নর্থ ক্যারোলিনা

মৃত্যুর কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক ফ্রেমে নিহত স্টিফেন ও ট্রেসি উইলেটস। ছবি: সংগৃহীত
৪০তম বিবাহবার্ষিকীর পরদিনই নর্থ ক্যারোলাইনায় দম্পতির লাশ উদ্ধার, খুনের পর আত্মহত্যার সন্দেহ

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে ৪০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের মাত্র একদিন পর নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   নিউ হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে উইলমিংটনে অবস্থিত নিজ বাড়ি থেকে স্টিফেন লার্নেল উইলেটস এবং তার স্ত্রী ট্রেসি পার্কার উইলেটসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, ট্রেসি প্রথমে তার স্বামী স্টিফেনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজের ওপরও গুলি চালান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্ত এখনো চলছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডব্লিউএওয়াই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দম্পতির একটি স্মার্টওয়াচ হঠাৎ পড়ে যাওয়ার ঘটনা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সতর্কবার্তা বাতিল না হওয়ায় জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এরপরই বাড়ির ভেতরে দুইজনের মরদেহ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিবারের শেয়ার করা তথ্য থেকে জানা যায়, বুধবারই স্টিফেন ও ট্রেসি তাদের ৪০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন।   স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দম্পতি প্যাডেলবোর্ডিং খেলায় আগ্রহী ছিলেন এবং রাইটসভিল বিচ এলাকার প্যাডেলবোর্ডিং সম্প্রদায়ে সুপরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিবেশীদের একজন স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউইসিটি-কে জানান, স্টিফেন উইলেটস মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন।   অন্যদিকে, ট্রেসির আত্মীয় পরিচয় দেওয়া ফুলার রয়্যাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, স্টিফেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মী (ইএমটি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রয়্যাল আরও জানান, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দম্পতি তাদের দুই ছেলেকে হারিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “এত বড় শোক তারা কীভাবে সহ্য করেছেন, তা কল্পনা করাও কঠিন। আমি প্রার্থনা করি, তারা যেন আবার তাদের সন্তানদের সঙ্গে শান্তিতে মিলিত হন।”   নিউ হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হচ্ছে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই কপাল খুলল কাঠমিস্ত্রির, জিতলেন ১০ লাখ ডলারের লটারি
যুক্তরাষ্ট্রে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই কপাল খুলল কাঠমিস্ত্রির, জিতলেন ১০ লাখ ডলারের লটারি

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সামান্য ২০ ডলার যে কারও জীবনের মোড় এভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার এক কাঠমিস্ত্রি।   সম্প্রতি একটি গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লট থেকে ২০ ডলারের একটি নোট কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে শখের বশে একটি ‘স্ক্র্যাচ-অফ’ লটারি টিকিট কিনতেই ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা।   লটারি ঘষতেই তিনি দেখতে পান, রাতারাতি ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের বিশাল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি!   সরকারি কর পরিশোধের পর এই কাঠমিস্ত্রি নগদ ৪ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। টানা ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনির পর বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পেয়ে তিনি এখন স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   আর জীবনের এই স্মরণীয় মুহূর্ত ও আনন্দ উদযাপন করতে তিনি খুব সাধারণভাবেই স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় নিজের পছন্দের খাবার খেয়েছেন।   ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে নিতান্তই সাধারণ একটি ঘটনাও যে কীভাবে জাদুকরী রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাটি যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ভাগ্য বদলে দেওয়া সেই টিকিট বিক্রি করে ৫ হাজার ডলার কমিশন পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দোকান। ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের ইঙ্গিতেই কিনলেন লটারি, জিতে নিলেন ৫ লাখ ডলার

একটি অদ্ভুত অনুভূতি বা ‘স্বপ্নের ইঙ্গিত’ অনুসরণ করে লটারির টিকিট কিনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার এক ব্যক্তি। পরে সেই টিকিটেই জিতে নেন ৫ লাখ ডলার। ঘটনাটি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   দক্ষিণ ক্যারোলিনা এডুকেশন লটারির তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী ব্যক্তি জানান, একদিন হঠাৎ তার মনে হয়েছিল নির্দিষ্ট একটি দোকানে গিয়ে লটারির টিকিট কিনতে হবে। তিনি সেই অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রিনভিল শহরের পেন্ডলেটন স্ট্রিটে অবস্থিত ‘ক্র্যাকার জ্যাক’ স্টোর থেকে দুটি ১০ ডলারের ‘গোল্ড ভল্ট এক্সট্রা প্লে!’ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন।   দুটি টিকিটের একটি ঘষতেই তার সামনে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। সেটিই ছিল ৫ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কারজয়ী টিকিট। লটারি কর্তৃপক্ষকে ওই ব্যক্তি বলেন, এটি তার কাছে যেন এক ধরনের বিশেষ ইঙ্গিত ছিল। সেই অনুভূতি অনুসরণ করেই তিনি টিকিট কিনেছিলেন। তবে এত বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের পরও তার আনন্দ উদযাপনের খুব বেশি সময় ছিল না। কারণ, পুরস্কার জেতার খবর জানার পরও তাকে নিয়মিত কাজের জন্য কর্মস্থলে যেতে হয়েছে।   বিজয়ী জানান, পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ তিনি পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করবেন। বাকি অর্থ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। নর্থ ক্যারোলিনা এডুকেশন লটারির তথ্যমতে, ‘গোল্ড ভল্ট এক্সট্রা প্লে!’ গেমে ৫ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৭৬ হাজারে ১টি। বিজয়ী টিকিটটি বিক্রি করায় সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাও ৫ হাজার ডলার কমিশন পেয়েছে।   লটারির ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যেখানে বিজয়ীরা স্বপ্ন, অন্তর্দৃষ্টি বা ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে যারা লটারি খেলেন তারা মনে করিয়ে দেন, লটারি সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর একটি খেলা। স্বপ্ন বা অনুভূতির সঙ্গে জয়ের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রমাণিত নয়। তাই দায়িত্বশীলভাবে এবং সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই লটারিতে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
নর্থ ক্যারোলিনায় আবাসন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়া ‘দ্য অলিভার’ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হঠাৎ উধাও অ্যাপার্টমেন্ট কোম্পানি, বাড়ি ভাড়া দেওয়া নিয়ে ভাড়াটিয়াদের হাহাকার

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের শার্লট শহরের ইউনিভার্সিটি সিটি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো ম্যানেজমেন্ট বা আবাসন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত বাসিন্দারা। নর্থ ট্রায়ন স্ট্রিটে অবস্থিত ‘দ্য অলিভার’ নামের ওই অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হুট করে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।   ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়ারা জানান, গত ১৭ জুন তারা প্রথম এই বিষয়টি জানতে পারেন। সে সময় লিজ অফিসের দরজায় একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—'আর্কালাইন' (Arqline) কোম্পানি আর এই প্রোপার্টি পরিচালনার দায়িত্বে নেই এবং খুব শিগগিরই একটি নতুন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তারপর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি এবং যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।   ১ জুলাই মাসের ভাড়া দেওয়ার শেষ সময় থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সঠিক জায়গায় ভাড়া পরিশোধ করা নিয়ে। লিজ অফিসের দরজায় ঝুলানো দ্বিতীয় একটি নোটিশে বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন জুলাই মাসের ভাড়া চেকের মাধ্যমে বা মানি অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেন এবং যেকোনো জরুরি মেরামতের অনুরোধের জন্য একটি সাধারণ ‘জিমেইল’ (Gmail) ঠিকানায় মেইল করেন।   এদিকে একজন বাসিন্দা ফোনে জানান, প্রোপার্টির মালিকের এক বন্ধু নাকি মালিকের পক্ষে এই জুলাই মাসের ভাড়া সংগ্রহ করছেন। তবে ওই ব্যক্তির কাছে অনলাইনের কোনো পেমেন্ট সিস্টেম বা ভাড়াটিয়াদের তথ্যের কোনো অ্যাক্সেস নেই। এমনকি তিনি জানেনও না কার ভাড়া কত বা কোন ফ্ল্যাটে কে থাকছেন। ফলে ভাড়ার টাকা সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সবাই চরম আতঙ্কে আছেন।   শার্লট এলাকায় ৩০টিরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট পরিচালনা করা বড় প্রতিষ্ঠান 'আর্কালাইন' কেন হঠাৎ এই প্রোপার্টির দায়িত্ব ছেড়ে দিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অনেক বাসিন্দা ধারণা করছেন, প্রোপার্টির মূল মালিকের সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির আর্থিক বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাইয়াহ পেন্ডারগ্রাস নামের এক বাসিন্দা এই চরম অব্যবস্থাপনার একটি ভিডিও টিকটকে পোস্ট করার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি মানুষ তা দেখেছেন। বর্তমানে ওই অ্যাপার্টমেন্টের মালিক বা সাবেক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কেউই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তাবাস্সুম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নর্থ ক্যারোলিনার কারাগারে কয়েদিদের দখলচেষ্টা, জিম্মি দুই কারারক্ষীকে ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর শহরের বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টারে কয়েদিদের দখলচেষ্টার পর কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে শুরু হওয়া এ ঘটনায় দুইজন কারারক্ষীকে জিম্মি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।   নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৫টার দিকে কারাগারে থাকা ৮৮ জন কয়েদি দায়িত্বরত তিনজন কারারক্ষীর ওপর হামলা চালিয়ে স্থাপনাটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় একজন কারারক্ষী নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপর দুইজনকে জিম্মি করা হয়।   ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই), এফবিআই এবং একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর প্রথমে জিম্মি দুই কারারক্ষীকে নিরাপদে মুক্ত করা হয়। পরে বিশেষায়িত বাহিনী কারাগারে প্রবেশ করে ধাপে ধাপে পুরো স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের পর সব কয়েদি ও কারাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের সামান্য আঘাত লেগেছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি।   বার্টি কাউন্টির শেরিফ টায়রন রাফিন জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং কয়েদিদের অন্য নিরাপদ সংশোধনাগারে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   তবে কী কারণে কয়েদিরা এই দখলচেষ্টায় নামে এবং ঘটনার সময় কেন মাত্র তিনজন কারারক্ষী দায়িত্বে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টার মূলত বার্টি ও মার্টিন কাউন্টির বন্দিদের জন্য পরিচালিত একটি আঞ্চলিক আটককেন্দ্র। সাম্প্রতিক এই ঘটনা কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ত্রোপচারের জন্য তহবিল সংগ্রহে নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পুরুষাঙ্গ হওয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য তহবিল সংগ্রহে নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ৩৮ বছর বয়সী মাইকেল ফিলিপস একটি বিরল শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দাবি করেছেন যে তার উত্থিত পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৩৮ ইঞ্চি (প্রায় ০.৯৭ সেন্টিমিটার), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘মাইক্রোপেনিস’ নামে পরিচিত একটি বিরল অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপস সম্প্রতি ‘হেল্প মাইকেল গেট মাইক্রোপেনিস এনলার্জমেন্ট সার্জারি’ শিরোনামে একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল ৬ হাজার ডলার সংগ্রহ করা। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর ব্যাপক সাড়া মেলে। পরে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য বাড়িয়ে ২২ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, কয়েক দিনের মধ্যেই ১৯০ জনের বেশি দাতার কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার ২০০ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।   মাইকেল ফিলিপস জানান, তার শারীরিক অবস্থার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাপনে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যয় তার স্বাস্থ্যবিমা বহন করছে না, কারণ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকে বিমা প্রতিষ্ঠান প্রসাধনমূলক বা কসমেটিক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করছে।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোপেনিস একটি স্বীকৃত চিকিৎসাগত অবস্থা। এটি সাধারণত ভ্রূণ অবস্থায় হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা বা যৌনাঙ্গের অস্বাভাবিক বিকাশের কারণে হয়ে থাকে। বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণার তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রায় ০.৬ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। ফিলিপস যে চিকিৎসা গ্রহণ করতে চান, তাতে বিশেষ ধরনের ডার্মাল ফিলার প্রয়োগ এবং অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ নিরাময় নিশ্চিত করে না; তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক কার্যকারিতা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।   নিজের পরিচয় প্রকাশ করে গণমাধ্যমে কথা বলার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মাইকেল ফিলিপস বলেন, তিনি শুধু অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নয়, বরং এই বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে সমাজে বিদ্যমান সংকোচ ও ভুল ধারণা দূর করতেও সামনে এসেছেন। তার আশা, একই ধরনের সমস্যায় ভোগা অন্যরা লজ্জা বা ভয় না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে সামাজিক বিদ্রূপ বা অপমান নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শ, যথাযথ চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০