আমেরিকা

এক বছরে ৭ বিলিয়ন ডলার দান, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দাতার আসনে জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২৩:৩৩
জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট। ছবি: সংগৃহীত
জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট। ছবি: সংগৃহীত

এক বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও সমাজসেবী ম্যাকেঞ্জি স্কট। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের বড় অনুদান বা ‘মেগাগিফট’-এর মোট পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে স্কটের একার অনুদানই ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

 

ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফরচুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাতব্য খাত নিয়ে গবেষণাকারী Giving USA ও Indiana University Lilly Family School of Philanthropy-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যক্তি, করপোরেশন, বিভিন্ন ফাউন্ডেশন এবং উইলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার দাতব্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ দাতব্য অনুদানের রেকর্ড। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্প-সংস্কৃতি এবং সামাজিক উন্নয়নসহ প্রায় সব খাতেই অনুদান বেড়েছে।

 

২০১৯ সালে জেফ বেজোসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ম্যাকেঞ্জি স্কট তার প্রাপ্ত সম্পদের একটি বড় অংশ সমাজকল্যাণে ব্যয় করার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তিনি ২৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দান করেছেন।

 

তার অনুদানের বড় অংশ গেছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, নারী ও শিশুদের কল্যাণ এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট ও স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

 

ম্যাকেঞ্জি স্কটের দাতব্য কার্যক্রমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আগাম প্রচার ছাড়াই অনুদান দেন। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুদান পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করে। পাশাপাশি অনুদান ব্যবহারে তিনি কঠোর শর্ত আরোপ না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখেন। দাতব্য খাতে এই পদ্ধতিকে ‘ট্রাস্ট-ভিত্তিক অনুদান’ হিসেবে দেখা হয়।

 

২০২৫ সালে বড় দাতাদের তালিকায় ম্যাকেঞ্জি স্কটের পর রয়েছেন সাবেক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। এছাড়া বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এবং সুসান ও মাইকেল ডেলও গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় দাতাদের মধ্যে ছিলেন।

দাতব্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে ম্যাকেঞ্জি স্কটের দান কেবল পরিমাণের দিক থেকেই নয়, বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত, কম প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থাভিত্তিক সহায়তার কারণেও বিশেষভাবে আলোচিত।

 

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত প্রচারের পরিবর্তে নীরবে সমাজকল্যাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ম্যাকেঞ্জি স্কট আধুনিক দাতব্য কার্যক্রমে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে কবরস্থান থেকে স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কনরো শহরে কবরস্থানের একটি মাউসোলিয়াম (সমাধি ভবন) থেকে স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ তদন্ত ও নজরদারির পর বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।   হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল প্রিসিঙ্কট-৫-এর কার্যালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম রেনি অ্যাম্বার ফেনেল। চলতি মাসের শুরুতে হিউস্টনের একটি কবরস্থানের মাউসোলিয়ামে স্থাপিত নজরদারি ক্যামেরায় তাকে সমাধির কুঠুরি ভেঙে সেখানে রাখা স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার পর প্রিসিঙ্কট-৫-এর গোয়েন্দা, ডেপুটি এবং স্ট্র্যাটেজিক রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।   তদন্ত শেষে বুধবার কনরো শহরের নর্থ থ্র্যাশার স্ট্রিটের ১৬৭০০ ব্লকে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার ছোট সন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের একজন সদস্যের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেনেলের বিরুদ্ধে চুরি এবং কবরস্থান থেকে চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হ্যারিস কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে এর আগেও জালিয়াতি, চুরি, নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখার অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হামলাসহ একাধিক মামলার রেকর্ড রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর তাকে মন্টগোমেরি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই কাউন্টির অধিক্ষেত্রে সংঘটিত আরও কয়েকটি অপরাধের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল প্রিসিঙ্কট-৫-এর কার্যালয় জানিয়েছে, কবরস্থানে রাখা মৃত ব্যক্তিদের স্মারক ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ২৩:৫১
ছবি: সংগৃহীত

টিপিএসধারী অভিবাসীদের স্থায়ী বৈধতা নিতে হবে, না হলে দেশে ফিরতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাড়ি বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি লোকসান ম্যানহাটনে, গড়ে হারাচ্ছেন ২৪ হাজার ডলার

সাবেক মেয়রের মেয়ে নিহত। ছবি: সংগীত

ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক মেয়রের মেয়ে গ্যাস স্টেশনে গুলিতে নিহত

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের দুই বিতর্কিত নীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি অন্যতম দুঃসাহসিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপের ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে। ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) একজন গভর্নরকে পদচ্যুত করা এবং জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন বাতিলের মতো বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত কী রায় দেয়, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তাদের মেয়াদের সর্বশেষ সাতটি রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের এই দুটি বহুল আলোচিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রেই ট্রাম্প মূলত দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নীতি ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করতে চাইছেন। এর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই মার্কিন নাগরিক হওয়ার অধিকার এবং অন্যটি ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীন সত্তা।   ওয়াশিংটন সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা রায় ঘোষণার জন্য এজলাসে বসবেন। সাধারণত আদালতের মেয়াদের একেবারে শেষ দিকে সবচেয়ে বড় এবং বিতর্কিত মামলাগুলোর রায় দেওয়া হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বন্ধক জালিয়াতির অভিযোগে ফেড গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করা, যদিও লিসা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন।   সুপ্রিম কোর্ট আপাতত শুধু এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে, লিসা কুক তার চাকরি ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই চালানোর সময় ট্রাম্প তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবেন কি না। তবে এই মামলার রায় সুদের হার নির্ধারণে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   যদি সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের পক্ষে যায়, তবে তা তার জন্য সুদের হার কমানোর নির্দেশ অমান্যকারী অন্যান্য ফেড গভর্নরদের বরখাস্ত করার পথও প্রশস্ত করতে পারে। এমনকি এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদচ্যুত করে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ পেতে পারেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে জেরোম পাওয়েলকে বরখাস্ত করার বিষয়েও প্রকাশ্যে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন, যিনি চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ফেডের বোর্ড অব গভর্নরসে দায়িত্ব পালন করছেন।   তবে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারপতিদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে লিসা কুককে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের এই উদ্যোগে তারা খুব একটা সম্মত নন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক উইলিয়াম বাউড এ মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপে জানিয়েছেন, আদালত সম্ভবত প্রশাসনের বিপক্ষেই রায় দিতে যাচ্ছে। তবে মূল আইনি বিষয়গুলো নিয়ে আদালত ঠিক কতটা বিশদভাবে জানাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নীতি বাতিল করে দেওয়ার মাধ্যমে চলতি মেয়াদে তাকে ইতিমধ্যে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১৯:৪৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যে বাবার হাত ধরে বড় হয়েছিল মেয়ে, সেই বাবার গুলিতেই প্রাণ গেল কন্যা ও মায়ের

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

মার্কিন কংগ্রেসওম্যানের চাঞ্চল্যকর অতীত ফাঁস, উঠে এলো ফেটিশ পার্টি ও মাদকের অভিযোগ

এবিসি নিউজের অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি ও সাংবাদিক জোনাথন কার্ল। ছবি: এবিসি নিউজ

বিদেশে জন্ম, তাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন না মামদানি; সংবিধান পরিবর্তনও চান না

ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স l ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের উত্তরসূরি কি জেডি ভ্যান্স? ২০২৮ নির্বাচন ঘিরে জল্পনা বাড়লেও আনুষ্ঠানিক সমর্থন নেই

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে অনেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প কাউকেই তার উত্তরসূরি বা দলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেননি।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন জনসভা ও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও—উভয়েরই প্রশংসা করেছেন। এতে রিপাবলিকান দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, ২০২৮ সালের নির্বাচনে কাকে তিনি সমর্থন করবেন সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন রিপাবলিকান রাজনীতিতে এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে জল্পনা থাকলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কাউকে নিশ্চিত উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংগঠন সিপ্যাক (CPAC)-এর সাম্প্রতিক এক অনানুষ্ঠানিক জরিপে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে জেডি ভ্যান্স সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন। তবে এই জরিপ কোনো দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ নয় এবং এটি রিপাবলিকান পার্টির আনুষ্ঠানিক অবস্থানও প্রকাশ করে না।   বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়নের লড়াইয়ে জেডি ভ্যান্স, মার্কো রুবিওসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে প্রার্থী নির্ধারণ হবে দলীয় প্রাইমারি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেই সময়ের ভোটারদের সমর্থনের ভিত্তিতে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের নিশ্চিত উত্তরসূরি বলা রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১৭:২
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘বৈধতা নিন, নয়তো দেশ ছাড়ুন’—লাখো অভিবাসীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউ জার্সি থেকে নিখোঁজ তিন কিশোর, কানেটিকাটে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার

0 Comments