সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে যেসব ভুল এড়াতে বলছেন এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৬:৫২
এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের জন্য জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সঠিক পরামর্শের অভাবে অনেক ক্রেতাই এমন কিছু ভুল করেন, যা মর্টগেজ অনুমোদন থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতা পর্যন্ত নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও, মর্টগেজ লোন কর্মকর্তা এবং আটলান্টার কমিউনিটি নেতা মাহবুবুর ভূঁইয়া মনে করেন, এসব ভুলের বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব, যদি শুরু থেকেই সঠিক পরিকল্পনা ও পেশাদার পরামর্শ নেওয়া হয়।

 

ভিডিওতে দেখুনঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে যেসব ভুল এড়াতে বলছেন মাহবুবুর ভূঁইয়া

 

মাহবুবুর ভূঁইয়া বলেন, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব কিংবা আত্মীয়স্বজনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তার ভাষায়, অনেকেই এমন ব্যক্তির পরামর্শ অনুসরণ করেন, যিনি হয়তো কয়েক বছর আগে বাড়ি কিনেছেন। কিন্তু সেই সময়ের মর্টগেজ নীতিমালা, সুদের হার এবং আবাসন বাজারের বাস্তবতা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

 

তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ লোন অফিসার বা মর্টগেজ কনসালট্যান্টের সঙ্গে শুরুতেই পরামর্শ করলে একজন ক্রেতা তার আর্থিক অবস্থা, ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। এতে পরবর্তী সময়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

 

নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক করেছেন মাহবুবুর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু মর্টগেজ প্রক্রিয়ায় অর্থের উৎস যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে আগে থেকেই লোন অফিসারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয় এবং অপ্রত্যাশিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

 

বাড়ি কেনার সময় দরকষাকষি বা নেগোশিয়েশনের ক্ষেত্রেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, অনেক ক্রেতা পছন্দের বাড়ি দেখে বাজেটের সীমা ভুলে যান এবং সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের মাসিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা।

 

মাহবুবুর ভূঁইয়া বলেন, একজন ক্রেতাকে আগে থেকেই হিসাব করতে হবে তিনি প্রতি মাসে কত ডলার মর্টগেজ পরিশোধ করতে পারবেন। শুধুমাত্র পছন্দের বাড়ি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নেওয়া ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে যদি মাসিক কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে যায়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, বাড়ি কেনা শুধু একটি সম্পত্তি কেনা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা। তাই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে অভিজ্ঞ লোন অফিসার, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পরামর্শ নিয়ে এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সুদের হার, ঋণের শর্ত এবং নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতার চেয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন হোমবায়ারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টেক্সাসে প্রচণ্ড খিঁচুনিতে মায়ের জীবন সংকটে, ৩ বছরের এমির সাহস আর বুদ্ধিতে রক্ষা পেল মায়ের প্রাণ
টেক্সাসে প্রচণ্ড খিঁচুনিতে মায়ের জীবন সংকটে, ৩ বছরের এমির সাহস আর বুদ্ধিতে রক্ষা পেল মায়ের প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বিস্ময়কর সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিজের অসুস্থ মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে তিন বছর বয়সী শিশু নোয়েমি ‘এমি’ ভাতভুক। বাড়িতে কেবল মা আর মেয়ে থাকার সময় মা এইডান উইলকি হঠাৎ ভয়াবহ খিঁচুনিতে (গ্র্যান্ড মাল সিজার) আক্রান্ত হন।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ছোট্ট এমি তাৎক্ষণিকভাবে ৭০০ মাইল দূরে জর্জিয়ায় থাকা তার দাদা-দাদিকে ফেসটাইমে ভিডিও কল করে। তারাই দ্রুত জরুরি সহায়তা নম্বর নাইন-ওয়ান-ওয়ানে (911) কল করে বিস্তারিত জানান এবং প্যারামেডিকদের ঘটনাস্থলে পাঠান।   উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এমি ফোনে দাদা-দাদির সাথে যুক্ত ছিল এবং তাদের নির্দেশনায় সে একটি চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে মূল দরজার লক খুলে দেয়। মা এইডান উইলকি সেই ভয়ংকর মুহূর্তের কথা স্মরণ করে জানান, তার কেবল এতটুকুই মনে আছে যে এমি তার চুলে হাত বুলিয়ে বলছিল, "মা, সব ঠিক হয়ে যাবে।"   এমির দাদা-দাদি আগেই তাকে এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে শিখিয়ে প্রস্তুত করেছিলেন, যার ফলস্বরূপ সে এত সাহসিকতার সাথে পুরো বিষয়টি সামলাতে পেরেছে।   জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউটি হেলথ ইস্ট টেক্সাসের প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এমির এমন বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হন। প্যারামেডিক টিম স্পারজন এমির এই কাজকে অত্যন্ত সাহসী বলে আখ্যায়িত করেন।   ছোট্ট এই নায়িকাকে সম্মাননা জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে একটি প্রশংসাপত্র, একটি টেডি বিয়ার এবং একটি স্টেথোস্কোপ উপহার দেওয়া হয়। আবেগাপ্লুত মা এইডান উইলকি তার মেয়েকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় হিরো হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি চাপে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি চাপে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাজেট আইন কার্যকর হওয়ার পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

ফুড স্ট্যাম্প হারিয়েছেন ৫০ লাখ, নতুন নিয়মে সামনে আরও বড় কাটছাঁটের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের মধ্যে ক্যারিয়ারে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে

পাচারের অভিযোগ করার ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ | ছবি: সংগৃহীত
মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময়, গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন, নারী গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময় এক বাবাকে তার নিজের মেয়েকে পাচারের অভিযোগ করার ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৬ সেপ্টেম্বর আলমাডেন এলাকার ৬৪০০ ব্লক অ্যাসপেন ক্রিকে ওই নারী গাড়ি নিয়ে বাবা ও মেয়েটির কাছে একাধিকবার গিয়ে তাদের উদ্দেশে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী বাবা ও মেয়ের মধ্যে গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিওতে তাকে ওই বাবাকে মেয়েটিকে কেনাবেচা বা পাচার করার অভিযোগ করতে শোনা যায়। বাবা নিজেকে বাদামি গায়ের রঙের মানুষ এবং মেয়েকে অর্ধেক শ্বেতাঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নারীটি আরও দাবি করেন, তিনি ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। তবে পুলিশের তদন্তে ওই বাবার বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   ঘটনার ভিডিওটি ওই বাবা নিজেই ধারণ করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে থাকা নারীটি একাধিকবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। তিনি মেয়েটির চেহারা ও বাবার গায়ের রঙের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ওই বাবা পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। সান জোসে পুলিশ ঘটনাটিকে শুরু থেকেই সম্ভাব্য হেট মোটিভেটেড বা বিদ্বেষপ্রসূত ঘটনা হিসেবে তদন্ত করে।   তদন্তের সময় পুলিশ অটোমেটেড লাইসেন্স প্লেট রিডার বা এএলপিআর ক্যামেরার সহায়তায় ওই গাড়ি ও সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একই নারী সান জোসে এলাকায় আরও কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সান জোসের একটি হাইস্কুলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনার পর সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসল্টস ইউনিটের গোয়েন্দারা সমন্বিত তদন্ত শুরু করেন।   এদিকে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে। সান জোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, একজন ব্যক্তি স্কুল কমিউনিটির সদস্যদের হয়রানি করছেন, ভিডিও ও ছবি ধারণ করছেন এবং সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন—এমন অভিযোগ তারা পেয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পুলিশে রিপোর্ট করে এবং সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কাজ শুরু করে।   তদন্ত শেষে পুলিশ সান জোসেতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেইন জেলে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে স্টকিং, হেট ক্রাইমসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশও ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত আইনি অবস্থান বা পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি।   সান জোসে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাদের তদন্ত সক্রিয় ও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে অ্যাসল্টস ইউনিটের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ আলাদাভাবে ঘটনাগুলোর তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১১:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসপ্তাহের নির্ধারিত সময় ৪০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর নতুন প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত

কাজ কমবে, বেতন নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভিন্নমুখী বিতর্ক

যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে

যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে

প্রায় ৩০ জন কানসাসের বন্দি স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া মেটাতে দিয়েছেন ৩,৮১০ ডলার

নিজেদের শৈশবের ক্ষুধার কথা মনে করে শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া মেটালেন বন্দিরা

নিউ জার্সিতে আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিওজে
আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা

নিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো। রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি। তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল। ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১০:৪৩
বিশেষ সিরিয়াল নম্বরের মার্কিন ডলারের নোট অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ডলারের নোটে এই সিরিয়াল থাকলে দাম উঠতে পারে ১৯ হাজার ডলার পর্যন্ত

সেন্ট পিটার্সবার্গের গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় এক নারীকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪১ বছর বয়সী এলেনর ক্রফোর্ড

তেল নেওয়ার সময় টাকা না দেওয়ায় লাইটার দিয়ে নারীকে আ হ ত, গ্রেপ্তার আরেক নারী

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা বাড়তে পারে ২০২৭ সালে, জেনে নিন হিসাব

0 Comments