আমেরিকা

নিউ জার্সি থেকে নিখোঁজ তিন কিশোর, কানেটিকাটে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১৬:৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি ট্রেন স্টেশন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরকে অবশেষে কানেটিকাটের স্ট্যামফোর্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মন্টভিল টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু ক্যাগিয়ানো জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্র্যাডেন মরিসি (১৪), ডমিনিক ডিলিবার্তো (১৪) এবং উইলিয়াম কনোলি (১৭) নামের এই তিন কিশোর নিউ জার্সির মন্টভিল টাউনশিপের একটি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়।

 

নিখোঁজের পরপরই ড্রোন ও পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর (কে-নাইন) ব্যবহার করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বুঝতে পেরে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে।

 

তদন্তের এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই তিন কিশোরকে নিউ জার্সির ডেনভিল ট্রেন স্টেশনে দেখা যায়। এরপর মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমটিএ) কর্মকর্তারা তাদের কানেটিকাটের স্ট্যামফোর্ডের একটি ট্রেন স্টেশনে শনাক্ত করেন। এমটিএ কর্মকর্তারা সেখানে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে ১৭ বছর বয়সী কনোলিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে সুযোগ বুঝে ১৪ বছর বয়সী বাকি দুই কিশোর সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

 

পালিয়ে যাওয়া কিশোরদের উদ্ধারে পুলিশ তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখে। শনিবার রাত ৮টার পরপরই পুলিশ প্রধান ক্যাগিয়ানো নিশ্চিত করেন যে, ওই দুই কিশোরকেও স্ট্যামফোর্ড এলাকা থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন কিশোর সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছাতেই বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া কিশোরদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, ঠিক কবে নাগাদ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লং আইল্যান্ডের হেম্পস্টেডে নিজ বাড়ির বেজমেন্টে মিলল দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লা শ, মোটিভ অজানা
লং আইল্যান্ডের হেম্পস্টেডে নিজ বাড়ির বেজমেন্টে মিলল দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লা শ, মোটিভ অজানা

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের হেম্পস্টেডে নিজেদের বাড়ির বেজমেন্ট থেকে দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে ১৬ অ্যাঞ্জিভাইন অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ি থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।   নিহতদের বোন গণমাধ্যমকে জানান, ওই বাড়ির বেজমেন্টে তাদের বাবা-মায়ের ক্লিনিং ব্যবসার একটি হোম অফিস রয়েছে। বুধবার সকালে তাঁর মা ওই অফিসে ঢুকতে না পেরে তাঁকে ফোন করেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং দরজা খোলার পর মেঝেতে দুই ভাইয়ের প্রাণহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে মৃত ঘোষণা করে।   পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত দুই ভাই মধ্যবয়সী ছিলেন এবং তাদের নিজেদেরও সন্তান ও পরিবার রয়েছে। তারা মূলত বাবা-মায়ের সঙ্গেই ওই বাড়িতে থাকতেন; তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতেন এবং অন্যজন বাইরে কাজ করতেন। নিহতদের বোন আক্ষেপ করে বলেন, ভাইদের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সুসম্পর্ক ছিল এবং আগে কখনোই কোনো ধরনের ঝগড়া বা বিবাদের ঘটনা ঘটেনি। মার্জরি লিন্ডসে নামের এক পারিবারিক বন্ধু জানান, নিহতদের একজন ছিলেন অত্যন্ত শান্তিকামী মানুষ। এমন মর্মান্তিক পরিণতি তাদের কারও প্রাপ্য ছিল না উল্লেখ করে পরিবারটি দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।   হেম্পস্টেড পুলিশ এবং নাসাউ কাউন্টি পুলিশ হোমিসাইড ব্যুরো যৌথভাবে এই প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না বা এটি কোনো পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তবে এই ঘটনা থেকে সাধারণ জনগণের জন্য নতুন কোনো হুমকির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দারা। এখন পর্যন্ত নিহত দুই ভাইয়ের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং ঘটনার পেছনের মোটিভ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:১৪
ম্যানহাটনে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও হ ত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা এড়াতে দোষ স্বীকারের পথে অভিযুক্ত

ম্যানহাটনে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও হ ত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা এড়াতে দোষ স্বীকারের পথে অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির মাঝেও টেক্সাসে বাড়ছে এইচ-১বি ভিসার আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির মাঝেও টেক্সাসে বাড়ছে এইচ-১বি ভিসার আবেদন

মিশিগানের কালামাজু শহরের নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে গৃহহীনদের অস্থায়ী তাঁবু বসতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গৃহহীনদের তাঁবুতে গড়ে উঠেছে ‘ছোট শহর’, সরানোর উদ্যোগ সিটি কর্তৃপক্ষের

নিউইয়র্কের ফেডারেল প্লাজায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অভিবাসন প্রত্যাশীদের পাশে কমিউনিটি, ফেডারেল প্লাজায় সংহতি ও সহায়তার কর্মসূচি

অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে নিউইয়র্কে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আজ ফেডারেল প্লাজায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সহায়তা ও সংহতি জানাতে একটি কমিউনিটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন আদালত, আটক, বহিষ্কার এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য ও সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তাও দেবেন।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও প্রয়োগ কার্যক্রম নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলা চলছে, তাদের অনেকেই আইনি প্রক্রিয়া, আদালতে হাজিরা এবং সম্ভাব্য আটকের বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন।   কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের কারণে অনেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী ও অনুমোদিত অভিবাসন সহায়তাকারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেল প্লাজার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসীদের মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি, লাতিন আমেরিকান, দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত যেকোনো নীতি বা আইন প্রয়োগের পরিবর্তন স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অভিবাসন মামলার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদা। কোনো সরকারি নোটিশ বা আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে অনুমোদিত আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিউইয়র্কের কমিউনিটি সংগঠনগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে মূলত একটি বার্তাই দিতে চায়—আইনি প্রক্রিয়ার কঠিন সময়ে তারা যেন একা না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ পান।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১২:৩২
ডিএমভি এলাকায় প্রথমবারের মতো লাইভ সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পরিবেশনায় মাতবে ভার্জিনিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী ক্যারোলিন লিভিট। ছবি: সংগৃহীত

এবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা হচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী লিভিট

পানামায় আঞ্চলিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ার ভেতরে মার্কিন সামরিক অভিযানের অনুমতি, জানালেন হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থী ও পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ফ্রি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি, স্কিল কোনোটিই নেই? যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রি চাকরির ট্রেনিং, সাথে মিলবে ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন কিংবা নতুন স্কিল শিখে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান এমন মানুষের জন্য ২০২৬ সালেও বিভিন্ন সরকারি ও সরকার-সমর্থিত ফ্রি জব ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা চালু রয়েছে। এসব সুযোগের কিছুতে যোগ্য বাংলাদেশি অভিবাসীরাও অংশ নিতে পারবেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই সবাই ফ্রি ট্রেনিং ও ১,৮০০ ডলার পাবেন” এমন দাবি সঠিক নয়। প্রোগ্রামভেদে বয়স, আয়, বসবাসের এলাকা ও ইমিগ্রেশন বা ওয়ার্ক অথরাইজেশনসহ আলাদা যোগ্যতা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্টেটেই সরকারি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম রয়েছে। চাকরি খোঁজা, রেজুমে তৈরি, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় ট্রেনিং শনাক্ত করা এবং ট্রেনিংয়ের খরচ মেটানোর সম্ভাব্য সহায়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে।   দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এসব সেন্টারে চাকরিপ্রার্থীরা বিনা খরচে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পান। এর মধ্যে রয়েছে চাকরি খোঁজার সহায়তা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, স্কিল যাচাই, জব সার্চ ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ এবং স্থানীয় ট্রেনিংয়ের তথ্য।   ওয়ার্কফোর্স ইনোভেশন অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট বা ডব্লিউআইওএ ব্যবস্থার অধীনেও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সব আবেদনকারী একই ধরনের অর্থায়ন বা ট্রেনিং পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ট্রেনিংয়ের খরচ দেওয়া হবে এবং একজন আবেদনকারী যোগ্য কি না, সেটি স্থানীয় ওয়ার্কফোর্স সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   তরুণদের জন্য বড় সুযোগগুলোর একটি জব কর্পস। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এই ফেডারেল প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে ক্যারিয়ার ট্রেনিং ও শিক্ষা নিতে পারেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ১২০টির বেশি জব কর্পস ক্যাম্পাস রয়েছে এবং ১০টি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ইন্ডাস্ট্রির শতাধিক ট্রেনিং এরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   জব কর্পসের সাধারণ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়স এবং নিম্ন আয়ের শর্ত। পাশাপাশি নাগরিকত্ব, বৈধ রেসিডেন্সি বা অনুমোদিত অন্য স্ট্যাটাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। কিছু ওয়ার্ক অথরাইজড ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যাকগ্রাউন্ডসহ অন্যান্য শর্তও যাচাই করা হয়। ফলে শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জব কর্পসে ভর্তি হওয়া যায় না।   যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য জব কর্পসের ট্রেনিং সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রোগ্রামটিতে ফ্রি হাউজিং, খাবার, মৌলিক চিকিৎসাসেবা এবং লিভিং অ্যালাউয়েন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না থেকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   অভিবাসী তরুণদের জন্য বোস্টনে আলাদা একটি পেইড সুযোগও রয়েছে। নো ওয়ার্কার লেফট বিহাইন্ডের ২০২৬ ইমিগ্র্যান্ট ইয়ুথ ক্যারিয়ার রেডিনেস বা লার্ন অ্যান্ড আর্ন প্রোগ্রাম ৭ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ছয় সপ্তাহের হাইব্রিড ট্রেনিং হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।   এই প্রোগ্রামে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা অংশ নিতে হয় এবং সফলভাবে শেষ করলে সর্বোচ্চ ১,৮০০ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়া যেতে পারে। ক্যারিয়ার রেডিনেস, এআই ও ডিজিটাল স্কিল, রেজুমে তৈরি, মক ইন্টারভিউ, মেন্টরশিপ এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এর অন্তর্ভুক্ত।   তবে ১,৮০০ ডলারের সুযোগটি দেশব্যাপী কোনো ফেডারেল বোনাস নয়। এটি বোস্টনের নির্দিষ্ট একটি প্রোগ্রামের স্টাইপেন্ড। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং বোস্টনের বাসিন্দা হতে হবে। প্রোগ্রামটি বিশেষভাবে অভিবাসী তরুণ, ইংলিশ লার্নার এবং চাকরির ক্ষেত্রে বাধার মুখে থাকা তরুণদের জন্য তৈরি।   নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য রয়েছে অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের কর্মসংস্থান কর্মসূচি। এর প্রফেশনাল পাথওয়েজ ফর হাই স্কিলড ইমিগ্র্যান্টস প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা নতুন আমেরিকানদের এমপ্লয়মেন্ট কোচিং, স্কিল ট্রেনিং এবং জব প্লেসমেন্টে সহায়তা করা হয়।   নিউইয়র্ক সিটিতে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দাদের জন্যও প্রফেশনাল পাথওয়েজের সেবা রয়েছে। অতীতে প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি এবং নির্ধারিত আয়সীমার শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।   নিউইয়র্কের অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের আরেক উদ্যোগ নিউ আমেরিকানস ক্যান কোড। এতে অভিবাসীদের বেসিক কম্পিউটার ব্যবহারের মতো ডিজিটাল লিটারেসি থেকে শুরু করে উন্নত সফটওয়্যার কোডিং ট্রেনিংয়ের সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও জাতীয়তার কারণে এসব প্রোগ্রামে আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের বয়স, আয়, বাসস্থান, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। নতুন ইমিগ্র্যান্ট হলেই যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হওয়া যায় না, তেমনি সব প্রোগ্রামে গ্রিন কার্ড থাকা বাধ্যতামূলকও নয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   চাকরি বা ট্রেনিং খুঁজতে প্রথমে নিজের এলাকার আমেরিকান জব সেন্টারে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে কাছাকাছি সেন্টার ও ট্রেনিং খুঁজে পাওয়া যায়। ইউএসএগভও নিজ নিজ স্টেটের লেবার ডিপার্টমেন্ট এবং সরকারি ট্রেনিং রিসোর্স ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হলো হেল্পলাইন নম্বর। আমেরিকান জব সেন্টার ও চাকরি-ট্রেনিং সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ক্যারিয়ারওয়ানস্টপ বর্তমানে ১-৮৭৭-৮৭২-৫৬২৭ নম্বরটি উল্লেখ করছে।   সরকারি বা সরকার-সমর্থিত ফ্রি ট্রেনিংয়ের নামে অর্থ চাওয়া হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে “সব ইমিগ্র্যান্ট ১,৮০০ ডলার পাবেন” বা “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই নিশ্চিত ফ্রি ট্রেনিং” ধরনের প্রচারণায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা প্রোগ্রামের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই নিরাপদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১০:৬
মিশিগানে গ্রেফতারের পর বুকিং ছবির জন্য হিজাব খুলতে বাধ্য হওয়া হেলানা বোয়ে। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ হিজাব খুলতে বাধ্য করায় আড়াই লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন মুসলিম নারী

এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে তিন ব্রিটিশ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

এসেক্সের সৈকতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, সর্বশেষ প্রাণ হারাল ৭ বছরের মুসাও

২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয়েও কেন বাংলাদেশীদের সঞ্চয় করা কঠিন!

0 Comments