আমেরিকা

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পুরুষাঙ্গ হওয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য তহবিল সংগ্রহে নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২২:৫৫
অস্ত্রোপচারের জন্য তহবিল সংগ্রহে নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্রোপচারের জন্য তহবিল সংগ্রহে নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ৩৮ বছর বয়সী মাইকেল ফিলিপস একটি বিরল শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দাবি করেছেন যে তার উত্থিত পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৩৮ ইঞ্চি (প্রায় ০.৯৭ সেন্টিমিটার), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘মাইক্রোপেনিস’ নামে পরিচিত একটি বিরল অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপস সম্প্রতি ‘হেল্প মাইকেল গেট মাইক্রোপেনিস এনলার্জমেন্ট সার্জারি’ শিরোনামে একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল ৬ হাজার ডলার সংগ্রহ করা। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর ব্যাপক সাড়া মেলে। পরে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য বাড়িয়ে ২২ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, কয়েক দিনের মধ্যেই ১৯০ জনের বেশি দাতার কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার ২০০ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

 

মাইকেল ফিলিপস জানান, তার শারীরিক অবস্থার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাপনে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যয় তার স্বাস্থ্যবিমা বহন করছে না, কারণ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকে বিমা প্রতিষ্ঠান প্রসাধনমূলক বা কসমেটিক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোপেনিস একটি স্বীকৃত চিকিৎসাগত অবস্থা। এটি সাধারণত ভ্রূণ অবস্থায় হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা বা যৌনাঙ্গের অস্বাভাবিক বিকাশের কারণে হয়ে থাকে। বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণার তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রায় ০.৬ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

ফিলিপস যে চিকিৎসা গ্রহণ করতে চান, তাতে বিশেষ ধরনের ডার্মাল ফিলার প্রয়োগ এবং অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ নিরাময় নিশ্চিত করে না; তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক কার্যকারিতা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

 

নিজের পরিচয় প্রকাশ করে গণমাধ্যমে কথা বলার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মাইকেল ফিলিপস বলেন, তিনি শুধু অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নয়, বরং এই বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে সমাজে বিদ্যমান সংকোচ ও ভুল ধারণা দূর করতেও সামনে এসেছেন। তার আশা, একই ধরনের সমস্যায় ভোগা অন্যরা লজ্জা বা ভয় না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে সামাজিক বিদ্রূপ বা অপমান নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শ, যথাযথ চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয়ী কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত
আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সোমালি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রাজনীতিক।   সিবিএস নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জুলি টি লে, আবেনা ম্যাকেঞ্জি, লাটোনিয়া রিভস ও নাট শ্লুটার। তবে তাদের কেউই বর্তমান কংগ্রেসওম্যানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি।   মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি। মিনিয়াপোলিসসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনকে মিনেসোটার সবচেয়ে ডেমোক্রেটিক ঝোঁকসম্পন্ন কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   ২০১৮ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ওমর। একই বছরের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তার জয়ের ব্যবধান ছিল ১৩ পয়েন্ট।   এবারের প্রাইমারিতে পরিস্থিতি ছিল আরও স্বস্তিদায়ক। আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে তার শক্ত অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো।   ওমরের প্রধান রাজনৈতিক অবস্থানগুলোর একটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউনের বিরুদ্ধে লড়াইকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে ওমরের কঠোর সমালোচক।   প্রাইমারির ঠিক আগমুহূর্তে ইলহান ওমরের একটি টাউন হলের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের একজন আন্ডারকভার এজেন্টের উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।   ওমরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট রিচফিল্ডে তার টাউন হল চলাকালে কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ওই এজেন্টকে একটি গাড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর ওমর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   ওমরের অভিযোগ, ওই এজেন্ট কেন তার কংগ্রেশনাল অনুষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি কীভাবে টাউন হলের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ওই কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক নজরদারির অংশ হিসেবে সেখানে ছিলেন কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।   তবে ওই এজেন্ট স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি আন্ডারকভার ড্রাগ অপারেশনের কাজে সেখানে ছিলেন। এ কারণে ওমরের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল, এমনটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি।   নিরাপত্তা নিয়ে ওমরের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে একটি টাউন হলের সময় এক ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে এসে একটি তরল পদার্থ ছুড়ে মারেন। পরে সেটি আপেল সিডার ভিনেগার হিসেবে শনাক্ত হয়। ঘটনার পরও ওমর অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং জানান, তাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না।   এদিকে পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জন নাগেল ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট নিয়ে জয়ী হওয়ার প্রজেকশন পেয়েছেন। ফলে নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন তিনি।   তবে ডিস্ট্রিক্টটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল বিবেচনায় সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরই শক্তিশালী অবস্থানে থাকছেন। ১১ আগস্টের প্রাইমারিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটের এই জয় সেই অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:২৬
ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্ট। ছবি : সংগৃহীত।

মার্কিন নাগরিকের দিকে বন্দুক তাক করলেন আইসিই এজেন্ট, ভিডিওতে ধরা পড়ল ভয়ংকর মুহূর্ত

জোহরান কোয়ামে মামদানি। ছবি:সংগৃহীত

ধনীদের বাড়িতে কর বসাতে বাধা , মামদানির পরিকল্পনা আটকাল আদালতে

ড্রাইভিং এ ফেল হওয়ার প্রতীকী।ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ড্রাইভিং টেস্টে ফেল হওয়ার বড় ৩ কারণ, শুরুতেই যা যাচাই করেন ইন্সপেক্টর

আফগানিস্তানে তালেবান শাসন এবং সেখানে নারী শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকটের চিত্র। ছবি:সংগৃহীত
তালেবান শাসনে স্কুলে ফিরতে পারছে না ২৪ লাখ আফগান মেয়ে, মুছে যাচ্ছে দুই দশকের অগ্রগতি

কাবুলে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত লাখো কিশোরী; নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ ইউনেস্কোর।   তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পর আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে। এতে দেশটির মেয়েদের শিক্ষায় গত দুই দশকে অর্জিত অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত পিছিয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।   মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো আফগান মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ফেরার অধিকার ‘অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে’ পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।   ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েদের প্রাথমিক স্তরের পর শিক্ষা গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ।   ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা দুই দশকের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করার সময় তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করে। এরপর ধাপে ধাপে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।   এর ফলে আগের দুই দশকে মেয়েদের শিক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ে।   ইউনেস্কো বলছে, ২০০১ সালে আফগান মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি হয়েছিল। পাঁচ বছর পর সেই শিক্ষাব্যবস্থা থেকে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে বাইরে রয়েছে।   ইউনেস্কোর জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ক হোদা জাবেরিয়ান বলেন, পাঁচ বছর কোনো শিশুর শিক্ষাজীবনে সাময়িক বিরতি নয়। এটি প্রায় পুরো একটি মাধ্যমিক শিক্ষাচক্রের সমান সময়।   শুধু শিক্ষাই নয়, তালেবানের বিভিন্ন নীতির প্রভাব নারীদের কর্মজীবন ও সামাজিক জীবনেও পড়েছে। অধিকাংশ বেতনভুক্ত চাকরি ও জনসম্মুখের পেশায় নারীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।   ইউনেস্কোর ভাষায়, নারীদের জনজীবন থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি নতুন প্রজন্ম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।   শিক্ষাবঞ্চনার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় পরিবারে তাদের আর্থিক অবদান এবং দেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতি হচ্ছে।   মেয়েদের দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে রাখার ফলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইউনেস্কো।   এর প্রভাব পড়ছে ছেলেদের শিক্ষার ওপরও। ইউনেস্কোর মতে, নারী শিক্ষকদের ছেলেদের পড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিক্ষক সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   তবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বন্ধ থাকলেও মেয়েদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখতে বিকল্প কর্মসূচি চালাচ্ছে ইউনেস্কো। কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষা, সাক্ষরতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এসব উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ নারী।   স্থানীয় কমিউনিটি স্পেস ও প্রশিক্ষকদের বাড়িতেও কিছু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি সাক্ষরতা প্রশিক্ষক যুক্ত রয়েছেন।   ইউনেস্কো বলছে, এসব বিকল্প কর্মসূচি কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও জীবিকার উন্নতিতে সহায়তা করেছে। তবে এগুলো কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার বিকল্প হতে পারে না।   ইউনেস্কোর কর্মকর্তারা বলছেন, আফগান মেয়েদের শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি তাদের মৌলিক মানবাধিকার। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে আসবে না সংস্থাটি।   তালেবান সরকারের ওপর জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন দেশ ও ইসলামি বিশ্বের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি।   ফলে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পর আফগানিস্তানে একটি পুরো প্রজন্মের মেয়ের শিক্ষা থমকে আছে—যে অগ্রগতি দুই দশকে তৈরি হয়েছিল, তা এখন দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৬:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ৬ বছর বয়সী একটি অটিস্টিক শিশু জন মেদিনা এবং তার পরিবার। ছবি:সংগৃহীত

স্যান্ডউইচে বন্দুকের আকৃতি বানিয়ে সহপাঠীকে তাক করায় ৬ বছরের অটিজম শিশু বরখাস্ত

ভ্রমণরত বড় জাহাজ। ছবি:সংগৃহীত

মেক্সিকো ভ্রমণে বাড়ছে খরচ, ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি দ্বিগুণ

ব্রঙ্কসের থ্রগস নেক এলাকায় বাড়ির সামনে এক নারীকে গুলি; দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত

ব্রঙ্কসে বাড়ির সামনে নারীকে গুলি, দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা
নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করতে এবার কিউ৮ বাস রুটে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ। শুক্রবার থেকেই এই রুটে বাস স্টপ আটকে রাখা, ডাবল পার্কিং কিংবা অবৈধভাবে বাস লেন ও বাসওয়ে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)। এখন থেকে রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও বাসে সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।   কুইন্সের জ্যামাইকা বাস টার্মিনাল থেকে ব্রুকলিনের গেটওয়ে মল পর্যন্ত চলাচলকারী কিউ৮ বাসটি ১০১তম অ্যাভিনিউ হয়ে দুই বরোর মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। ব্যস্ততম এই রুটে প্রতিদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এমটিএ এই অটোমেটেড ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় কোনো গাড়ির মালিক প্রথমবার অবৈধভাবে বাস লেন ব্যবহার বা পার্কিং করলে তাকে ৫০ ডলার জরিমানা গুনতে হবে। তবে একই গাড়ি বারবার নিয়ম ভাঙলে জরিমানার পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   এমটিএ কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবল জরিমানা আদায় করা নয়, বরং বাস চলাচলে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচানো। বাস স্টপ বা বাস লেন অন্য গাড়ির দখলে থাকলে বাসগুলোকে বাধ্য হয়ে অন্য লেনে যেতে হয়, যা যাত্রীদের ওঠানামা ও সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটির ১৪তম বাস রুট হিসেবে কিউ৮-এ এই প্রযুক্তি যুক্ত হলো। ফলে এখন থেকে এই রুটের আশপাশে গাড়ি চালানো বা পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যথায় ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৪:১৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের হুমকিতে গোপনে বিমান বদলের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

ট্রাফিক স্টপে ১৮ বছরের তরুণীর মুখে ঘুষি! সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

0 Comments