আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে যেসব ভুল এড়াতে বলছেন এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৬:৫২
এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের জন্য জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সঠিক পরামর্শের অভাবে অনেক ক্রেতাই এমন কিছু ভুল করেন, যা মর্টগেজ অনুমোদন থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতা পর্যন্ত নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও, মর্টগেজ লোন কর্মকর্তা এবং আটলান্টার কমিউনিটি নেতা মাহবুবুর ভূঁইয়া মনে করেন, এসব ভুলের বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব, যদি শুরু থেকেই সঠিক পরিকল্পনা ও পেশাদার পরামর্শ নেওয়া হয়।

 

ভিডিওতে দেখুনঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে যেসব ভুল এড়াতে বলছেন মাহবুবুর ভূঁইয়া

 

মাহবুবুর ভূঁইয়া বলেন, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব কিংবা আত্মীয়স্বজনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তার ভাষায়, অনেকেই এমন ব্যক্তির পরামর্শ অনুসরণ করেন, যিনি হয়তো কয়েক বছর আগে বাড়ি কিনেছেন। কিন্তু সেই সময়ের মর্টগেজ নীতিমালা, সুদের হার এবং আবাসন বাজারের বাস্তবতা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

 

তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ লোন অফিসার বা মর্টগেজ কনসালট্যান্টের সঙ্গে শুরুতেই পরামর্শ করলে একজন ক্রেতা তার আর্থিক অবস্থা, ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। এতে পরবর্তী সময়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

 

নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক করেছেন মাহবুবুর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু মর্টগেজ প্রক্রিয়ায় অর্থের উৎস যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে আগে থেকেই লোন অফিসারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয় এবং অপ্রত্যাশিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

 

বাড়ি কেনার সময় দরকষাকষি বা নেগোশিয়েশনের ক্ষেত্রেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, অনেক ক্রেতা পছন্দের বাড়ি দেখে বাজেটের সীমা ভুলে যান এবং সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের মাসিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা।

 

মাহবুবুর ভূঁইয়া বলেন, একজন ক্রেতাকে আগে থেকেই হিসাব করতে হবে তিনি প্রতি মাসে কত ডলার মর্টগেজ পরিশোধ করতে পারবেন। শুধুমাত্র পছন্দের বাড়ি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নেওয়া ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে যদি মাসিক কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে যায়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, বাড়ি কেনা শুধু একটি সম্পত্তি কেনা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা। তাই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে অভিজ্ঞ লোন অফিসার, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পরামর্শ নিয়ে এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সুদের হার, ঋণের শর্ত এবং নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতার চেয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন হোমবায়ারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এএ ইউএস মর্টগেজের সিইও মাহবুবুর ভূঁইয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিহত কিশোর লেভি স্ট্রবেল
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ছোট ভাইকে বজ্রপাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল ১৫ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের মাউন্ট ব্লু স্কাইয়ের চূড়ায় বজ্রপাতের হাত থেকে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টির শেরিফ অফিস ও নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত ওই কিশোরের নাম লেভি স্ট্রবেল। রোববার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টির জননিরাপত্তা সংস্থাগুলো মাউন্ট ব্লু স্কাইয়ের চূড়ায় বজ্রপাতের কারণে হতাহতের ঘটনার খবর পায়।   খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ক্লিয়ার ক্রিক ফায়ার অথরিটি, ক্লিয়ার ক্রিক ইএমএস, ডেনভার মাউন্টেন পার্ক, আলপাইন রেসকিউ টিম এবং ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টি শেরিফ অফিস। ডেনভার মাউন্টেন পার্কের রেঞ্জাররা তাৎক্ষণিকভাবে লেভিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও দুর্ভাগ্যবশত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   পরবর্তীতে ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টির করোনার অফিস নিহত কিশোরকে লেভি স্ট্রবেল হিসেবে শনাক্ত করে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় আহত লেভির ছোট ভাইকে 'ফ্লাইট ফর লাইফ কলোরাডো'র একটি হেলিকপ্টারে করে দ্রুত ডেনভার এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানা যায়নি।   এক শোকবার্তায় স্ট্রবেল পরিবার জানিয়েছে, "মাউন্ট ব্লু স্কাইতে বজ্রপাতে আমাদের প্রিয় লেভির আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শেষ মুহূর্তে লেভি তার ছোট ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তার জীবনের চিরচেনা সাহস ও নিঃস্বার্থতার চরম উদাহরণ রেখে গেছে।" শেরিফ অফিস জানিয়েছে, দুই ভাই পাঁচজনের একটি দলের সঙ্গে পাহাড়ে হাইকিংয়ে গিয়েছিল। দলের অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও সামান্য আহত হয়েছেন, তবে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৮:৫৪
লেখিকা ই. জিন ক্যারল এবং  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ই. জিন ক্যারলকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিল চেয়ে ট্রাম্পের আবেদন

অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক

বিশ্বের কোটি নবজাতকের জীবন রক্ষায় বাংলাদেশি-মার্কিন গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ বাকী

কাশ প্যাটেল

‘রাশিয়ার এজেন্ট’ বলায় ১ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছিলেন কাশ প্যাটেল, খারিজ করল আদালত

নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট
নতুন মার্কিন পাসপোর্টে সই করতে ভুলবেন না, নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট

নতুন মার্কিন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করতে ভুলবেন না। দীর্ঘদিনের এই নিয়মটি আবারও নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটিতে সঠিকভাবে স্বাক্ষর করা প্রত্যেক পাসপোর্টধারীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের নতুন পাসপোর্টের নির্ধারিত “Signature of Bearer” অংশে নীল বা কালো কালি দিয়ে নিজের স্বাক্ষর করতে হবে।   অন্যদিকে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টে শিশুর পরিবর্তে বাবা, মা অথবা আইনগত অভিভাবক স্বাক্ষর করবেন। এ সময় প্রথমে স্বাক্ষরের লাইনে শিশুর নাম লিখতে হবে। এরপর অভিভাবক নিজের স্বাক্ষর করবেন এবং শিশুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, যেমন বাবা, মা অথবা গার্ডিয়ান উল্লেখ করবেন।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর না থাকলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না, তা একবার যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।   এছাড়া পাসপোর্টে শুধুমাত্র নির্ধারিত স্বাক্ষরের স্থানেই সই করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো পৃষ্ঠায় অপ্রয়োজনীয় লেখা, স্বাক্ষর বা চিহ্ন না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের পাসপোর্ট সাধারণত ১০ বছরের জন্য এবং ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাসপোর্ট ৫ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে পাসপোর্টের মেয়াদ ও স্বাক্ষর—দুই বিষয়ই নিশ্চিত করে নেওয়া হলে ভ্রমণের সময় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৬:৩৫
হলিউডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

হলিউডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

মার্কিন কংগ্রেসে প্রবীণ রাজনীতিকদের আধিপত্যে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, তরুণ নেতৃত্ব চান ৫৮% মার্কিনি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মার্কিন কংগ্রেসে প্রবীণ রাজনীতিকদের আধিপত্যে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, তরুণ নেতৃত্ব চান ৫৮% মার্কিনি

ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড়ে আরোহণ করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের, রেখে গেলেন ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে

ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড়ে আরোহণ করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের, রেখে গেলেন ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধিতে মার্কিন মুসলিমদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা ও হয়রানি বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ: কায়ার

যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক স্থানগুলো বা মসজিদ লক্ষ্য করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির একটি মুসলিম নাগরিক অধিকার ও প্রবক্তা গোষ্ঠী।   আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (কায়ার) জানিয়েছে, তারা চলতি বছরের মে, জুন এবং জুলাই মাস এ পর্যন্ত মোট ১৭টি এমন ঘটনার নথিবদ্ধ করেছে, যা গত বছরের পুরো সময়ের মোট ঘটনার ৫১ শতাংশ। অথচ গত বছরের ঠিক একই সময়ে মাত্র ৬টি এমন ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।   এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, সহিংসতার হুমকি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্মের ভিত্তিতে ইসলামিক উপাসনালয়ে বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো। কায়ারের গবেষণা ও আধিকারিক পরিচালক কোরি সেয়লার বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া এখনো সহনীয় এক ধরনের ঘৃণা হিসেবে রয়ে গেছে। আমেরিকান উপাসনালয়গুলোকে প্রায়শই সস্তা রাজনৈতিক কুৎসা এবং সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হয়।" তিনি আরও বলেন, উপাসনালয়গুলোকে প্রার্থনা ও প্রতিফলনের স্থান হিসেবে টিকিয়ে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।   গবেষকরা সাধারণত বড় কোনো ঘটনার পরের তিন মাস পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে কোনো ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে কি না। গত ১৮ মে সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে কায়ার জানায়, সেখানে আমিন আব্দুল্লাহ, মনসুর কাজিহা এবং নাদির আওয়াদ নামের তিন ব্যক্তি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী উগ্রপন্থীদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।   ২০২৫ সালে মসজিদ, ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারসহ মুসলিম উপাসনালয় লক্ষ্য করে ৩৩টি সুনির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য পেয়েছিল কায়ার। এ ধরনের সব রিপোর্ট ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো উন্মুক্ত উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া গত মে মাসে সিএআইআর-নিউ জার্সি শাখা জানায়, তারা নিউ জার্সির চারটি মসজিদ থেকে হয়রানি ও হুমকি পাওয়ার খবর পেয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও জানিয়েছে যে আরও ছয়টি মসজিদ একই ধরনের হুমকির শিকার হয়েছে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় কায়ার কমিউনিটি নেতাদের তাদের আপডেট করা 'বেস্ট প্র্যাকটিসেস ফর মস্ক অ্যান্ড কমিউনিটি সেফটি গাইড'-এর জন্য আগে থেকেই নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী আগস্টের শেষ দিকে কায়ার এবং নর্থ আমেরিকান ইসলামিক ট্রাস্ট যৌথভাবে এই গাইড প্রকাশ করবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৩:১২
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল বাস চালকের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থী পরিবহন ব্যবস্থা। ছবি: গেটি ইমেজেস

চালক সংকট ও খরচে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বাস ব্যবস্থা

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের গ্রেফতার অভিযান হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান বৃদ্ধি: গভীর উদ্বেগে কমিউনিটি নেতারা ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা

মিশিগানে পাঁচ সপ্তাহে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ছবি: গেটি ইমেজেস

মিশিগানে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াল, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

0 Comments