আমেরিকা

টিপিএসধারী অভিবাসীদের স্থায়ী বৈধতা নিতে হবে, না হলে দেশে ফিরতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ২৩:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) নিয়ে বসবাসকারী অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বৈধ থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রধান মার্কওয়েন মুলিন।

 

রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিপিএস কোনো স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা নয়। তাই যাঁরা এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁদের উচিত স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করা। অন্যথায় সরকার তাঁদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।

 

মুলিন বলেন, "যাঁরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করুন। আর যদি তা না করেন, তাহলে আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব।" তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বিমান টিকিটের পাশাপাশি পুনর্বাসনের প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে।

 

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টিপিএস সুবিধা বাতিলের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতির এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিক ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন।

 

টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বড় মানবিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।

 

তবে টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি রেখেছে। দুই দেশেই সহিংসতা, সংঘাত, সন্ত্রাসী তৎপরতা, অপহরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অভিবাসী অধিকারকর্মী ও হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের নেতারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বহু মানুষ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন। হঠাৎ করে সুরক্ষা তুলে নেওয়া হলে তাঁদের পরিবার, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

 

ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরে বসবাসকারী হাইতিয়ানরাও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিবাসীরা বলছেন, গত এক দশকে হাইতিয়ান সম্প্রদায় শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন টিপিএস বাতিল হলে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুধু ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেই আসেনি। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান হাইতির পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্য, দুর্বল সরকারি ব্যবস্থা এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতির কারণে এখনই মানুষকে ফেরত পাঠানো যুক্তিযুক্ত হবে না। নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান মাইক ললার এবং নেব্রাস্কার কংগ্রেসম্যান ডন বেকনও হাইতির নাগরিকদের জন্য টিপিএসের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

 

বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর টিপিএস সুবিধাও বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৯৯০ সালে চালু হওয়া এই মানবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনে সহপাঠীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ।   ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২১:৫১
স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড়ে সম্ভাব্য নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন স্টিফেন বিবেলহাউজেন। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে, বিশ্বরেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এক বাবা

বাবা-মা আটকের পর চার ভাইবোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে ১৮ বছর বয়সী ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গোকে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের সামনেই আটক অভিবাসী দম্পতি, ১৮ বছরের মেয়ের কাঁধে চার ভাইবোনের দায়িত্ব

নিউইয়র্কের আবাসন সংকটে বাড়ছে ভাড়া, কমছে নতুন ফ্ল্যাটের তালিকা। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহাটনে গড় বাড়িভাড়া পৌঁছাল ৫ হাজার ডলারে, তীব্র আবাসন সংকটে নিউইয়র্কবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড, ধারে-কাছেও নেই নিউইয়র্ক-টেক্সাস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেকার ভাতার আবেদনে বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে। নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত মাসের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে রাজ্যটিতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭টি 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট' বা চলমান বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটির মোট আবেদনের দ্বিগুণেরও বেশি। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেকার ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে 'গোল্ডেন স্টেট' খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া নিউইয়র্ক (১ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৭) এবং টেক্সাসকে (১ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭) অনেক বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রডাক্টিভিটি প্ল্যাটফর্ম 'প্লাস' (Plus) মার্কিন শ্রম দপ্তরের ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণটি চালিয়েছে। ৪ জুলাই থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যকার তথ্যানুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকারত্ব বিমা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত প্রতি এক লাখ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৯০৫ দশমিক ৬টি বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। দেশব্যাপী সামগ্রিক হারের দিক থেকে এই অঙ্গরাজ্যটি সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। তবে এই হার প্রতি এক লাখ কর্মীতে জাতীয় গড় (১,০২৭টি আবেদন) থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি। কর্মীর সংখ্যার সাথে আনুপাতিক হিসাব বিবেচনা করলে ক্যালিফোর্নিয়ার আগে কেবল নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, ওরেগন এবং ওয়াশিংটন রয়েছে।   সাধারণত কোনো আবেদনকারী প্রাথমিক আবেদনের পর অব্যাহতভাবে ভাতা পেতে থাকলে তাকে 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট ক্লেইম' বলা হয়, যা মূলত চলমান বেকারত্ব পরিস্থিতির একটি বড় নির্দেশক। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল শ্রমশক্তির কারণেই মূলত মোট আবেদনের সংখ্যাটি এত বেশি দেখাচ্ছে। তবে কর্মীর আনুপাতিক হিসাব বিবেচনায় নিলেও অঙ্গরাজ্যটি দেশের সর্বোচ্চ বেকার ভাতার আবেদনের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান করছে। 'প্লাস'-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল লি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেকারত্বের চাপ কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আটটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া ২০২৫ সালের পর থেকে বাকি সব অঙ্গরাজ্যেই বেকার ভাতার আবেদন কমার প্রবণতা দেখা গেছে।   মোট আবেদনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট চলমান আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও, আনুপাতিক হারে কয়েকটি ছোট অঙ্গরাজ্য এর চেয়ে এগিয়ে আছে। যেমন, প্রতি এক লাখ কর্মীতে ২ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬টি আবেদন নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ জার্সি, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৫৮ শতাংশ বেশি। যদিও তাদের মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২২২, যা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় অনেক কম। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটস। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বেকার ভাতার আবেদন দেখা গেছে সাউথ ডাকোটায়, যেখানে প্রতি এক লাখে আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্র ২৮৪ দশমিক ৯ জন।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৯:৫৯
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা

রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

কোমা, হুইলচেয়ার আর ১০ বছরের সংগ্রাম; না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর

ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বর্ডার জার' টম হোম্যান। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে টড স্টুয়ার্ট (৬৮) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ির লনে মর্মান্তিকভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কোস ইরিয়ার্তে-ভালদেজ (৩৬) নামের এক অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসী, যার কাছে স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে।   'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির শিকার না হলে ওই বৃদ্ধকে আজ প্রাণ হারাতে হতো না। ক্যালিফোর্নিয়ার 'স্যাংচুয়ারি সিটি' বা আশ্রয়দাতা শহরের নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "গভর্নর নিউসম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আক্রোশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।" হোম্যান আরও জানান, গত এক দশকে এমন শত শত ঘটনার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভয়াবহ হামলার ঠিক আগের দিনই অভিযুক্ত ইরিয়ার্তে-ভালদেজকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চুরির এক মামলায় গৃহবন্দী থাকার শর্ত লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও নিউসমের নিয়োগকৃত এক বিচারক তাকে মুক্তি দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্যাডিল্যাক এসইউভি থেকে নেমে প্রটেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই ব্যক্তি স্টুয়ার্টের ওপর আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্টুয়ার্ট মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করার সময়ও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি এবং হামলাকারীর মধ্যে পূর্বের কোনো পরিচয় ছিল না।   এই ঘটনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ব্যর্থতাকে দায়ী করায় ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন হোম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তারা যথাযথ তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য একটি ডিটেইনার ইস্যু করেছিলেন। তবে গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ওপরই দায় চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো আইন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় না। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং স্ত্রীকে মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ১.১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে আটকে রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২০:১৭
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী মহুয়া

নিউইয়র্কে সংগ্রাম থেকে সাফল্য, ৯টি আয়ের উৎসে বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর

অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে গোপন ছবি বিক্রি করছে সাইবার অপরাধীরা

অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে গোপন ছবি বিক্রি করছে সাইবার অপরাধীরা, সতর্ক করল এফবিআই

অধ্যাপক মরিয়ম তহমাসেবি I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এক মায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে চার মাস ধরে বন্দী গ্রিন কার্ডধারী অধ্যাপক পরিবার

0 Comments