অনেক বিস্তৃত সংজ্ঞা ব্যবহার করে, যার ফলে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তিতেও তারা আইনি ভাগ বসাতে পারে।
ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কয়েক বছর পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে তাদের সাধের বাড়িটি আর তাদের নেই। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আকস্মিক সংকটের আগেই সঠিক আইনি পরিকল্পনা ও পরামর্শ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অথচ একই সময়ে শহরটির বাড়িভাড়া পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা মামদানির জন্য এই পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে ভাড়ার ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও নগরীর ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। বুধবার প্রকাশিত সিয়েনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্ক নগরীর ৬৯ শতাংশ ভোটার মামদানিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। গত মাসের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৯ শতাংশ পয়েন্ট। সেপ্টেম্বরে নগরীর ৬০ শতাংশ ভোটার তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, তাঁকে নেতিবাচকভাবে দেখেন এমন ভোটারের হার আগের ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২৮ শতাংশে নেমেছে। এই জরিপের সময়েই নগরীর ভাড়াবাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্কে বাড়ি ভাড়ার মধ্যম চাহিদামূল্য মাসে ৩ হাজার ৭৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগের তুলনায় তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১৬২ ডলার বেশি। কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে ভাড়ার তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যে অবশ্য মামদানির জনপ্রিয়তায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। সেখানে তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে ৪৭ শতাংশ ভোটারের, আর নেতিবাচক মনোভাব ৪৩ শতাংশের। সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ, অঙ্গরাজ্যজুড়ে তাঁর অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও নগরীর ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বেড়েছে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে মামদানি এখনো বিশেষভাবে জনপ্রিয়। জরিপে দেখা গেছে, এই দলের ৭৫ শতাংশ ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। বিপরীতে, ১৬ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। জরিপটি ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য ৮০৭ জন ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপের ফলাফল নগরীর ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও ভাড়াবাজারের সংকট নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ চিত্র এটি তুলে ধরে না। নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতির পেছনে ছোট আকারের অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শূন্য থেকে দুটি শয়নকক্ষবিশিষ্ট বাসার মধ্যম চাহিদামূল্য এক বছরে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৬২ ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে এই শ্রেণির বাসার ভাড়া বেড়েছে ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, তিন বা তার বেশি শয়নকক্ষবিশিষ্ট বাসার মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৯ ডলারে, যা এক বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই শু বলেন, নিউইয়র্কে ভাড়া বাড়ছে প্রায় সব ধরনের বাসার ক্ষেত্রেই। তবে তুলনামূলক ছোট বাসার ভাড়া দ্রুত বাড়ছে। সাশ্রয়ী বাসা খুঁজছেন এমন ভাড়াটেদের সীমিতসংখ্যক বিকল্পের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। নগরীর চারটি বরোতেই ভাড়া বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি ম্যানহাটনে। সেখানে মধ্যম চাহিদামূল্য ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে মাসে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রুকলিনে ভাড়া বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, মাসিক মধ্যম মূল্য ৪ হাজার ১৯৭ ডলার। কুইন্সে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ভাড়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৪৪ ডলার। ব্রঙ্কসে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পর মধ্যম ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৩৩ ডলারে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের তথ্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি বাড়ি কেনার খরচও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্ক নগরীতে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার। একই সময়ে ভাড়ার মধ্যম মূল্য ছিল ৩ হাজার ৭৮৫ ডলার। অর্থাৎ, বাড়ি কেনার মাসিক খরচ ভাড়া দেওয়ার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৯৫২ ডলার বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে থাকায় ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে। 【turn893742search0】 আয়ের সঙ্গে ভাড়ার এই ব্যবধানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে নিউইয়র্ক নগরীর বেসরকারি খাতের কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু ছোট ও মাঝারি আকারের বাসার ভাড়া বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে অনেক ভাড়াটের আয় বৃদ্ধির তুলনায় আবাসন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। সাধারণভাবে আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ আবাসন ব্যয়ে খরচ করার নীতিকে সাশ্রয়ী আবাসনের একটি প্রচলিত মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসাবে ম্যানহাটনের মধ্যম ভাড়ার বাসায় থাকতে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ৬ হাজার ৪০৩ ডলার। অর্থাৎ, সেখানকার একটি সাধারণ ভাড়ার বাসার খরচ বহন করতেও অনেক পরিবারের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যেতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় মামদানি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ভাড়া স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। নগরীর প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। জুনে নগরীর ভাড়া নির্দেশিকা বোর্ড ভাড়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। এর মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়িত হয়। এ ছাড়া তাঁর ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন পরিকল্পনায় আগামী ১০ বছরে ২ লাখ সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ বাড়ি সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় পাঁচ বছরে আবাসন খাতে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ১ অক্টোবর মামদানি আরও ঘোষণা করেন, নগরীর যেসব এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম সাশ্রয়ী আবাসন তৈরি হয়েছে, এমন ১২টি এলাকায় ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাস্ট-ট্র্যাক’ কর্মসূচি চালু করা হবে। ভোটারদের অনুমোদিত এই উদ্যোগ আগামী জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়ার কথা। গত পাঁচ বছরে ওই এলাকাগুলো নগরীর মোট নতুন সাশ্রয়ী বাড়ির মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ তৈরি করেছে। প্রতিটি এলাকায় বছরে গড়ে মাত্র ১২টি সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মিত হয়েছে। মামদানির সামনে এখন বড় পরীক্ষা হলো, বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দেওয়া। সাম্প্রতিক জরিপে নগরীর ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেলেও রেকর্ড ভাড়া প্রমাণ করছে, সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট এখনো গভীর। জনপ্রিয়তা ধরে রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আবাসন ব্যয় কমাতে তাঁর প্রশাসন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, সেটিই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
খুলনার সন্তান শেখ আল আমিনের মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি
নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার
সাইবার হামলায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার জন্য তৃতীয় সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে পেনসিলভানিয়া। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের নতুন গবেষণায় দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এই অবস্থানে রয়েছে অঙ্গরাজ্যটি। চাকরির বাজারের অবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, আয় এবং কর্মক্ষেত্রের চাপসহ ৩০টিরও বেশি সূচক বিবেচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৯ জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ থাকলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে পিছিয়ে পড়েছে পেনসিলভানিয়া। ওয়ালেটহাবের তালিকায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া। এরপর রয়েছে ওরেগন, আর তৃতীয় অবস্থানে পেনসিলভানিয়া। ফ্লোরিডা চতুর্থ এবং লুইজিয়ানা পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, চাকরি খোঁজার জন্য সেরা অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে নেব্রাস্কা। দ্বিতীয় স্থানে নর্থ ডাকোটা এবং তৃতীয় স্থানে মিনেসোটা। এসব অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলক কম বেকারত্ব, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ এবং চাকরির বিভিন্ন সুবিধা তালিকায় ভালো অবস্থান পেতে ভূমিকা রেখেছে। পেনসিলভানিয়ার অবস্থান নিচের দিকে থাকার পেছনে অঙ্গরাজ্যটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ওয়ালেটহাব। গবেষণায় পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়, নতুন চাকরিতে গড় প্রারম্ভিক বেতন এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়ের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে পেনসিলভানিয়ার মধ্যম আয় কখনো জাতীয় গড়ের নিচে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ওপরে রয়েছে। ফলে শুধু একটি আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। তবে বেকারত্বের হারের ক্ষেত্রে পেনসিলভানিয়া জাতীয় গড়ের কাছাকাছি রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ফক্স ২৯ জানিয়েছে। অর্থাৎ, অঙ্গরাজ্যটির নিচের দিকের অবস্থান কেবল বেকার মানুষের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। চাকরির সুযোগ কতটা সহজলভ্য, নতুন কর্মসংস্থান কত দ্রুত বাড়ছে, বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কেমন এবং কর্মীদের যাতায়াতে কত সময় ব্যয় হয়, এসব বিষয়ও সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে। এ বছরের শুরুতে পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরকে চাকরি খোঁজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভালো শহর হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল ওয়ালেটহাব। শহরটিতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক ভালো হলেও পুরো অঙ্গরাজ্যের অবস্থান তাতে খুব বেশি বদলায়নি। কারণ, একটি শহরের চাকরির বাজারের সঙ্গে পুরো অঙ্গরাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক নয়। শহরভেদে চাকরির ধরন, বেতন, যাতায়াতের সুবিধা এবং নিয়োগের চাহিদায় পার্থক্য থাকতে পারে। ওয়ালেটহাবের এই তালিকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলনা করার একটি উপায়। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনার সরাসরি পরিমাপ নয়। কারও দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কোন খাতে কাজ খুঁজছেন, তার ওপর বাস্তবে চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে। তথ্যসূত্র: ফক্স ২৯ ফিলাডেলফিয়া, ওয়ালেটহাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-৫ ভিসার আবেদন ফি বাড়ছে ৩০ নভেম্বর থেকে, বিনিয়োগকারীদের খরচ বাড়বে
স্ত্রীকে হত্যার পর বিদেশে জীবিত থাকার নাটক সাজানোর অভিযোগ, ফ্লোরিডায় স্বামী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল ব্যবসায় মাসে ১০ হাজার ডলার আয়, সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে যে তিন বই
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইউটিউব তারকা আইশোস্পিডকে খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জিতেছেন এক তরুণ। ২৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সূত্র ও স্থানাঙ্ক মিলিয়ে তাঁর গোপন অবস্থান খুঁজে বের করতে হয়। বিজয়ী হিসেবে ‘বেন’ নামের এক তরুণের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, ফলে অনলাইনেও বহু দর্শক পুরো অভিযান অনুসরণ করতে পেরেছেন। আইশোস্পিডের আসল নাম ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র। ২১ বছর বয়সী এই মার্কিন অনলাইন তারকা ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার, ভিডিও গেম, ফুটবল নিয়ে উচ্ছ্বাস এবং নানা ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভিডিওর জন্য পরিচিত। তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে এমন আয়োজনও তাঁর অনলাইন কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। প্রতিযোগিতাটি ছিল ড. স্কোয়াচ নামের ব্যক্তিগত পরিচর্যাসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইশোস্পিডের নয় সপ্তাহব্যাপী ‘স্পিডরান: মিলিয়ন ডলার মিশন’ প্রচারণার সমাপনী পর্ব। আগস্টের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় মোট ২৫টি চ্যালেঞ্জ রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের সূত্র অনুসরণ, নির্দিষ্ট বস্তু খোঁজা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ ছিল। পুরো প্রচারণায় মোট ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার তহবিল রাখা হয়েছিল। নিউ ইয়র্কের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় আইশোস্পিডের অবস্থান শনাক্ত করতে আয়োজকেরা ধাপে ধাপে গোপন জিপিএস স্থানাঙ্কের সংখ্যা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ড. স্কোয়াচের চরিত্রের পোশাক পরা কয়েকজন কর্মীকে রাখা হয়েছিল, যাঁদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত সূত্র পাওয়া যেত। অংশগ্রহণকারীদের এসব তথ্য একত্র করে তাঁর অবস্থান নির্ণয় করতে হয়। যে ব্যক্তি বা দল সবার আগে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারবে, তার জন্যই বরাদ্দ ছিল আড়াই লাখ ডলারের মূল পুরস্কার। প্রতিযোগিতার পর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন নামের বিজয়ী একজন নার্সিং শিক্ষার্থী। তিনি আইশোস্পিডের অবস্থান খুঁজে বের করে পুরস্কার জেতেন। তবে তাঁর পূর্ণ নাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়ার মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আইশোস্পিড ও ড. স্কোয়াচ প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে লুকানো পুরস্কার খোঁজা, সূত্র সমাধান এবং অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। নিউ ইয়র্কের অভিযানটি সেই প্রচারণার শেষ বড় আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যসূত্র: সিক্রেট এনওয়াইসি, কমপ্লেক্স ও হাইপফ্রেশ।
নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনতে সরকারি সহায়তা, যা বললেন রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা