সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এক বছরে ৭ বিলিয়ন ডলার দান, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দাতার আসনে জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২৩:৩৩
জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট। ছবি: সংগৃহীত
জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট। ছবি: সংগৃহীত

এক বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও সমাজসেবী ম্যাকেঞ্জি স্কট। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের বড় অনুদান বা ‘মেগাগিফট’-এর মোট পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে স্কটের একার অনুদানই ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

 

ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফরচুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাতব্য খাত নিয়ে গবেষণাকারী Giving USA ও Indiana University Lilly Family School of Philanthropy-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যক্তি, করপোরেশন, বিভিন্ন ফাউন্ডেশন এবং উইলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার দাতব্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ দাতব্য অনুদানের রেকর্ড। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্প-সংস্কৃতি এবং সামাজিক উন্নয়নসহ প্রায় সব খাতেই অনুদান বেড়েছে।

 

২০১৯ সালে জেফ বেজোসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ম্যাকেঞ্জি স্কট তার প্রাপ্ত সম্পদের একটি বড় অংশ সমাজকল্যাণে ব্যয় করার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তিনি ২৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দান করেছেন।

 

তার অনুদানের বড় অংশ গেছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, নারী ও শিশুদের কল্যাণ এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট ও স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

 

ম্যাকেঞ্জি স্কটের দাতব্য কার্যক্রমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আগাম প্রচার ছাড়াই অনুদান দেন। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুদান পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করে। পাশাপাশি অনুদান ব্যবহারে তিনি কঠোর শর্ত আরোপ না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখেন। দাতব্য খাতে এই পদ্ধতিকে ‘ট্রাস্ট-ভিত্তিক অনুদান’ হিসেবে দেখা হয়।

 

২০২৫ সালে বড় দাতাদের তালিকায় ম্যাকেঞ্জি স্কটের পর রয়েছেন সাবেক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। এছাড়া বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এবং সুসান ও মাইকেল ডেলও গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় দাতাদের মধ্যে ছিলেন।

দাতব্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে ম্যাকেঞ্জি স্কটের দান কেবল পরিমাণের দিক থেকেই নয়, বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত, কম প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থাভিত্তিক সহায়তার কারণেও বিশেষভাবে আলোচিত।

 

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত প্রচারের পরিবর্তে নীরবে সমাজকল্যাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ম্যাকেঞ্জি স্কট আধুনিক দাতব্য কার্যক্রমে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তায় ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।   জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   সারাহ আলড্রিচ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।   স্মরণসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মার্কিন কর্মকর্তারা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।   মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বের অন্যান্য তরুণদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।   অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৪:৭
শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার

শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু

টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত

টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নারী নিহত

মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

"চুপ করে থাকতে পারেনি" মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান
কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা জেমস হ্যারিস জুনিয়রের জীবন একসময় ধ্বংসের দিকেই এগোচ্ছিল। কিশোর বয়সে স্কুলে পড়াশোনা ছেড়ে গাড়ি চুরিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বাবা হন। কিন্তু একজন কাউন্সেলরের সহায়তা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমে সেই জীবন বদলে দিয়ে আজ তিনি জনস হপকিন্সের একজন স্বনামধন্য জেনারেল সার্জন।   হ্যারিস বর্তমানে মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়ায় Johns Hopkins Howard County Medical Center-এর সার্জারি বিভাগের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি তরুণ সার্জনদের প্রশিক্ষণেও যুক্ত। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জেনারেল সার্জারিতে বোর্ড সার্টিফায়েড এবং প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব মেডিসিনে ক্লিনিক্যাল সার্জারির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।   তবে চিকিৎসক হওয়ার এই অবস্থানে পৌঁছানো তার জন্য সহজ ছিল না। ফ্রেসনোতে বড় হওয়ার সময় তার পরিবারে মাদকাসক্তি ও অস্থিরতা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। তার বাবা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করতেন এবং জীবনে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন না। মায়ের উপস্থিতিও ছিল সীমিত। ফলে কৈশোরেই পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন হ্যারিস।   এক পর্যায়ে তিনি স্কুলের দুই বছর পিছিয়ে পড়েন এবং গাড়ি চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে যান। ১৫ বছর বয়সে বাবা হওয়ার পরও তার জীবন দ্রুত বদলায়নি। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই আশাবাদী ছিলেন না।   জীবনের সেই কঠিন সময়ে একজন কাউন্সেলর তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান। সেই সহায়তা হ্যারিসকে নতুন করে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজের জীবন বদলাতে শুরু করেন।   পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যান এবং ২০০৭ সালে UCLA-এর David Geffen School of Medicine থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর Johns Hopkins-এ সার্জারির রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন। জনস হপকিন্সের প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালে জেনারেল সার্জারিতে বোর্ড সার্টিফিকেশনও অর্জন করেন।   হ্যারিসের এই পরিবর্তনের গল্প এখন তার নিজের স্মৃতিকথা Not Who I Once Was: My Unusual Path to Becoming a Surgeon-এও উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত বইটিতে তিনি দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট, কৈশোরে বাবা হয়ে যাওয়া এবং নিজের জীবন ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।   তার গল্পের মূল বার্তা হলো, জীবনের শুরুর পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষা, পরিশ্রম ও সুযোগ পেলে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।   আজ হ্যারিস শুধু রোগীদের চিকিৎসাই করছেন না, নতুন প্রজন্মের সার্জনদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ২০২২ সালে জনস হপকিন্সের Physician of the Year সম্মাননাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই সময় হাসপাতালে জরুরি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল চিকিৎসাসেবায় সংকট তৈরি হলে তিনি স্বেচ্ছায় অন-কল দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করেছিলেন।   কৈশোরের সেই অস্থির জীবন থেকে অপারেশন থিয়েটার এবং জনস হপকিন্সের নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো তাই জেমস হ্যারিসের জন্য শুধু পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন গড়ে তোলার এক বিরল উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১:৪৪
আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন

আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন

চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা

চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'

টেক্সাসে শরিয়া আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শরিয়ার প্রকৃত অর্থ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের কঠোর অবস্থান, প্রতিবাদে মুসলিমরা

২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর
২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর! নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা

নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬। গত ৩০ আগস্ট, রোববার সন্ধ্যায় জামাইকায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এআইকে শিক্ষা, ব্যবসা, সৃজনশীলতা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শিশুদের সরাসরি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।   সম্মেলনে বিশেষভাবে দেখানো হয়, কীভাবে এআইকে শিশুদের শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনে শিশুরাই টিউটরমিগো এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, বিষয় বুঝে নেওয়া, কুইজ দেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এতে এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে শেখার একটি ইন্টার‌্যাকটিভ পদ্ধতিও উপস্থিতদের সামনে আসে।   ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই নিজেদের একটি এআই ইকোসিস্টেম হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে দুটি প্রধান প্রোডাক্ট রয়েছে, টিউটরমিগো এআই এবং চ্যাটারমেট এআই। সম্মেলনে দুটি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ভূঁইয়া।   প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রোথ সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ১৯.৯৯ ডলার। এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় টিউটরমিগো এআই ও চ্যাটারমেট এআই দুটিই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। টিউটরমিগোতে একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে তিনজন শিশুকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   টিউটরমিগো এআইকে একটি অ্যাডাপটিভ এআই টিউটর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এতে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নোত্তর, কুইজ ও অনুশীলনের সুবিধা রয়েছে। অভিভাবকদের জন্যও রয়েছে আলাদা ড্যাশবোর্ড, যেখানে সন্তানের শেখার কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখা যাবে।   শুধু শিশুদের জন্য নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও টিউটরমিগো ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। অভিভাবকরা প্রয়োজনে শিক্ষার্থী মোডে গিয়ে IELTS, TOEFL, GRE ও GMATসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন।   প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আরও বেশি সুবিধার জন্য প্রো সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ৪৯.৯৯ ডলার। বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য রয়েছে আলাদা মূল্য কাঠামো ও ডিসকাউন্ট।   অন্যদিকে, চ্যাটারমেট এআইকে একটি মাল্টি-মডেল এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা একাধিক এআই মডেল ব্যবহার করে তাদের তৈরি উত্তর তুলনা করার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনে জানানো হয়, প্ল্যাটফর্মটিতে ওপেনএআই, ক্লড, জেমিনি ও গ্রকসহ বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্টভিত্তিক এআই, স্মার্ট মডেল রাউটিং এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি টুলও এতে যুক্ত রয়েছে।   চ্যাটারমেটের মূল ধারণা হলো, একটি এআই মডেলের ওপর নির্ভর না করে কাজের ধরন অনুযায়ী একাধিক মডেল ব্যবহার করা। এই ধারণাকে সামনে রেখে প্ল্যাটফর্মটির বার্তা হিসেবে রাখা হয়েছে, “Don’t choose one AI. Use them all.”   ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই জানিয়েছে, টিউটরমিগো ও চ্যাটারমেটের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফোর্জ আইডিই নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের এআই সক্ষমতাকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত ও ব্যবহারিক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।   সম্মেলনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা শুধু দর্শক হিসেবে নয়, নিজেদের হাতে এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শেখার প্রক্রিয়ায় এআই কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার একটি ব্যবহারিক চিত্র তুলে ধরা হয়।   নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই বলছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করে এআইকে আরও সহজ ও ব্যবহারিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে।   সূত্র: আওয়াজ বিডি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ০:১২
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা নিয়ে স্থগিতাদেশ বাতিল করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ায় বাধা কাটল বাংলাদেশিদের, বাতিল হলো পুরোনো নিষেধাজ্ঞা

ব্রুকলিনের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে নিকোলাস মাদুরোকে হাতে ক্যাসিও ঘড়ি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি

সান দিয়েগোর মসজিদে হামলার ভিডিও ধারণ, ৩ হত্যার অভিযোগে ১৭ বছরের কিশোরী গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কিশোরীর বিরুদ্ধে ৩ হত্যা মামলা

0 Comments