যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী বিদেশে জন্মগ্রহণ করায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির। তবে এ নিয়ম পরিবর্তনের পক্ষেও নন তিনি। জনপ্রিয়তা বাড়লেও সংবিধানের এই শর্ত অপরিবর্তিত থাকাই উচিত বলে মনে করেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই নেতা।
রোববার এবিসি নিউজের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ সাংবাদিক জোনাথন কার্লের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মামদানি। আলোচনার একপর্যায়ে কার্ল উল্লেখ করেন, ৩৪ বছর বয়সী মামদানি শিগগিরই প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বয়সের শর্ত পূরণ করবেন। তবে উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করায় বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য নন।
জবাবে মামদানি বলেন, এ সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন তিনি দেখেন না। অর্থাৎ, নিজে এর সুবিধাভোগী হতে পারলেও তিনি সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক (ন্যাচারাল-বর্ন সিটিজেন) হতে হবে। পাশাপাশি তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং অন্তত ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত রয়েছে। মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক নন। তিনি উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির সমর্থিত তিনজন কংগ্রেস প্রার্থীর বিজয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে দুজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট।
সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরাজয়ের পর দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক সংকটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের ভবিষ্যতের মতো বিষয়গুলোই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে থাকা উচিত।
মামদানির এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উদীয়মান প্রগতিশীল নেতাদের অন্যতম হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের দাবি তিনি সমর্থন করেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ এলাকা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মারি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজের কলেজ জীবনের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ‘দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে তার অতীত জীবনের ফেটিশ পার্টি, নগ্নতা এবং নাইট্রাস অক্সাইড বা ‘হুইপেট’ নামের মাদকের প্রতি আসক্তির নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। পোর্টল্যান্ডের বাইরে অবস্থিত ট্রাম্প-সমর্থিত তৃতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হওয়ার আগে মারি ওরেগনের অতি-উদারপন্থী রিড কলেজে পড়াশোনা করতেন। সেখানে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ‘ল্যাটেক্স ফেটিশ বল’ থেকে শুরু করে নানা ধরনের মাদক-নির্ভর পার্টি আয়োজনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ছাত্র সংসদের অর্থ বিষয়ক কমিটির দায়িত্বে থাকার সময় পেরেজ একটি ডিজে ও ‘ডার্ক রুম’ সম্বলিত ‘ফেটিশ বল’ আয়োজনের জন্য চার হাজার ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। কলেজের ফেটিশ ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এসব পার্টিতে বিডিএসএম এবং বন্ডেজ গিয়ার তৈরির মতো উদ্ভট বিষয় শেখানো হতো। শুধু তাই নয়, তিনি ক্যাম্পাসের বার্ষিক উৎসব ‘রেন ফেয়ার’-এর জন্যও তহবিল জোগাড় করেছিলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা শরীরে রং মেখে নগ্ন হয়ে দৌড়াতেন। বছরে ৭৪ হাজার ডলার বেতনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সেসময় মাদকের অবাধ ব্যবহারের জন্য বেশ পরিচিত ছিল। এমনকি পেরেজের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংসদ সেসময় ক্যাম্পাসে ‘এলএসডি গিভঅ্যাওয়ে’ এবং শিক্ষার্থীদের নাইট্রাস অক্সাইড গ্রহণের জন্য ‘নাইট্রোজেন ডে’ পালনেরও প্রচারণা চালিয়েছিল। পেরেজের সাবেক রুমমেটরাও তার অতীত জীবন নিয়ে বিস্ফোরক সব দাবি করেছেন। ইজাক এগার নামের এক সাবেক বন্ধু একটি পডকাস্টে জানিয়েছেন, পেরেজ একসময় গ্যারেজের ওপরের একটি চিলেকোঠায় থাকতেন এবং মাসের পর মাস বাসাভাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন। এমনকি ৫০-৭৫ ডলারের ভাড়ার বদলে তিনি পচা অ্যাভোকাডো ও পুরোনো মাংস দেওয়ারও প্রস্তাব করেছিলেন! তাকে সেসময় ডাস্টবিন থেকে জিনিসপত্র কুড়াতেও দেখা যেত। একবার বন্ধুদের সামনেই তিনি একটি মুরগির মাথা কেটে ফেলেছিলেন, যা দেখে তার রুমমেটরা রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। এছাড়া কলেজ পাসের পর তিনি ভ্যানে করে অত্যন্ত নিম্নমানের গাঁজা বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তদন্তকারী সাংবাদিক ড্যান বোগুসলাও। ২০১২ সালে রিড কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা মারি পেরেজ পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ডেমোক্র্যাটস এক্সিকিউটিভ কমিটিতে কাজ করেন। সেখানে তিনি মাদক ও যৌন ব্যবসাকে বৈধতা দেওয়ার মতো নীতি পাসের ক্ষেত্রেও সহায়তা করেছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জো কেন্টকে হারিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো গ্রামীণ এই ডিস্ট্রিক্টে জয়লাভ করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। নিজেকে শ্রমিক শ্রেণির ডেমোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরলেও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর জন্য এক হাজার কোটি ডলারের তহবিল পাসে সমর্থন দিয়ে তিনি নিজ দলের প্রগতিশীলদের তোপের মুখে পড়েন। বিতর্কিত অতীত নিয়ে সমালোচিত এই কংগ্রেসওম্যান বর্তমানে রিপাবলিকান স্টেট সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা জন ব্রাউনের বিরুদ্ধে পুনর্নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস-এর আওতায় থাকা অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেওয়ার অথবা দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে লাখ লাখ অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা বাতিল করার পর এই মন্তব্য করলেন তিনি। সিএনএন-এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলিন জানান, এই রায়ের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হাইতি ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও চরম দারিদ্র্যপীড়িত দেশের অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ পেল। মুলিন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, অভিবাসীদের আইনি কাগজপত্র পূরণের মাধ্যমে স্থায়ী বৈধতা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে, অন্যথায় প্রশাসন তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করবে। প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রশাসন বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করতে মাথাপিছু প্রায় ২,১০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে বলেও তিনি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতের নির্দেশ এবং নাম অনুযায়ীই ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস কোনো স্থায়ী বৈধতা নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পালিয়ে আসা মানুষদের সাময়িক আইনি বৈধতা হিসেবে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতিয়ানদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরীয়দের এই সুরক্ষা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এই রায়ের ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী এখন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর হাতে আটক বা সরাসরি দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকির মুখে পড়েছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসের কারণে হাইতি এবং সিরিয়ায় ভ্রমণের ওপর কড়া সতর্কতা জারি করে রেখেছে। এই রায়ের পর হাইতিয়ান অভিবাসী এবং মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। ওহাইওর স্প্রিংফিল্ডে বসবাসরত হাইতিয়ানরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। ফ্রাঙ্কি পিয়েরে নামের এক হাইতিয়ান অভিবাসী জানান, এই রায়ের ফলে বহু মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবেন, যা সেখানকার অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ধস নামাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ানদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন, যার জেরে শহরটিতে বোমাতঙ্ক ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের মিছিলের মতো ঘটনা ঘটেছিল। তবে শুধুমাত্র অভিবাসীরাই নন, খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক নেতাও সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সমালোচনা করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিউইন এই রায়কে একটি ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, হাইতির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সেখানকার অর্থনীতি ও সরকার ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া মাইক ললার ও ডন বেকনের মতো অন্যান্য রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানরাও হাইতিয়ান অভিবাসীদের টিপিএস মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএস সুবিধার আওতায় রয়েছেন। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো অন্যান্য অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা বাতিল করে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির পুরোপুরি ইতি টানতে পারে।
পাখিরা নিজেদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করে এবং তাদের ডাকের আড়ালে কী অর্থ লুকিয়ে থাকে, তা প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছেন এক মার্কিন বিজ্ঞানী। পাখির এই ভাষা বা ‘বার্ডসং’ ডিকোড করার অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষক ড. জুলি এলি এ বছর ‘কলার-ডলিটল প্রাইজ ২০২৬’ লাভ করেছেন। মানুষের সাথে পশুপাখির দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ড. জুলি মূলত ‘জেব্রা ফিঞ্চ’ (Zebra Finch) নামক ছোট গায়ক পাখির ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি এই পাখির ডাকের ১১টি মূল ধরন এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ সফলভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, জেব্রা ফিঞ্চরা তাদের নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা সে মুহূর্তে কী করছে তা অন্য পাখিদের জানায় এবং একে অপরকে চিনে রাখে। এই কাজের জন্য ড. জুলি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিদের বিভিন্ন ডাক রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই আওয়াজগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি এই ভাষা বুঝতে পারেন। গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে ড. জুলি পাখিদের নিয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষাও চালান। সেখানে পাখিদের সামনে একটি বোতাম রাখা হয়, যা চাপলে বিভিন্ন আওয়াজ তৈরি হতো। কিছু নির্দিষ্ট আওয়াজের পর পাখিদের পুরস্কার হিসেবে খাবার দেওয়া হতো। পরীক্ষা চলার একপর্যায়ে পাখিরা বুঝতে পারে কোন আওয়াজের পর খাবার পাওয়া যাবে না, এবং তারা স্মার্টফোনে ভিডিও স্ক্রোল করার মতো করে সেই আওয়াজগুলো বোতাম চেপে এড়িয়ে যেতে শুরু করে। জেরেমি কলার ফাউন্ডেশন এবং তেল আবিব ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোড উদ্ধার করার জন্য এই ফাউন্ডেশন ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি মহাপুরস্কারও ঘোষণা করে রেখেছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ ধনকুবের জেরেমি কলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই মানুষ পশুপাখির সাথে সরাসরি কথা বলতে সক্ষম হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান